শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
গ্রন্থালোচনা: বদল হাওয়ায় বদলে গেছে দিন দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি, শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর আগৈলঝাড়ায় গণঅধিকার পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল ঈদে আসছে কাজী বাহাদুর হিমুর ‘বায়ান্ন পাতার প্রেম’ চালকের অবহেলায় ৯টি বগি লাইনচ্যুত, মাস্টার বরখাস্ত রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি ঈদের দিন সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী মানিকগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে শতাধিক মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: কুড়িগ্রামে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ‘অপসংস্কৃতি রোধে আগৈলঝাড়ায় ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
`মাকে ফোন দাও, বলো চিপস নিয়ে আসতে’

`মাকে ফোন দাও, বলো চিপস নিয়ে আসতে’

ভিশন বাংলা ডেস্ক: তাসমিন মাহিরা তুবা। বয়স চার বছর। ছলছলে চোখে তাকিয়ে রয়। মা নিচে গেছে ড্রেস আনতে। আসার সময় চিপস, চকলেট নিয়ে আসবে। না এলে মুখে কিছু নেবে না, এমন বায়না তুবার।

ছোট্ট এই তুবাকে ভর্তির জন্য বাড্ডার একটি স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়েই ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তাসলিমা বেগম রেনু (৪০)। রোববার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরার সোনাপুর গ্রামে তার দাফন হয়েছে।

মায়ের দাফনের পর খালাদের সঙ্গে ঢাকায় ফিরেছে তুবা। এখনও মায়ের ছবি সর্বক্ষণ ভাসছে তুবার সামনে।

 মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি সে বুঝতে পারেনি। সে জানে, তার মা বাসার নিচে গেছে। চলে আসবে। কিন্তু কেন আসছে না- নিকটাত্মীয়দের কাছে এমন প্রশ্নও বারবার ছুড়ে দিচ্ছে ফুটফুটে তুবা। স্বজনদের কাছে বায়না ধরছে, ‘মাকে ফোন দাও, বলো চিপস নিয়ে আসতে। না এলে আমি খাব না।’

মায়ের কথা মনে পড়লে কান্না আর থামছেই না তুবার। মায়ের কথা ভুলিয়ে রাখতে স্বজনের পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়া ভাই ১১ বছরের তাহসিন আল মাহিরকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। খেলার ছলে ছোট্ট বোনটিকে মায়ের কথা ভুলিয়ে রাখতে চাইছে সে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর বাসায় গিয়ে এমন দৃশ্যই দেখা গেল।

আট দিন ধরে মা আসছে না। তাই তুবার মেজাজও ভালো যাচ্ছে না। সবকিছু নিয়ে বায়না করছে, বায়না মেটানো না হলেই চিৎকার, কান্নাকাটি করছে। বাসায় যে আসে সেই তুবার ছবি তুলতে চায়, এটিও তার পছন্দ নয়। তাই ঘরে অপরিচিত কেউ ঢুকে মুঠোফোন হাতে ছবি তুলতে চাইলেই তুবা বলে, ‘আমি ছবি তুলব না।’

তুবার খালা নাজমুন নাহার জানান, তুবা এখনও বোঝে না- তার মা মারা গেছে। ঘটনার দিন সকালে তুবাকে রেনু বলে গিয়েছিল, সে নিচে যাচ্ছে; চলে আসবে। তাই তুবা এখনও সেটিই জানে- তার মা নিচে গেছে, চলে আসবে। মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন করছে, তার মা কেন তাড়াতাড়ি আসছে না? মোবাইল ফোন নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছে সে।

দিনে খেলার ছলে তুবাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে রাখলেও রাতে আর রক্ষা নেই। ঘুমের সময় হলে কান্নাকাটি শুরু। মায়ের বুকে শুয়ে ঘুমাত তুবা। এ কারণে ঘুম পেলে মায়ের জন্য খুবই অস্থির হয়ে যায়। বোঝানো মুশকিল হয়ে পড়ে তখন তাকে।

ছলছল চোখে তাকিয়ে রয় তাহসিন আল মাহিরও। বোনের বায়না তাকে আরও কষ্ট দেয়। যতক্ষণ পারছে খেলার ছলে ভুলিয়ে-ভালিয়ে রাখছে। না পারলে চোখের পানি মুছতে শুরু করে। ‘তুবা আমার একমাত্র বোন। আমি জানি, আমার মাকে ওরা বিনাদোষে মেরে ফেলেছে। তুবা জানে না। আর কোনো দিন মাকে কাছে পাব না। খুব কষ্ট হচ্ছে। সারাজীবন এই কষ্ট থাকবে।’

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2011-2025 VisionBangla24.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com