ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪
সর্বশেষ

ডিএনসিসিতে ৫০ জনের অবৈধ আত্তীকরণ / জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতির অভিযোগ

নিয়ম লঙ্ঘন করে ৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আত্তীকরণ ও পদোন্নতি দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। শুধু আত্তীকরণই নয়, যোগ্যতার মানদণ্ড উপেক্ষা করে অনেককে বাড়তি পদোন্নতি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। সম্প্রতি সরকারের অডিট বিভাগ বিষয়টি সামনে আনলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর একই দিনে বিভিন্ন পদে ৫০ জনকে আত্তীকরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় আওয়ামী লীগ আমলে পদায়ন পাওয়া কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা সংঘবদ্ধভাবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। এমনকি ‘মব’ বা চাপের ভয় দেখিয়ে অনেকটা জোরপূর্বক এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এ-সংক্রান্ত অফিস স্মারকটি করপোরেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি।সম্প্রতি অডিট বিভাগ ডিএনসিসিতে পরিদর্শনে গিয়ে আত্তীকরণ-সংক্রান্ত নথি চাইলে কর্তৃপক্ষ কোনো স্মারক দেখাতে পারেনি। স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদনের নথিও দেখানো সম্ভব হয়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, আত্তীকরণের অনুমতি চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে কোনো নথিই পাঠানো হয়নি।ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭ সালে দুই সিটি করপোরেশনের নতুন অর্গানোগ্রাম প্রণয়নের পর বহু পদ বিলুপ্ত হয়। এতে অনেকে পদশূন্য হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাদের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করা হয়। তবে স্থায়ীভাবে আত্তীকরণের জন্য নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির অনুমোদনের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সর্বশেষ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়ার নিয়ম।নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত করপোরেশনের নবম সভায় ৭৫ জনকে আত্তীকরণের বিষয়ে ইতিবাচক মত দেওয়া হয়েছিল। তবে শূন্য পদে নিয়োগ এবং পদ না থাকলে এক গ্রেড নিচের পদে দায়িত্ব দেওয়ার শর্ত ছিল। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগকে অবহিত করার সিদ্ধান্তও ছিল। কিন্তু এবার এসব নিয়মের কোনো কিছুই মানা হয়নি।অভিযোগ রয়েছে, আত্তীকরণের পর যন্ত্রচালক কাজী আলমগীর হোসেনকে প্রথমে হিসাব সহকারী এবং একই দিনে আরেক আদেশে রাজস্ব পরিদর্শক করা হয়। পরে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় অঞ্চল-৩-এর রাজস্ব পরিদর্শকের। অথচ এ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁর চেয়ে জ্যেষ্ঠ অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন।একইভাবে ডিজ ইনফেকশন পরিদর্শক আব্দুল খালেক মজুমদারকে ব্যক্তিগত সহকারী করার পর অঞ্চল-৪-এর স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিল সহকারী মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে রেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট করার পর অঞ্চল-১-এর বাজার সুপারভাইজারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। আত্তীকরণ হওয়া ৫০ জনের মধ্যে মাত্র তিনজন ছাড়া প্রায় সবার ক্ষেত্রেই এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।ওই সময় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মীর খায়রুল আলম এবং সচিব ছিলেন মাসুদ আলম সিদ্দিক। বর্তমানে খায়রুল আলম অবসরে গেছেন এবং মাসুদ আলম সিদ্দিক ওএসডি হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত আছেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে মাসুদ আলম সিদ্দিক কথা বলতে রাজি হননি। তবে মীর খায়রুল আলম বলেন, “ওই সময় বিভিন্ন গ্রুপ নানা দাবি নিয়ে আসত। তবে নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে বলে মনে পড়ে না।”ডিএনসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “তখন আমি দায়িত্বে ছিলাম না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।”অডিটে ওঠে আসা এসব অনিয়মের ঘটনায় ডিএনসিসির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অনিয়ম আরও বাড়বে।

সিংড়ায় খাবার খেয়ে একসাথে অসুস্থ ৮ শ্রমিক, হাসপাতালে ভর্তি

সারাদেশে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট-এর আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের কোনো সম্ভাবনা নেই। সারাদেশে একযোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং কোথাও প্রশ্নফাঁসের কোনো ঘটনা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি।তিনি আরও জানান, পরীক্ষাকে ঘিরে যদি কোনো অভিযোগ আসে, তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ (আর্কাইভ) করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন নরসিংদীর রায়পুরায় নৃশংস ঘটনা

সারাদেশে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট-এর আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের কোনো সম্ভাবনা নেই। সারাদেশে একযোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং কোথাও প্রশ্নফাঁসের কোনো ঘটনা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি।তিনি আরও জানান, পরীক্ষাকে ঘিরে যদি কোনো অভিযোগ আসে, তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ (আর্কাইভ) করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

খুলনার কয়রায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত আইনগত সহায়তা দিবস

সারাদেশে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট-এর আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের কোনো সম্ভাবনা নেই। সারাদেশে একযোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং কোথাও প্রশ্নফাঁসের কোনো ঘটনা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি।তিনি আরও জানান, পরীক্ষাকে ঘিরে যদি কোনো অভিযোগ আসে, তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ (আর্কাইভ) করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা, বাতিল ৬৪৭৬ জনের নাম

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা, বাতিল ৬৪৭৬ জনের নাম

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে  মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

নীলফামারীকে পাখিদের অভয়ারণ্য নগরী গড়ার উদ্যোগ

নীলফামারীকে পাখিদের অভয়ারণ্য নগরী গড়ার উদ্যোগ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

অবৈধ বালু বাণিজ্যে থামেনি চক্র: প্রশাসনের জালে ১১, জব্দ ২ ড্রেজার

অবৈধ বালু বাণিজ্যে থামেনি চক্র: প্রশাসনের জালে ১১, জব্দ ২ ড্রেজার

আবারো বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আবারো বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান

দেশে পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

দেশে পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

কোন ভিডিও নেই !
কোন ভিডিও নেই !

একবার জ্বালানিতেই চলবে ১৮ মাস / রূপপুর থেকে ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলবে

পাবনার ঈশ্বরদীতে রচিত হচ্ছে বাংলাদেশের এক নতুন ইতিহাস। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের মধ্যদিয়ে চূড়ান্ত গন্তব্যের পথে এক বিশাল ধাপ এগিয়ে যাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। শুরুতে প্রতি ইউনিটের খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে এখন দাম ১২ টাকা পড়বে।এককথায় এ কেন্দ্র চালু হলে বিশ্বের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের এই প্রবেশ শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন দিগন্তই উন্মোচন করবে না, বরং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে আজ মঙ্গলবার জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করা হবে। তবে এরপরও শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি থাকবে। সবশেষে কয়েক মাস পর ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।বিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। এই সময়ে এখান থেকে পাওয়া যাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। তবে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত কেন্দ্রটির আয়ু বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।কেন্দ্রটিতে একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে চলবে টানা দেড় বছর। ফলে অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো তেল, গ্যাস কিংবা কয়লা কেনার ঝক্কি-ঝামেলা নেই। দেড় বছর পর এক-তৃতীয়াংশ করে জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়া, রূপপুরের দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। এবার প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপন করা হচ্ছে। এই ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন হবে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল। প্রতিটি বান্ডেলে থাকে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম প্লেটসমৃদ্ধ রড। দুই বছর আগেই বাংলাদেশ ১৬৮টি এমন বান্ডেল সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে ৫টি সংরক্ষণে রাখা হবে।ইউরেনিয়াম বান্ডেল চুল্লিতে স্থাপন করতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর ধীরে ধীরে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদন করা হবে। সেই তাপে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে টারবাইন ঘুরাবে, যার মাধ্যমে উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ফুয়েলিং শুরু হলে এতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগবে। এরপর আরও প্রায় ১৫ দিন লাগবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে এবং এরপর প্রায় দুই মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।প্রসঙ্গত, আর্থিক বিবেচনায় বাংলাদেশের একক প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করছে রাশিয়া। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া, যেটা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

হরমুজ প্রণালী / নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা। বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরান নাকি কৌশলগত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘খুলে রাখতে’ যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে—এমন একটি দাবি সামনে এনেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । তার এই বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা ও বিশ্লেষণ। হরমুজ প্রনালী  বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট, যার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। ফলে এই প্রণালীর নিরাপত্তা ও উন্মুক্ততা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বিভিন্ন সময় এই প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির সময়ে। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসনের সময় ইরান পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছিল, যাতে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা যায়। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি, তবুও তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের দাবি সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা সবসময় নিজেদের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের মন্তব্য মূলত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে প্রভাবিত করার একটি কৌশল হতে পারে। বিশেষ করে United States-এর রাজনীতিতে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে এ ধরনের বক্তব্য আরও বেশি শোনা যায়। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও এতে নতুন মাত্রা পেতে পারে। এদিকে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল। বিভিন্ন সময় জাহাজে হামলা, ড্রোন নজরদারি ও সামরিক মহড়ার কারণে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে এই প্রণালীকে নিরাপদ রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছে, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। সবমিলিয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর এই দাবি নতুন করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জটিলতা সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো প্রমাণ বা যৌথ বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবুও বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন দেখার বিষয়।

সব বিভাগের খবর

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তামাক খাতে হারিয়েছে ৮৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব

তামাক খাতের অসম কর কাঠামোর কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্র প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে বলে দাবি করেছে ন্যাশনাল সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।‘সিগারেট ইন্ডাস্ট্রি ওভারভিউ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাজারের একটি বড় অংশ কর জালের বাইরে চলে যাওয়া এবং অবৈধ সিগারেটের দাপট বেড়ে যাওয়ায় এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে সরকারকে।সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। এদিন প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আবুল খায়ের টোব্যাকোর কর্মকর্তা শেখ শাবাব আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিএটি, জাপান টোব্যাকো ও ফিলিপ মরিসের কর্মকর্তারা।শেখ শাবাব বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাতের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১৪ শতাংশ। অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটের পর বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ ভলিউম বা সিগারেট বিক্রির সক্ষমতা হারিয়ে গেছে। এই হারিয়ে যাওয়া ২০ শতাংশ ভলিউম থেকেই মূলত ৮,৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫ বছরে উচ্চবিত্তদের সিগারেটের কর মাত্র ২ শতাংশ বাড়লেও নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যবহৃত লো সেগমেন্ট বা কম দামি সিগারেটে কর বেড়েছে ১০ শতাংশ। বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ হলেও এই সেগমেন্টে দাম বাড়ানো হয়েছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। অতিরিক্ত কর বৃদ্ধির ফলে উৎপাদনকারীদের জন্য লো সেগমেন্ট এখন অলাভজনক হয়ে পড়েছে। যেখানে অন্যান্য উচ্চস্তরের সিগারেটের উৎপাদন মুনাফা ইতিবাচক, সেখানে নিম্নস্তরের সিগারেটের উৎপাদন মুনাফা ২ শতাংশ কমে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে পৌঁছেছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাজারে বিক্রিত মোট সিগারেটের প্রায় ১৫ শতাংশই অবৈধ বা কর ফাঁকি দেওয়া। প্রায় ১৮০০ কোটি স্টিক সিগারেট এখন কর জালের বাইরে বিক্রি হচ্ছে। দেশে ৩০টিরও বেশি সিগারেট কারখানা এবং তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থাকলেও কঠোর নজরদারির অভাবে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ বিদেশি সিগারেটের বাজারে লাগাম টেনে ধরতে সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর বা এআর কোড অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। এর মাধ্যমে ভোক্তারা নিজেই যাচাই করতে পারবেন যে, পণ্যটি থেকে সরকার কর বা রাজস্ব পেয়েছে কি না।এনবিআর চেয়ারম্যান এ সময় সিগারেটের ওপর থাকা ৮৩ শতাংশ ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক এবং স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আর না বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। তবে দাম বাড়ানো হতে পারে জানিয়ে সেটি কীভাবে বা কত টাকা বাড়ানো যেতে পারে, তা নিয়ে উৎপাদনকারী এবং এনবিআরের নীতি অনুবিভাগের একত্রে কাজ করার কথা বলেন তিনি।এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা মোটামুটি ডিটারমাইন্ড (দৃঢ়প্রতিজ্ঞ) যে ৮৩ শতাংশের ওপরে (করভার) আর যাওয়ার সুযোগ নেই এবং সেটা নিয়ে আমরা চিন্তা করছি না। এখন নেক্সট যেটা করতে হবে, সেটা আইদার আপনারা যেটা বলেন যে সিগারেটের প্রাইস মেকানিজমটা ঠিক করে অথবা এটাকে পার স্টিক করে অথবা মিক্সড পদ্ধতি করে। মানে সারা পৃথিবীতে যতগুলো পদ্ধতি চালু আছে, সেগুলো যাচাই করব।নির্দিষ্ট হারে কর বসানোর ক্ষেত্রে সকল দেশি-বিদেশি কোম্পানি এবং বিএটি ও জেটিআই প্রতিনিধিরা ‘একমত’ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবাই একমত হওয়াটা তো কঠিন, সময়সাপেক্ষ এবং ঝামেলা লেগে যায়। সমস্যাটা হলো এই জায়গায় আরকি। যখনই বলা হয় সবাই একসাথে হব, একেকজনের ইন্টারেস্ট একেক দিকে টানে এবং এতে একমত হওয়া যায় না।এদিকে বাংলাদেশ বিড়ি শিল্প মালিক সমিতি তাদের বাজেট প্রস্তাবে বিড়ির লাইসেন্স থাকলেই ন্যূনতম কর প্রদানের সীমা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে।প্রস্তাবে বলা হয়, বিড়ি উৎপাদনে কাগজ একটি অন্যতম উপকরণ, যা বাংলাদেশে মাত্র দুটি কোম্পানি উৎপাদন করে। কাগজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র বিড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট কাগজ বিক্রয় করতে পারবে। কোনো অবস্থায় ট্রেডিং পর্যায়ে বিড়ির কাগজ বিক্রি করতে পারবে না। এ বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ ও মনিটরিং জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়লো ৩৮৭ টাকা

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে এপ্রিল মাসে ভোক্তাদের ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে অতিরিক্ত ৩৮৭ টাকা ব্যয় করতে হবে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে বিইআরসি কার্যালয়ে নতুন এই দাম ঘোষণা করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাড়ে ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৯২ টাকা, সাড়ে ১২ কেজির ১ হাজার ৮০১ টাকা, ১৫ কেজির ২ হাজার ১৬১ টাকা, ১৬ কেজির ২ হাজার ৩০৫ টাকা, ১৮ কেজির ২ হাজার ৫৯৩ টাকা, ২০ কেজির ২ হাজার ৮৮১ টাকা, ২২ কেজির ৩ হাজার ১৬৯ টাকা, ২৫ কেজির ৩ হাজার ৬০১ টাকা, ৩০ কেজির ৪ হাজার ৩২১ টাকা, ৩৩ কেজির ৪ হাজার ৭৫৩ টাকা, ৩৫ কেজির ৫ হাজার ৪১ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৬ হাজার ৪২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের মূল্য মূসকসহ প্রতি লিটার ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিইআরসির সদস্য ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, মো. আব্দুর রাজ্জাক, মো. মিজানুর রহমান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শাহিদ সারওয়ার।

ঈদের ছুটিতে ব্যাংক খোলা রাখার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজ: বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদুল ফিতরের ছুটির সময়েও (ঈদের দিন ছাড়া) সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে। পরে তা কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত কার্যক্রম সচল রাখতে ঈদের দিন ছাড়া আগামী ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত—সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও—সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও বুথ সীমিত পরিসরে খোলা রাখতে হবে। ব্যাংক কার্যক্রম এ ছাড়া আগামী ১৮ (বুধবার) ও ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) শিল্প এলাকায় বিশেষ শাখাগুলো সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে গ্রাহকদের সঙ্গে লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। নির্দেশনায় বলা হয়- সাভার, গাজীপুর, টঙ্গী, আশুলিয়া, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাকশিল্পঘন এলাকাগুলো এই সুবিধার আওতায় থাকবে। তবে ১৭ মার্চ এবং ২০ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত গ্রাহকদের সঙ্গে লেনদেনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজ নিজভাবে নির্ধারণ করবে। এদিকে, আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদুল ফিতর হলে সেদিন বন্ধ থাকবে সব ব্যাংক।

সাধারণরা না পেলেও ঈদে কর্মকর্তারা পাবেন নতুন নোট

অনলাইন ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার সাধারণ মানুষের জন্য নতুন টাকার নোট বাজারে ছাড়ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন নোট না ছাড়লেও নিজেদের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন নোটের ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নিয়ে সম্প্রতি একটি অভ্যন্তরীণ অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। সেই আদেশের ভিত্তিতে রোববার থেকে কর্মকর্তা–কর্মচারীরা নতুন নোট সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। কে কত নতুন নোট পাবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ মার্চ জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা অনুসারে নতুন নোট নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালকরা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার নতুন নোট নিতে পারবেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কর্মচারীরা সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার টাকার নতুন নোট নিতে পারবেন। ৮ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী কর্মকর্তা–কর্মচারীরা নতুন নোট সংগ্রহ করতে পারবেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরেই সমালোচনা উঠেছে। কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, সাধারণ মানুষের জন্য নতুন নোট বন্ধ রাখলেও নিজেদের জন্য তা বরাদ্দ দেওয়া প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রতিবছর ঈদের সময় নতুন টাকার নোটের চাহিদা বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঈদ সালামি হিসেবে নতুন নোট দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় ঈদের আগে নতুন নোট ও ছেঁড়া টাকা কেনাবেচার অস্থায়ী দোকান বসে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফুটপাতকেন্দ্রিক এ ব্যবসা ঈদের সময় জমজমাট হয়ে ওঠে। এদিকে অনেকের আশঙ্কা, কর্মকর্তাদের বরাদ্দ দেওয়া এই নতুন নোটের একটি অংশ অনিয়মের মাধ্যমে ফুটপাতের নতুন নোট ও ছেঁড়া টাকার ব্যবসায়ীদের কাছে চলে যেতে পারে। এতে অবৈধ লেনদেনের সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দাম অর্ধেকে নেমেছে হাঁসের ডিম, বিপাকে সিংড়ার খামারিরা

 মোঃ ইব্রাহিম আলী,সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ রমজানকে ঘিরে হঠাৎ করে হাঁসের ডিমের দাম অর্ধেকে নেমে আসায় বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন সিংড়া উপজেলা-র শতাধিক হাঁস খামারী। আগে যেখানে পাইকারি প্রতি পিস হাঁসের ডিম ১৫ থেকে ১৭ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে বর্তমানে তা কমে ৯ থেকে ১১ টাকায় নেমে এসেছে। এতে খামার পরিচালনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। উপজেলার ইটালী ইউনিয়ন-এর কুমগ্রামের খামারী মোঃ আয়ুব আলী জানান, চলনবিলের সিংড়া-বারুহাস সড়কের ডুবো ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে তার খামার রয়েছে। খামারের ১২শ হাঁসের মধ্যে প্রায় ৭শ হাঁস নিয়মিত ডিম দিতো। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ডিমের দাম অর্ধেকে নেমে আসায় এখন ৭শ ডিম বিক্রি করেও ১২শ হাঁসের খাবার জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে। উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়ন-এর আয়েশ গ্রামের খামারী বাচ্চু মিয়া জানান, প্রায় ২৭ বছর ধরে হাঁসের খামার করে আসছেন তিনি। কিন্তু এবছরই প্রথমবারের মতো এত বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন। তার ভাষ্য, ফিডসহ সব ধরনের খাবারের দাম বেড়েছে, অথচ ডিমের ন্যায্য মূল্য মিলছে না। এভাবে চলতে থাকলে খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। একই ইউনিয়নের ইন্দ্রাসন গ্রামের খামারী আলা উদ্দিন বলেন, তার খামারে ৭শ হাঁস রয়েছে। আগে এর মধ্যে প্রায় ৪শ হাঁস ডিম দিতো, এখন তা কমে ৩শ-তে নেমেছে। পর্যাপ্ত খাবার জোগান দিতে না পেরে দূরের হালতির বিল থেকে ছোট শামুক সংগ্রহ করে কোনোভাবে হাঁসগুলোকে খাওয়াতে হচ্ছে। সরেজমিনে চলনবিল এলাকার বৃহত্তম হাঁসের ডিমের হাট চলনবিল-সংলগ্ন সিংড়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, হ্যাচারির জন্য বড় ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১১ টাকা পিস দরে এবং ছোট ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকা পিস দরে। বগুড়া থেকে ডিম কিনতে আসা পাইকার মনতাজ মন্ডল জানান, বর্তমানে পোল্ট্রি মুরগির ডিমের আমদানি বেশি এবং দামও তুলনামূলক কম। এ কারণে হাঁসের ডিমের চাহিদা কমে গেছে। আগের মতো ডিম কিনে বাজারজাত করা যাচ্ছে না। চলনবিল এলাকার ডিম আড়তদার মোঃ আলহাজ উদ্দিন বলেন, রমজান উপলক্ষে প্রতিবছরই পোল্ট্রি ডিমের সরবরাহ কিছুটা বেড়ে যায়। ফলে সাময়িকভাবে সব ধরনের ডিমের বাজারে প্রভাব পড়ে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং ডিমের দাম আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

সাঈদ আহমেদ এমপি’র বিজয়ে বিআইএফ’র উষ্ণ শুভেচ্ছা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)’র প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে মুখ্য নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম (বিআইএফ) । বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিআইএ কার্যালয়ে এই শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম (বিআইএফ)’র প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)’র কার্যনির্বাহী সদস্য ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম ইউসুফ আলী। এ ছাড়াও ফোরামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী আবুল কালাম আজাদ, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. কাজিম উদ্দিন, বিআইএফ’র  সেক্রেটারি জেনারেল ও সেনা ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. শফিক শামীম পিএসসি (অব.); জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ও বিআইএ’র নির্বাহী সদস্য এস এম নুরুজ্জামান, বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. নূরে আলম সিদ্দিকী, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মুন্সী মো. মনিরুল আলম; সাংগঠনিক সম্পাদক ও রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ড. একেএম সারোয়ার জাহান জামীল, অফিস সেক্রেটারি ও স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী আবদুল মতিন সরকার, নির্বাহী সদস্য ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. ইমাম শাহীন, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কাজী মোকাররম দস্তগীর; ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী বায়েজিদ মুজতবা সিদ্দিকী, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মুহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী, নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী চৌধুরী গোলাম ফারুক এবং প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. সামছুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় ৩ মাস মেয়াদি কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধি এবং অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতিহারে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আজ দেশজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, কর্মসংস্থান বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে শীর্ষে, যেখানে ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করেছি। প্রশিক্ষণ শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রোফাইল খোলা হয়, যেখানে তাদের আয় ও অগ্রগতির তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। এ সময় তিনি নিজে ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প তুলে ধরেন। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে ৩৭৩ কোটি ৭৭ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদে ষষ্ঠ ব্যাচের প্রশিক্ষণে প্রতি জেলায় ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস যুবরা এই সুযোগ পেয়েছেন। জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করেছে। এখন পর্যন্ত ৫টি পর্যায়ে মোট ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বা ৮ হাজার ৬৪০ জন দেশি ও বিদেশি মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। তাদের উপার্জিত অর্থের পরিমাণ ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ ১৪ হাজার ৪১৬ টাকা। উপার্জনে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ব্যাচে ভর্তির জন্য ৯৭ হাজার ২২৯ জন আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৬১ হাজার ৫৮১ জনকে নির্বাচন করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার ৮০০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ৮ ঘণ্টা করে ৩ মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদারকিতে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।

‘স্বপ্ন’ সুপারশপের ডেটা হ্যাক, ১৮ কোটি টাকা দাবি হ্যাকারদের

‘স্বপ্ন’ সুপারশপের ডেটা হ্যাক, ১৮ কোটি টাকা দাবি হ্যাকারদের

দেশের জনপ্রিয় সুপারশপ 'স্বপ্ন'-এর গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাক করে বিপুল পরিমাণ তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। এসব তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘স্বপ্ন’। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির জানান, গ্রাহক তথ্য সুরক্ষা ও সংকট মোকাবিলায় তারা বর্তমানে দেশি-বিদেশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কারিগরি সহায়তা নিচ্ছেন। একদিকে দেশের জনপ্রিয় সুপারশপ চেইন ‘স্বপ্ন’-এর গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাক করে ১৮ কোটি টাকা (১৫ লাখ ডলার) দাবি করেছে হ্যাকাররা। অন্যদিকে এমটিএফই (MTFE) স্ক্যামের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া প্রায় ৩.৬২২ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেশের জনপ্রিয় সুপারশপ চেইন 'স্বপ্ন'-র গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত আগস্টে আমেরিকা থেকে হ্যাকাররা গ্রাহক তথ্য প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা এমটিএফই (MTFE) স্ক্যামের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে থেকে নেওয়া বিদেশে পাচার করা প্রায় ৩.৬২২ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ​পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ বশির উদ্দিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪.৪৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ এই অর্থ গত সপ্তাহে সুইফট (SWIFT) ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় ফেরত আনা হয়েছে।

এনইআইআর বাস্তবায়ন ভোক্তা সুরক্ষা ও বৈধ ব্যবসার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: এমআইওবি

এনইআইআর বাস্তবায়ন ভোক্তা সুরক্ষা ও বৈধ ব্যবসার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: এমআইওবি

দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে স্বচ্ছতা জোরদার, ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি) আজ একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল - ‘এনইআইআর-এর হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ’। সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব, ভোক্তা সুবিধা এবং দেশের মোবাইল ফোন ইকোসিস্টেমে এর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানানো হয় এবং এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এতে এমআইওবি’র সদস্যবৃন্দসহ শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এমআইওবি জানায়, সরকার ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পাশাপাশি বৈধ আমদানিকে উৎসাহিত এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক হ্রাসের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সময়োপযোগী ও ইতিবাচক। সংগঠনটির মতে, এসব নীতিগত উদ্যোগ মোবাইল ফোন শিল্পে দীর্ঘদিনের অনিয়ম কমাতে এবং একটি সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। আলোচনায় বলা হয়, এনইআইআর কার্যকর হওয়ার ফলে অবৈধ, নকল ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, যা সরাসরি ভোক্তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে অবৈধ আইএমইআই ব্যবহার বন্ধ হওয়ায় ফোন ক্লোনিং, প্রতারণা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। আলোচকরা আরও বলেন, এই উদ্যোগ বাজারে বৈধ ব্যবসা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। এমআইওবি’র তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১৮টি স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এই খাতে সরাসরি ৫০ হাজার দক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি ডিলার, ডিএসআর, সার্ভিস ও খুচরা বিক্রয়সহ আরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী শ্রমিক সক্রিয়ভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে এই শিল্প থেকে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর, মজুরি ও ইউটিলিটি বিল আয় করছে। তবে এমআইওবি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানায়, এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কিছু অবৈধ স্মার্টফোন ব্যবসায়ীর সহিংস ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় একটি সীমিত গোষ্ঠী-যারা দেশের প্রায় ১২ হাজার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র এক হাজার থেকে দেড় হাজার, স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক হ্রাসের দাবি মেনে নেওয়ার পরও বেআইনি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে। এমআইওবি জানায়, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে বহিরাগতদের এনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুর, শিশুদের ব্যবহার করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ মোবাইল ফোনের দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সংগঠনটির মতে, আইনবহির্ভূত এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করছে না, বরং দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) ওপর নির্ভরশীল স্মার্টফোন শিল্পে এ ধরনের অস্থিরতা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এই অনিশ্চয়তা শুধু চলমান বিনিয়োগ নয়, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ প্রবাহ ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আগ্রহকেও নিরুৎসাহিত করতে পারে। এমআইওবি মনে করে, যেকোনো নীতিগত মতভেদ শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে সমাধান হওয়া উচিত এবং বৈধ ব্যবসা ও বিনিয়োগ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ জরুরি। এ প্রসঙ্গে এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, “এনইআইআর বাস্তবায়ন দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অবৈধ ও নকল মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং বাজারে বৈধ ব্যবসা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে। আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বিটিআরসি কার্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুরসহ যেকোনো সহিংস ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। নীতিগত ধারাবাহিকতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকলে স্মার্টফোন শিল্প ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।”

সুন্দরবনে অভয়াশ্রম কমানোর দাবীতে জেলেদের মানববন্ধন

বাগেরহাটের শরণখোলায় পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ৮০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য ও অভয়াশ্রম থাকলেও সাতক্ষীরাও চাঁদপাই রেঞ্জ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ অভয়াশ্রম এ বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল সকল মৎস্য ও পেশাজীবিবৃন্দ।  দুই অক্টোবর সকাল দশটায়  শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করায় ফুঁসে উঠেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা। তারা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের দুই রেঞ্জের জন্য দুই ধরনের আইন কখনোই তারা মেনে নিবেন না। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে যেখানে ৩০-৪০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে শরণখোলা রেঞ্জে ৮০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য শরণখোলাবাসী কখনোই মেনে নিবে না। তাছাড়া বর্তমানে শরণখোলা রেঞ্জে যতটুকু এলাকা অবমুক্ত রয়েছে তার তুলনায় সুন্দরবনে বৈধভাবে প্রবেশ করা জেলেদের সংখ্যা অনেক। ফলে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না অধিকাংশ জেলেদের জালে। অতিদ্রুত যদি অভয়ারণ্য এলাকা কমিয়ে অন্তত ৫০ ভাগ না করা হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহনের কথা বলেন তারা। এসময়  পেশাজীবিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাউথখালি ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি শহীদুল ইসলাম লিটন, মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ সেলিম খান, মোঃ খলিল হাওলাদার, মোঃ হালিম খান,  রফিকুল হাওলাদার ও শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান সুজন। এ ব্যাপারে পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল চৌধুরী বলেন, অন্যান্য রেঞ্জের তুলনায় শরণখোলায় অভয়াশ্রম ও অভয়ারণ্য এলাকা বেশি। এখানে জেলেদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক সময় পাস পারমিট নেওয়া জেলেদের বিপাকে পড়তে হয়। জেলেদের দাবি কিছুটা হলেও যৌক্তিক। তবে এ বিষয়টি নিরশন এর দায়িত্ব বনবিভাগ ও বন মন্ত্রণালয়ের।

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ডেস্ক নিউজ: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী থানায় গিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী স্বামী লিটন শেখ (৪৬) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোরেলগঞ্জের বনগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত সাইম শেখের ছেলে লিটন শেখের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দাম্পত্য জীবন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত পারিবারিক কলহ চলছিল। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় যখন লিটন শেখ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলে, তখন তার স্ত্রী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে ফেলে। ঘটনায় লিটন শেখের চিৎকার শুনে তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ওই অঙ্গটির প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরদিন সকালে অভিযুক্ত নারী নিজেই থানায় এসে অপরাধ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো শ্রীপুর গ্রাম ও আশপাশে এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রুবেল

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রুবেল

সর্বশেষ ২০২১ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছিলেন রুবেল হোসেন। এরপর আর জাতীয় দলে সুযোগ পাননি তিনি। লম্বা সময় দলের বাইরে থাকা এই পেসার এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেন রুবেল। ফেসবুকে তিনি লেখেন, 'আমি পেসার রুবেল হোসেন। বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছি ২৭ টেস্ট, ১০৪ ওয়ানডে এবং ২৮ টি-টোয়েন্টি। জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম।' আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও ঘরোয়া আসরে খেলা চালিয়ে যাবেন রুবেল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'তবে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।' পুরো ক্যারিয়ারে পরিবার, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছেন রুবেল। তাই বিদায় বেলায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এই পেসার, 'আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন এটা আমার বিশ্বাস। অনেক ভালোবাসা সবার প্রতি বাংলাদেশের হয়ে ২৭ টেস্ট খেলেছেন রুবেল। ৪৪ ইনিংসে বোলিং করে তিনি শিকার করেছেন ৩৬ উইকেট। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার ইনিংসে ১৬৬ রানে ৫ উইকেট, আর ম্যাচে ২১০ রানে ৫ উইকেট। টেস্টে ফাইফার পেয়েছেন একবার। তার বোলিং গড় প্রায় ৭৭ এবং স্ট্রাইকরেট ১১৭। টেস্টের চেয়ে রঙিন পোশাকে রুবেলের পারফরম্যান্স ভালো ছিল। ১০৪ ওয়ানডে খেলে ১০২ ইনিংসে বোলিং করে ১২৯ উইকেট পেয়েছেন তিনি। তার বোলিং গড় প্রায় ৩৪, ইকোনোমি ৫.৬৭ এবং স্ট্রাইকরেট ৩৬.২। এই সংস্করণে তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ২৬ রানে ৬ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে ২৮ ম্যাচ খেলে নামের পাশে যোগ করেছেন ২৮ উইকেট। যেখানে ওভার প্রতি তিনি রান খরচ করেছেন ৯.৪৫। তার সেরা বোলিং ফিগার ৩১ রানে ৩ উইকেট।

শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টির সাপোর্টে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশ

শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টির সাপোর্টে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশ

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। নুরুল হক নুর বলেন, ঈদের ছুটির পর আজ প্রথম অফিস এবং প্রথম অফিসে বেলা ১১টায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সচিব এবং পররাষ্ট্র সচিবসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার একটি মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে কর্মপরিকল্পনা চেয়েছিলেন, সেগুলো নিয়ে একটি ফলোআপ আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ এবং তাঁর নির্দেশনায় আমরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে যারা কোরিয়া, জাপান, চায়না, জার্মানি এমন দেশগুলোতে যাবে; বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। সেটি আমাদের মন্ত্রণালয়ের একটি ব্যাংক আছে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, ওই ব্যাংককেই ডেডিকেটেড করতে বলেছেন, যেন এই মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে বা এই সংকটের ফলে আমাদের অনেক শ্রমিক সেখানে বর্তমানে আছেন। আমাদের শ্রমবাজারের বড় একটি অংশই কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য। সেক্ষেত্রে এই যুদ্ধের ফলে আমাদের কী ধরনের সংকট এবং সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে সেগুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা করেছে। বিশেষ করে ধরুন এখানে মিডলইস্টে যে ধরনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ধ্বংস করা হয়েছে, এগুলো আবার নতুন করে তৈরি করতে হবে। তাছাড়া ওখানে আশা করি যে আমাদের দেশের শ্রমবাজার খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বরং আমাদের দেশের চাহিদা আরও তৈরি হতে পারে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বরাবরই থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ বা ভাষা শেখার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আমাদের দেশের মানুষ শুধু ভাষা না জানার কারণে তারা অল্প পয়সার চাকরি করে। ভাষা জানলে তারা একটু ভালো বেতন পেতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানে এক লাখ লোক পাঠানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে একটি এমওইউ হয়েছে, সেটিকে কীভাবে ত্বরান্বিত করা যায়। জাপানসহ ইউরোপে কীভাবে আমরা লোক পাঠাতে পারি সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। ইউরোপের বেশ কিছু দেশের ভিসা করার জন্য ইন্ডিয়া যেতে হয়। তো এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, তাদেরকে পারসু করে বাংলাদেশে তাদের একটি অফিস বা কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করার জন্য তাদেরকে অনুরোধ করা। এই বিষয়ে আজ আলোচনা হয়েছে। কিছু দেশ এরইমধ্যে এখানে কনস্যুলার সেবা দিচ্ছে। বাকি দেশগুলো যেন এখানে নিশ্চিত করে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, বলেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডগুলো একটু প্রচার কম হচ্ছে। সেই বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন যে, আমরা যেন যার যার মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যম, মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডগুলো যেন জনগণের সামনে আমরা পৌঁছে দিই। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা তার মধ্যে আমাদের অভিবাসন ব্যয় নির্দিষ্ট করে দেওয়ার একটি বিষয় আছে। আমরা হয়তো কিছুদিনের মধ্যে সেটি চূড়ান্ত করব। আমাদের যেসব শ্রমবাজারগুলো বন্ধ আছে, মালয়েশিয়াসহ যে ধরনের সমস্যাগুলো আছে, এটিও দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করে লোক পাঠানোর ব্যবস্থা করা। থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশেও আমরা যেন লোক পাঠাতে পারি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে সেই বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে রেমিটেন্সে কোনো ধাক্কা আসবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধের ফলে আমাদের শ্রমবাজার কিংবা রেমিটেন্সের উপরে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। হয়তো সাময়িক কিছুটা হতে পারে। বরং যুদ্ধ বন্ধ হলেও এগুলো পুনর্গঠনে তাদের যে জনশক্তি লাগবে, আমি মনে করি ওই সব দেশের শ্রমবাজারে নতুন করে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে।

মুক্তি পেলেন বাউল আবুল সরকার

মুক্তি পেলেন বাউল আবুল সরকার

ধর্ম অবমাননা ও কটূক্তির মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন কারাগারে থাকা বাউলশিল্পী আবুল সরকার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন। তিনি বলেন, জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছালে, তা যাচাই শেষে আর কোনো মামলা না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে গত ৬ এপ্রিল বিচারপতি আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৬ মাসের জামিনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আবুল সরকারকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন হাইকোর্ট। গত ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় খালা পাগলীর মেলায় পালাগানের আসরে বাউলশিল্পী আবুল সরকার ধর্ম অবমাননা করে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর মন্তব্যের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে আবুল সরকারকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল। পরে ঘিওর উপজেলার মুফতি মো. আবদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে আবুল সরকারকে আসামি করে ঘিওর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙ্গনে গৃহহীন সাত শতাধিক পরিবার

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙ্গনে গৃহহীন সাত শতাধিক পরিবার

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙ্গন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১৮ দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় শতাধিক হেক্টর আবাদি জমি। এই তীব্র ভাঙনের ফলে ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে সাত শতাধিক পরিবার। ইতোমধ্যে সুখেরবাতি আদর্শগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চর গেন্দার আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।বর্তমানে আরও কয়েকশ’ পরিবার ভাঙনের মুখে রয়েছে। নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে; দিনরাত অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে তাদের জীবন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মাসে চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি, চর গেন্দার আলগা, সোনাপুর, পশ্চিম খেদাইমারী, ঘুঘুমারী ও নামাজের চর এলাকায় অন্তত ৭২০টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এসব পরিবার এখন রাস্তার ধারে কিংবা অন্যের জমিতে অস্থায়ী ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।সরেজমিনে দেখা গেছে, বসতভিটা হারিয়ে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বা রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। চর ঘুঘুমারীর বাসিন্দা মোছা. রহিমা বেওয়া তিন মেয়েকে নিয়ে একাই সংগ্রাম করছেন। নিজের কোনো জমি না থাকায় কোথায় স্থায়ীভাবে থাকবেন, তা নিয়েই তিনি অনিশ্চয়তায় আছেন।একই এলাকার ভুক্তভোগী মো. সরবেশ পাগলা জানান, তার স্ত্রী ও মেয়ে দুজনই প্রতিবন্ধী। গত দেড় বছরে তিনবার ভাঙনের শিকার হয়ে বারবার বসতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন, যা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।সুখেরবাতি চরের বাসিন্দা মো. ফুলচান বলেন, তার বাড়ি চারবার নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে থাকলেও সেখান থেকেও উচ্ছেদের আশঙ্কায় রয়েছেন।চর গেন্দার আলগা এলাকার মোছা. সুন্দরী খাতুন জানান, তার বসতবাড়ি পাঁচবার ভেঙেছে। ছোট সন্তানদের নিয়ে কোথাও স্থায়ী আশ্রয় মিলছে না। স্বামী অসুস্থ থাকায় পরিবারের উপার্জনের পথও বন্ধ।এদিকে সুখেরবাতি চরের মোছা. আনজুয়ারা জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর প্রতিবন্ধী ছেলে ও তালাকপ্রাপ্ত মেয়েকে নিয়ে তিনি মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বারবার ভাঙনের শিকার হয়ে তিনি এখন দিশেহারা এবং দ্রুত ভাঙনরোধের দাবি জানিয়েছেন।একই এলাকার মোছা. হাজেরা বেওয়া জানান, তার শেষ সম্বলটুকুও নদীতে হারিয়েছেন। ঘর তোলার সামর্থ্য না থাকায় তিনি এখন রাস্তার পাশে ঝুপড়ি বেঁধে বসবাস করছেন।পেশায় ইমাম মো. কুরবান আলী মুন্সী বলেন, ভিটেমাটি হারিয়ে তিনি আত্মীয়ের জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সবসময় উচ্ছেদের আতঙ্কে থাকেন।চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সমসের আলী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ৭২০টি পরিবারের তালিকা ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম সাইদুর রহমান দুলালের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, এ এলাকায় সারা বছরই কমবেশি নদীভাঙন চলতে থাকে।এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে বর্তমানে জরুরি কোনো বরাদ্দ নেই।

শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টির সাপোর্টে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশ

শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টির সাপোর্টে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশ

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। নুরুল হক নুর বলেন, ঈদের ছুটির পর আজ প্রথম অফিস এবং প্রথম অফিসে বেলা ১১টায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সচিব এবং পররাষ্ট্র সচিবসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার একটি মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে কর্মপরিকল্পনা চেয়েছিলেন, সেগুলো নিয়ে একটি ফলোআপ আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ এবং তাঁর নির্দেশনায় আমরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে যারা কোরিয়া, জাপান, চায়না, জার্মানি এমন দেশগুলোতে যাবে; বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। সেটি আমাদের মন্ত্রণালয়ের একটি ব্যাংক আছে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, ওই ব্যাংককেই ডেডিকেটেড করতে বলেছেন, যেন এই মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে বা এই সংকটের ফলে আমাদের অনেক শ্রমিক সেখানে বর্তমানে আছেন। আমাদের শ্রমবাজারের বড় একটি অংশই কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য। সেক্ষেত্রে এই যুদ্ধের ফলে আমাদের কী ধরনের সংকট এবং সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে সেগুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা করেছে। বিশেষ করে ধরুন এখানে মিডলইস্টে যে ধরনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ধ্বংস করা হয়েছে, এগুলো আবার নতুন করে তৈরি করতে হবে। তাছাড়া ওখানে আশা করি যে আমাদের দেশের শ্রমবাজার খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বরং আমাদের দেশের চাহিদা আরও তৈরি হতে পারে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বরাবরই থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ বা ভাষা শেখার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আমাদের দেশের মানুষ শুধু ভাষা না জানার কারণে তারা অল্প পয়সার চাকরি করে। ভাষা জানলে তারা একটু ভালো বেতন পেতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানে এক লাখ লোক পাঠানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে একটি এমওইউ হয়েছে, সেটিকে কীভাবে ত্বরান্বিত করা যায়। জাপানসহ ইউরোপে কীভাবে আমরা লোক পাঠাতে পারি সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। ইউরোপের বেশ কিছু দেশের ভিসা করার জন্য ইন্ডিয়া যেতে হয়। তো এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, তাদেরকে পারসু করে বাংলাদেশে তাদের একটি অফিস বা কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করার জন্য তাদেরকে অনুরোধ করা। এই বিষয়ে আজ আলোচনা হয়েছে। কিছু দেশ এরইমধ্যে এখানে কনস্যুলার সেবা দিচ্ছে। বাকি দেশগুলো যেন এখানে নিশ্চিত করে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, বলেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডগুলো একটু প্রচার কম হচ্ছে। সেই বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন যে, আমরা যেন যার যার মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যম, মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডগুলো যেন জনগণের সামনে আমরা পৌঁছে দিই। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা তার মধ্যে আমাদের অভিবাসন ব্যয় নির্দিষ্ট করে দেওয়ার একটি বিষয় আছে। আমরা হয়তো কিছুদিনের মধ্যে সেটি চূড়ান্ত করব। আমাদের যেসব শ্রমবাজারগুলো বন্ধ আছে, মালয়েশিয়াসহ যে ধরনের সমস্যাগুলো আছে, এটিও দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করে লোক পাঠানোর ব্যবস্থা করা। থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশেও আমরা যেন লোক পাঠাতে পারি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে সেই বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে রেমিটেন্সে কোনো ধাক্কা আসবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধের ফলে আমাদের শ্রমবাজার কিংবা রেমিটেন্সের উপরে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। হয়তো সাময়িক কিছুটা হতে পারে। বরং যুদ্ধ বন্ধ হলেও এগুলো পুনর্গঠনে তাদের যে জনশক্তি লাগবে, আমি মনে করি ওই সব দেশের শ্রমবাজারে নতুন করে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রুবেল

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রুবেল

সর্বশেষ ২০২১ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছিলেন রুবেল হোসেন। এরপর আর জাতীয় দলে সুযোগ পাননি তিনি। লম্বা সময় দলের বাইরে থাকা এই পেসার এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেন রুবেল। ফেসবুকে তিনি লেখেন, 'আমি পেসার রুবেল হোসেন। বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছি ২৭ টেস্ট, ১০৪ ওয়ানডে এবং ২৮ টি-টোয়েন্টি। জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম।' আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও ঘরোয়া আসরে খেলা চালিয়ে যাবেন রুবেল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'তবে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।' পুরো ক্যারিয়ারে পরিবার, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছেন রুবেল। তাই বিদায় বেলায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এই পেসার, 'আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন এটা আমার বিশ্বাস। অনেক ভালোবাসা সবার প্রতি বাংলাদেশের হয়ে ২৭ টেস্ট খেলেছেন রুবেল। ৪৪ ইনিংসে বোলিং করে তিনি শিকার করেছেন ৩৬ উইকেট। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার ইনিংসে ১৬৬ রানে ৫ উইকেট, আর ম্যাচে ২১০ রানে ৫ উইকেট। টেস্টে ফাইফার পেয়েছেন একবার। তার বোলিং গড় প্রায় ৭৭ এবং স্ট্রাইকরেট ১১৭। টেস্টের চেয়ে রঙিন পোশাকে রুবেলের পারফরম্যান্স ভালো ছিল। ১০৪ ওয়ানডে খেলে ১০২ ইনিংসে বোলিং করে ১২৯ উইকেট পেয়েছেন তিনি। তার বোলিং গড় প্রায় ৩৪, ইকোনোমি ৫.৬৭ এবং স্ট্রাইকরেট ৩৬.২। এই সংস্করণে তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ২৬ রানে ৬ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে ২৮ ম্যাচ খেলে নামের পাশে যোগ করেছেন ২৮ উইকেট। যেখানে ওভার প্রতি তিনি রান খরচ করেছেন ৯.৪৫। তার সেরা বোলিং ফিগার ৩১ রানে ৩ উইকেট।

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙ্গনে গৃহহীন সাত শতাধিক পরিবার

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙ্গন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১৮ দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় শতাধিক হেক্টর আবাদি জমি। এই তীব্র ভাঙনের ফলে ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে সাত শতাধিক পরিবার। ইতোমধ্যে সুখেরবাতি আদর্শগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চর গেন্দার আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।বর্তমানে আরও কয়েকশ’ পরিবার ভাঙনের মুখে রয়েছে। নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে; দিনরাত অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে তাদের জীবন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মাসে চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি, চর গেন্দার আলগা, সোনাপুর, পশ্চিম খেদাইমারী, ঘুঘুমারী ও নামাজের চর এলাকায় অন্তত ৭২০টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এসব পরিবার এখন রাস্তার ধারে কিংবা অন্যের জমিতে অস্থায়ী ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।সরেজমিনে দেখা গেছে, বসতভিটা হারিয়ে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বা রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। চর ঘুঘুমারীর বাসিন্দা মোছা. রহিমা বেওয়া তিন মেয়েকে নিয়ে একাই সংগ্রাম করছেন। নিজের কোনো জমি না থাকায় কোথায় স্থায়ীভাবে থাকবেন, তা নিয়েই তিনি অনিশ্চয়তায় আছেন।একই এলাকার ভুক্তভোগী মো. সরবেশ পাগলা জানান, তার স্ত্রী ও মেয়ে দুজনই প্রতিবন্ধী। গত দেড় বছরে তিনবার ভাঙনের শিকার হয়ে বারবার বসতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন, যা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।সুখেরবাতি চরের বাসিন্দা মো. ফুলচান বলেন, তার বাড়ি চারবার নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে থাকলেও সেখান থেকেও উচ্ছেদের আশঙ্কায় রয়েছেন।চর গেন্দার আলগা এলাকার মোছা. সুন্দরী খাতুন জানান, তার বসতবাড়ি পাঁচবার ভেঙেছে। ছোট সন্তানদের নিয়ে কোথাও স্থায়ী আশ্রয় মিলছে না। স্বামী অসুস্থ থাকায় পরিবারের উপার্জনের পথও বন্ধ।এদিকে সুখেরবাতি চরের মোছা. আনজুয়ারা জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর প্রতিবন্ধী ছেলে ও তালাকপ্রাপ্ত মেয়েকে নিয়ে তিনি মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বারবার ভাঙনের শিকার হয়ে তিনি এখন দিশেহারা এবং দ্রুত ভাঙনরোধের দাবি জানিয়েছেন।একই এলাকার মোছা. হাজেরা বেওয়া জানান, তার শেষ সম্বলটুকুও নদীতে হারিয়েছেন। ঘর তোলার সামর্থ্য না থাকায় তিনি এখন রাস্তার পাশে ঝুপড়ি বেঁধে বসবাস করছেন।পেশায় ইমাম মো. কুরবান আলী মুন্সী বলেন, ভিটেমাটি হারিয়ে তিনি আত্মীয়ের জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সবসময় উচ্ছেদের আতঙ্কে থাকেন।চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সমসের আলী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ৭২০টি পরিবারের তালিকা ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম সাইদুর রহমান দুলালের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, এ এলাকায় সারা বছরই কমবেশি নদীভাঙন চলতে থাকে।এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে বর্তমানে জরুরি কোনো বরাদ্দ নেই।

সিংড়ায় খাবার খেয়ে একসাথে অসুস্থ ৮ শ্রমিক, হাসপাতালে ভর্তি

চলনবিলে বোরো ধান কাটার সময় বিরতিতে খাবার খেয়ে একসাথে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৮ জন ধান কাটা শ্রমিক। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ২নং ডাহিয়া ইউনিয়নের গাড়াবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।অসুস্থ শ্রমিকরা হলেন— মোঃ আনোয়ার (৩০), মোঃ আজাদ (৪০), মোঃ রমিজুল (৩৮), মোঃ ইয়াসিন (২৫), মোঃ ইউসুফ (২৬), মোঃ হাসেম (৪০), মোঃ মনির (২৫) ও আবু বক্কর ছিদ্দিক (২৬)। তাদের সবার বাড়ি একই গ্রামের।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলনবিল এলাকায় ধান কাটার কাজে নিয়োজিত ওই শ্রমিকরা দুপুরের বিরতিতে জমির মালিকের দেওয়া চাউল ও পানি পান করেন। এর কিছুক্ষণ পরই একে একে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে বমি, মাথা ঘোরা ও শারীরিক দুর্বলতার লক্ষণ দেখা দেয়।পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তাদের ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি খাবারে বিষক্রিয়ার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং অধিকাংশই এখন শঙ্কামুক্ত।সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে খাবারে বিষাক্ত পদার্থ মিশলো তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী নিহত

নরসিংদীতে বাস ও কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি বাসের চাপায় আজিজুর রহমান (৪৫) নামে এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী সদর উপজেলার বাঘহাটা জামে মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত আজিজুর রহমান গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উজান গোসাগারি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পরিবারসহ নরসিংদীর বাঘহাটা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।পুলিশ জানায়, একটি বাস ও কাভার্ড ভ্যানের মধ্যে সংঘর্ষের পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থানরত আজিজুর রহমানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার পরপরই বাস ও কাভার্ড ভ্যানের চালকরা পালিয়ে যায়। পরে ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।ইটাখোলা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে এবং পলাতক চালকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মঞ্জিলা বেগম একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ঢাকায় প্রতি ঘণ্টায় একজন মানুষকে কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০ মশা!

রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার একটি বাসার কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান। তার কাজ হলো বাসার গেট পাহারা দেওয়া। দিনভর গেট পাহারা দেওয়া সম্ভব হলেও সন্ধ্যার পর মশার উৎপাত তাকে সমস্যায় ফেলে। মিজানুরের দাবি, সন্ধ্যায় তাকে এত বেশি মশা ঘিরে ধরে যে, প্রতি থাপ্পড়ে অন্তত ৫টি মশা মারা যায়। অন্যদিকে, পান্থপথ এলাকার বস্তিতে বসবাসকারী কয়েকজন নারী মশার উৎপাতের কারণে ঘরে থাকতে পারছেন না। তারা রাস্তায় বসে কাগজ জ্বালিয়ে মশা নিবারণের চেষ্টা করছেন, যা কার্যত ব্যর্থ হচ্ছে। তারা বলছেন, রাস্তার অবস্থা তাদের খুপড়ি ঘরের তুলনায় কিছুটা ভালো। রাজধানীবাসীও অভিযোগ করছেন, হঠাৎ মশার উৎপাত পুরো শহরে বেড়েছে। নিয়ন্ত্রণে নগর প্রশাসনের কার্যক্রমে তেমন উদ্যোগ দেখা যায় না। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি না থাকাও এর একটি প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন ধরে মশা নিয়ে গবেষণা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব গবেষক অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। তিনি বেসরকারী একটি টেলিভিশনকে জানান, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বিগত ৫ বছরের তুলনায় মশার ঘনত্ব বেশি ছিল। যদিও বর্তমানে তা কমতে শুরু করেছে। বর্তমান সময়ে ঢাকায় একজন মানুষকে প্রতি ঘণ্টায় কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০টি মশা। অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, আমরা যে পদ্ধতিতে ফগিং করে মশা মারছি, এতে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বিশ্বের অনেক দেশও এখন এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে না। মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে লার্ভা স্তর থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রশাসক জানাচ্ছেন, মশক নিধনের কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি নেই। বরং মশা বৃদ্ধির মূল কারণ হলো শহরের খালগুলোর অপরিচ্ছন্নতা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বেসরকারী একটি টেলিভিশনকে জানান, ডিজেল সংকটের কারণে মশক নিধন কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল। তবে আমরা পেট্রোবাংলার সঙ্গে সমাধান করেছি। এখন কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি নেই। খালগুলো অপরিচ্ছন্ন থাকায় সেখান থেকেই মশার উৎপত্তি হচ্ছে। আমরা খালগুলো সচল করার চেষ্টা করছি। তবে, নগরবাসী সহযোগিতা না করলে শতভাগ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে মশা নিধনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যেই মশা সংক্রান্ত অভিযোগ কমেছে। আশা করি শিগগিরই যেসব এলাকায় ঘাটতি রয়েছে, সেগুলোও সমাধান করা সম্ভব হবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি সংকট অবশ্যই প্রভাব ফেলে। তবে, আমরা এই ক্রাইসিস মোকাবিলার জন্য ঢাকার আসনগুলো থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরও কাজে যুক্ত করার চেষ্টা করছি।