বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে আবাসিক হোটেল ও স্পা সেন্টারের আড়ালে গড়ে উঠেছে অবৈধ দেহব্যবসা ও মাদক বাণিজ্যের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। বাহ্যিকভাবে ঝকঝকে সাইনবোর্ড, আকর্ষণীয় ইন্টেরিয়র ও অনলাইন প্রচারণার আড়ালে চলছে অসামাজিক কর্মকাণ্ড—এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য; স্বল্পমূল্যের আবাসিক সুবিধা কিংবা “ফ্যামিলি স্পা”র বিজ্ঞাপনের আড়ালে গোপনে পরিচালিত হচ্ছে দেহব্যবসা, পাশাপাশি সরবরাহ করা হচ্ছে ইয়াবা, আইস ও বিদেশি মদ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কিছু আবাসিক হোটেলে ভুয়া পরিচয়ে কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই ছাড়াই ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া, সিসিটিভি ক্যামেরা অকার্যকর রাখা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে নজরদারির সীমাবদ্ধতা তৈরি করা—এসব কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। একইভাবে কয়েকটি স্পা সেন্টারে “বিশেষ সার্ভিস” নামে গোপন প্যাকেজ চালু রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের মাধ্যমে দেহব্যবসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ কাজে জড়িত একটি দালালচক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে ক্রেতা সংগ্রহ করছে বলেও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মাদক ব্যবসার ক্ষেত্রেও এসব প্রতিষ্ঠান নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কক্ষ ভাড়া নিয়ে ছোট ছোট পার্টির আয়োজন, যেখানে উচ্চমূল্যে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক সরবরাহ করা হয়—এমন তথ্য মিলেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গভীর রাত পর্যন্ত অচেনা লোকজনের আনাগোনা, উচ্চ শব্দে গান বাজানো ও সন্দেহজনক কার্যকলাপের কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া থাকায় অভিযানের পরও কিছুদিনের মধ্যে একই কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়ে যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, লাইসেন্স যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শুধু অভিযান নয়—দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি, কঠোর শাস্তি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বেকারত্ব, দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভন ও সামাজিক অবক্ষয়—এসব কারণও এই চক্র বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।
সচেতন মহল বলছে, আবাসিক হোটেল ও স্পা সেন্টারগুলোতে কঠোর লাইসেন্সিং নীতিমালা, নিয়মিত অডিট ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ চালু করা জরুরি। পাশাপাশি নাগরিকদেরও সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় সেবাখাতের আড়ালে বেআইনি কর্মকাণ্ডের এই বিস্তার সমাজে আরও গভীর সংকট তৈরি করতে পারে।
অনুসন্ধানের প্রথম পর্বের মাধ্যমে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা কেবল এক ভয়াবহ বাস্তবতার সূচনা মাত্র। ৪ পর্বের ধারাবাহিক সংবাদের দ্বিতীয় পর্বে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—অপেক্ষায় থাকুন।
– প্রিয় পাঠক, আপনার কাছেও যদি প্রতিষ্ঠানটির কোনো তথ্য থাকে, আমাদের সঙ্গে শেয়ার করুন।