শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক নিপা আক্তার:গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর উপজেলায় বিকেবাড়ি(রেক্সোনা গার্মেন্টস সংলগ্ন) এলাকায় ঢাকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চুর(৪২) এর ওপর হাতুড়ি,রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হামলার ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে জয়দেবপুর থানায়।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৮:৩০ মিনিটের সময় জয়দেবপুর উপজেলার মির্জাপুর বাজার সংলগ্ন বিকে বাড়ি এলাকায় তার নিজ বাড়ীর নির্মাণাধীন কাজ চলাকালীন সময় স্থানীয় গনি মিয়ার সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটায়।আহত মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু গাজীপুর সদর হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় গনি মিয়া( ৫৫ ) মোফাজ্জল হোসেন(৩৮) ও মাসুদ (৩২) সহ কয়েকজন আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার দিন সকালে আমি নির্মাণকাজ তদারকি করছিলাম। এ সময় অভিযুক্তরা আমার বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং শ্রমিকদের গালিগালাজ করে। প্রতিবাদ করলে তারা হাতুড়ি, রড ও লাঠি দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে মোঃ গনি মিয়া হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে আমি পিছনে সরে গেলে তা আমার ডান চোখের নিচে লাগে, এতে আমি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি।
আমার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরও হুমকি দেয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ও র্যাব-১ পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আমাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় মামলা নম্বর-১৮, তারিখ ১৭/০৪/২০২৬, বাৎসরিক নম্বর ১১০ হিসেবে একটি মামলা দায়ের করি। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৮৫/৫০৬ ধারায় চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ জানায়,অবিলম্বে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে আহত সাংবাদিককে সুচিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি রয়েছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানায়, মোঃ গনি মিয়া ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা এর আগেও এলাকায় নিরীহ মানুষের উপরে অন্যায় অত্যাচার জুলুম করেছেন।এই গনি মিয়া লোক সমাজে বলেন আমি এক পুলিশ কর্মকর্তাকেও হত্যা করেছি,নিজ স্ত্রীকেও হত্যা করেছি আইন আমার কিছুই করতে পারবে না এই বলে সাধারন মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে সব সময় জিম্মি করে আসছে এই সন্ত্রাসী।ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সকল নেতাকর্মীর সাথে তার সখ্যতা ছিল।এর আগেও তিনি এহেন কর্মকান্ড অনেক ঘটিয়েছেন। এলাকায় নতুন কেউ বাড়ি নির্মাণ করলে তার বাহিনীকে মোটা অংকের চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে বাড়ি নির্মাণ করতে বাঁধা প্রদান করেন।
জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ, নয়ন কুমার কর বলেন আমি এই সন্ত্রাসী মোঃ গনি মিয়ার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত আছি তার নামে থানায় একাধিক অভিযোগ আছে।আমরা তাকে অতি দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। পাশাপাশি র্যাব-১ পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের সাহায্যে তাদের অতি দ্রুত গ্রেফতার করার চেষ্টা চালাচ্ছি।