ঢাকা    সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

মাধবপুরে শীর্ষ মাদক কারবারি ও ডাকাত পলাশ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার



মাধবপুরে শীর্ষ মাদক কারবারি ও ডাকাত পলাশ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ শীর্ষ মাদক কারবারি ও ডাকাত মিজানুর রহমান ওরফে পলাশকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত পলাশ মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা গ্রামের মুশফিকুর রহমান (ইউনুস) মিয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের পশ্চিম মাধবপুর, সৈয়দ সঈদ উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের সামনে থেকে তাকে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে মাধবপুর থানা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পলাশ ও তার সহযোগী চক্র দীর্ঘদিন ধরে হরিতলাসহ আশপাশের গ্রাম ও মহাসড়ক কেন্দ্রিক মাদক কারবার, ছিনতাই ও ডাকাতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তার বাড়িতে গড়ে তোলা হয়েছিল ইয়াবা সাম্রাজ্য, যেখান থেকে বিভিন্ন সময় বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাই মাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ছোট ভাই আলমগীর ও ভাতিজা মুকিত-মেশকাতের পরিবারের সদস্যরাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

মাধবপুরের স্থানীয় সচেতন নাগরিক মোহাম্মদ কুদরত আলী, পলাশের মাদক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত ফেসবুকে লেখালেখি ও থানায় গত ১৫/১১/২০২৫ তারিখে ওসি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর থেকে পলাশ ও তার বাহিনীর হুমকির মুখে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। প্রতিবাদ করায় পলাশের বাহিনী একাধিকবার স্থানীয়দের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে বলেও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকায় সন্ধ্যার পর মোবাইল ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাইয়ের শিকার মাদকাসক্তদের কাছ থেকে পলাশ কম দামে চোরাই মোবাইল ও মালামাল কিনে নিত, যা তার অপরাধ নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর।

গত এপ্রিল মাসে সেনাবাহিনীর অভিযানে পলাশের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ৫৭টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, নগদ ১২ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা ও দেশীয় অস্ত্র। এর তিন মাস আগে মাধবপুর থানার তৎকালীন ওসি মামুন ও এসআই মানিকের নেতৃত্বে অভিযানে দুটি ট্রাকভর্তি চোরাই মাল উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ছিল টিউবওয়েল, রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট, পানির মোটর, নাহিদ কোম্পানির ভারী যন্ত্রপাতি, ২০টি বাইসাইকেল, ৪টি মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য চোরাই সামগ্রী। ওই সময় পলাশকে না পেয়ে তার পিতা ইউনুস মিয়াকে আটক করা হয়। পরে ভবিষ্যতে অপরাধে না জড়ানোর মুচলেকা দিয়ে মুক্ত হন তিনি। কিন্তু এরপরও পলাশের মাদক কারবার আরও বিস্তৃত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ জানান, পলাশের বাহিনীর দৌরাত্ম্যে সন্ধ্যার পর আর কেউ রাস্তায় নামতে সাহস পান না। এলাকায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশ বিরাজ করছে। মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদুল্লাহ বলেন, "পলাশের বিরুদ্ধে তিনটি মামলার ওয়ারেন্ট ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

ভিশন বাংলা ২৪

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬


মাধবপুরে শীর্ষ মাদক কারবারি ও ডাকাত পলাশ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ শীর্ষ মাদক কারবারি ও ডাকাত মিজানুর রহমান ওরফে পলাশকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত পলাশ মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা গ্রামের মুশফিকুর রহমান (ইউনুস) মিয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের পশ্চিম মাধবপুর, সৈয়দ সঈদ উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের সামনে থেকে তাকে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে মাধবপুর থানা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পলাশ ও তার সহযোগী চক্র দীর্ঘদিন ধরে হরিতলাসহ আশপাশের গ্রাম ও মহাসড়ক কেন্দ্রিক মাদক কারবার, ছিনতাই ও ডাকাতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তার বাড়িতে গড়ে তোলা হয়েছিল ইয়াবা সাম্রাজ্য, যেখান থেকে বিভিন্ন সময় বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাই মাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ছোট ভাই আলমগীর ও ভাতিজা মুকিত-মেশকাতের পরিবারের সদস্যরাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

মাধবপুরের স্থানীয় সচেতন নাগরিক মোহাম্মদ কুদরত আলী, পলাশের মাদক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত ফেসবুকে লেখালেখি ও থানায় গত ১৫/১১/২০২৫ তারিখে ওসি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর থেকে পলাশ ও তার বাহিনীর হুমকির মুখে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। প্রতিবাদ করায় পলাশের বাহিনী একাধিকবার স্থানীয়দের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে বলেও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকায় সন্ধ্যার পর মোবাইল ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাইয়ের শিকার মাদকাসক্তদের কাছ থেকে পলাশ কম দামে চোরাই মোবাইল ও মালামাল কিনে নিত, যা তার অপরাধ নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর।

গত এপ্রিল মাসে সেনাবাহিনীর অভিযানে পলাশের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ৫৭টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, নগদ ১২ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা ও দেশীয় অস্ত্র। এর তিন মাস আগে মাধবপুর থানার তৎকালীন ওসি মামুন ও এসআই মানিকের নেতৃত্বে অভিযানে দুটি ট্রাকভর্তি চোরাই মাল উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ছিল টিউবওয়েল, রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট, পানির মোটর, নাহিদ কোম্পানির ভারী যন্ত্রপাতি, ২০টি বাইসাইকেল, ৪টি মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য চোরাই সামগ্রী। ওই সময় পলাশকে না পেয়ে তার পিতা ইউনুস মিয়াকে আটক করা হয়। পরে ভবিষ্যতে অপরাধে না জড়ানোর মুচলেকা দিয়ে মুক্ত হন তিনি। কিন্তু এরপরও পলাশের মাদক কারবার আরও বিস্তৃত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ জানান, পলাশের বাহিনীর দৌরাত্ম্যে সন্ধ্যার পর আর কেউ রাস্তায় নামতে সাহস পান না। এলাকায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশ বিরাজ করছে। মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদুল্লাহ বলেন, "পলাশের বিরুদ্ধে তিনটি মামলার ওয়ারেন্ট ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত