ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪
সর্বশেষ

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

মস্তিষ্কের পৃথক স্নায়ুকোষ কীভাবে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় হয়, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেল।সোমবার (৫ অক্টোবর) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে এ বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা। খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি)।এপি জানায়, কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেল আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং ‘অপটোজেনেটিকস’ নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাদের গবেষণার মাধ্যমে আলো ব্যবহার করে নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের নতুন পদ্ধতি তৈরি হয়েছে।নোবেল কমিটি তাদের গবেষণার প্রশংসা করে জানিয়েছে, এই পদ্ধতি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে মস্তিষ্কের রহস্য উন্মোচনে ব্যবহার করা হচ্ছে।৫৪ বছর বয়সী কার্ল ডেইসেরথ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। ৭১ বছর বয়সী পিটার হেগেমান জার্মানির বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ৭৩ বছর বয়সী জর্জ নাগেল জার্মানির ভুর্জবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করছেন।চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল কমিটির সচিব থমাস পার্লম্যান জানান, সোমবার টেলিফোনে তিন বিজয়ীর সঙ্গেই যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।এ বছর নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। একজন ব্যক্তি, একাধিক বিজয়ী কিংবা কোনো সংগঠন—যে ক্ষেত্রেই পুরস্কার দেওয়া হোক, অর্থমূল্য একই থাকবে।চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হলো নোবেল সপ্তাহ। মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান, বুধবার রসায়ন এবং বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। শুক্রবার ঘোষণা করা হবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার। এরপর আগামী ১২ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।এপি জানায়, গত বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করা তিন বিজ্ঞানী।

সরকারি হাসপাতাল তদারকিতে মাঠে নামছেন ৫৪ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালির ইস্ট পালো আল্টোতে আয়োজিত ‘সিইও অ্যান্ড সিনিয়র এক্সিকিউটিভস রাউন্ডটেবিল’ আলোচনায় এ কথা জানান তিনি।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষ করে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর আগ্রহ নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।তিনি বলেন, এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলায় গুরুত্ব দিতে হবে। গোলটেবিল আলোচনায় এআই ও ডেটা অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে মতবিনিময় হয়।বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

সিংড়ায় কচুরিপানায় ৩০০ একর জমি, অনিশ্চিত বোরো আবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালির ইস্ট পালো আল্টোতে আয়োজিত ‘সিইও অ্যান্ড সিনিয়র এক্সিকিউটিভস রাউন্ডটেবিল’ আলোচনায় এ কথা জানান তিনি।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষ করে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর আগ্রহ নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।তিনি বলেন, এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলায় গুরুত্ব দিতে হবে। গোলটেবিল আলোচনায় এআই ও ডেটা অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে মতবিনিময় হয়।বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

আনন্দের সন্ধানে রাসেল / সংশয় থেকে যাত্রা ক’রে সত্য জ্ঞানে পৌঁছানো যায় কিনা!!!

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালির ইস্ট পালো আল্টোতে আয়োজিত ‘সিইও অ্যান্ড সিনিয়র এক্সিকিউটিভস রাউন্ডটেবিল’ আলোচনায় এ কথা জানান তিনি।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষ করে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর আগ্রহ নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।তিনি বলেন, এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলায় গুরুত্ব দিতে হবে। গোলটেবিল আলোচনায় এআই ও ডেটা অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে মতবিনিময় হয়।বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে  মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে

সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেপুটি মেয়র আবু সুফিয়ান'কে জেলা জনকল্যাণ সমিতির সংবর্ধনা

ডেপুটি মেয়র আবু সুফিয়ান'কে জেলা জনকল্যাণ সমিতির সংবর্ধনা

বানারীপাড়ার বিশারকান্দিতে নৌকায় বিক্রি হচ্ছে সবজি চাষের জন্য ভাসমান বেড

বানারীপাড়ার বিশারকান্দিতে নৌকায় বিক্রি হচ্ছে সবজি চাষের জন্য ভাসমান বেড

বালিয়াডাঙ্গীতে পুকুর থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মরদেহ উদ্ধার

বালিয়াডাঙ্গীতে পুকুর থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মরদেহ উদ্ধার

সরকারি হাসপাতাল তদারকিতে মাঠে নামছেন ৫৪ কর্মকর্তা

সরকারি হাসপাতাল তদারকিতে মাঠে নামছেন ৫৪ কর্মকর্তা

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

সিংড়ায় কচুরিপানায় ৩০০ একর জমি, অনিশ্চিত বোরো আবাদ

সিংড়ায় কচুরিপানায় ৩০০ একর জমি, অনিশ্চিত বোরো আবাদ

রাজধানীর বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সংশয় থেকে যাত্রা ক’রে সত্য জ্ঞানে পৌঁছানো যায় কিনা!!!

সংশয় থেকে যাত্রা ক’রে সত্য জ্ঞানে পৌঁছানো যায় কিনা!!!

জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

চলনবিলে ৫০ বক উদ্ধার, ৩ শিকারির জেল-জরিমানা

চলনবিলে ৫০ বক উদ্ধার, ৩ শিকারির জেল-জরিমানা

কোন ভিডিও নেই !
কোন ভিডিও নেই !

রাজধানীর বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে প্রস্তাবিত অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক বা ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি, বাস্তবায়নে বিদ্যমান জটিলতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রকল্পের কাজে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।সভায় সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।

ইরান, চীন ও রাশিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের একের পর এক ‘ধাক্কা’

ইরান, চীন ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ—যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ইস্যুতেই সাম্প্রতিক সময়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা থাকলেও সেই চাপকে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফলাফলে রূপান্তর করতে ওয়াশিংটনের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এমনকি ইরানকে ‘ধ্বংস’ করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।তবে রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হুমকির মাত্রা বাড়ানো মানেই রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা বাড়া নয়। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেও এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন স্পষ্ট ও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ফল অর্জন করতে পারেনি। যুদ্ধও অব্যাহত রয়েছে।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কিছু প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তা গ্রহণ করেননি। ফলে তেহরানকে ওয়াশিংটনের মূল দাবিগুলো মেনে নিতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে মার্কিন চাপ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে দেশটির অনেক ইউরোপীয় ও এশীয় মিত্রও প্রত্যাশিত মাত্রায় সম্পৃক্ত হয়নি। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক প্রভাব শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না; মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে জোট গঠন এবং তাদের সমর্থন আদায় করাও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।চীনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামাল দেওয়ার সক্ষমতার বার্তা দিতে চেয়েছিলেন। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকের দৃশ্যমান ফলাফল মূলত দুই দেশের বাণিজ্যবিরতি বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক উত্তেজনা আরও না বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।তাইওয়ান, বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের ভূমিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। সরাসরি বৈঠক হলেও এসব বিরোধের কোনোটি চূড়ান্তভাবে সমাধান হয়নি।তবে এর অর্থ এই নয় যে চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের কোনো হাতিয়ার নেই। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, সামরিক শক্তি ও কূটনীতিতে ওয়াশিংটনের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। মূল প্রশ্ন হলো—এসব ক্ষমতাকে কতটা কার্যকরভাবে রাজনৈতিক সমঝোতা বা ফলাফলে রূপ দেওয়া যাচ্ছে।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প একাধিকবার এই যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং মস্কো ও কিয়েভকে আলোচনার টেবিলে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য ওয়াশিংটনের বিভিন্ন প্রচেষ্টা, এমনকি জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগও এখন পর্যন্ত স্থায়ী ও উল্লেখযোগ্য ফল বয়ে আনেনি।রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েরই নিজস্ব স্বার্থ ও হিসাব রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু ওয়াশিংটনের চাপের মাধ্যমে দুই পক্ষকে চূড়ান্ত সমাধান মেনে নিতে বাধ্য করা সম্ভব হচ্ছে না বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।ইরান, চীন ও ইউক্রেন—এই তিনটি ইস্যুর দিকে তাকালে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির একটি বিষয় স্পষ্ট হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং ট্রাম্পের হাতে অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। তবে চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা এবং সেই চাপকে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফলাফলে রূপ দেওয়ার সক্ষমতা এক বিষয় নয়।ইরানের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত, চীনের সঙ্গে মৌলিক বিরোধগুলো অমীমাংসিত এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের উদ্যোগ এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায়নি। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মার্কিন শক্তির প্রভাব ও তার বাস্তব ফলাফলের মধ্যে থাকা ব্যবধানকে সামনে এনেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সব বিভাগের খবর

৯ মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ

ব্যাংক খাতে সংস্কার ও ঋণ আদায়ে জোরদার উদ্যোগের কারণে গত নয় মাসে দেশে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) পরিমাণ প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে এনপিএল অনুপাত কমে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নয় মাসে এনপিএল অনুপাত কমেছে ২ দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ এখনো বেশি।জুন শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও আড়ালে থাকা খেলাপি ঋণ চিহ্নিত করে ব্যাংকগুলোর হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এনপিএল অনুপাতে এই উন্নতি এসেছে।ফলে একদিকে খেলাপি ঋণের অনুপাতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে, অন্যদিকে ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্রও আগের তুলনায় স্পষ্ট হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়।এর ফলে আগে গোপন থাকা বা পুনঃতফসিলের মাধ্যমে আড়াল করা অনেক ঋণের প্রকৃত অবস্থা সামনে আসে।তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে এককালীন প্রস্থান নীতি এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিলসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের সুফল পুরোপুরি প্রতিফলিত হলে খেলাপি ঋণের অনুপাত আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। চলতি বছরের জুনে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ সামান্য বেড়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা হলেও মোট ঋণের তুলনায় এর অনুপাত কমেছে।সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকাশিত খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি তুলে ধরেনি। ২০০৮ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা থাকলেও ২০২৪ সালে সরকারি হিসাবে তা প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। তবে শ্বেতপত্রে প্রকৃত খেলাপি ও সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা বলে উঠে এসেছে।তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারে এসব সংস্কারের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানো এবং খেলাপি ঋণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণ কমার বর্তমান প্রবণতা উৎসাহব্যঞ্জক হলেও এটিকে এখনই চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, প্রকৃত খেলাপি ঋণ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ায় শুরুতে অনুপাত বাড়তেও পারে। তবে ব্যাংকের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ করাই টেকসই সংস্কারের প্রথম শর্ত।সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ব্যাংক খাতের হিসাব পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় স্বল্পমেয়াদে কিছু চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এ জন্য পেশাদার ব্যবস্থাপনা, যথাযথ ঋণ মূল্যায়ন এবং কার্যকর ঋণ আদায় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর জন্য সংস্কার কাঠামোও জোরদার করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদনের মানদণ্ড আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি (ইসিএল) হিসাব চালু হলে সম্ভাব্য ঋণঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।তাদের মতে, এখন শুধু প্রকাশিত খেলাপি ঋণ কমানোর দিকে নজর না দিয়ে এর কাঠামোগত কারণ দূর করতে হবে। ঋণ আদায় জোরদার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ও দুর্বল আস্থার একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা পেয়েছে। তাই খেলাপি ও পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংক পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত নয় মাসের এনপিএল কমার প্রবণতা ব্যাংক খাতের সংস্কারে একটি ইতিবাচক প্রাথমিক সংকেত। তবে এ অগ্রগতি কতটা টেকসই হয়েছে, তা বোঝার জন্য ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। ধারাবাহিক সংস্কার, ঋণ আদায় এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে খেলাপি ঋণ আরও কমার পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা ও ব্যাংক খাতে ঋণশৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

ঢাকা প্রেসক্লাবকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুদানের চেক হস্তান্তর

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদানের চেক ঢাকা প্রেসক্লাবের অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সমাজসেবা অধিদপ্তরের শহর সমাজসেবা কার্যালয়-১, যাত্রাবাড়ী, ঢাকার সমাজসেবা অফিসার আবু নাইম মৃধা ঢাকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাদেক মাহমুদ পাভেলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।ঢাকা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন প্রাপ্তির পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সরকারি অনুদান পেয়ে আসছে। সর্বশেষ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের অনুদানের চেক হস্তান্তরকে ক্লাবের সামাজিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের সহযোগিতার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে ঢাকা প্রেসক্লাবের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে পৃথক কমিটি বা সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, একটি মহল একই নাম ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে ঐতিহ্যবাহী ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।ক্লাব কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ঢাকা প্রেসক্লাবের নিবন্ধন, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সরকারি পর্যায়ে স্বীকৃতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র রয়েছে। তাদের দাবি, কথিত কয়েকটি কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কখনোই ঢাকা প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন না। এ বিষয়ে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের আদালতে মতামতও দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। ঢাকা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, প্রতিষ্ঠানটি যখন নিয়মতান্ত্রিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সরকারি পর্যায় থেকে অনুদান পাচ্ছে, তখন একই নামে পৃথক কমিটি বা সংগঠনের প্রচার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এতে শুধু ক্লাবের সদস্যদের মধ্যেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় ও বৈধতা নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তাদের দাবি।এ বিষয়ে ঢাকা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের  আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো দাবি বা বিরোধ থাকলে তা প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে নয়, বরং বিদ্যমান আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনি কাঠামোর মধ্যেই নিষ্পত্তি করা উচিত।ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, বিভ্রান্তি ও বিরোধ সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্টরা বাস্তবতা অনুধাবন করবেন এবং ঢাকা প্রেসক্লাবের নাম ও ভাবমূর্তি নিয়ে যে কোনো বিরোধ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।চেক হস্তান্তরের সময় ঢাকা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে আসছে নতুন সুবিধা, পাবেন আজীবন

সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে একগুচ্ছ নতুন সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়া, পেনশনারদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা, বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ সুবিধা চালু এবং নির্দিষ্ট শর্তে পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হওয়ার সুযোগ।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। অর্থমন্ত্রী পদাধিকারবলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান।জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানান, জনআগ্রহ বাড়াতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদ অনুমোদন দিলে এবং বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব হলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এসব সুবিধা চালু করা হতে পারে।বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাওয়ার কারণে নির্ভরশীলতার হার বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করে সরকার। তবে তিন বছর পার হলেও এতে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি।ব্যাংকের আমানতের সুদের তুলনায় পেনশনের রিটার্ন কম এবং গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক সুবিধা সীমিত থাকাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ পর্যন্ত চারটি স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন। তাঁদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।এর মধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের জন্য চালু করা ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। তাঁদের জমার পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ‘প্রবাস’ স্কিমে সাড়া সবচেয়ে কম। এ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী। তাঁদের মধ্যে নারী ৯৭ জন। এ স্কিমে জমার পরিমাণ ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।বর্তমান নিয়মে পেনশনভোগী ৬০ বছর বয়সে মাসিক পেনশন পাওয়া শুরু করেন। পেনশন পাওয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হলে নমিনি পেনশনারের ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত সমহারে মাসিক পেনশন পান।নতুন প্রস্তাবে নমিনির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের প্রচলিত পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবও পর্ষদ সভায় উঠতে পারে।আইনে গ্রাহকের জমা করা অর্থের একটি অংশ বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এখনো তা চালু হয়নি। এবার এ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। ঋণের সুদও গ্রাহকের পেনশন হিসাবে জমা হওয়ার কথা রয়েছে।পাশাপাশি পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক ও আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ ব্যবস্থা থেকে বের হতে চাইলে বিশেষ বিবেচনায় পুরো অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।পেনশনারদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।এ ছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবস্থাটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার। পর্ষদের অনুমোদন পেলে এসব সুবিধা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আগস্টে এলো ৩৬ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

সদ্য সমাপ্ত আগস্টে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৯৭ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)।বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে দেশে এসেছে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ।চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রেমিট্যান্স এসেছে ৫৮২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশে ডলারের সরবরাহ বাড়ে, যা আমদানি ব্যয় মেটানো ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের নানা উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবা সহজ হওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।এদিকে, বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।

সেরা ডিলারদের ক্রেস্ট ও পুরস্কার প্রদান / এজি পাম্পের ডিলার কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা ডিলারদের হাতে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দিয়েছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ব্যানটেক লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিটিএল ইন্টারন্যাশনালের এজি পাম্প। ঢাকার হোটেল লেকশোর হাইটসের বলরুমে প্রতিষ্ঠানটির পঞ্চম ডিলার কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এজি পাম্পের চেয়ারম্যান মো. আমীর হুসাইন। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস সাকিব জুবায়ের, পরিচালক জাকারিয়া আহমেদ ও পরিচালক রাজিব আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের হেড অব সেলস (ডিজিএম) হুমায়ূন কবির। কনফারেন্সে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ডিলার ও পরিবেশকেরা তাদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন প্রস্তাব ও পরামর্শ তুলে ধরেন।ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস সাকিব জুবায়ের বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এজি পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে এই কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।’প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. আমীর হুসাইন বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক মন্দার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’নতুন নতুন পণ্য ও সেবা কীভাবে গ্রাহকদের কাছে আরও সহজলভ্য করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাকারিয়া আহমেদ।অনুষ্ঠানে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিক্রয় লক্ষ্য অর্জনকারী ডিলারদের সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হয়। বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় সেরা ডিলারকে একটি রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণ শেষে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এজি পাম্পের পঞ্চম ডিলার কনফারেন্সের সমাপ্তি হয়।

সিংড়ায় পাটের বাম্পার ফলন! দামেও খুশি কৃষক

নাটোরের সিংড়া উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন পাট চাষীদের  জিরোনোর সময় নেই কারো। ডোবা-নালায় পাট পচানো, নদী ও বিলেে ঘাটে পাট ধোয়া আর উঠোনজুড়ে রোদে সোনালী আঁশ শুকানোর ব্যস্ততা। বাতাসে কাঁচা পাটের সুবাস আর কৃষকের মুখে এক চিলতে স্বস্তির হাসি বলে দিচ্ছে—এবার ‘সোনালী আঁশ’ তার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে এনেছে। সিংড়ায় পাটের বাম্পার ফলন ও চড়া দামে অধিকাংশ কৃষকের দিন কাটছে বেশ আনন্দে।​চলতি মৌসুমে উপজেলার চামারী ও লালোর ইউনিয়নসহ  বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট। বর্তমানে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা দরে। আর বিঘাপ্রতি পাওয়া যাচ্ছে ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত আঁশ।​উপজেলার লালোর গ্রামের সফল পাটচাষী নুরুজ্জামান  বলেন, “গত বছরের চেয়ে এবার ফলন অনেক ভালো পাইছি। দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করে বিঘায় প্রায় ৯ মণ কইরা পাইছি। সার, সেচ আর শ্রমিক সব মিলিয়ে খরচ হইছে ২৭ হাজার টাকার মতো। আর দুই বিঘা থেকে পাওয়া ১৮ মণ পাট বেচে দাম আসবে প্রায় ৬৩ থেকে ৭২ হাজার টাকা! সব খরচ বাদ দিয়েও ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ থাকবে। গত কয়েক বছরের লোকসান এবার সুদে-আসলে উঠে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।”​ সিংড়ার সর্ববৃহৎ পাটের বাজার ‘হাদিয়ান্দ হাটের’ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার পাটের কালার ও মান খুব চমৎকার। ভালো জাত ও আঁশের উজ্জ্বলতাভেদে আমরা বর্তমানে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকায় প্রতি মণ পাট কিনছি। আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবার আমরা কৃষকদের ভালো দাম দিতে পারছি।”​তবে আনন্দের এই জোয়ারে সামান্য দুশ্চিন্তার ভাঁজও আছে কিছু নিম্নঞ্চলের কৃষকের কপালে। নিচু জমিতে আগাম বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শ্রমিকের মজুরি গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ। লালোর ইউনিয়নের মাজগাতী গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক অনিল চন্দ্র আক্ষেপ করে বলেন, “দেড় বিঘা জমির পাট পানির নিচে  ডুবে গেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পাট কাটার জন্যই শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে  ৭০০ টাকা হাজিরা। আঁশ ছাড়ানো আর ধোয়ার খরচও দ্বিগুণ। সব মিলিয়ে এবার হয়তো দুই-তিন হাজার টাকা লোকসান হবে আমার।”​অন্যদিকে, পাটের এই ভরা মৌসুমে গ্রামীণ নারীদের কাজের সংস্থানও তৈরি হয়েছে। পাট খড়ির বিনিময়ে গৃহস্থের বাড়িতে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন স্থানীয় আলেয়া বেগমের মতো অনেকে। হাসিমুখে আলেয়া বলেন, এক মাস কষ্ট করে কাজ করলে যে পাটখড়ি পামু, তা দিয়ে অন্তত ৬ মাসের রান্নার জ্বালানি হয়ে যাবে। বাড়তি পাটখড়ি বেচে বাজারে দু-এক পয়সা আয়ও করা যাবে।​কৃষকদের সার্বিক সহায়তায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ বলেন,চলতি মৌসুমে সিংড়ায় ১ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ও মান দুই-ই চমৎকার। পর্যাপ্ত পানি থাকায় এবার পাট ‘জাগ’ দিতে কৃষকদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। নিচু জমির সামান্য কিছু ক্ষতি হলেও বেশিরভাগ কৃষকই এবার লাভবান হচ্ছেন। আমরা সার্বিক পরামর্শ ও কৃষি প্রণোদনা নিয়ে কৃষকের পাশে আছি। আশা করছি, পাটের এই ভালো দাম আগামীতেও বজায় থাকবে।

এআই’র কাছে কখনোই চাইবেন না যে ৫ পরামর্শ

এআই’র কাছে কখনোই চাইবেন না যে ৫ পরামর্শ

প্রযুক্তি জগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত অনুভূতি ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেকে এআইয়ের পরামর্শ নিচ্ছেন। তবে মনস্তাত্ত্বিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এআই কখনোই মানুষের বিকল্প বা প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে চেহারা, আবেগ, বুদ্ধিমত্তা ও আর্থিক সিদ্ধান্তের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এআই মানুষের মতো অনুভূতি বা বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়ে কোনো বিষয় বিচার করে না।চেহারা ও সৌন্দর্য নিয়ে প্রশ্ননিজের চেহারা, সৌন্দর্য কিংবা পোশাক নিয়ে এআইয়ের কাছে মতামত চাওয়া খুব বেশি নির্ভরযোগ্য নয়। ব্যবহারকারীকে সন্তুষ্ট রাখার প্রবণতার কারণে এআই অনেক সময় অতিরিক্ত প্রশংসামূলক উত্তর দিতে পারে। ফলে বাস্তব জীবনের কাছের মানুষ যেভাবে অকপটে মতামত দিতে পারেন, এআইয়ের কাছ থেকে সবসময় সেই নিরপেক্ষতা পাওয়া নাও যেতে পারে।ভালোবাসা ও আবেগের বিচারকেউ আপনাকে ভালোবাসেন কি না, কিংবা কোনো ব্যক্তির আচরণের পেছনে কী অনুভূতি রয়েছে—এ ধরনের প্রশ্নের উত্তরও এআইয়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়। এআই সহানুভূতিশীল ভাষায় উত্তর দিতে পারলেও মানুষের জটিল আবেগ প্রকৃত অর্থে অনুভব করতে পারে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিশ্বস্ত বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা প্রয়োজন হলে পেশাদার থেরাপিস্টের সহায়তা নেওয়া বেশি কার্যকর।বুদ্ধিমত্তা ও আত্মমর্যাদানিজের বুদ্ধিমত্তা, যোগ্যতা কিংবা ব্যক্তিগত মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও এআইকে চূড়ান্ত বিচারক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এআইয়ের বিপুল তথ্যভাণ্ডার ও বিশ্লেষণক্ষমতা থাকলেও সেটি মানুষের বুদ্ধিমত্তা বা আত্মমর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি নয়।আর্থিক সিদ্ধান্তবিনিয়োগ, ঋণ, সঞ্চয় বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শুধু এআইয়ের পরামর্শের ওপর নির্ভর করাও ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যক্তির সম্পূর্ণ আর্থিক পরিস্থিতি ও ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পেশাদার বা আর্থিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।বাস্তব জীবনের মানবিক সহায়তাএআই নানা বিষয়ে তথ্য ও পরামর্শ দিতে পারলেও বাস্তব জীবনের মানবিক সহায়তার বিকল্প নয়। বিপদের সময় কাউকে হাসপাতালে নেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো কিংবা বাস্তব পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করার মতো কাজ এআই করতে পারে না।বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মূলত ডেটা, অ্যালগরিদম ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে কাজ করে। এর নিজস্ব অনুভূতি বা ইচ্ছা নেই। তাই এআইকে জীবনের প্রকৃত বন্ধু বা আবেগের আশ্রয় হিসেবে না দেখে প্রয়োজনীয় কাজে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করাই নিরাপদ। বাস্তব জীবনের সম্পর্ক, মানুষের সহানুভূতি ও পারস্পরিক বন্ধনের বিকল্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হতে পারে না।

রোবট যখন শুধু ভাববে না, কাজও করবে

রোবট যখন শুধু ভাববে না, কাজও করবে

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখেন— আপনার ঘরের দরজা খুলে দিচ্ছে একটি রোবট। সে টেবিল থেকে তোমার অফিসব্যাগ তুলে দিচ্ছে, সবকিছু গুছিয়ে দিচ্ছে, এমনকি রান্নাঘর থেকে পানির বোতলও এনে দিচ্ছে!এটা কি রূপকথার গল্প? না, বিজ্ঞানীরা এমন রোবট তৈরির চেষ্টা করছেন, যারা শুধু কথা বলতে বা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না, বাস্তব পৃথিবীতে নিজের শরীর দিয়ে কাজও করতে পারবে। এই নতুন প্রযুক্তিকে বলা হচ্ছে ফিজিক্যাল এআই ।এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি- কম্পিউটারকে যখন এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে সে মানুষের মতো তথ্য বুঝতে, চিন্তা করতে বা সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তখন তাকে এআই বলা হয়।কিন্তু একটি কম্পিউটার শুধু চিন্তা করলেই তো হবে না! যদি তাকে বলা হয়, “টেবিলের ওপরের কাপটি আমাকে এনে দাও”, তাহলে তাকে কাপটি দেখতে, কাছে যেতে, হাত বাড়াতে এবং কাপটি ধরতে হবে।ফিজিক্যাল এআই হলো এমন বুদ্ধিমান প্রযুক্তি, যার সঙ্গে রোবটের শরীর যুক্ত থাকে। রোবটের চোখের মতো ক্যামেরা থাকে, কান বা স্পর্শের মতো সেন্সর থাকে। আর হাত-পা চালানোর জন্য থাকে মোটর।অর্থাৎ, এআই হলো রোবটের মস্তিষ্ক, আর রোবটের শরীর হলো তার কাজ করার মাধ্যম।মানুষের মতো রোবট:টেসলা ‘অপটিমাস’ নামে একটি মানবাকৃতির রোবট তৈরি করছে। এটি মানুষের মতো দুই পায়ে হাঁটতে এবং দুই হাতে কাজ করতে পারে।তবে এমন রোবট তৈরি করা মোটেই সহজ নয়। মানুষের হাত দিয়ে আমরা খুব সহজেই একটি কলম ধরতে পারি, আবার একটি ডিমও না ভেঙে ধরতে পারি। রোবটকে এই সূক্ষ্ম কাজ শেখানো কঠিন।রোবটকে আরও অনেক কিছু শিখতে হবে—কীভাবে হাঁটতে হয়, কীভাবে ভারী জিনিস তুলতে হয়, কীভাবে মানুষের সামনে এলে থামতে হয় এবং কীভাবে নিরাপদে কাজ করতে হয়।ভবিষ্যতের বন্ধু?ভবিষ্যতে রোবট হয়তো কারখানায় কাজ করবে, গুদামে বাক্স বহন করবে, কৃষকের কাজে সাহায্য করবে কিংবা বয়স্ক মানুষকে দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করবে।হয়তো কোনোদিন আপনার বাড়িতেও এমন একটি রোবট থাকবে। সে আপনার খেলনা গুছিয়ে দিতে পারে, বই এনে দিতে পারে কিংবা বলতে পারে, “আপনার অফিসে যাওয়ার সময় হয়েছে!”তবে মনে রাখতে হবে, রোবট মানুষের জায়গা পুরোপুরি নেবে কি না, তা এখনই বলা যায় না। বিজ্ঞানীরা এখনও রোবটকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান করার চেষ্টা করছেন।আজকের কম্পিউটার যদি হয় এআইয়ের মস্তিষ্ক, তাহলে আগামী দিনের রোবট হতে পারে তার হাত-পা।আর সেই দিন এআই শুধু আমাদের সঙ্গে কথা বলবে না—হয়তো আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে কাজও করবে!=========সরকার হুমায়ুন বিজে টাওয়ার, ইসিবি চত্বর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে হবে : ডা. জাহেদ উর রহমান

সরকারি তথ্য ও উন্নয়নমূলক বার্তা প্রচারে / সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে হবে : ডা. জাহেদ উর রহমান

সরকারি তথ্য ও উন্নয়নমূলক বার্তা জনগণের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।একই সঙ্গে তিনি ভুল তথ্য প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে নেটওয়ার্কিং ও ডিজিটাল লিটারেসি বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন।আজ বুধবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধান অতিথি বলেন, প্রচলিত প্রচার পদ্ধতির পাশাপাশি ফেইসবুক, ইউটিউব, টিকটক, ইন্সট্রাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট ও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে সরকারি তথ্য প্রচার করা হলে তা অধিকসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। স্থানীয় কার্যক্রমের ভিডিও বা লাইভ প্রচারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।ভুল তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।ডিজিটাল লিটারেসির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য শেয়ার করা উচিত নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।সভায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল জলিল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের কিছু বাস্তব ও আইনি ঝুঁকি রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাদের তথ্য প্রচারে যাতে দ্বিধায় পড়তে না হয়, সেজন্য আইনি কাঠামোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।তিনি জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ছয় মাসে মাঠপর্যায়ে পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রংপুর বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, জেলা তথ্য কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক তথ্য অফিসের কর্মকর্তা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সুন্দরবনে অভয়াশ্রম কমানোর দাবীতে জেলেদের মানববন্ধন

বাগেরহাটের শরণখোলায় পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ৮০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য ও অভয়াশ্রম থাকলেও সাতক্ষীরাও চাঁদপাই রেঞ্জ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ অভয়াশ্রম এ বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল সকল মৎস্য ও পেশাজীবিবৃন্দ।  দুই অক্টোবর সকাল দশটায়  শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করায় ফুঁসে উঠেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা। তারা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের দুই রেঞ্জের জন্য দুই ধরনের আইন কখনোই তারা মেনে নিবেন না। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে যেখানে ৩০-৪০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে শরণখোলা রেঞ্জে ৮০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য শরণখোলাবাসী কখনোই মেনে নিবে না। তাছাড়া বর্তমানে শরণখোলা রেঞ্জে যতটুকু এলাকা অবমুক্ত রয়েছে তার তুলনায় সুন্দরবনে বৈধভাবে প্রবেশ করা জেলেদের সংখ্যা অনেক। ফলে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না অধিকাংশ জেলেদের জালে। অতিদ্রুত যদি অভয়ারণ্য এলাকা কমিয়ে অন্তত ৫০ ভাগ না করা হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহনের কথা বলেন তারা। এসময়  পেশাজীবিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাউথখালি ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি শহীদুল ইসলাম লিটন, মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ সেলিম খান, মোঃ খলিল হাওলাদার, মোঃ হালিম খান,  রফিকুল হাওলাদার ও শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান সুজন। এ ব্যাপারে পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল চৌধুরী বলেন, অন্যান্য রেঞ্জের তুলনায় শরণখোলায় অভয়াশ্রম ও অভয়ারণ্য এলাকা বেশি। এখানে জেলেদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক সময় পাস পারমিট নেওয়া জেলেদের বিপাকে পড়তে হয়। জেলেদের দাবি কিছুটা হলেও যৌক্তিক। তবে এ বিষয়টি নিরশন এর দায়িত্ব বনবিভাগ ও বন মন্ত্রণালয়ের।

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ডেস্ক নিউজ: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী থানায় গিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী স্বামী লিটন শেখ (৪৬) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোরেলগঞ্জের বনগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত সাইম শেখের ছেলে লিটন শেখের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দাম্পত্য জীবন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত পারিবারিক কলহ চলছিল। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় যখন লিটন শেখ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলে, তখন তার স্ত্রী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে ফেলে। ঘটনায় লিটন শেখের চিৎকার শুনে তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ওই অঙ্গটির প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরদিন সকালে অভিযুক্ত নারী নিজেই থানায় এসে অপরাধ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো শ্রীপুর গ্রাম ও আশপাশে এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

যশোর শামস উল হুদা মাঠে ফুটবল ও স্বপ্ন পাঠশালা

যশোর শামস উল হুদা মাঠে ফুটবল ও স্বপ্ন পাঠশালা

ভোরের নরম আলোয় যশোর শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির মাঠে ছুটে বেড়ায় একঝাঁক কিশোর। কারও পায়ে ফুটবল, এদের চোখে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলার স্বপ্ন। ঘামে ভিজে যায় শরীর, ক্লান্ত হয় পা তবু থামে না দৌড়। কারণ তাদের কাছে এই মাঠ শুধু খেলার জায়গা নয়; এ মাঠ স্বপ্ন দেখার, নিজেকে গড়ে তোলার, একদিন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানোর ঠিকানা। সকালের ফুটবল অনুশীলন শেষে তাদের হাতে ওঠে বই-খাতা। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে স্কুল পাঠ। বিকেলে আবার ফুটবল মাঠে ফেরা। মাগরিবের আগে শেষ দিনের দ্বিতীয় অনুশীলন। এরপর নাস্তা, রাতে গৃহশিক্ষকে পাঠ্যবইয়ের অনুশীলন। ঘুমানো পর্যন্ত চলে এই লড়াই। একদিকে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন, অন্যদিকে শিক্ষিত মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার প্রত্যয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৬০ আবাসিক ও ১২৩ অনাবাসিক শিক্ষার্থীর এই নিরন্তর পথচলার লক্ষ্য এক জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে বাংলাদেশের নামকে আরও উজ্জ্বল করা। কারও বাবা নেই, কারও বাবা দিনমজুর। অনেকের পরিবারের সামর্থ্য নেই ফুটবল প্রশিক্ষণের খরচ বহন করার। অথচ স্বপ্ন তাদের বড় হওয়া। এই স্বপ্নে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি।শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির বিশেষত্ব শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণে না। এখানে খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার ওপর সমান গুরুত্ব। আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সকাল ও বিকালে নিয়মিত ফুটবল অনুশীলন। রাতে বিশেষ গৃহশিক্ষকে চলে পাঠ্যবই ক্লাস। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিকালে ফুটবল অনুশীলনের ব্যবস্থা রয়েছে। ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে চার দিন বিকালে প্রশিক্ষণ নেয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে আবাসিক কিংবা অনাবাসিক কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফুটবল প্রশিক্ষণে কোনো ফি নেওয়া হয় না। আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শুধু স্কুল বা কলেজের মাসিক বেতন নেওয়া হয়। ফুটবল প্রশিক্ষণ, থাকা-খাওয়া এবং গৃহশিক্ষকের কোনো অর্থ দিতে হয় না। এসব ব্যয় বহন করছেন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও রেডিয়েন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১১ সালের ১৪ মে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৬০ জন অনাবাসিক ছাত্র নিয়ে শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির যাত্রা শুরু হয়।শুরুতে যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হামিদপুর হাইস্কুল মাঠে তাদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। ২০১৩ সালে হামিদপুর বাজারে এক ভাড়া বাড়িতে শিক্ষার্থীদের আবাসিকের ব্যবস্থা হয়।এরপর ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ হামিদপুরের শিকদারপাড়ায় ৮০ বিঘা জমিতে আনুষ্ঠানিক শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির মাঠ উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য রয়েছে ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন। ‘ভাষাসৈনিক মুসা মিয়া ভবন’ নামে পরিচিত ভবন উদ্বোধন করা হয় ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। এই ভবনে রয়েছে ২৪০ জন শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা, জিমনেশিয়াম, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, লাইব্রেরি, স্টাডি ও কনফারেন্স রুম, ডাইনিং হল, প্রশাসনিক কক্ষ, গেস্টরুম, মিনি গ্যালারি ও নামাজ স্থান।একাডেমিতে বর্তমানে পাঁচ বয়স ভিত্তিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ১২, ১৪, ১৬, ১৮ এবং ১৮ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী। দেশের বিভিন্ন জেলার ৬০ জন শিক্ষার্থী বর্তমানে আবাসিকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। অনাবাসিক শিক্ষার্থী  ১২৩ জন। একাডেমির শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৮৩ জন। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এখানে ফুটবল প্রশিক্ষণের সুযোগ পায়।ফুটবল প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য রয়েছেন জাতীয় পর্যায়ের পাঁচজন প্রশিক্ষক। প্রতিবছর ১৯ ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আবেদন করা শিক্ষার্থী ফুটবল দক্ষতা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে একাডেমিতে ভর্তি করা হয়।শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ২২ জন শিক্ষার্থী ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, বাহরাইন, কাতার, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, চীন ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এছাড়া একাডেমির বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও চীনে ফুটবলের ওপর প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। দেশের বিভিন্ন নামিদামি ক্লাবের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল খেলার সুযোগ পেয়েছে একাডেমির ২৩ জন শিক্ষার্থী।অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলার তাহসান খাঁর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার বাজে বামনদা গ্রামে। বাবা নেই। ছয় বোন ও দুই ভাইয়ের সংসারে ছোটবেলা থেকে ফুটবলের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ।   শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমিতে আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সুযোগ পেয়ে ফুটবল ও লেখাপড়া দুটিই সমান চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তাহসান বলেন, একাডেমিতে সুযোগ না পেলে তার ক্যারিয়ার সামনে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হতো। এখানে ফুটবল প্রশিক্ষণ, থাকা-খাওয়া ও লেখাপড়ায় তার খরচ নেই। শুধু প্রতিমাসে কলেজে বেতন দিতে হয়। আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নিয়মিত অনুশীলন করছে সে। তার সাফল্যের ঝুলিতে ইতিমধ্যে যোগ হয়েছে বড় অর্জন। ২০২৫ সালে চীনে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করে তাহসান। জেতে গোল্ডেন বুট খেতাব।একদিকে বই-খাতা, অন্যদিকে ফুটবল। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কঠোর অনুশীলন আর শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন। দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের জন্য বিনা খরচে প্রশিক্ষণ, থাকা-খাওয়া ও শিক্ষার সুযোগ সব মিলিয়ে শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি যেন ফুটবলপ্রেমী তরুণদের স্বপ্ন পূরণের ব্যতিক্রমী ঠিকানা। তাহসান, তারেকদের মতো অনেক তরুণের কাছে এই একাডেমি শুধু ফুটবল শেখার জায়গা নয়,এটি তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার আশ্রয়। যে স্বপ্ন নিয়ে একাডেমিটির পথচলা শুরু হয়েছিল, সেই স্বপ্ন এখন আরও বড় হয়েছে। লক্ষ্য জাতীয় দল পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন। লক্ষ্য ইউরোপের মাঠে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের পদচারণা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে যশোরের এই ফুটবল একাডেমি তৈরি করছে নতুন নতুন স্বপ্নবাজ তরুণ। এরা একদিন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরবে, এমন ফুটবলময় প্রত্যাশায় সংশ্লিষ্টরা।

ডেপুটি মেয়র আবু সুফিয়ান'কে জেলা জনকল্যাণ সমিতির সংবর্ধনা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী সুনামগঞ্জবাসীর গৌরব / ডেপুটি মেয়র আবু সুফিয়ান'কে জেলা জনকল্যাণ সমিতির সংবর্ধনা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় প্রবাসী বাঙালি আবু সুফিয়ান কে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা প্রদান করেছে সুনামগঞ্জ জেলা জনকল্যাণ সমিতি ইউএসএ । রোববার স্থানীয় একটি অভিজাত পার্টি হলে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।​সুনামগঞ্জ জেলা জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি এড.হাফিজুর রহমান এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হোসেন ওমর সরদার এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ​অনুষ্ঠানের শুরুতে ফুল দিয়ে নবনির্বাচিত ডেপুটি মেয়রকে শুভেচ্ছা জানান জেলা জনকল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ। পরে তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।​সংবর্ধনার জবাবে আবু সুফিয়ান বলেন, "এই অর্জন শুধু আমার একার নয়, এটি পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি এবং আমার জন্মভূমি সুনামগঞ্জের মানুষের অর্জন। প্রবাসের মাটিতে আপনারা যে ভালোবাসা ও সমর্থন আমাকে দিয়েছেন, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। প্যাটারসন সিটির উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির কল্যাণে আমি সর্বদা কাজ করে যাব। ​অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের এমন সাফল্য পুরো জাতির জন্য গর্বের। আবু সুফিয়ানের এই অর্জন নতুন প্রজন্মকে প্রবাসে আরও উঁচুতে পৌঁছাতে অনুপ্রাণিত করবে। ​আলোচনা সভা শেষে এক প্রীতিভোজ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংবর্ধনা আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

৫৪ বছর বয়সে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী

৫৪ বছর বয়সে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী

জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী হুমায়রা বানু। ৫৪ বছর বয়সে বিয়ের খবর নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন তিনি।সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে স্বামীর সঙ্গে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন হুমায়রা। তবে ছবিগুলোতে স্বামীর পরিচয় আড়ালেই রেখেছেন অভিনেত্রী। কোনো ছবিতেই তাঁর স্বামীর মুখ দেখা যায়নি। পোস্টের ক্যাপশনে নতুন জীবন নিয়ে নিজের অনুভূতিও জানিয়েছেন তিনি।হুমায়রা লেখেন, মানুষ অনেক সময় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের পরিকল্পনা করে, কিন্তু সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা থাকে ভিন্ন। তাঁর বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনার ওপর আস্থা রাখলে পথও সহজ হয়ে আসে।বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছায় ভাসছেন এই অভিনেত্রী। ভক্তদের পাশাপাশি সহকর্মীরাও তাঁকে নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।পাকিস্তানি টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ হুমায়রা বানু। বিভিন্ন নাটকে বিশেষ করে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।‘রং মহল’, ‘ইশক জালেবি’, ‘চৌধুরী অ্যান্ড সন্স’, ‘জান্নাত সে আগে’, ‘মেহরুম’ ও ‘জান নিসার’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন হুমায়রা বানু।

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২৪৫

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২৪৫

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে মশাবাহিত রোগটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫ জনে।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৪৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ৬২০ জনে।নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২১২ জন, চট্টগ্রামে ৩৪৩, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩২০, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮৯, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২১০, খুলনায় ২৪৮, ময়মনসিংহে ১১০, রাজশাহীতে ২১১, রংপুরে ৯৯ এবং সিলেটে ১৪ জন রয়েছেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭৩ হাজার ৮৯০ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৮৮২ জন।

ডেপুটি মেয়র আবু সুফিয়ান'কে জেলা জনকল্যাণ সমিতির সংবর্ধনা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী সুনামগঞ্জবাসীর গৌরব / ডেপুটি মেয়র আবু সুফিয়ান'কে জেলা জনকল্যাণ সমিতির সংবর্ধনা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় প্রবাসী বাঙালি আবু সুফিয়ান কে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা প্রদান করেছে সুনামগঞ্জ জেলা জনকল্যাণ সমিতি ইউএসএ । রোববার স্থানীয় একটি অভিজাত পার্টি হলে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।​সুনামগঞ্জ জেলা জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি এড.হাফিজুর রহমান এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হোসেন ওমর সরদার এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ​অনুষ্ঠানের শুরুতে ফুল দিয়ে নবনির্বাচিত ডেপুটি মেয়রকে শুভেচ্ছা জানান জেলা জনকল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ। পরে তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।​সংবর্ধনার জবাবে আবু সুফিয়ান বলেন, "এই অর্জন শুধু আমার একার নয়, এটি পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি এবং আমার জন্মভূমি সুনামগঞ্জের মানুষের অর্জন। প্রবাসের মাটিতে আপনারা যে ভালোবাসা ও সমর্থন আমাকে দিয়েছেন, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। প্যাটারসন সিটির উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির কল্যাণে আমি সর্বদা কাজ করে যাব। ​অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের এমন সাফল্য পুরো জাতির জন্য গর্বের। আবু সুফিয়ানের এই অর্জন নতুন প্রজন্মকে প্রবাসে আরও উঁচুতে পৌঁছাতে অনুপ্রাণিত করবে। ​আলোচনা সভা শেষে এক প্রীতিভোজ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংবর্ধনা আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

যশোর শামস উল হুদা মাঠে ফুটবল ও স্বপ্ন পাঠশালা

যশোর শামস উল হুদা মাঠে ফুটবল ও স্বপ্ন পাঠশালা

ভোরের নরম আলোয় যশোর শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির মাঠে ছুটে বেড়ায় একঝাঁক কিশোর। কারও পায়ে ফুটবল, এদের চোখে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলার স্বপ্ন। ঘামে ভিজে যায় শরীর, ক্লান্ত হয় পা তবু থামে না দৌড়। কারণ তাদের কাছে এই মাঠ শুধু খেলার জায়গা নয়; এ মাঠ স্বপ্ন দেখার, নিজেকে গড়ে তোলার, একদিন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানোর ঠিকানা। সকালের ফুটবল অনুশীলন শেষে তাদের হাতে ওঠে বই-খাতা। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে স্কুল পাঠ। বিকেলে আবার ফুটবল মাঠে ফেরা। মাগরিবের আগে শেষ দিনের দ্বিতীয় অনুশীলন। এরপর নাস্তা, রাতে গৃহশিক্ষকে পাঠ্যবইয়ের অনুশীলন। ঘুমানো পর্যন্ত চলে এই লড়াই। একদিকে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন, অন্যদিকে শিক্ষিত মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার প্রত্যয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৬০ আবাসিক ও ১২৩ অনাবাসিক শিক্ষার্থীর এই নিরন্তর পথচলার লক্ষ্য এক জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে বাংলাদেশের নামকে আরও উজ্জ্বল করা। কারও বাবা নেই, কারও বাবা দিনমজুর। অনেকের পরিবারের সামর্থ্য নেই ফুটবল প্রশিক্ষণের খরচ বহন করার। অথচ স্বপ্ন তাদের বড় হওয়া। এই স্বপ্নে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি।শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির বিশেষত্ব শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণে না। এখানে খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার ওপর সমান গুরুত্ব। আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সকাল ও বিকালে নিয়মিত ফুটবল অনুশীলন। রাতে বিশেষ গৃহশিক্ষকে চলে পাঠ্যবই ক্লাস। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিকালে ফুটবল অনুশীলনের ব্যবস্থা রয়েছে। ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে চার দিন বিকালে প্রশিক্ষণ নেয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে আবাসিক কিংবা অনাবাসিক কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফুটবল প্রশিক্ষণে কোনো ফি নেওয়া হয় না। আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শুধু স্কুল বা কলেজের মাসিক বেতন নেওয়া হয়। ফুটবল প্রশিক্ষণ, থাকা-খাওয়া এবং গৃহশিক্ষকের কোনো অর্থ দিতে হয় না। এসব ব্যয় বহন করছেন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও রেডিয়েন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১১ সালের ১৪ মে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৬০ জন অনাবাসিক ছাত্র নিয়ে শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির যাত্রা শুরু হয়।শুরুতে যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হামিদপুর হাইস্কুল মাঠে তাদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। ২০১৩ সালে হামিদপুর বাজারে এক ভাড়া বাড়িতে শিক্ষার্থীদের আবাসিকের ব্যবস্থা হয়।এরপর ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ হামিদপুরের শিকদারপাড়ায় ৮০ বিঘা জমিতে আনুষ্ঠানিক শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির মাঠ উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য রয়েছে ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন। ‘ভাষাসৈনিক মুসা মিয়া ভবন’ নামে পরিচিত ভবন উদ্বোধন করা হয় ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। এই ভবনে রয়েছে ২৪০ জন শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা, জিমনেশিয়াম, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, লাইব্রেরি, স্টাডি ও কনফারেন্স রুম, ডাইনিং হল, প্রশাসনিক কক্ষ, গেস্টরুম, মিনি গ্যালারি ও নামাজ স্থান।একাডেমিতে বর্তমানে পাঁচ বয়স ভিত্তিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ১২, ১৪, ১৬, ১৮ এবং ১৮ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী। দেশের বিভিন্ন জেলার ৬০ জন শিক্ষার্থী বর্তমানে আবাসিকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। অনাবাসিক শিক্ষার্থী  ১২৩ জন। একাডেমির শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৮৩ জন। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এখানে ফুটবল প্রশিক্ষণের সুযোগ পায়।ফুটবল প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য রয়েছেন জাতীয় পর্যায়ের পাঁচজন প্রশিক্ষক। প্রতিবছর ১৯ ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আবেদন করা শিক্ষার্থী ফুটবল দক্ষতা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে একাডেমিতে ভর্তি করা হয়।শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ২২ জন শিক্ষার্থী ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, বাহরাইন, কাতার, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, চীন ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এছাড়া একাডেমির বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও চীনে ফুটবলের ওপর প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। দেশের বিভিন্ন নামিদামি ক্লাবের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল খেলার সুযোগ পেয়েছে একাডেমির ২৩ জন শিক্ষার্থী।অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলার তাহসান খাঁর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার বাজে বামনদা গ্রামে। বাবা নেই। ছয় বোন ও দুই ভাইয়ের সংসারে ছোটবেলা থেকে ফুটবলের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ।   শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমিতে আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সুযোগ পেয়ে ফুটবল ও লেখাপড়া দুটিই সমান চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তাহসান বলেন, একাডেমিতে সুযোগ না পেলে তার ক্যারিয়ার সামনে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হতো। এখানে ফুটবল প্রশিক্ষণ, থাকা-খাওয়া ও লেখাপড়ায় তার খরচ নেই। শুধু প্রতিমাসে কলেজে বেতন দিতে হয়। আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নিয়মিত অনুশীলন করছে সে। তার সাফল্যের ঝুলিতে ইতিমধ্যে যোগ হয়েছে বড় অর্জন। ২০২৫ সালে চীনে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করে তাহসান। জেতে গোল্ডেন বুট খেতাব।একদিকে বই-খাতা, অন্যদিকে ফুটবল। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কঠোর অনুশীলন আর শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন। দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের জন্য বিনা খরচে প্রশিক্ষণ, থাকা-খাওয়া ও শিক্ষার সুযোগ সব মিলিয়ে শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি যেন ফুটবলপ্রেমী তরুণদের স্বপ্ন পূরণের ব্যতিক্রমী ঠিকানা। তাহসান, তারেকদের মতো অনেক তরুণের কাছে এই একাডেমি শুধু ফুটবল শেখার জায়গা নয়,এটি তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার আশ্রয়। যে স্বপ্ন নিয়ে একাডেমিটির পথচলা শুরু হয়েছিল, সেই স্বপ্ন এখন আরও বড় হয়েছে। লক্ষ্য জাতীয় দল পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন। লক্ষ্য ইউরোপের মাঠে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের পদচারণা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে যশোরের এই ফুটবল একাডেমি তৈরি করছে নতুন নতুন স্বপ্নবাজ তরুণ। এরা একদিন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরবে, এমন ফুটবলময় প্রত্যাশায় সংশ্লিষ্টরা।

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২৪৫

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে মশাবাহিত রোগটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫ জনে।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৪৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ৬২০ জনে।নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২১২ জন, চট্টগ্রামে ৩৪৩, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩২০, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮৯, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২১০, খুলনায় ২৪৮, ময়মনসিংহে ১১০, রাজশাহীতে ২১১, রংপুরে ৯৯ এবং সিলেটে ১৪ জন রয়েছেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭৩ হাজার ৮৯০ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৮৮২ জন।

মানুষ কি অসভ্য, নাকি আমাদের সিস্টেমই মানুষকে অসভ্য করে?

কথিত ‘অসভ্য’ মানুষ যখন উন্নত ও সুশৃঙ্খল কোনো ব্যবস্থার মধ্যে যায়, তখন অনেক সময় তাকেই দেখা যায় নিয়ম মেনে চলতে। মেট্রোরেলে ওঠার সময় মানুষ সারিবদ্ধ হয়, নির্ধারিত স্থানে দাঁড়ায়, টিকিট কাটে এবং অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে চলাচল করে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে—মানুষ কি জন্মগতভাবেই নিয়মভাঙা, নাকি ভালো ব্যবস্থাপনা মানুষকে নিয়ম মানতে শেখায়?বাংলাদেশের মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের শরিয়াহভিত্তিক আইন ও কঠোর নিয়মকানুনের দেশগুলোতে গিয়ে সেখানকার আইন মেনে চলে। একই মানুষ চীন, জাপান, ইউরোপ কিংবা অন্য উন্নত দেশেও গিয়ে স্থানীয় আইন-কানুন ও সামাজিক শৃঙ্খলার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়। এর অর্থ এই নয় যে সব মানুষ সবসময় ভালো বা আইন মান্যকারী। বরং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—সুশাসন, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা মানুষের আচরণকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।তাই শুধু মানুষকে দোষারোপ করে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন এমন একটি সিস্টেম, যেখানে আইন সবার জন্য সমান হবে, অন্যায় করলে শাস্তি নিশ্চিত হবে এবং ভালো কাজের স্বীকৃতি থাকবে। বিচার যদি দ্রুত ও নিরপেক্ষ হয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যদি বাস্তব হয় এবং ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের জন্য একই আইন কার্যকর হয়, তাহলে সমাজে নিয়ম মানার প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে।দেশ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থপাচার, দখল, অনিয়ম ও সম্পদের অসম বণ্টন নিয়ে সমাজে বহু প্রশ্ন উঠেছে। এখন সময় এসেছে প্রশ্ন করার—কোথায় থামতে হবে, সেটাও কি আমরা শিখব না?অঢেল সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতার শেষ কোথায়? মৃত্যুর পর কাফনের কাপড়ে তো পকেট থাকে না। মানুষের প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সম্পদ যদি রাষ্ট্র ও সমাজের ক্ষতির বিনিময়ে অর্জিত হয়, তাহলে সেই সম্পদের সামাজিক মূল্য কী?আরেকটি ভয়াবহ সংকট হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ। ভূগর্ভস্থ পানি দিয়ে অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিতভাবে কাপড় ধোয়া, শিল্পকারখানা চালানো কিংবা অন্যান্য কাজে পানি ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক লাভ হতে পারে; কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি মূল্য দিতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। আজ আমরা যে পানি অপচয় করছি, আগামী প্রজন্ম হয়তো সেই পানির জন্যই সংগ্রাম করবে।প্রশ্নটি তাই শুধু আজকের লাভের নয়—আগামী দিনের বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়াবে?যাদের সম্পদ আছে, তারা প্রয়োজনে বিদেশে বা দেশের বিভিন্ন নিরাপদ এলাকায় বসবাসের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের যাওয়ার জায়গা কোথায়? দেশের মাটি, পানি, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আমাদের সবার।অতএব, মানুষকে শুধু ‘অসভ্য’ বলে গালি না দিয়ে সিস্টেমকে সভ্য করার উদ্যোগ নিতে হবে। আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।মানুষকে ভালো হতে বলার পাশাপাশি এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যেখানে ভালোভাবে চলাটাই হবে সবচেয়ে সহজ পথ এবং অন্যায় করাটাই হবে সবচেয়ে কঠিন পথ।এখনই সময় থামার, হিসাব করার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভাবার। কারণ সম্পদ রেখে যাওয়া বড় কথা নয়—কেমন একটি দেশ রেখে যাচ্ছি, সেটাই ইতিহাসের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল: সড়কমন্ত্রী

সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক পয়সাও বেশি আদায় করলে সংশ্লিষ্ট বাসের রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে জরিমানা এবং ভবিষ্যতে রুট পারমিট দেওয়ার ক্ষেত্রে জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী জানান, নতুন নির্ধারিত বাসভাড়ার প্রজ্ঞাপন মঙ্গলবারই প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পরই নতুন ভাড়া কার্যকর হবে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রতি লিটার জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ভাড়াও সমন্বয়ের দাবি থাকে বলে জানান তিনি।শেখ রবিউল আলম বলেন, এবার জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়েছে। প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ার কথা থাকলেও সরকার তা ১৭ পয়সা নির্ধারণ করেছে।তিনি বলেন, জ্বালানির পাশাপাশি পরিবহন খাতে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দামও বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। তবে ভাড়া কমানো সম্ভব হলে সেটিই ভালো হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইতোমধ্যে বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এবার নির্ধারিত ভাড়ার কোনো ব্যত্যয় হতে দেওয়া হবে না। কেউ বাড়তি ভাড়া নিলে তার বিরুদ্ধে জরিমানা করা হবে এবং রুট পারমিট বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পারমিট পাওয়ার বিষয়েও জবাবদিহি করতে হবে।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।রেলভাড়া প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, গতবার রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি, এবারও এখন পর্যন্ত রেলের ভাড়া বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই।এ ছাড়া লঞ্চভাড়া নিয়ে লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে আগামী বৃহস্পতিবার আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।

সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে / ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এ এম এ মুহিত বলেছেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে এবং সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের টানেলে এক ব্রিফিংয়ে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তথ্য ও ডাটার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই অক্টোবরের আগেই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় এ বছর এখনো ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কম। তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামীকাল থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে ড. এ এম এ মুহিত বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাসপাতালসহ সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাকে মশার প্রজননস্থলমুক্ত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। জনগণকে সম্পৃক্ত করেই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।