ঢাকা    বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

৯ মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ

ব্যাংক খাতে সংস্কার ও ঋণ আদায়ে জোরদার উদ্যোগের কারণে গত নয় মাসে দেশে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) পরিমাণ প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে এনপিএল অনুপাত কমে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নয় মাসে এনপিএল অনুপাত কমেছে ২ দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ এখনো বেশি।জুন শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও আড়ালে থাকা খেলাপি ঋণ চিহ্নিত করে ব্যাংকগুলোর হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এনপিএল অনুপাতে এই উন্নতি এসেছে।ফলে একদিকে খেলাপি ঋণের অনুপাতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে, অন্যদিকে ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্রও আগের তুলনায় স্পষ্ট হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়।এর ফলে আগে গোপন থাকা বা পুনঃতফসিলের মাধ্যমে আড়াল করা অনেক ঋণের প্রকৃত অবস্থা সামনে আসে।তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে এককালীন প্রস্থান নীতি এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিলসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের সুফল পুরোপুরি প্রতিফলিত হলে খেলাপি ঋণের অনুপাত আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। চলতি বছরের জুনে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ সামান্য বেড়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা হলেও মোট ঋণের তুলনায় এর অনুপাত কমেছে।সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকাশিত খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি তুলে ধরেনি। ২০০৮ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা থাকলেও ২০২৪ সালে সরকারি হিসাবে তা প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। তবে শ্বেতপত্রে প্রকৃত খেলাপি ও সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা বলে উঠে এসেছে।তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারে এসব সংস্কারের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানো এবং খেলাপি ঋণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণ কমার বর্তমান প্রবণতা উৎসাহব্যঞ্জক হলেও এটিকে এখনই চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, প্রকৃত খেলাপি ঋণ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ায় শুরুতে অনুপাত বাড়তেও পারে। তবে ব্যাংকের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ করাই টেকসই সংস্কারের প্রথম শর্ত।সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ব্যাংক খাতের হিসাব পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় স্বল্পমেয়াদে কিছু চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এ জন্য পেশাদার ব্যবস্থাপনা, যথাযথ ঋণ মূল্যায়ন এবং কার্যকর ঋণ আদায় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর জন্য সংস্কার কাঠামোও জোরদার করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদনের মানদণ্ড আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি (ইসিএল) হিসাব চালু হলে সম্ভাব্য ঋণঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।তাদের মতে, এখন শুধু প্রকাশিত খেলাপি ঋণ কমানোর দিকে নজর না দিয়ে এর কাঠামোগত কারণ দূর করতে হবে। ঋণ আদায় জোরদার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ও দুর্বল আস্থার একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা পেয়েছে। তাই খেলাপি ও পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংক পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত নয় মাসের এনপিএল কমার প্রবণতা ব্যাংক খাতের সংস্কারে একটি ইতিবাচক প্রাথমিক সংকেত। তবে এ অগ্রগতি কতটা টেকসই হয়েছে, তা বোঝার জন্য ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। ধারাবাহিক সংস্কার, ঋণ আদায় এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে খেলাপি ঋণ আরও কমার পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা ও ব্যাংক খাতে ঋণশৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

আগৈলঝাড়ায় বিআরডিবির অনুষ্ঠানে ওসি মাসুদ খানের গণসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ

বছরের পর বছর গ্রাহকের কাছ থেকে প্রিমিয়াম নেওয়া হলেও মেয়াদ শেষে কিংবা দুর্ঘটনা-দুর্যোগে বীমা দাবি পরিশোধে গড়িমসি, নানা অজুহাত ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে দেশের বিভিন্ন বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে। কোথাও আর্থিক অনিয়ম, কোথাও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, আবার কোথাও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকির অভাব—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বীমা খাতের প্রতি গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অনাস্থা। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বীমা খাতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নতুন চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিতিন।দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিতিন বলেছেন, বীমা খাতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের দীর্ঘদিনের সংশয় দূর করতে বীমা কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, দাবি পরিশোধের সামর্থ্য এবং ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (IDRA) সদস্য (নন-লাইফ) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে বীমা খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন দৈনিক মাতৃভূমির খবরের সহ-সম্পাদক তুহিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সাংবাদিকদের একটি দল। আলোচনায় বীমা খাতে বিদ্যমান সংকট, গ্রাহকসেবা, দাবি পরিশোধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিসহ খাতটির উন্নয়ন ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।সংশ্লিষ্টদের মতে, বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ফেরানো এখন আইডিআরএর জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাবি পরিশোধে বিলম্ব, গ্রাহক হয়রানি, অতিরিক্ত ব্যয়, অনিয়ম এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। ফলে সম্ভাবনাময় এই খাতের সম্প্রসারণও বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।আইডিআরএর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও সম্পদের প্রকৃত অবস্থা পর্যালোচনা, গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই এবং ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম থাকলে তা চিহ্নিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হলে শুধু কাগজে-কলমে নির্দেশনা নয়, নিয়মিত ও কার্যকর তদারকির প্রয়োজন রয়েছে।বীমা খাতের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা। অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর প্রিমিয়াম পরিশোধ করেও প্রয়োজনের সময় বীমা দাবি আদায়ে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এতে একদিকে যেমন গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, অন্যদিকে বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আস্থাও নষ্ট হয়।নতুন চেয়ারম্যানের বক্তব্যে এসব বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর মতে, গ্রাহকের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো বীমা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। সময়মতো ও ন্যায্যভাবে দাবি পরিশোধের মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম ও বিধিমালা লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।বীমা খাতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, অনিয়মিত কমিশন প্রদান, বিনিয়োগে অসংগতি, আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তিতে গড়িমসির মতো অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। এসব বিষয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে সংকটে থাকা বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও দায়-দায়িত্ব পর্যালোচনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্বলতার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের ওপরই পড়ে। তাই বীমা কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও গ্রাহকের দাবি পরিশোধের সামর্থ্য নিশ্চিত করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির বিকল্প নেই। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, কমিশন প্রদান এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের ওপর কার্যকর নজরদারি বাড়াতে হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে।তবে বীমা খাতে দীর্ঘদিনের অনাস্থা একদিনে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক সংস্কার, নিয়মিত তদারকি, অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং গ্রাহকের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি। আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর যে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন বীমা খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহির মাধ্যমে বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের অনাস্থা কাটিয়ে আবারও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে দেশের বীমা খাত।

‘সাধনা মহলের পাশে জুলাই পরিবার’ / সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন, জবাব না দিয়েই অনুষ্ঠান শেষ

বছরের পর বছর গ্রাহকের কাছ থেকে প্রিমিয়াম নেওয়া হলেও মেয়াদ শেষে কিংবা দুর্ঘটনা-দুর্যোগে বীমা দাবি পরিশোধে গড়িমসি, নানা অজুহাত ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে দেশের বিভিন্ন বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে। কোথাও আর্থিক অনিয়ম, কোথাও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, আবার কোথাও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকির অভাব—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বীমা খাতের প্রতি গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অনাস্থা। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বীমা খাতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নতুন চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিতিন।দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিতিন বলেছেন, বীমা খাতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের দীর্ঘদিনের সংশয় দূর করতে বীমা কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, দাবি পরিশোধের সামর্থ্য এবং ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (IDRA) সদস্য (নন-লাইফ) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে বীমা খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন দৈনিক মাতৃভূমির খবরের সহ-সম্পাদক তুহিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সাংবাদিকদের একটি দল। আলোচনায় বীমা খাতে বিদ্যমান সংকট, গ্রাহকসেবা, দাবি পরিশোধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিসহ খাতটির উন্নয়ন ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।সংশ্লিষ্টদের মতে, বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ফেরানো এখন আইডিআরএর জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাবি পরিশোধে বিলম্ব, গ্রাহক হয়রানি, অতিরিক্ত ব্যয়, অনিয়ম এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। ফলে সম্ভাবনাময় এই খাতের সম্প্রসারণও বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।আইডিআরএর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও সম্পদের প্রকৃত অবস্থা পর্যালোচনা, গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই এবং ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম থাকলে তা চিহ্নিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হলে শুধু কাগজে-কলমে নির্দেশনা নয়, নিয়মিত ও কার্যকর তদারকির প্রয়োজন রয়েছে।বীমা খাতের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা। অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর প্রিমিয়াম পরিশোধ করেও প্রয়োজনের সময় বীমা দাবি আদায়ে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এতে একদিকে যেমন গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, অন্যদিকে বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আস্থাও নষ্ট হয়।নতুন চেয়ারম্যানের বক্তব্যে এসব বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর মতে, গ্রাহকের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো বীমা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। সময়মতো ও ন্যায্যভাবে দাবি পরিশোধের মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম ও বিধিমালা লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।বীমা খাতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, অনিয়মিত কমিশন প্রদান, বিনিয়োগে অসংগতি, আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তিতে গড়িমসির মতো অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। এসব বিষয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে সংকটে থাকা বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও দায়-দায়িত্ব পর্যালোচনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্বলতার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের ওপরই পড়ে। তাই বীমা কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও গ্রাহকের দাবি পরিশোধের সামর্থ্য নিশ্চিত করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির বিকল্প নেই। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, কমিশন প্রদান এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের ওপর কার্যকর নজরদারি বাড়াতে হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে।তবে বীমা খাতে দীর্ঘদিনের অনাস্থা একদিনে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক সংস্কার, নিয়মিত তদারকি, অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং গ্রাহকের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি। আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর যে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন বীমা খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহির মাধ্যমে বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের অনাস্থা কাটিয়ে আবারও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে দেশের বীমা খাত।

আগৈলঝাড়ায় কিশোরীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ

বছরের পর বছর গ্রাহকের কাছ থেকে প্রিমিয়াম নেওয়া হলেও মেয়াদ শেষে কিংবা দুর্ঘটনা-দুর্যোগে বীমা দাবি পরিশোধে গড়িমসি, নানা অজুহাত ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে দেশের বিভিন্ন বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে। কোথাও আর্থিক অনিয়ম, কোথাও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, আবার কোথাও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকির অভাব—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বীমা খাতের প্রতি গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অনাস্থা। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বীমা খাতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নতুন চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিতিন।দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিতিন বলেছেন, বীমা খাতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের দীর্ঘদিনের সংশয় দূর করতে বীমা কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, দাবি পরিশোধের সামর্থ্য এবং ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (IDRA) সদস্য (নন-লাইফ) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে বীমা খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন দৈনিক মাতৃভূমির খবরের সহ-সম্পাদক তুহিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সাংবাদিকদের একটি দল। আলোচনায় বীমা খাতে বিদ্যমান সংকট, গ্রাহকসেবা, দাবি পরিশোধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিসহ খাতটির উন্নয়ন ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।সংশ্লিষ্টদের মতে, বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ফেরানো এখন আইডিআরএর জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাবি পরিশোধে বিলম্ব, গ্রাহক হয়রানি, অতিরিক্ত ব্যয়, অনিয়ম এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। ফলে সম্ভাবনাময় এই খাতের সম্প্রসারণও বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।আইডিআরএর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও সম্পদের প্রকৃত অবস্থা পর্যালোচনা, গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই এবং ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম থাকলে তা চিহ্নিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হলে শুধু কাগজে-কলমে নির্দেশনা নয়, নিয়মিত ও কার্যকর তদারকির প্রয়োজন রয়েছে।বীমা খাতের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা। অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর প্রিমিয়াম পরিশোধ করেও প্রয়োজনের সময় বীমা দাবি আদায়ে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এতে একদিকে যেমন গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, অন্যদিকে বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আস্থাও নষ্ট হয়।নতুন চেয়ারম্যানের বক্তব্যে এসব বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর মতে, গ্রাহকের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো বীমা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। সময়মতো ও ন্যায্যভাবে দাবি পরিশোধের মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম ও বিধিমালা লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।বীমা খাতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, অনিয়মিত কমিশন প্রদান, বিনিয়োগে অসংগতি, আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তিতে গড়িমসির মতো অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। এসব বিষয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে সংকটে থাকা বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও দায়-দায়িত্ব পর্যালোচনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্বলতার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের ওপরই পড়ে। তাই বীমা কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও গ্রাহকের দাবি পরিশোধের সামর্থ্য নিশ্চিত করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির বিকল্প নেই। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, কমিশন প্রদান এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের ওপর কার্যকর নজরদারি বাড়াতে হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে।তবে বীমা খাতে দীর্ঘদিনের অনাস্থা একদিনে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক সংস্কার, নিয়মিত তদারকি, অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং গ্রাহকের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি। আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর যে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন বীমা খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহির মাধ্যমে বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের অনাস্থা কাটিয়ে আবারও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে দেশের বীমা খাত।

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে  মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে

সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

কোন ভিডিও নেই !
কোন ভিডিও নেই !

১ দিনের ছুটি নিলেই মিলবে টানা ৫ দিনের ছুটি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০২৬ সালে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দুই দিনের সরকারি ছুটি থাকছে। এর মধ্যে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর থেকে। পরদিন ২১ অক্টোবর থাকবে বিজয়া দশমীর ছুটি।তবে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার একদিনের ছুটি নিতে পারলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের অবকাশ উপভোগ করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হবে।এদিকে মূল সরকারি ছুটির পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুর্গাপূজা উপলক্ষে আরও দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমোদন সাপেক্ষে তারা এ ছুটি নিতে পারবেন।পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর রবিবার মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী পালিত হবে।অর্থাৎ পূজার আনুষ্ঠানিকতা ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হলেও সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর থেকে। বৃহস্পতিবার একদিনের ছুটি নিতে পারলে সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৪৬৮ জন / নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীর তীর ও ভাটির বিস্তীর্ণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল।বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রাশুয়া ও এর আশপাশের এলাকায় বন্যার পানির প্রবল স্রোত ভুটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে যায় এবং অনেক এলাকা দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।বন্যার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন জেলার হতাহত ও নিখোঁজদের তথ্য সমন্বয় করছে কর্তৃপক্ষ। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এদিকে নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও ট্রেকার রয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ৬৬৭ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী এখনো নিখোঁজ। তাদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি নাগরিক।রাশুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং এলাকায় বন্যার সময় অবস্থানরত বা ওই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াতকারী পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে কাজ করছে ট্যুরিজম বোর্ড। ট্রাভেল এজেন্সি, ট্রেকিং কোম্পানি, গাইড, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৩১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন ভারতীয়, চারজন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন মার্কিন, দুজন রুশ, দুজন ইতালীয়, একজন বুলগেরীয় ও একজন সুইস নাগরিক রয়েছেন। বাকি ১৮ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর তীর ও ভাটির বিভিন্ন বসতিতে স্থলপথে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।ভয়াবহ বন্যায় ওই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।হঠাৎ এই ভয়াবহ বন্যার কারণ এখনো তদন্তাধীন। হিমালয়ের পাদদেশে বুধবার সকালে প্রায় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই প্রবল পানির ঢল নামে। মুহূর্তের মধ্যে ভুটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি ও ধ্বংসাবশেষ ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়ায় অনেক মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি।সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

সব বিভাগের খবর

ঢাকা প্রেসক্লাবকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুদানের চেক হস্তান্তর

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদানের চেক ঢাকা প্রেসক্লাবের অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সমাজসেবা অধিদপ্তরের শহর সমাজসেবা কার্যালয়-১, যাত্রাবাড়ী, ঢাকার সমাজসেবা অফিসার আবু নাইম মৃধা ঢাকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাদেক মাহমুদ পাভেলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।ঢাকা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন প্রাপ্তির পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সরকারি অনুদান পেয়ে আসছে। সর্বশেষ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের অনুদানের চেক হস্তান্তরকে ক্লাবের সামাজিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের সহযোগিতার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে ঢাকা প্রেসক্লাবের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে পৃথক কমিটি বা সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, একটি মহল একই নাম ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে ঐতিহ্যবাহী ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।ক্লাব কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ঢাকা প্রেসক্লাবের নিবন্ধন, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সরকারি পর্যায়ে স্বীকৃতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র রয়েছে। তাদের দাবি, কথিত কয়েকটি কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কখনোই ঢাকা প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন না। এ বিষয়ে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের আদালতে মতামতও দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। ঢাকা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, প্রতিষ্ঠানটি যখন নিয়মতান্ত্রিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সরকারি পর্যায় থেকে অনুদান পাচ্ছে, তখন একই নামে পৃথক কমিটি বা সংগঠনের প্রচার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এতে শুধু ক্লাবের সদস্যদের মধ্যেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় ও বৈধতা নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তাদের দাবি।এ বিষয়ে ঢাকা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের  আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো দাবি বা বিরোধ থাকলে তা প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে নয়, বরং বিদ্যমান আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনি কাঠামোর মধ্যেই নিষ্পত্তি করা উচিত।ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, বিভ্রান্তি ও বিরোধ সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্টরা বাস্তবতা অনুধাবন করবেন এবং ঢাকা প্রেসক্লাবের নাম ও ভাবমূর্তি নিয়ে যে কোনো বিরোধ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।চেক হস্তান্তরের সময় ঢাকা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে আসছে নতুন সুবিধা, পাবেন আজীবন

সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে একগুচ্ছ নতুন সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়া, পেনশনারদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা, বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ সুবিধা চালু এবং নির্দিষ্ট শর্তে পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হওয়ার সুযোগ।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। অর্থমন্ত্রী পদাধিকারবলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান।জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানান, জনআগ্রহ বাড়াতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদ অনুমোদন দিলে এবং বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব হলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এসব সুবিধা চালু করা হতে পারে।বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাওয়ার কারণে নির্ভরশীলতার হার বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করে সরকার। তবে তিন বছর পার হলেও এতে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি।ব্যাংকের আমানতের সুদের তুলনায় পেনশনের রিটার্ন কম এবং গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক সুবিধা সীমিত থাকাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ পর্যন্ত চারটি স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন। তাঁদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।এর মধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের জন্য চালু করা ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। তাঁদের জমার পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ‘প্রবাস’ স্কিমে সাড়া সবচেয়ে কম। এ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী। তাঁদের মধ্যে নারী ৯৭ জন। এ স্কিমে জমার পরিমাণ ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।বর্তমান নিয়মে পেনশনভোগী ৬০ বছর বয়সে মাসিক পেনশন পাওয়া শুরু করেন। পেনশন পাওয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হলে নমিনি পেনশনারের ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত সমহারে মাসিক পেনশন পান।নতুন প্রস্তাবে নমিনির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের প্রচলিত পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবও পর্ষদ সভায় উঠতে পারে।আইনে গ্রাহকের জমা করা অর্থের একটি অংশ বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এখনো তা চালু হয়নি। এবার এ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। ঋণের সুদও গ্রাহকের পেনশন হিসাবে জমা হওয়ার কথা রয়েছে।পাশাপাশি পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক ও আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ ব্যবস্থা থেকে বের হতে চাইলে বিশেষ বিবেচনায় পুরো অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।পেনশনারদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।এ ছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবস্থাটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার। পর্ষদের অনুমোদন পেলে এসব সুবিধা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আগস্টে এলো ৩৬ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

সদ্য সমাপ্ত আগস্টে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৯৭ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)।বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে দেশে এসেছে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ।চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রেমিট্যান্স এসেছে ৫৮২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশে ডলারের সরবরাহ বাড়ে, যা আমদানি ব্যয় মেটানো ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের নানা উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবা সহজ হওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।এদিকে, বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।

সেরা ডিলারদের ক্রেস্ট ও পুরস্কার প্রদান / এজি পাম্পের ডিলার কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা ডিলারদের হাতে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দিয়েছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ব্যানটেক লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিটিএল ইন্টারন্যাশনালের এজি পাম্প। ঢাকার হোটেল লেকশোর হাইটসের বলরুমে প্রতিষ্ঠানটির পঞ্চম ডিলার কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এজি পাম্পের চেয়ারম্যান মো. আমীর হুসাইন। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস সাকিব জুবায়ের, পরিচালক জাকারিয়া আহমেদ ও পরিচালক রাজিব আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের হেড অব সেলস (ডিজিএম) হুমায়ূন কবির। কনফারেন্সে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ডিলার ও পরিবেশকেরা তাদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন প্রস্তাব ও পরামর্শ তুলে ধরেন।ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস সাকিব জুবায়ের বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এজি পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে এই কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।’প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. আমীর হুসাইন বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক মন্দার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’নতুন নতুন পণ্য ও সেবা কীভাবে গ্রাহকদের কাছে আরও সহজলভ্য করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাকারিয়া আহমেদ।অনুষ্ঠানে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিক্রয় লক্ষ্য অর্জনকারী ডিলারদের সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হয়। বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় সেরা ডিলারকে একটি রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণ শেষে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এজি পাম্পের পঞ্চম ডিলার কনফারেন্সের সমাপ্তি হয়।

সিংড়ায় পাটের বাম্পার ফলন! দামেও খুশি কৃষক

নাটোরের সিংড়া উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন পাট চাষীদের  জিরোনোর সময় নেই কারো। ডোবা-নালায় পাট পচানো, নদী ও বিলেে ঘাটে পাট ধোয়া আর উঠোনজুড়ে রোদে সোনালী আঁশ শুকানোর ব্যস্ততা। বাতাসে কাঁচা পাটের সুবাস আর কৃষকের মুখে এক চিলতে স্বস্তির হাসি বলে দিচ্ছে—এবার ‘সোনালী আঁশ’ তার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে এনেছে। সিংড়ায় পাটের বাম্পার ফলন ও চড়া দামে অধিকাংশ কৃষকের দিন কাটছে বেশ আনন্দে।​চলতি মৌসুমে উপজেলার চামারী ও লালোর ইউনিয়নসহ  বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট। বর্তমানে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা দরে। আর বিঘাপ্রতি পাওয়া যাচ্ছে ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত আঁশ।​উপজেলার লালোর গ্রামের সফল পাটচাষী নুরুজ্জামান  বলেন, “গত বছরের চেয়ে এবার ফলন অনেক ভালো পাইছি। দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করে বিঘায় প্রায় ৯ মণ কইরা পাইছি। সার, সেচ আর শ্রমিক সব মিলিয়ে খরচ হইছে ২৭ হাজার টাকার মতো। আর দুই বিঘা থেকে পাওয়া ১৮ মণ পাট বেচে দাম আসবে প্রায় ৬৩ থেকে ৭২ হাজার টাকা! সব খরচ বাদ দিয়েও ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ থাকবে। গত কয়েক বছরের লোকসান এবার সুদে-আসলে উঠে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।”​ সিংড়ার সর্ববৃহৎ পাটের বাজার ‘হাদিয়ান্দ হাটের’ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার পাটের কালার ও মান খুব চমৎকার। ভালো জাত ও আঁশের উজ্জ্বলতাভেদে আমরা বর্তমানে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকায় প্রতি মণ পাট কিনছি। আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবার আমরা কৃষকদের ভালো দাম দিতে পারছি।”​তবে আনন্দের এই জোয়ারে সামান্য দুশ্চিন্তার ভাঁজও আছে কিছু নিম্নঞ্চলের কৃষকের কপালে। নিচু জমিতে আগাম বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শ্রমিকের মজুরি গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ। লালোর ইউনিয়নের মাজগাতী গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক অনিল চন্দ্র আক্ষেপ করে বলেন, “দেড় বিঘা জমির পাট পানির নিচে  ডুবে গেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পাট কাটার জন্যই শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে  ৭০০ টাকা হাজিরা। আঁশ ছাড়ানো আর ধোয়ার খরচও দ্বিগুণ। সব মিলিয়ে এবার হয়তো দুই-তিন হাজার টাকা লোকসান হবে আমার।”​অন্যদিকে, পাটের এই ভরা মৌসুমে গ্রামীণ নারীদের কাজের সংস্থানও তৈরি হয়েছে। পাট খড়ির বিনিময়ে গৃহস্থের বাড়িতে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন স্থানীয় আলেয়া বেগমের মতো অনেকে। হাসিমুখে আলেয়া বলেন, এক মাস কষ্ট করে কাজ করলে যে পাটখড়ি পামু, তা দিয়ে অন্তত ৬ মাসের রান্নার জ্বালানি হয়ে যাবে। বাড়তি পাটখড়ি বেচে বাজারে দু-এক পয়সা আয়ও করা যাবে।​কৃষকদের সার্বিক সহায়তায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ বলেন,চলতি মৌসুমে সিংড়ায় ১ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ও মান দুই-ই চমৎকার। পর্যাপ্ত পানি থাকায় এবার পাট ‘জাগ’ দিতে কৃষকদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। নিচু জমির সামান্য কিছু ক্ষতি হলেও বেশিরভাগ কৃষকই এবার লাভবান হচ্ছেন। আমরা সার্বিক পরামর্শ ও কৃষি প্রণোদনা নিয়ে কৃষকের পাশে আছি। আশা করছি, পাটের এই ভালো দাম আগামীতেও বজায় থাকবে।

২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে কাজ চলমান: প্রধানমন্ত্রী

২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে কাজ চলমান ও সরকার বদ্ধ পরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২ টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি এ কথা বলেন।অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘ব্যবসায় সফলতার জন্য সরকারের ব্যবসায়ী নীতিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, একই সঙ্গে সামর্থ্যও আছে। বাংলাদেশে নিরাপদ বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। ট্যাক্স, ভ্যাট প্রক্রিয়া সহজ করে বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার দিকে জোর দিয়েছি। বাংলাদেশ টেকসই ও স্থায়ী বিদেশী বিনিয়োগ চায়, আমরা এক হয়ে কাজ করতে চাই।’এসময় তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে কাজ করছে। আর দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার বদ্ধ পরিকর।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে ভ্যাট ট্যাক্স প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশনসহ বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে সরকার।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে হবে : ডা. জাহেদ উর রহমান

সরকারি তথ্য ও উন্নয়নমূলক বার্তা প্রচারে / সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে হবে : ডা. জাহেদ উর রহমান

সরকারি তথ্য ও উন্নয়নমূলক বার্তা জনগণের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।একই সঙ্গে তিনি ভুল তথ্য প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে নেটওয়ার্কিং ও ডিজিটাল লিটারেসি বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন।আজ বুধবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধান অতিথি বলেন, প্রচলিত প্রচার পদ্ধতির পাশাপাশি ফেইসবুক, ইউটিউব, টিকটক, ইন্সট্রাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট ও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে সরকারি তথ্য প্রচার করা হলে তা অধিকসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। স্থানীয় কার্যক্রমের ভিডিও বা লাইভ প্রচারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।ভুল তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।ডিজিটাল লিটারেসির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য শেয়ার করা উচিত নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।সভায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল জলিল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের কিছু বাস্তব ও আইনি ঝুঁকি রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাদের তথ্য প্রচারে যাতে দ্বিধায় পড়তে না হয়, সেজন্য আইনি কাঠামোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।তিনি জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ছয় মাসে মাঠপর্যায়ে পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রংপুর বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, জেলা তথ্য কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক তথ্য অফিসের কর্মকর্তা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

অপতথ্য ও সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী প্যানেল গঠন করছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

অপতথ্য ও সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী প্যানেল গঠন করছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

অপতথ্য ও সাইবার বুলিং মোকাবিলায় তথ্য মন্ত্রণালয় আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অপতথ্য বা ভুল তথ্য নিয়ে আমরা খুবই চিন্তায় আছি। এছাড়া সাইবার বুলিং বিশেষ করে নারীদের উপরে যা হয়, নিয়মিতভাবে ফলে নারীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকেন।”এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে তথ্য মন্ত্রণালয় আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়ে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।”এ উদ্যোগ অনেকের জন্য দুঃসংবাদ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কারো জন্য দুঃসংবাদ তো বটেই, যারা এই কাজগুলো করেন—তাদের জন্য এই রাষ্ট্র, এই সরকার সিরিয়াস কগনিজেন্স নিতে যাচ্ছে; আপনারা সতর্ক হয়ে যান।”জাহেদ উর রহমান বলেন, “তথ্যের নামে অত্যাচার, অন্যায় হয়। আমরা যে কেউ অপতথ্যের শিকার হতে পারি, বুলিংয়ের শিকার হতে পারি; ফেইক ছবি, ফেইক ভিডিওর শিকার হতে পারি। সেরকম মানুষের জন্য সুখবর হচ্ছে এই আইনজীবী প্যানেল গঠন সম্পন্ন হচ্ছে।”সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান বিগত সরকারের সমালোচনাও করেন।“আগে ডিজিটাল আইনের মারাত্মক অপপ্রয়োগ হয়েছে, এই সরকার মাফিয়া বা অনির্বাচিত নয়, নির্বাচিত সরকার কোনো আইনেরই অপপ্রয়োগ করবে না।”সংবাদ সম্মেলনে ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রসঙ্গও আসে।এক সাংবাদিক বলেন, জঙ্গি, সন্ত্রাসী, স্বাধীনতাবিরোধী—যারাই ভেঙে থাকুক, বর্তমানে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বিএনপি ক্ষমতায়। তাদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখলাম না।এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নেওয়ার কথা জানিয়ে তখন উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বা সবকিছু মিলে প্রথম কথাটা হচ্ছে ভাস্কর্যটা কিন্তু কমপ্লিটেড হয়নি। ২০১৯- ২০ সালের দিকে শুরু হয়েছিল। এই ভাস্কর্য নিয়ে দুটো অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটা হচ্ছে যে, আবক্ষ মূর্তি আছে, সেটা ফেইসের সাথে; বলে রাখি জঙ্গিরা ভেঙে ফেলেছেএটার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।“দ্বিতীয়টা হচ্ছে, এটা যে ইন্টারসেকশনে আছে, এটা গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে মারাত্মক অবস্ট্রাকশন তৈরি করছে। এটা অনেক উঁচু বেদীতে তৈরি হয়েছে। সেটার কারণে এক্সিডেন্ট হচ্ছে এরকম একটা অভিযোগ—যারা ওই রাস্তায় চলাফেরা করেন। আমিও প্রাথমিকভাবে শক হয়েছি, এটা কেন হবে।“জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, উনার অবয়ব, উনার ফেইস যেন ঠিক থাকে, ফেইস যেন ভালোভাবে বোঝা যায়—উনার একটি আবক্ষ, ভাস্কর্য এবং সাথে মুক্তিযুদ্ধ রেখে একটি ভাস্কর্য তৈরি হবে। নতুন জায়গায়, দ্রুত তার সিদ্ধান্ত জানাবে। এটা সরকার করছে।"এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “একটি দেশে যখন দীর্ঘদিন এ ধরনের সরকারের (ফ্যাসিবাদী) অধীনে থাকে, তাদের প্রচুর লোকজন থেকে গেছে। খুব রাতারাতি এগুলো পরিবর্তন করা কঠিন। তবে গভীরভাবে দেখলে—এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে; এগুলো একটু সময় লাগবে।“আর আমাদের সরকারের যে আকার, একটা অংশ নির্বাচনের পরে আসে, আর মূল স্ট্রাকচার তারা তো থেকেই গেছে। ওরাও তো সরকার, এই সরকারটা থেকে যায়। এ সরকারটা বিরাট, লক্ষ লক্ষ। এ ব্যাপারে টাইম নেবে, কাজ হচ্ছে।”এক সাংবাদিক জানতে চান, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার সময় ইমিগ্রেশন, কাস্টমসসহ বেশ কিছু আইন লঙ্ঘন হয়েছে, এসব বিষয়ে সরকারের তরফে কোনো মামলা হবে কি না?জবাবে উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “যেগুলো আইন লঙ্ঘন হয়েছে, মামলা হতে পারে। আমার ধারণা এটা ব্যক্তিগত সরকারি কোনো বক্তব্য নয়; উনি আইসিটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত এবং দণ্ডপ্রাপ্ত, মৃত্যুদণ্ড।“সম্ভবত এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে আর (মামলা) করেনি। তবে আমি একমত— যেখানে আইন ভঙ্গ হয়েছে, সেসব জায়গায় প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দরকার।”বর্তমানে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী, জানতে চাওয়া হয় তথ্য উপদেষ্টার কাছে।জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমরা যে সিস্টেমের মধ্যে কাজ করছি, সদিচ্ছা থাকলেও সরকারের কতগুলো টুল আছে, অপারেটর আছে—যারা ১৭ বছরে এমন অবস্থায় ছিলেন, তারা তাদের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে জেনেছেন; এগুলো কিন্তু পাল্টে গেছে। চিন্তাই পাল্টে গেছে। এই পুরো স্ট্রাকচার নিয়ে কাজ করা, এটা চ্যালেঞ্জ।”

এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান / এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সরকার ৩০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  তিনি বলেছেন, পণ্যমূল্য তদারকিতে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নজরদারি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও কার্যকর করা যায়।শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে।ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেও বলে জানান তিনি।পণ্যের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।এলপিজির মূল্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও কোথাও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও গণমাধ্যমে বিষয়টি আরও কিছুদিন গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার হলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম কমিয়ে আনবেন।রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রপ্তানি কমেছে। জ্বালানি-সংক্রান্ত কারণে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব পথে দেশে মাদক প্রবেশ করে, সেসব পথ বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে বহুতল ভবনের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চা-বাগান এলাকায় বর্তমানে থাকা পাঠদান কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে মন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সুন্দরবনে অভয়াশ্রম কমানোর দাবীতে জেলেদের মানববন্ধন

বাগেরহাটের শরণখোলায় পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ৮০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য ও অভয়াশ্রম থাকলেও সাতক্ষীরাও চাঁদপাই রেঞ্জ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ অভয়াশ্রম এ বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল সকল মৎস্য ও পেশাজীবিবৃন্দ।  দুই অক্টোবর সকাল দশটায়  শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করায় ফুঁসে উঠেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা। তারা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের দুই রেঞ্জের জন্য দুই ধরনের আইন কখনোই তারা মেনে নিবেন না। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে যেখানে ৩০-৪০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে শরণখোলা রেঞ্জে ৮০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য শরণখোলাবাসী কখনোই মেনে নিবে না। তাছাড়া বর্তমানে শরণখোলা রেঞ্জে যতটুকু এলাকা অবমুক্ত রয়েছে তার তুলনায় সুন্দরবনে বৈধভাবে প্রবেশ করা জেলেদের সংখ্যা অনেক। ফলে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না অধিকাংশ জেলেদের জালে। অতিদ্রুত যদি অভয়ারণ্য এলাকা কমিয়ে অন্তত ৫০ ভাগ না করা হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহনের কথা বলেন তারা। এসময়  পেশাজীবিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাউথখালি ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি শহীদুল ইসলাম লিটন, মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ সেলিম খান, মোঃ খলিল হাওলাদার, মোঃ হালিম খান,  রফিকুল হাওলাদার ও শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান সুজন। এ ব্যাপারে পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল চৌধুরী বলেন, অন্যান্য রেঞ্জের তুলনায় শরণখোলায় অভয়াশ্রম ও অভয়ারণ্য এলাকা বেশি। এখানে জেলেদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক সময় পাস পারমিট নেওয়া জেলেদের বিপাকে পড়তে হয়। জেলেদের দাবি কিছুটা হলেও যৌক্তিক। তবে এ বিষয়টি নিরশন এর দায়িত্ব বনবিভাগ ও বন মন্ত্রণালয়ের।

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ডেস্ক নিউজ: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী থানায় গিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী স্বামী লিটন শেখ (৪৬) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোরেলগঞ্জের বনগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত সাইম শেখের ছেলে লিটন শেখের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দাম্পত্য জীবন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত পারিবারিক কলহ চলছিল। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় যখন লিটন শেখ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলে, তখন তার স্ত্রী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে ফেলে। ঘটনায় লিটন শেখের চিৎকার শুনে তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ওই অঙ্গটির প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরদিন সকালে অভিযুক্ত নারী নিজেই থানায় এসে অপরাধ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো শ্রীপুর গ্রাম ও আশপাশে এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আইপিএলের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে জানুয়ারিতে হতে পারে পিএসএল

আইপিএলের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে জানুয়ারিতে হতে পারে পিএসএল

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) সূচি পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সূচির সঙ্গে সংঘাত এড়াতে আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পিএসএল আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে পিসিবি ও আট ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকেরা আলোচনা করেছেন।ক্রিকইনফো জানিয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে পিএসএল পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। পিএসএলের সম্প্রচার ও ডিজিটাল স্বত্বধারী ওয়ালি টেকনোলজিস জানুয়ারিতে আয়োজনের প্রস্তাব দেয়।তাদের যুক্তি, এপ্রিল-মে মাসে পিএসএল আয়োজন করা হয় রমজানের পর। তখন অনেক প্রতিষ্ঠানের বিপণন ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের বাজেটের বড় অংশই খরচ হয়ে যায়।ফলে বিজ্ঞাপন থেকে প্রত্যাশিত আয় পাওয়া কঠিন হয়। তা ছাড়া আইপিএলও চলে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো শঙ্কামুক্ত নয়। তারা জানতে চায়, সময় বদলালেও সম্প্রচার স্বত্ব থেকে তাদের প্রাপ্য অর্থ পুরোপুরি নিশ্চিত থাকবে কি না।বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় রাজস্ব তহবিলের সম্প্রচার আয়ের ৯৫ শতাংশ পায় আট ফ্র্যাঞ্চাইজি।২০১৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পিএসএল ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কারণে তা এপ্রিল-মে মাসে চলে যায়। আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পিএসএল হলে আইপিএলের সঙ্গে সূচির সংঘাত এড়ানো যাবে। সে ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রিকেটার পেতে পিএসএলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ ও দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০-এর সঙ্গে।আবহাওয়াও বড় বাধা হতে পারে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা থাকে। লাহোর, মুলতান ও রাওয়ালপিন্ডি—তিনটি ভেন্যুই পাঞ্জাবে।তাই প্রস্তাব এসেছে সিন্ধু প্রদেশের করাচিতে শুরু করে পরে পাঞ্জাব হয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ারে টুর্নামেন্ট নেওয়ার।

নিউজার্সির প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হলেন সুনামগঞ্জের আবু সুফিয়ান

নিউজার্সির প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হলেন সুনামগঞ্জের আবু সুফিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন সুনামগঞ্জের প্রবাসী আবু সুফিয়ান। প্যাটারসন সিটি হলের মেয়র কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেয়র আন্দে সায়েঘ তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।শপথ অনুষ্ঠানে কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট মারিটজা ডেবিল, ভাইস প্রেসিডেন্ট লিসা মিমস, ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিক, কাউন্সিলওম্যান রুবি কটনসহ সিটির বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য উপস্থিত ছিলেন।মেয়র আন্দে সায়েঘ বলেন, তিনি সবসময় বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশে থাকার চেষ্টা করেন এবং আবু সুফিয়ানকে সহকারী হিসেবে নির্বাচিত করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিক আবু সুফিয়ানকে একজন সজ্জন ও কমিউনিটিবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে অভিনন্দন জানান।দায়িত্ব গ্রহণের পর আবু সুফিয়ান মেয়র, সিটি কর্মকর্তাসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। পরে সুনামগঞ্জ সমিতির নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।স্থানীয় রাজনীতি ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে আবু সুফিয়ানের ডেপুটি মেয়র হওয়াকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৫৪ বছর বয়সে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী

৫৪ বছর বয়সে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী

জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী হুমায়রা বানু। ৫৪ বছর বয়সে বিয়ের খবর নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন তিনি।সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে স্বামীর সঙ্গে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন হুমায়রা। তবে ছবিগুলোতে স্বামীর পরিচয় আড়ালেই রেখেছেন অভিনেত্রী। কোনো ছবিতেই তাঁর স্বামীর মুখ দেখা যায়নি। পোস্টের ক্যাপশনে নতুন জীবন নিয়ে নিজের অনুভূতিও জানিয়েছেন তিনি।হুমায়রা লেখেন, মানুষ অনেক সময় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের পরিকল্পনা করে, কিন্তু সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা থাকে ভিন্ন। তাঁর বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনার ওপর আস্থা রাখলে পথও সহজ হয়ে আসে।বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছায় ভাসছেন এই অভিনেত্রী। ভক্তদের পাশাপাশি সহকর্মীরাও তাঁকে নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।পাকিস্তানি টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ হুমায়রা বানু। বিভিন্ন নাটকে বিশেষ করে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।‘রং মহল’, ‘ইশক জালেবি’, ‘চৌধুরী অ্যান্ড সন্স’, ‘জান্নাত সে আগে’, ‘মেহরুম’ ও ‘জান নিসার’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন হুমায়রা বানু।

ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে / ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এ এম এ মুহিত বলেছেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে এবং সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের টানেলে এক ব্রিফিংয়ে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তথ্য ও ডাটার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই অক্টোবরের আগেই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় এ বছর এখনো ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কম। তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামীকাল থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে ড. এ এম এ মুহিত বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাসপাতালসহ সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাকে মশার প্রজননস্থলমুক্ত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। জনগণকে সম্পৃক্ত করেই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

নিউজার্সির প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হলেন সুনামগঞ্জের আবু সুফিয়ান

নিউজার্সির প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হলেন সুনামগঞ্জের আবু সুফিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন সুনামগঞ্জের প্রবাসী আবু সুফিয়ান। প্যাটারসন সিটি হলের মেয়র কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেয়র আন্দে সায়েঘ তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।শপথ অনুষ্ঠানে কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট মারিটজা ডেবিল, ভাইস প্রেসিডেন্ট লিসা মিমস, ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিক, কাউন্সিলওম্যান রুবি কটনসহ সিটির বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য উপস্থিত ছিলেন।মেয়র আন্দে সায়েঘ বলেন, তিনি সবসময় বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশে থাকার চেষ্টা করেন এবং আবু সুফিয়ানকে সহকারী হিসেবে নির্বাচিত করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিক আবু সুফিয়ানকে একজন সজ্জন ও কমিউনিটিবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে অভিনন্দন জানান।দায়িত্ব গ্রহণের পর আবু সুফিয়ান মেয়র, সিটি কর্মকর্তাসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। পরে সুনামগঞ্জ সমিতির নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।স্থানীয় রাজনীতি ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে আবু সুফিয়ানের ডেপুটি মেয়র হওয়াকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইপিএলের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে জানুয়ারিতে হতে পারে পিএসএল

আইপিএলের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে জানুয়ারিতে হতে পারে পিএসএল

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) সূচি পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সূচির সঙ্গে সংঘাত এড়াতে আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পিএসএল আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে পিসিবি ও আট ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকেরা আলোচনা করেছেন।ক্রিকইনফো জানিয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে পিএসএল পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। পিএসএলের সম্প্রচার ও ডিজিটাল স্বত্বধারী ওয়ালি টেকনোলজিস জানুয়ারিতে আয়োজনের প্রস্তাব দেয়।তাদের যুক্তি, এপ্রিল-মে মাসে পিএসএল আয়োজন করা হয় রমজানের পর। তখন অনেক প্রতিষ্ঠানের বিপণন ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের বাজেটের বড় অংশই খরচ হয়ে যায়।ফলে বিজ্ঞাপন থেকে প্রত্যাশিত আয় পাওয়া কঠিন হয়। তা ছাড়া আইপিএলও চলে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো শঙ্কামুক্ত নয়। তারা জানতে চায়, সময় বদলালেও সম্প্রচার স্বত্ব থেকে তাদের প্রাপ্য অর্থ পুরোপুরি নিশ্চিত থাকবে কি না।বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় রাজস্ব তহবিলের সম্প্রচার আয়ের ৯৫ শতাংশ পায় আট ফ্র্যাঞ্চাইজি।২০১৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পিএসএল ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কারণে তা এপ্রিল-মে মাসে চলে যায়। আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পিএসএল হলে আইপিএলের সঙ্গে সূচির সংঘাত এড়ানো যাবে। সে ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রিকেটার পেতে পিএসএলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ ও দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০-এর সঙ্গে।আবহাওয়াও বড় বাধা হতে পারে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা থাকে। লাহোর, মুলতান ও রাওয়ালপিন্ডি—তিনটি ভেন্যুই পাঞ্জাবে।তাই প্রস্তাব এসেছে সিন্ধু প্রদেশের করাচিতে শুরু করে পরে পাঞ্জাব হয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ারে টুর্নামেন্ট নেওয়ার।

সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে / ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এ এম এ মুহিত বলেছেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে এবং সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের টানেলে এক ব্রিফিংয়ে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তথ্য ও ডাটার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই অক্টোবরের আগেই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় এ বছর এখনো ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কম। তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামীকাল থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে ড. এ এম এ মুহিত বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাসপাতালসহ সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাকে মশার প্রজননস্থলমুক্ত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। জনগণকে সম্পৃক্ত করেই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

গ্যাস সংকটে নরসিংদীতে স্থবির জনজীবন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরুদ্ধ

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় রাজধানী ঢাকা ও নরসিংদীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পরিবহন ও শিল্প খাতে।​জানা গেছে, বাসাবাড়িতে চুলা না জ্বলার পাশাপাশি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। টানা কয়েকদিনের এই দুর্ভোগ গত মঙ্গলবার রাত থেকে চরম আকার ধারণ করে। সম্পূর্ণ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে শিবপুরের কারারচর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে প্রায় চার কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশ্বাস দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।​পরিবহন মালিক ও চালকদের মতে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গ্যাস না পাওয়ায় তাদের দৈনিক আয় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কারারচর এলাকার এপেক্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সৈয়দ ইকবাল হোসেন জানান, প্রেসার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।​শিবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহিম জানান, এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং শিগগিরই সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

ভূতুরে বিল ও বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে দিশেহারা জনজীবন

​তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং আর মাস শেষে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বোঝায় পিষ্ট হচ্ছেন দেশের সাধারণ জনগণ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনে-রাতে ৫ থেকে ৬ বার বিদ্যুৎ যাওয়া এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ প্রতিবার বিদ্যুৎ আসার পর তার স্থায়িত্ব থাকছে মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন অরাজকতায় চরম ভোগান্তির শিকার গ্রাহকরা ক্ষোভ ও হতাশায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।​ভোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এটি কেবল প্রযুক্তিগত বা সরবরাহজনিত সমস্যা নয়, বরং এর পেছনে বিদ্যুৎ খাতের একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী চক্রান্তকারী চক্র কাজ করছে। জনগণের ধারণা, ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত ও ভূতুরে বিল তৈরি এবং অস্বাভাবিক লোডশেডিং সৃষ্টি করে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।​সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে দেশের পোল্ট্রি খাতে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে খামারের শত শত মুরগি মারা যাচ্ছে। এতে একদিকে প্রান্তিক খামারিরা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে পোল্ট্রি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। খামারিরা জানান, জেনারেটর বা বিকল্প উপায়ে দীর্ঘ সময় বাতাস ও তাপমাত্রা ধরে রাখা সাধারণ খামারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তাপপ্রবাহের কারণে একের পর এক মুরগি মারা পড়ছে।​মনোহরদীতে ব্যবসায়ীদের হাহাকার:সরজমিনে মনোহরদীর স্থানীয় বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায় চরম দুর্ভোগের চিত্র। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে পুরো বাজার এলাকা। মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের মোমবাতি জ্বেলে কেনাবেচা করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পচে নষ্ট হচ্ছে মাছ ও অন্যান্য পচনশীল পণ্য। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম হাহাকার ও হতাশা।​ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন অনতিবিলম্বে এই বেপরোয়া ভূতুরে বিল প্রণয়ন এবং অযৌক্তিক লোডশেডিংয়ের লাগাম টানা হয়। একই সাথে, বিদ্যুৎ খাতের ভেতরের চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সমাধানের দাবি আইনজীবী মহলে / আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

ঢাকা কোর্ট অঙ্গনে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের নানা দুর্ভোগের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। আদালত কার্যক্রম শুরুর আগেই আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের কী ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতি অতিক্রম করে বিভিন্ন আদালতে পৌঁছাতে হয়, সেই চিত্র তুলে ধরে দেওয়া পোস্টটি প্রকাশের পর তাৎক্ষণিকভাবে আইনজীবী মহলে ব্যাপক সাড়া পড়ে।আইনজীবী মহলে পরিচিত মুখ ও আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ তার ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা ও চলাচলের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিশেষ করে অপর্যাপ্ত ও প্রায়ই বিকল হয়ে পড়া লিফট, আদালত অঙ্গনের সংকীর্ণ ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তা এবং দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও গ্যাংওয়ে নির্মাণ না হওয়ার বিষয়টি তার পোস্টে গুরুত্ব পায়।পোস্টে আবুল কালাম আজাদ উল্লেখ করেন, সিএমএম আদালত শুরু হওয়ার আগেই আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের বিভিন্ন ধরনের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি অতিক্রম করে আদালতে পৌঁছাতে হয়। ঢাকা জজ কোর্ট, সিএমএম আদালত, চিফ জুডিশিয়াল আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে মামলার শুনানিতে অংশ নিতে গিয়ে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের প্রতিনিয়ত এ ধরনের বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আদালত অঙ্গনে একটি গ্যাংওয়ে নির্মাণের জন্য আইনজীবী নেতৃবৃন্দ বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গেছেন এবং সমস্যার সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও এর কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।তার পোস্টে বর্ষাকালে আদালত অঙ্গনের দুর্ভোগের চিত্রও উঠে আসে। বৃষ্টির সময় কোর্ট অঙ্গনের একটি সংকীর্ণ রাস্তা পানিতে ডুবে যায় এবং কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। সেই রাস্তা দিয়েই আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের বহু কষ্টে বিভিন্ন আদালতে যাতায়াত করতে হয়। এতে প্রতিদিন আদালতে আসা মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিচার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।আবুল কালাম আজাদ তার পোস্টের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে ঢাকা কোর্টের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে আইন পেশা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তার এই ফেসবুক পোস্ট প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী মহলে তাৎক্ষণিক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই পোস্টটির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি বাস্তব সমস্যাকে জনসম্মুখে তুলে ধরার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের প্রতিদিনের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও সচেতন মহল থেকে দাবি উঠেছে।সচেতন মহলের মতে, আদালত অঙ্গনে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা বিচার কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশেরই অংশ। দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাংওয়ে, জলাবদ্ধতা, কাদাযুক্ত রাস্তা ও লিফটসংক্রান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা গেলে ঢাকা কোর্টের সামগ্রিক পরিবেশ অনেকটাই উন্নত হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।আইনজীবী মহলে জনপ্রিয় নেতা আবুল কালাম আজাদের এই পোস্ট তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ঢাকা কোর্টের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা ও আইনজীবী-বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং বাস্তবসম্মত কী উদ্যোগ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।পাঠকদের জন্য সেই পোস্টটির লিংক তুলে ধরা হলো:https://www.facebook.com/share/v/1DhmuUKHsR/