কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ।তিনি বলেন, ‘প্রতিটি রাষ্ট্র এবং সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন, যারা আমাদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন কিংবা আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ, সামাজিক দর্শন ও আমাদের মনোজগতে প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। কবি নজরুল তেমনই একজন ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব। কৈশোর থেকে পরিণত বয়স, আমাদের জীবনের সকল পর্যায়েই তাঁর প্রভাব অপরিসীম।'আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কক্ষে আয়োজিত এক সভায় (জুম প্ল্যাটফর্ম) বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।ছবি : পিএমওসরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর পাশাপাশি কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, বিরহের কবি, তারুণ্যের কবি, বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয়, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো।'তিনি বলেন, 'পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার, তথা যা কিছু অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দর, তার বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শানিত অস্ত্র। বিপ্লব, বিদ্রোহ কিংবা রণ-সঙ্গীত, ইসলামী তাহজীব তমদ্দুন কিংবা ইসলামী মূল্যবোধের গান অথবা ভজন-কীর্তন কিংবা শ্যামা সংগীত, প্রেম, প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ, কৈশোরের আনন্দ কিংবা যৌবনের উন্মাদনা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল প্রকাশ ছিল শুদ্ধ ।'মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও কাজী নজরুল ইসলাম অন্যতম প্রধান দিশারি এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তাঁর রচনার মধ্যে মহিমাময় হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে। কবি নজরুলের সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য রয়েছে সকল কালের, সকল মানুষের।’তিনি বলেন, ‘অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। তাঁর প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন ফুরানোর নয়।'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনি আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মূল ভাষা।’তিনি বলেন, ‘শুধু অতীত ইতিহাস নয়, বর্তমান প্রজন্মের জন্য, এমনকি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নজরুল আমাদের জীবনে প্রাসঙ্গিক। এ কারণেই আমাদের জাতীয় কবির জীবন ও কর্মের সঙ্গে, গণমানুষ বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক আরো গভীর ও নিবিড় করার লক্ষ্যে নানা আয়োজনে 'নজরুল বর্ষ' শুরু হয়েছে।'তিনি 'নজরুল বর্ষ' উদযাপনে উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,' আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাগণ, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পীগণ যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন সবাইকে অভিনন্দন।'তিনি অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে নজরুল গবেষক ও নজরুলপ্রেমীদের প্রাধান্য দেয়ার ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠানে যেমন নজরুল গবেষকদের উপস্থিতি মানায় না, তেমনি নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠানেও আমলাদের চেয়ে নজরুল অনুরাগীদের অংশগ্রহণই বেশি কাম্য।'নতুন প্রজন্মের ওপর তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'বর্তমান জটিল বাস্তবতায় আমাদের উদীয়মান প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাতে নজরুলের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখী’ কিংবা ‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘর’-এর মতো নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কবিতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।’তিনি বলেন, নজরুল আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ। নজরুল কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস।'প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলেন ‘বাংলাদেশের মন’। তিনি আজীবন সাম্যের গান গেয়েছেন, যেখানে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টানের কোনো ভেদাভেদ নেই। বর্তমান সরকারও এমন এক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ এবং এমনকি প্রতিটি প্রাণীও নিরাপদে থাকবে।'এ সময় সারাদেশে নজরুল বিশেষজ্ঞ ও নজরুল প্রেমীদের নিয়ে গঠিত ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’র মাধ্যমে বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুল সংগীতের আসর, নাট্যোৎসব এবং চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন সফল করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।একই সঙ্গে বর্তমান জটিল বৈশ্বিক বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে কবির নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সাহিত্যকে আলোকবর্তিকা হিসেবে ব্যবহারের তাগিদ দেন তিনি।পরিশেষে, জাতীয় কবির জীবন, কর্ম, সাহিত্য ও মানবিক চেতনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-ু২০২৭’ এর বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পী যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়।ছবি: পিএমওসংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)।
মাধবদীতে প্রবাসীর বাড়িতে তাণ্ডব / চাঁদাবাজ 'বোমা সেলিম' ও তার বাহিনীর বিচারের দাবিতে উত্তাল নরসিংদী
আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার সাবেক সহকর্মী ও সেনা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস।রোববার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বেঞ্চের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিলের একটি ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ওই দিন তিনি র্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে মেজর জিয়াউল, মেজর নওশাদ ও সাইফ স্যারের সঙ্গে মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যান। তখন তিনি জানতেন না কার বিষয়ে বা কী উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়া হচ্ছে। গাড়িতে থাকা অবস্থায় জিয়াউল আহসান বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে “টার্গেট” কখন আসবেন তা জানতে চান। পরে জানা যায়, নির্ধারিত ব্যক্তি সেখানে আসবেন না। এরপর তারা সেখান থেকে চলে যান এবং তিনি জিয়াউলকে তার বাসায় নামিয়ে দেন।পরদিন তিনি ৯ দিনের ছুটিতে যান। ছুটিতে থাকাকালেই ১৮ এপ্রিল গণমাধ্যমে জানতে পারেন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী মহাখালী এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। ছুটি শেষে ২৩ এপ্রিল র্যাব হেডকোয়ার্টারের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে যোগ দিলে তিনি পরিবেশকে অস্বাভাবিক ও চাপা মনে করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত সকাল ৯টায় রোল কল হলেও ১৮ এপ্রিলের পর থেকে তা সকাল ৭টায় শুরু হয় এবং জিয়াউল আহসান নিয়মিতই সকালে অফিসে আসতেন।ইমরুল কায়েস আরও বলেন, একদিন ফোনে কথা বলার সময় জিয়াউলের কাছে আরেকটি কল আসে। তখন তিনি বলেন, “তুই রাখ, তারিক স্যার ফোন দিয়েছেন।” পরে জিয়াউল ও ওই ব্যক্তির মধ্যে দীর্ঘ সময় কথা হয়। এক পর্যায়ে জিয়াউল নাকি বলেন, “আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম। এখন আপনারা এভাবে করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ, তাহলে আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিন।” তিনি আরও দাবি করেন, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর র্যাব হেডকোয়ার্টারের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করা হয়।রোববার সকালে মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং তার উপস্থিতিতেই সাক্ষ্য দেন এই সাক্ষী।
মামলায় জামিনে এসে আবারও সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ / গাজীপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলার পর অভিযুক্ত রাসেলকে ঘিরে বন দখল ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ
আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার সাবেক সহকর্মী ও সেনা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস।রোববার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বেঞ্চের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিলের একটি ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ওই দিন তিনি র্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে মেজর জিয়াউল, মেজর নওশাদ ও সাইফ স্যারের সঙ্গে মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যান। তখন তিনি জানতেন না কার বিষয়ে বা কী উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়া হচ্ছে। গাড়িতে থাকা অবস্থায় জিয়াউল আহসান বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে “টার্গেট” কখন আসবেন তা জানতে চান। পরে জানা যায়, নির্ধারিত ব্যক্তি সেখানে আসবেন না। এরপর তারা সেখান থেকে চলে যান এবং তিনি জিয়াউলকে তার বাসায় নামিয়ে দেন।পরদিন তিনি ৯ দিনের ছুটিতে যান। ছুটিতে থাকাকালেই ১৮ এপ্রিল গণমাধ্যমে জানতে পারেন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী মহাখালী এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। ছুটি শেষে ২৩ এপ্রিল র্যাব হেডকোয়ার্টারের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে যোগ দিলে তিনি পরিবেশকে অস্বাভাবিক ও চাপা মনে করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত সকাল ৯টায় রোল কল হলেও ১৮ এপ্রিলের পর থেকে তা সকাল ৭টায় শুরু হয় এবং জিয়াউল আহসান নিয়মিতই সকালে অফিসে আসতেন।ইমরুল কায়েস আরও বলেন, একদিন ফোনে কথা বলার সময় জিয়াউলের কাছে আরেকটি কল আসে। তখন তিনি বলেন, “তুই রাখ, তারিক স্যার ফোন দিয়েছেন।” পরে জিয়াউল ও ওই ব্যক্তির মধ্যে দীর্ঘ সময় কথা হয়। এক পর্যায়ে জিয়াউল নাকি বলেন, “আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম। এখন আপনারা এভাবে করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ, তাহলে আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিন।” তিনি আরও দাবি করেন, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর র্যাব হেডকোয়ার্টারের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করা হয়।রোববার সকালে মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং তার উপস্থিতিতেই সাক্ষ্য দেন এই সাক্ষী।
পরকীয়ার জেরে ফতুল্লায় স্বামীকে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী আটক
আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার সাবেক সহকর্মী ও সেনা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস।রোববার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বেঞ্চের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিলের একটি ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ওই দিন তিনি র্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে মেজর জিয়াউল, মেজর নওশাদ ও সাইফ স্যারের সঙ্গে মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যান। তখন তিনি জানতেন না কার বিষয়ে বা কী উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়া হচ্ছে। গাড়িতে থাকা অবস্থায় জিয়াউল আহসান বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে “টার্গেট” কখন আসবেন তা জানতে চান। পরে জানা যায়, নির্ধারিত ব্যক্তি সেখানে আসবেন না। এরপর তারা সেখান থেকে চলে যান এবং তিনি জিয়াউলকে তার বাসায় নামিয়ে দেন।পরদিন তিনি ৯ দিনের ছুটিতে যান। ছুটিতে থাকাকালেই ১৮ এপ্রিল গণমাধ্যমে জানতে পারেন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী মহাখালী এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। ছুটি শেষে ২৩ এপ্রিল র্যাব হেডকোয়ার্টারের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে যোগ দিলে তিনি পরিবেশকে অস্বাভাবিক ও চাপা মনে করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত সকাল ৯টায় রোল কল হলেও ১৮ এপ্রিলের পর থেকে তা সকাল ৭টায় শুরু হয় এবং জিয়াউল আহসান নিয়মিতই সকালে অফিসে আসতেন।ইমরুল কায়েস আরও বলেন, একদিন ফোনে কথা বলার সময় জিয়াউলের কাছে আরেকটি কল আসে। তখন তিনি বলেন, “তুই রাখ, তারিক স্যার ফোন দিয়েছেন।” পরে জিয়াউল ও ওই ব্যক্তির মধ্যে দীর্ঘ সময় কথা হয়। এক পর্যায়ে জিয়াউল নাকি বলেন, “আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম। এখন আপনারা এভাবে করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ, তাহলে আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিন।” তিনি আরও দাবি করেন, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর র্যাব হেডকোয়ার্টারের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করা হয়।রোববার সকালে মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং তার উপস্থিতিতেই সাক্ষ্য দেন এই সাক্ষী।
এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত
নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ
আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ
ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন
৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা
ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা, বাতিল ৬৪৭৬ জনের নাম
ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে
নীলফামারীকে পাখিদের অভয়ারণ্য নগরী গড়ার উদ্যোগ
কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী
শাহজালালে গোপন কায়দায় আনা প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণের চালান জব্দ
চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার যুবদল নেতা শামীম বহিষ্কার না হওয়ায় ক্ষোভ
সিংড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬৮৬ কৃষকের পাশে সরকার, বিতরণ করা হলো চাল
নোয়াখালী বেগমগঞ্জে পূর্বের শত্রুতার জের ধরে দুই ভাইকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি
চাঁদাবাজ 'বোমা সেলিম' ও তার বাহিনীর বিচারের দাবিতে উত্তাল নরসিংদী
গাজীপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলার পর অভিযুক্ত রাসেলকে ঘিরে বন দখল ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ
পরকীয়ার জেরে ফতুল্লায় স্বামীকে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী আটক
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকট চলছে: বিএফইউজে মহাসচিব
বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলাকে বিশাল পরিমাণ অর্থসাহায্য দিলেন নেইমার
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকট চলছে: বিএফইউজে মহাসচিব
দেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকট চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। এ সময় তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সাংবাদিকতা হবে পুরোপুরি সত্যনিষ্ঠ। এখানে মিথ্যা কিংবা অর্ধসত্যের কোনো স্থান নেই। আপসেরও কোনো সুযোগ নেই।সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভাকক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা,আগ্রাসনরোধ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।অপসাংবাদিকতার প্রসঙ্গ টেনে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘বগল সম্পাদক’ এখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছেন। পত্রিকা ছাপিয়ে সেটি বগলে নিয়ে সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে তদবির বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছেন। এসব বগল সম্পাদক ও হলুদ সাংবাদিকতার কারণে মানুষ অতিষ্ঠ।তিনি আরও বলেন, যা ইচ্ছা তা লিখে দেওয়া সাংবাদিকতা নয়। সত্য লিখবেন, রাষ্ট্র আপনাকে নিরাপত্তা দেবে। সাংবাদিকদের বিবেকসম্পন্ন হতে হয়। দাস-সাংবাদিকদের মানুষ ঘৃণা করে।ভারতের গণমাধ্যম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএফইউজের এই মহাসচিব। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আগ্রাসনের শিকার হচ্ছি। ২০২৫ সালে ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে ১৪০টি ভুয়া প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তারা দেশে দাঙ্গা বাধিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ বাছির জামাল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপমুক্ত পরিবেশ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমেই বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও জনমুখী গণমাধ্যম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এবিএম রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ অন্য বক্তারা বক্তব্য রাখেন।
শাপলা চত্বরে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ, তদন্তে আলোচিত নাম
শাপলা চত্বরে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ, তদন্তে আলোচিত নাম
অপরাধীর কোনো ধর্ম নেই, আইনের চোখে সবাই সমান: থালাপতি
অপরাধীর কোনো ধর্ম নেই, আইনের চোখে সবাই সমান: থালাপতি