ঢাকা    সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

শিলমান্দী ইউনিয়নে রাজনৈতিক অঙ্গণে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে সেলিনা আক্তার সেলি

ফালু মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে শিলমান্দী ইউনিয়নে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন সেলিনা আক্তার সেলি নামক নারী নেত্রী। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তিনি একজন মানবদরদী সমাজসেবক হিসেবেও এলাকায় পরিচিত। অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং নারী উন্নয়ন ও জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসিত। নরসিংদী সদর উপজেলার শিলমান্দী ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও নির্বাচনী মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন অভিজ্ঞ নারী নেত্রী সেলিনা আক্তার সেলি। তিনি এলাকাবাসীর কাছে সমর্থন ও দোয়া কামনা করেছেন। সেলিনা আক্তার সেলি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতি ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি দুইবার নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া শিলমান্দী ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে টানা তিনবার সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এক পর্যায়ে তিনি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি শিলমান্দী ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত মহিলা সদস্য হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন এবং নরসিংদী সদর উপজেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তিনি আবারো একই পদে (১.২. ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য হিসাবে) নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পথচলা সেলিনা আক্তার সেলি একজন স্বামীহারা নারী হিসেবেও সমাজে সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। সকল বাধা পেরিয়ে তিনি মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি সবসময় জনগণের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকতে চাই। এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে আবারও নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছি। সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি।” স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, জনসম্পৃক্ততা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে সেলিনা আক্তার সেলি ইতোমধ্যেই ভোটারদের মাঝে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে ৪২৫টি বকনা গরু বিতরণ করল ওয়ার্ল্ড ভিশন

বাংলাদেশের মোবাইল ফোনে অ্যাপ ভিত্তিক পরিবহন সেবার জন্য খসড়া একটি নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি অ্যাপ ভিত্তিক সেবা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে গত মাসেই এক বছর পূর্ণ করলো অ্যাপ ভিত্তিক গাড়ি শেয়ার নেটওয়ার্ক উবার। মোটর সাইকেলের ক্ষেত্রে পাঠাওসহ কয়েকটি সার্ভিস নিয়েও যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। উবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শুধু নভেম্বর মাসেই প্রায় দুলাখ যাত্রী উবারে ভ্রমণ করেছেন। তবে গাড়ী ও মোটর সাইকেলের অ্যাপস ভিত্তিক সেবায় বেজায় নাখোশ সিএনজি অটোরিকশা মালিক ও চালকরা। শুরু থেকেই তারা উবার বা পাঠাওয়ের মতো সার্ভিসকে অবৈধ আখ্যায়িত করে এগুলো বন্ধের দাবি জানাতে থাকে। কর্তৃপক্ষ শুরুতে একবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি নিয়ে এ ধরনের সেবাকে অবৈধ বললেও পরে সে অবস্থান থেকে সরে এসে একটি নীতিমালার আওতায় আনার কথা ঘোষণা করে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ মন্ত্রীসভায় রাইডিং শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেয়া হলো। মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান অনুমোদন পাওয়া খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী ১১টি শর্ত মেনে অ্যাপস ভিত্তিক এসব সেবা সারাদেশেই দেয়া যাবে। তবে সেবা দেয়ার জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও মোটরযানের তালিকাভুক্তির সনদ নিতে হবে। একই সাথে কমপক্ষে দুশো মোটরযান ছাড়া কোন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এ সেবা কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবেননা।

রিফাত হত্যায় টিকটক হৃদয় ও অলিসহ গ্রেফতার ৮

বাংলাদেশের মোবাইল ফোনে অ্যাপ ভিত্তিক পরিবহন সেবার জন্য খসড়া একটি নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি অ্যাপ ভিত্তিক সেবা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে গত মাসেই এক বছর পূর্ণ করলো অ্যাপ ভিত্তিক গাড়ি শেয়ার নেটওয়ার্ক উবার। মোটর সাইকেলের ক্ষেত্রে পাঠাওসহ কয়েকটি সার্ভিস নিয়েও যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। উবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শুধু নভেম্বর মাসেই প্রায় দুলাখ যাত্রী উবারে ভ্রমণ করেছেন। তবে গাড়ী ও মোটর সাইকেলের অ্যাপস ভিত্তিক সেবায় বেজায় নাখোশ সিএনজি অটোরিকশা মালিক ও চালকরা। শুরু থেকেই তারা উবার বা পাঠাওয়ের মতো সার্ভিসকে অবৈধ আখ্যায়িত করে এগুলো বন্ধের দাবি জানাতে থাকে। কর্তৃপক্ষ শুরুতে একবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি নিয়ে এ ধরনের সেবাকে অবৈধ বললেও পরে সে অবস্থান থেকে সরে এসে একটি নীতিমালার আওতায় আনার কথা ঘোষণা করে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ মন্ত্রীসভায় রাইডিং শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেয়া হলো। মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান অনুমোদন পাওয়া খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী ১১টি শর্ত মেনে অ্যাপস ভিত্তিক এসব সেবা সারাদেশেই দেয়া যাবে। তবে সেবা দেয়ার জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও মোটরযানের তালিকাভুক্তির সনদ নিতে হবে। একই সাথে কমপক্ষে দুশো মোটরযান ছাড়া কোন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এ সেবা কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবেননা।

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার কোনো আশঙ্কা নেই: মনিরুল

বাংলাদেশের মোবাইল ফোনে অ্যাপ ভিত্তিক পরিবহন সেবার জন্য খসড়া একটি নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি অ্যাপ ভিত্তিক সেবা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে গত মাসেই এক বছর পূর্ণ করলো অ্যাপ ভিত্তিক গাড়ি শেয়ার নেটওয়ার্ক উবার। মোটর সাইকেলের ক্ষেত্রে পাঠাওসহ কয়েকটি সার্ভিস নিয়েও যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। উবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শুধু নভেম্বর মাসেই প্রায় দুলাখ যাত্রী উবারে ভ্রমণ করেছেন। তবে গাড়ী ও মোটর সাইকেলের অ্যাপস ভিত্তিক সেবায় বেজায় নাখোশ সিএনজি অটোরিকশা মালিক ও চালকরা। শুরু থেকেই তারা উবার বা পাঠাওয়ের মতো সার্ভিসকে অবৈধ আখ্যায়িত করে এগুলো বন্ধের দাবি জানাতে থাকে। কর্তৃপক্ষ শুরুতে একবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি নিয়ে এ ধরনের সেবাকে অবৈধ বললেও পরে সে অবস্থান থেকে সরে এসে একটি নীতিমালার আওতায় আনার কথা ঘোষণা করে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ মন্ত্রীসভায় রাইডিং শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেয়া হলো। মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান অনুমোদন পাওয়া খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী ১১টি শর্ত মেনে অ্যাপস ভিত্তিক এসব সেবা সারাদেশেই দেয়া যাবে। তবে সেবা দেয়ার জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও মোটরযানের তালিকাভুক্তির সনদ নিতে হবে। একই সাথে কমপক্ষে দুশো মোটরযান ছাড়া কোন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এ সেবা কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবেননা।

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

দেশে পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

দেশে পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

উৎসবের আমেজে বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

উৎসবের আমেজে বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

ক্যাশলেস লেনদেনে কমে দুর্নীতি : অরুণ জেটলি

ক্যাশলেস লেনদেনে কমে দুর্নীতি : অরুণ জেটলি

মংলায় টর্নেডোর ছোবলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে চিত্র নায়ক শাকিল খাঁন

মংলায় টর্নেডোর ছোবলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে চিত্র নায়ক শাকিল খাঁন

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানের ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানের ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

কাফরুলে শ্রমিক আন্দোলনে সেনাবাহিনীর গাড়ি ও পুলিশের লেগুনায় আগুন

কাফরুলে শ্রমিক আন্দোলনে সেনাবাহিনীর গাড়ি ও পুলিশের লেগুনায় আগুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড তিন রাস্তার মোড়ে নিত্য যানজট ভোগান্তিতে জনজীবন ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড তিন রাস্তার মোড়ে নিত্য যানজট ভোগান্তিতে জনজীবন ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

ঢাকায় প্রতি ঘণ্টায় একজন মানুষকে কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০ মশা!

ঢাকায় প্রতি ঘণ্টায় একজন মানুষকে কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০ মশা!

নরসিংদী জেলার ব্যাপক সাফল্য: ২২তম জাতীয় সিনিয়র ও জুনিয়র তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

নরসিংদী জেলার ব্যাপক সাফল্য: ২২তম জাতীয় সিনিয়র ও জুনিয়র তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

শিলমান্দী ইউনিয়নে রাজনৈতিক অঙ্গণে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে সেলিনা আক্তার সেলি

শিলমান্দী ইউনিয়নে রাজনৈতিক অঙ্গণে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে সেলিনা আক্তার সেলি

সিংড়ায় জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব: গ্রাম্য সালিশ অমান্য করে ঘর নির্মাণ

সিংড়ায় জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব: গ্রাম্য সালিশ অমান্য করে ঘর নির্মাণ

চাঁদা না দেওয়ায় সাংবাদিকের উপর হাতুড়ি হামলা

চাঁদা না দেওয়ায় সাংবাদিকের উপর হাতুড়ি হামলা

দেশে পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

দেশে পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা, বাতিল ৬৪৭৬ জনের নাম

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা, বাতিল ৬৪৭৬ জনের নাম

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রুবেল

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রুবেল

ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া: বহু হতাহত

ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া: বহু হতাহত

সাবেক মেয়র মনজুরের বাসায় গিয়ে প্রশ্নের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ

সাবেক মেয়র মনজুরের বাসায় গিয়ে প্রশ্নের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান

নরসিংদীতে প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকি: তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নরসিংদীতে প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকি: তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কোন ভিডিও নেই !
কোন ভিডিও নেই !

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা, বাতিল ৬৪৭৬ জনের নাম

মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেক ব্যক্তি ভুয়া তথ্য দিয়ে ভারতীয় তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন; যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের নাম বাতিলের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে, যা গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সংসদে তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত ও শুনানি পরিচালনা করে জামুকার উপকমিটি। কোনো ব্যক্তি অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে তার সনদ ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করা হয়। রংপুর-৪সহ দেশের যেকোনো এলাকার ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তালিকা আরও স্বচ্ছ করার কাজ চলমান থাকবে।

ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া: বহু হতাহত

গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ৭ জন নিহত এবং আরও ৬৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রুশ বাহিনী দেশটির বিভিন্ন স্থানে ৩২৪টি ড্রোন ও তিনটি ইস্কান্দার-এম ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ৩০৯টি ড্রোন ভূপাতিত করা হলেও, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা যায়নি। সবচেয়ে বড় হামলাটি হয় ডিনিপ্রো শহরে। ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেকজান্ডার হানঝা জানান, ১৫ এপ্রিল সকালে একটি গ্যাস স্টেশনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে পাঁচজন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ১৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর ১৫ এপ্রিল রাতে ডিনিপ্রোতে আবারও হামলা চালানো হয়। এতে একটি প্রশাসনিক ভবন ও একটি বহুতল আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে দুই নারী ও এক পুরুষ আহত হন। অন্যদিকে তুলনামূলক শান্ত হিসেবে পরিচিত চেরকাসি অঞ্চলেও বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে ৮ বছর বয়সী এক শিশু নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের খেরসন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে বেসামরিক ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়। এতে একজন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির গভর্নর। এছাড়া ১৩ এপ্রিলের হামলায় আহত আরও দুজন পরবর্তীতে মারা গেছেন বলেও জানা গেছে। খারকিভ অঞ্চলেও হামলা চালানো হয়েছে। ড্রোন শহর পর্যন্ত পৌঁছালেও সেখানে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে শহরের উত্তরের দুটি এলাকায় বোমা হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন।

সব বিভাগের খবর

ঈদের ছুটিতে ব্যাংক খোলা রাখার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজ: বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদুল ফিতরের ছুটির সময়েও (ঈদের দিন ছাড়া) সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে। পরে তা কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত কার্যক্রম সচল রাখতে ঈদের দিন ছাড়া আগামী ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত—সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও—সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও বুথ সীমিত পরিসরে খোলা রাখতে হবে। ব্যাংক কার্যক্রম এ ছাড়া আগামী ১৮ (বুধবার) ও ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) শিল্প এলাকায় বিশেষ শাখাগুলো সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে গ্রাহকদের সঙ্গে লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। নির্দেশনায় বলা হয়- সাভার, গাজীপুর, টঙ্গী, আশুলিয়া, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাকশিল্পঘন এলাকাগুলো এই সুবিধার আওতায় থাকবে। তবে ১৭ মার্চ এবং ২০ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত গ্রাহকদের সঙ্গে লেনদেনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজ নিজভাবে নির্ধারণ করবে। এদিকে, আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদুল ফিতর হলে সেদিন বন্ধ থাকবে সব ব্যাংক।

সাধারণরা না পেলেও ঈদে কর্মকর্তারা পাবেন নতুন নোট

অনলাইন ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার সাধারণ মানুষের জন্য নতুন টাকার নোট বাজারে ছাড়ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন নোট না ছাড়লেও নিজেদের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন নোটের ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নিয়ে সম্প্রতি একটি অভ্যন্তরীণ অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। সেই আদেশের ভিত্তিতে রোববার থেকে কর্মকর্তা–কর্মচারীরা নতুন নোট সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। কে কত নতুন নোট পাবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ মার্চ জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা অনুসারে নতুন নোট নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালকরা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার নতুন নোট নিতে পারবেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কর্মচারীরা সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার টাকার নতুন নোট নিতে পারবেন। ৮ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী কর্মকর্তা–কর্মচারীরা নতুন নোট সংগ্রহ করতে পারবেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরেই সমালোচনা উঠেছে। কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, সাধারণ মানুষের জন্য নতুন নোট বন্ধ রাখলেও নিজেদের জন্য তা বরাদ্দ দেওয়া প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রতিবছর ঈদের সময় নতুন টাকার নোটের চাহিদা বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঈদ সালামি হিসেবে নতুন নোট দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় ঈদের আগে নতুন নোট ও ছেঁড়া টাকা কেনাবেচার অস্থায়ী দোকান বসে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফুটপাতকেন্দ্রিক এ ব্যবসা ঈদের সময় জমজমাট হয়ে ওঠে। এদিকে অনেকের আশঙ্কা, কর্মকর্তাদের বরাদ্দ দেওয়া এই নতুন নোটের একটি অংশ অনিয়মের মাধ্যমে ফুটপাতের নতুন নোট ও ছেঁড়া টাকার ব্যবসায়ীদের কাছে চলে যেতে পারে। এতে অবৈধ লেনদেনের সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দাম অর্ধেকে নেমেছে হাঁসের ডিম, বিপাকে সিংড়ার খামারিরা

 মোঃ ইব্রাহিম আলী,সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ রমজানকে ঘিরে হঠাৎ করে হাঁসের ডিমের দাম অর্ধেকে নেমে আসায় বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন সিংড়া উপজেলা-র শতাধিক হাঁস খামারী। আগে যেখানে পাইকারি প্রতি পিস হাঁসের ডিম ১৫ থেকে ১৭ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে বর্তমানে তা কমে ৯ থেকে ১১ টাকায় নেমে এসেছে। এতে খামার পরিচালনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। উপজেলার ইটালী ইউনিয়ন-এর কুমগ্রামের খামারী মোঃ আয়ুব আলী জানান, চলনবিলের সিংড়া-বারুহাস সড়কের ডুবো ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে তার খামার রয়েছে। খামারের ১২শ হাঁসের মধ্যে প্রায় ৭শ হাঁস নিয়মিত ডিম দিতো। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ডিমের দাম অর্ধেকে নেমে আসায় এখন ৭শ ডিম বিক্রি করেও ১২শ হাঁসের খাবার জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে। উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়ন-এর আয়েশ গ্রামের খামারী বাচ্চু মিয়া জানান, প্রায় ২৭ বছর ধরে হাঁসের খামার করে আসছেন তিনি। কিন্তু এবছরই প্রথমবারের মতো এত বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন। তার ভাষ্য, ফিডসহ সব ধরনের খাবারের দাম বেড়েছে, অথচ ডিমের ন্যায্য মূল্য মিলছে না। এভাবে চলতে থাকলে খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। একই ইউনিয়নের ইন্দ্রাসন গ্রামের খামারী আলা উদ্দিন বলেন, তার খামারে ৭শ হাঁস রয়েছে। আগে এর মধ্যে প্রায় ৪শ হাঁস ডিম দিতো, এখন তা কমে ৩শ-তে নেমেছে। পর্যাপ্ত খাবার জোগান দিতে না পেরে দূরের হালতির বিল থেকে ছোট শামুক সংগ্রহ করে কোনোভাবে হাঁসগুলোকে খাওয়াতে হচ্ছে। সরেজমিনে চলনবিল এলাকার বৃহত্তম হাঁসের ডিমের হাট চলনবিল-সংলগ্ন সিংড়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, হ্যাচারির জন্য বড় ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১১ টাকা পিস দরে এবং ছোট ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকা পিস দরে। বগুড়া থেকে ডিম কিনতে আসা পাইকার মনতাজ মন্ডল জানান, বর্তমানে পোল্ট্রি মুরগির ডিমের আমদানি বেশি এবং দামও তুলনামূলক কম। এ কারণে হাঁসের ডিমের চাহিদা কমে গেছে। আগের মতো ডিম কিনে বাজারজাত করা যাচ্ছে না। চলনবিল এলাকার ডিম আড়তদার মোঃ আলহাজ উদ্দিন বলেন, রমজান উপলক্ষে প্রতিবছরই পোল্ট্রি ডিমের সরবরাহ কিছুটা বেড়ে যায়। ফলে সাময়িকভাবে সব ধরনের ডিমের বাজারে প্রভাব পড়ে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং ডিমের দাম আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

সাঈদ আহমেদ এমপি’র বিজয়ে বিআইএফ’র উষ্ণ শুভেচ্ছা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)’র প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে মুখ্য নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম (বিআইএফ) । বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিআইএ কার্যালয়ে এই শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম (বিআইএফ)’র প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)’র কার্যনির্বাহী সদস্য ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম ইউসুফ আলী। এ ছাড়াও ফোরামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী আবুল কালাম আজাদ, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. কাজিম উদ্দিন, বিআইএফ’র  সেক্রেটারি জেনারেল ও সেনা ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. শফিক শামীম পিএসসি (অব.); জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ও বিআইএ’র নির্বাহী সদস্য এস এম নুরুজ্জামান, বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. নূরে আলম সিদ্দিকী, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মুন্সী মো. মনিরুল আলম; সাংগঠনিক সম্পাদক ও রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ড. একেএম সারোয়ার জাহান জামীল, অফিস সেক্রেটারি ও স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী আবদুল মতিন সরকার, নির্বাহী সদস্য ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. ইমাম শাহীন, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কাজী মোকাররম দস্তগীর; ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী বায়েজিদ মুজতবা সিদ্দিকী, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মুহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী, নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী চৌধুরী গোলাম ফারুক এবং প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. সামছুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নতুন সরকারের সামনে কঠিন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিচ্ছে এমন সময়ে যখন আর্থিক ও বাহ্যিক খাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, স্বল্পমেয়াদী ভারসাম্যহীনতা যেন দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত দুর্বলতায় রূপ না নেয়, সে জন্য দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। বিশ্লেষকরা সাতটি খাতকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন: সরকারি অর্থায়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, জ্বালানি খাতের সুশাসন এবং বাহ্যিক খাতের স্থিতিশীলতা। এগুলো একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত; কোনো একটির দুর্বলতা অন্য খাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়াতে পারে। এজন্য বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের বদলে সুসংহত পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত। ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আহরণ এখনও অনেক পিছিয়ে। ভর্তুকি প্রদান, ঋণ পরিশোধ ও সামাজিক সুরক্ষা খাতের প্রতিশ্রুতি মেটাতে বাজেট ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা সুদের হার ও বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবাহকে প্রভাবিত করছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “ঋণ গ্রহণ কখনোই কাঠামোগত কর সংস্কারের বিকল্প হতে পারে না। রাজস্ব আহরণে উন্নতি এবং ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ অপরিহার্য।” তিনি করের আওতা বাড়ানো, আইন প্রয়োগ জোরদার করা এবং ভর্তুকি যৌক্তিক পর্যায়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ মূল্যস্ফীতি। খাদ্য ও জ্বালানির উচ্চমূল্য নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম কমলেও দেশে খুচরা বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। সিপিডি লক্ষ্য করেছে, দেশের সরবরাহ শৃঙ্খলের অদক্ষতা এবং বাজার তদারকির অভাব এ সমস্যার মূল কারণ। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় চাল ও গমের উৎপাদন লক্ষ্য ৪৪২ দশমিক ২ লাখ টনের তুলনায় কম (৪১৬ দশমিক ৬ লাখ মেট্রিক টন)। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলছেন, “মূল্য স্থিতিশীল করতে শুধু সুদের হার সমন্বয় যথেষ্ট নয়। বাজার তদারকি ও খাদ্য বিতরণে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।” খেলাপি ঋণের হার ৩৬ শতাংশে অবস্থান করছে এবং সুশাসনের অভাব রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের এই সংকট বেসরকারি খাতের উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড এবং দীর্ঘমেয়াদী মূলধন গঠনে অন্তরায়। সানেমের ড. সেলিম রায়হান বলেন, “বিনিয়োগের গতি ফেরাতে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার জরুরি।” ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম (সিপিডি) যোগ করেন, স্বচ্ছ সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার জবাবদিহি এবং স্থিতিশীল নীতিমালা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক। বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি সরকারের আর্থিক সক্ষমতাকে সীমিত করছে, সরবরাহে বিঘ্ন উৎপাদন ও রপ্তানি প্রতিযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি খাতে কাঠামোগত সংস্কার রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হলেও অর্থনৈতিকভাবে অপরিহার্য। বাহ্যিক খাতেও ঝুঁকি রয়েছে। বিনিময় হার, রিজার্ভ পর্যাপ্ততা এবং রপ্তানির নির্ভরতা দেশের বৈদেশিক লেনদেনকে প্রভাবিত করছে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বজায় রাখা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো নীতির সঠিক সমন্বয়। আর্থিক সংকোচন, মুদ্রানীতি ও কাঠামোগত সংস্কার একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে পরিচালনা করতে হবে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাংলাদেশ এখন নাজুক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দ্রুত ও সাহসী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে দেশ স্থিতিশীলতায় ফিরবে নাকি দীর্ঘমেয়াদী সংকটে নিমজ্জিত হবে।

৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণের প্রায় অর্ধেকই খেলাপি

অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদের চাপে সাধারণ ধারণা ছিল—সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোক্তারা। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বড় অংকের ঋণই এখন খেলাপির ভারে নুয়ে পড়েছে, আর সবচেয়ে শৃঙ্খলিত অবস্থানে রয়েছে ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতারা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ৫০ কোটি টাকার বেশি অংকের ঋণের প্রায় অর্ধেক—৪৮ দশমিক ২ শতাংশ—ই এখন খেলাপি। বিপরীতে ১ কোটি টাকার নিচে বিতরণ করা ঋণের খেলাপি হার মাত্র ১৬ শতাংশ, যা সামগ্রিক গড়ের অর্ধেকেরও কম। ঋণের অংক যত বড়, ঝুঁকিও তত বেশি বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ খেলাপি ছিল। তবে ঋণের অংকভেদে বিশ্লেষণ করলে চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। ১ থেকে ১০ কোটি টাকার ঋণে খেলাপির হার ২৬ দশমিক ১ শতাংশ হলেও ১০ থেকে ২০ কোটি টাকায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশে। ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকায় সামান্য কমে ৩৮ শতাংশ হলেও ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে আবারও খেলাপির হার ৪২ থেকে ৪৬ শতাংশে উঠে যায়। সবশেষে ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণেই দেখা যায় সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা। ব্যাংক নির্বাহী ও বিশ্লেষকদের মতে, এই চিত্র মূলত বড় উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ ফেরত না দেয়ার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতিরই প্রতিফলন। রাজনৈতিক প্রভাব, পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার যোগসাজশে বছরের পর বছর ঋণের নামে অর্থ লোপাট হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময়ে অনেক ব্যাংক কার্যত লুটপাটের যন্ত্রে পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা টিকে থেকেও ঋণ শোধ করছেন অন্যদিকে, চরম অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোক্তারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করে যাচ্ছেন। বেসরকারি খাতে সিএমএসএমই ঋণে সবচেয়ে বড় ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার আড়াই শতাংশেরও নিচে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ঋণ শোধে সবচেয়ে বেশি আন্তরিক। তার ভাষায়, সঠিক গ্রাহক বাছাই ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি থাকলে ছোট ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি কমে আসে। যদিও দেশজুড়ে নেটওয়ার্ক ও বিপুল জনবল ধরে রাখার কারণে এ খাতে পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক বেশি, তবু এটিই টেকসই ব্যাংকিংয়ের ভিত্তি বলে মনে করেন তিনি। ডিজিটাল ন্যানো লোনে সাফল্যের গল্প ক্ষুদ্র ঋণের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল ন্যানো লোন। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে জামানত ও কাগজপত্র ছাড়াই ৫০০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করছে ব্যাংকটি। এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ হয়েছে, যেখানে খেলাপির হার মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, করপোরেট সুশাসন ও গ্রাহক যাচাইয়ের ওপর জোর দেয়ায় ব্যাংকটি খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। বড় করপোরেটের পরিবর্তে সিএমএসএমই ও রিটেইল খাতে মনোযোগ দেয়াই এ সাফল্যের মূল কারণ। বিশ্বে শীর্ষে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো—বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন বিশ্বে সর্বোচ্চ। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশই খেলাপি হয়ে গেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন, লেবানন কিংবা অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান ও শ্রীলংকার তুলনায়ও বাংলাদেশের অবস্থা খারাপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, অতীতে অনেক খেলাপি ঋণ কৃত্রিমভাবে আড়াল করে রাখা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেগুলো প্রকাশ্যে এসেছে বলেই হার হঠাৎ বেড়ে গেছে। তার মতে, প্রকৃত উদ্যোক্তারা—বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসায়ীরা—সবসময়ই ব্যাংক ঋণ ফেরত দেন। ঋণ পেতে ছোটদের ভোগান্তি এখনও কাটেনি তথ্য বলছে, খেলাপি ঋণে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অবদান সামান্য হলেও ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদেরই বেশি। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর অভিযোগ, জামানত ও নিয়মের কঠোরতা ছোট উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে, যদিও তাদের ঋণ পরিশোধের হার ৯৮–৯৯ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক খাতকে টেকসই করতে হলে বড় ঋণে শাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রবাহ আরও সহজ করতে হবে। নইলে খেলাপির ভারে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে।

৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় ৩ মাস মেয়াদি কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধি এবং অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতিহারে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আজ দেশজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, কর্মসংস্থান বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে শীর্ষে, যেখানে ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করেছি। প্রশিক্ষণ শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রোফাইল খোলা হয়, যেখানে তাদের আয় ও অগ্রগতির তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। এ সময় তিনি নিজে ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প তুলে ধরেন। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে ৩৭৩ কোটি ৭৭ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদে ষষ্ঠ ব্যাচের প্রশিক্ষণে প্রতি জেলায় ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস যুবরা এই সুযোগ পেয়েছেন। জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করেছে। এখন পর্যন্ত ৫টি পর্যায়ে মোট ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বা ৮ হাজার ৬৪০ জন দেশি ও বিদেশি মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। তাদের উপার্জিত অর্থের পরিমাণ ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ ১৪ হাজার ৪১৬ টাকা। উপার্জনে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ব্যাচে ভর্তির জন্য ৯৭ হাজার ২২৯ জন আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৬১ হাজার ৫৮১ জনকে নির্বাচন করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার ৮০০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ৮ ঘণ্টা করে ৩ মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদারকিতে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।

‘স্বপ্ন’ সুপারশপের ডেটা হ্যাক, ১৮ কোটি টাকা দাবি হ্যাকারদের

‘স্বপ্ন’ সুপারশপের ডেটা হ্যাক, ১৮ কোটি টাকা দাবি হ্যাকারদের

দেশের জনপ্রিয় সুপারশপ 'স্বপ্ন'-এর গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাক করে বিপুল পরিমাণ তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। এসব তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘স্বপ্ন’। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির জানান, গ্রাহক তথ্য সুরক্ষা ও সংকট মোকাবিলায় তারা বর্তমানে দেশি-বিদেশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কারিগরি সহায়তা নিচ্ছেন। একদিকে দেশের জনপ্রিয় সুপারশপ চেইন ‘স্বপ্ন’-এর গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাক করে ১৮ কোটি টাকা (১৫ লাখ ডলার) দাবি করেছে হ্যাকাররা। অন্যদিকে এমটিএফই (MTFE) স্ক্যামের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া প্রায় ৩.৬২২ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেশের জনপ্রিয় সুপারশপ চেইন 'স্বপ্ন'-র গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত আগস্টে আমেরিকা থেকে হ্যাকাররা গ্রাহক তথ্য প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা এমটিএফই (MTFE) স্ক্যামের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে থেকে নেওয়া বিদেশে পাচার করা প্রায় ৩.৬২২ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ​পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ বশির উদ্দিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪.৪৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ এই অর্থ গত সপ্তাহে সুইফট (SWIFT) ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় ফেরত আনা হয়েছে।

এনইআইআর বাস্তবায়ন ভোক্তা সুরক্ষা ও বৈধ ব্যবসার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: এমআইওবি

এনইআইআর বাস্তবায়ন ভোক্তা সুরক্ষা ও বৈধ ব্যবসার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: এমআইওবি

দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে স্বচ্ছতা জোরদার, ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি) আজ একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল - ‘এনইআইআর-এর হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ’। সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব, ভোক্তা সুবিধা এবং দেশের মোবাইল ফোন ইকোসিস্টেমে এর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানানো হয় এবং এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এতে এমআইওবি’র সদস্যবৃন্দসহ শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এমআইওবি জানায়, সরকার ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পাশাপাশি বৈধ আমদানিকে উৎসাহিত এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক হ্রাসের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সময়োপযোগী ও ইতিবাচক। সংগঠনটির মতে, এসব নীতিগত উদ্যোগ মোবাইল ফোন শিল্পে দীর্ঘদিনের অনিয়ম কমাতে এবং একটি সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। আলোচনায় বলা হয়, এনইআইআর কার্যকর হওয়ার ফলে অবৈধ, নকল ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, যা সরাসরি ভোক্তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে অবৈধ আইএমইআই ব্যবহার বন্ধ হওয়ায় ফোন ক্লোনিং, প্রতারণা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। আলোচকরা আরও বলেন, এই উদ্যোগ বাজারে বৈধ ব্যবসা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। এমআইওবি’র তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১৮টি স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এই খাতে সরাসরি ৫০ হাজার দক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি ডিলার, ডিএসআর, সার্ভিস ও খুচরা বিক্রয়সহ আরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী শ্রমিক সক্রিয়ভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে এই শিল্প থেকে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর, মজুরি ও ইউটিলিটি বিল আয় করছে। তবে এমআইওবি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানায়, এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কিছু অবৈধ স্মার্টফোন ব্যবসায়ীর সহিংস ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় একটি সীমিত গোষ্ঠী-যারা দেশের প্রায় ১২ হাজার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র এক হাজার থেকে দেড় হাজার, স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক হ্রাসের দাবি মেনে নেওয়ার পরও বেআইনি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে। এমআইওবি জানায়, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে বহিরাগতদের এনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুর, শিশুদের ব্যবহার করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ মোবাইল ফোনের দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সংগঠনটির মতে, আইনবহির্ভূত এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করছে না, বরং দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) ওপর নির্ভরশীল স্মার্টফোন শিল্পে এ ধরনের অস্থিরতা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এই অনিশ্চয়তা শুধু চলমান বিনিয়োগ নয়, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ প্রবাহ ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আগ্রহকেও নিরুৎসাহিত করতে পারে। এমআইওবি মনে করে, যেকোনো নীতিগত মতভেদ শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে সমাধান হওয়া উচিত এবং বৈধ ব্যবসা ও বিনিয়োগ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ জরুরি। এ প্রসঙ্গে এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, “এনইআইআর বাস্তবায়ন দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অবৈধ ও নকল মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং বাজারে বৈধ ব্যবসা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে। আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বিটিআরসি কার্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুরসহ যেকোনো সহিংস ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। নীতিগত ধারাবাহিকতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকলে স্মার্টফোন শিল্প ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।”

সুন্দরবনে অভয়াশ্রম কমানোর দাবীতে জেলেদের মানববন্ধন

বাগেরহাটের শরণখোলায় পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ৮০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য ও অভয়াশ্রম থাকলেও সাতক্ষীরাও চাঁদপাই রেঞ্জ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ অভয়াশ্রম এ বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল সকল মৎস্য ও পেশাজীবিবৃন্দ।  দুই অক্টোবর সকাল দশটায়  শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করায় ফুঁসে উঠেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা। তারা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের দুই রেঞ্জের জন্য দুই ধরনের আইন কখনোই তারা মেনে নিবেন না। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে যেখানে ৩০-৪০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে শরণখোলা রেঞ্জে ৮০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য শরণখোলাবাসী কখনোই মেনে নিবে না। তাছাড়া বর্তমানে শরণখোলা রেঞ্জে যতটুকু এলাকা অবমুক্ত রয়েছে তার তুলনায় সুন্দরবনে বৈধভাবে প্রবেশ করা জেলেদের সংখ্যা অনেক। ফলে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না অধিকাংশ জেলেদের জালে। অতিদ্রুত যদি অভয়ারণ্য এলাকা কমিয়ে অন্তত ৫০ ভাগ না করা হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহনের কথা বলেন তারা। এসময়  পেশাজীবিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাউথখালি ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি শহীদুল ইসলাম লিটন, মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ সেলিম খান, মোঃ খলিল হাওলাদার, মোঃ হালিম খান,  রফিকুল হাওলাদার ও শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান সুজন। এ ব্যাপারে পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল চৌধুরী বলেন, অন্যান্য রেঞ্জের তুলনায় শরণখোলায় অভয়াশ্রম ও অভয়ারণ্য এলাকা বেশি। এখানে জেলেদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক সময় পাস পারমিট নেওয়া জেলেদের বিপাকে পড়তে হয়। জেলেদের দাবি কিছুটা হলেও যৌক্তিক। তবে এ বিষয়টি নিরশন এর দায়িত্ব বনবিভাগ ও বন মন্ত্রণালয়ের।

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ডেস্ক নিউজ: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী থানায় গিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী স্বামী লিটন শেখ (৪৬) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোরেলগঞ্জের বনগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত সাইম শেখের ছেলে লিটন শেখের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দাম্পত্য জীবন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত পারিবারিক কলহ চলছিল। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় যখন লিটন শেখ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলে, তখন তার স্ত্রী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে ফেলে। ঘটনায় লিটন শেখের চিৎকার শুনে তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ওই অঙ্গটির প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরদিন সকালে অভিযুক্ত নারী নিজেই থানায় এসে অপরাধ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো শ্রীপুর গ্রাম ও আশপাশে এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রুবেল

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রুবেল

সর্বশেষ ২০২১ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছিলেন রুবেল হোসেন। এরপর আর জাতীয় দলে সুযোগ পাননি তিনি। লম্বা সময় দলের বাইরে থাকা এই পেসার এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেন রুবেল। ফেসবুকে তিনি লেখেন, 'আমি পেসার রুবেল হোসেন। বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছি ২৭ টেস্ট, ১০৪ ওয়ানডে এবং ২৮ টি-টোয়েন্টি। জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম।' আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও ঘরোয়া আসরে খেলা চালিয়ে যাবেন রুবেল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'তবে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।' পুরো ক্যারিয়ারে পরিবার, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছেন রুবেল। তাই বিদায় বেলায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এই পেসার, 'আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন এটা আমার বিশ্বাস। অনেক ভালোবাসা সবার প্রতি বাংলাদেশের হয়ে ২৭ টেস্ট খেলেছেন রুবেল। ৪৪ ইনিংসে বোলিং করে তিনি শিকার করেছেন ৩৬ উইকেট। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার ইনিংসে ১৬৬ রানে ৫ উইকেট, আর ম্যাচে ২১০ রানে ৫ উইকেট। টেস্টে ফাইফার পেয়েছেন একবার। তার বোলিং গড় প্রায় ৭৭ এবং স্ট্রাইকরেট ১১৭। টেস্টের চেয়ে রঙিন পোশাকে রুবেলের পারফরম্যান্স ভালো ছিল। ১০৪ ওয়ানডে খেলে ১০২ ইনিংসে বোলিং করে ১২৯ উইকেট পেয়েছেন তিনি। তার বোলিং গড় প্রায় ৩৪, ইকোনোমি ৫.৬৭ এবং স্ট্রাইকরেট ৩৬.২। এই সংস্করণে তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ২৬ রানে ৬ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে ২৮ ম্যাচ খেলে নামের পাশে যোগ করেছেন ২৮ উইকেট। যেখানে ওভার প্রতি তিনি রান খরচ করেছেন ৯.৪৫। তার সেরা বোলিং ফিগার ৩১ রানে ৩ উইকেট।

শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টির সাপোর্টে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশ

শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টির সাপোর্টে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশ

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। নুরুল হক নুর বলেন, ঈদের ছুটির পর আজ প্রথম অফিস এবং প্রথম অফিসে বেলা ১১টায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সচিব এবং পররাষ্ট্র সচিবসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার একটি মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে কর্মপরিকল্পনা চেয়েছিলেন, সেগুলো নিয়ে একটি ফলোআপ আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ এবং তাঁর নির্দেশনায় আমরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে যারা কোরিয়া, জাপান, চায়না, জার্মানি এমন দেশগুলোতে যাবে; বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। সেটি আমাদের মন্ত্রণালয়ের একটি ব্যাংক আছে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, ওই ব্যাংককেই ডেডিকেটেড করতে বলেছেন, যেন এই মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে বা এই সংকটের ফলে আমাদের অনেক শ্রমিক সেখানে বর্তমানে আছেন। আমাদের শ্রমবাজারের বড় একটি অংশই কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য। সেক্ষেত্রে এই যুদ্ধের ফলে আমাদের কী ধরনের সংকট এবং সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে সেগুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা করেছে। বিশেষ করে ধরুন এখানে মিডলইস্টে যে ধরনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ধ্বংস করা হয়েছে, এগুলো আবার নতুন করে তৈরি করতে হবে। তাছাড়া ওখানে আশা করি যে আমাদের দেশের শ্রমবাজার খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বরং আমাদের দেশের চাহিদা আরও তৈরি হতে পারে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বরাবরই থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ বা ভাষা শেখার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আমাদের দেশের মানুষ শুধু ভাষা না জানার কারণে তারা অল্প পয়সার চাকরি করে। ভাষা জানলে তারা একটু ভালো বেতন পেতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানে এক লাখ লোক পাঠানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে একটি এমওইউ হয়েছে, সেটিকে কীভাবে ত্বরান্বিত করা যায়। জাপানসহ ইউরোপে কীভাবে আমরা লোক পাঠাতে পারি সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। ইউরোপের বেশ কিছু দেশের ভিসা করার জন্য ইন্ডিয়া যেতে হয়। তো এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, তাদেরকে পারসু করে বাংলাদেশে তাদের একটি অফিস বা কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করার জন্য তাদেরকে অনুরোধ করা। এই বিষয়ে আজ আলোচনা হয়েছে। কিছু দেশ এরইমধ্যে এখানে কনস্যুলার সেবা দিচ্ছে। বাকি দেশগুলো যেন এখানে নিশ্চিত করে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, বলেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডগুলো একটু প্রচার কম হচ্ছে। সেই বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন যে, আমরা যেন যার যার মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যম, মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডগুলো যেন জনগণের সামনে আমরা পৌঁছে দিই। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা তার মধ্যে আমাদের অভিবাসন ব্যয় নির্দিষ্ট করে দেওয়ার একটি বিষয় আছে। আমরা হয়তো কিছুদিনের মধ্যে সেটি চূড়ান্ত করব। আমাদের যেসব শ্রমবাজারগুলো বন্ধ আছে, মালয়েশিয়াসহ যে ধরনের সমস্যাগুলো আছে, এটিও দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করে লোক পাঠানোর ব্যবস্থা করা। থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশেও আমরা যেন লোক পাঠাতে পারি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে সেই বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে রেমিটেন্সে কোনো ধাক্কা আসবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধের ফলে আমাদের শ্রমবাজার কিংবা রেমিটেন্সের উপরে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। হয়তো সাময়িক কিছুটা হতে পারে। বরং যুদ্ধ বন্ধ হলেও এগুলো পুনর্গঠনে তাদের যে জনশক্তি লাগবে, আমি মনে করি ওই সব দেশের শ্রমবাজারে নতুন করে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে।

মুক্তি পেলেন বাউল আবুল সরকার

মুক্তি পেলেন বাউল আবুল সরকার

ধর্ম অবমাননা ও কটূক্তির মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন কারাগারে থাকা বাউলশিল্পী আবুল সরকার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন। তিনি বলেন, জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছালে, তা যাচাই শেষে আর কোনো মামলা না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে গত ৬ এপ্রিল বিচারপতি আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৬ মাসের জামিনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আবুল সরকারকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন হাইকোর্ট। গত ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় খালা পাগলীর মেলায় পালাগানের আসরে বাউলশিল্পী আবুল সরকার ধর্ম অবমাননা করে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর মন্তব্যের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে আবুল সরকারকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল। পরে ঘিওর উপজেলার মুফতি মো. আবদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে আবুল সরকারকে আসামি করে ঘিওর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঢাকায় প্রতি ঘণ্টায় একজন মানুষকে কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০ মশা!

ঢাকায় প্রতি ঘণ্টায় একজন মানুষকে কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০ মশা!

রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার একটি বাসার কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান। তার কাজ হলো বাসার গেট পাহারা দেওয়া। দিনভর গেট পাহারা দেওয়া সম্ভব হলেও সন্ধ্যার পর মশার উৎপাত তাকে সমস্যায় ফেলে। মিজানুরের দাবি, সন্ধ্যায় তাকে এত বেশি মশা ঘিরে ধরে যে, প্রতি থাপ্পড়ে অন্তত ৫টি মশা মারা যায়। অন্যদিকে, পান্থপথ এলাকার বস্তিতে বসবাসকারী কয়েকজন নারী মশার উৎপাতের কারণে ঘরে থাকতে পারছেন না। তারা রাস্তায় বসে কাগজ জ্বালিয়ে মশা নিবারণের চেষ্টা করছেন, যা কার্যত ব্যর্থ হচ্ছে। তারা বলছেন, রাস্তার অবস্থা তাদের খুপড়ি ঘরের তুলনায় কিছুটা ভালো। রাজধানীবাসীও অভিযোগ করছেন, হঠাৎ মশার উৎপাত পুরো শহরে বেড়েছে। নিয়ন্ত্রণে নগর প্রশাসনের কার্যক্রমে তেমন উদ্যোগ দেখা যায় না। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি না থাকাও এর একটি প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন ধরে মশা নিয়ে গবেষণা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব গবেষক অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। তিনি বেসরকারী একটি টেলিভিশনকে জানান, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বিগত ৫ বছরের তুলনায় মশার ঘনত্ব বেশি ছিল। যদিও বর্তমানে তা কমতে শুরু করেছে। বর্তমান সময়ে ঢাকায় একজন মানুষকে প্রতি ঘণ্টায় কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০টি মশা। অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, আমরা যে পদ্ধতিতে ফগিং করে মশা মারছি, এতে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বিশ্বের অনেক দেশও এখন এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে না। মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে লার্ভা স্তর থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রশাসক জানাচ্ছেন, মশক নিধনের কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি নেই। বরং মশা বৃদ্ধির মূল কারণ হলো শহরের খালগুলোর অপরিচ্ছন্নতা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বেসরকারী একটি টেলিভিশনকে জানান, ডিজেল সংকটের কারণে মশক নিধন কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল। তবে আমরা পেট্রোবাংলার সঙ্গে সমাধান করেছি। এখন কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি নেই। খালগুলো অপরিচ্ছন্ন থাকায় সেখান থেকেই মশার উৎপত্তি হচ্ছে। আমরা খালগুলো সচল করার চেষ্টা করছি। তবে, নগরবাসী সহযোগিতা না করলে শতভাগ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে মশা নিধনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যেই মশা সংক্রান্ত অভিযোগ কমেছে। আশা করি শিগগিরই যেসব এলাকায় ঘাটতি রয়েছে, সেগুলোও সমাধান করা সম্ভব হবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি সংকট অবশ্যই প্রভাব ফেলে। তবে, আমরা এই ক্রাইসিস মোকাবিলার জন্য ঢাকার আসনগুলো থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরও কাজে যুক্ত করার চেষ্টা করছি।

শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টির সাপোর্টে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশ

শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টির সাপোর্টে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশ

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। নুরুল হক নুর বলেন, ঈদের ছুটির পর আজ প্রথম অফিস এবং প্রথম অফিসে বেলা ১১টায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সচিব এবং পররাষ্ট্র সচিবসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার একটি মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে কর্মপরিকল্পনা চেয়েছিলেন, সেগুলো নিয়ে একটি ফলোআপ আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ এবং তাঁর নির্দেশনায় আমরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে যারা কোরিয়া, জাপান, চায়না, জার্মানি এমন দেশগুলোতে যাবে; বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। সেটি আমাদের মন্ত্রণালয়ের একটি ব্যাংক আছে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, ওই ব্যাংককেই ডেডিকেটেড করতে বলেছেন, যেন এই মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে বা এই সংকটের ফলে আমাদের অনেক শ্রমিক সেখানে বর্তমানে আছেন। আমাদের শ্রমবাজারের বড় একটি অংশই কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য। সেক্ষেত্রে এই যুদ্ধের ফলে আমাদের কী ধরনের সংকট এবং সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে সেগুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা করেছে। বিশেষ করে ধরুন এখানে মিডলইস্টে যে ধরনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ধ্বংস করা হয়েছে, এগুলো আবার নতুন করে তৈরি করতে হবে। তাছাড়া ওখানে আশা করি যে আমাদের দেশের শ্রমবাজার খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বরং আমাদের দেশের চাহিদা আরও তৈরি হতে পারে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বরাবরই থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ বা ভাষা শেখার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আমাদের দেশের মানুষ শুধু ভাষা না জানার কারণে তারা অল্প পয়সার চাকরি করে। ভাষা জানলে তারা একটু ভালো বেতন পেতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানে এক লাখ লোক পাঠানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে একটি এমওইউ হয়েছে, সেটিকে কীভাবে ত্বরান্বিত করা যায়। জাপানসহ ইউরোপে কীভাবে আমরা লোক পাঠাতে পারি সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। ইউরোপের বেশ কিছু দেশের ভিসা করার জন্য ইন্ডিয়া যেতে হয়। তো এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, তাদেরকে পারসু করে বাংলাদেশে তাদের একটি অফিস বা কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করার জন্য তাদেরকে অনুরোধ করা। এই বিষয়ে আজ আলোচনা হয়েছে। কিছু দেশ এরইমধ্যে এখানে কনস্যুলার সেবা দিচ্ছে। বাকি দেশগুলো যেন এখানে নিশ্চিত করে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, বলেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডগুলো একটু প্রচার কম হচ্ছে। সেই বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন যে, আমরা যেন যার যার মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যম, মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডগুলো যেন জনগণের সামনে আমরা পৌঁছে দিই। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা তার মধ্যে আমাদের অভিবাসন ব্যয় নির্দিষ্ট করে দেওয়ার একটি বিষয় আছে। আমরা হয়তো কিছুদিনের মধ্যে সেটি চূড়ান্ত করব। আমাদের যেসব শ্রমবাজারগুলো বন্ধ আছে, মালয়েশিয়াসহ যে ধরনের সমস্যাগুলো আছে, এটিও দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করে লোক পাঠানোর ব্যবস্থা করা। থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশেও আমরা যেন লোক পাঠাতে পারি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে সেই বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে রেমিটেন্সে কোনো ধাক্কা আসবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধের ফলে আমাদের শ্রমবাজার কিংবা রেমিটেন্সের উপরে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। হয়তো সাময়িক কিছুটা হতে পারে। বরং যুদ্ধ বন্ধ হলেও এগুলো পুনর্গঠনে তাদের যে জনশক্তি লাগবে, আমি মনে করি ওই সব দেশের শ্রমবাজারে নতুন করে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রুবেল

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রুবেল

সর্বশেষ ২০২১ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছিলেন রুবেল হোসেন। এরপর আর জাতীয় দলে সুযোগ পাননি তিনি। লম্বা সময় দলের বাইরে থাকা এই পেসার এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেন রুবেল। ফেসবুকে তিনি লেখেন, 'আমি পেসার রুবেল হোসেন। বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছি ২৭ টেস্ট, ১০৪ ওয়ানডে এবং ২৮ টি-টোয়েন্টি। জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম।' আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও ঘরোয়া আসরে খেলা চালিয়ে যাবেন রুবেল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'তবে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।' পুরো ক্যারিয়ারে পরিবার, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছেন রুবেল। তাই বিদায় বেলায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এই পেসার, 'আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন এটা আমার বিশ্বাস। অনেক ভালোবাসা সবার প্রতি বাংলাদেশের হয়ে ২৭ টেস্ট খেলেছেন রুবেল। ৪৪ ইনিংসে বোলিং করে তিনি শিকার করেছেন ৩৬ উইকেট। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার ইনিংসে ১৬৬ রানে ৫ উইকেট, আর ম্যাচে ২১০ রানে ৫ উইকেট। টেস্টে ফাইফার পেয়েছেন একবার। তার বোলিং গড় প্রায় ৭৭ এবং স্ট্রাইকরেট ১১৭। টেস্টের চেয়ে রঙিন পোশাকে রুবেলের পারফরম্যান্স ভালো ছিল। ১০৪ ওয়ানডে খেলে ১০২ ইনিংসে বোলিং করে ১২৯ উইকেট পেয়েছেন তিনি। তার বোলিং গড় প্রায় ৩৪, ইকোনোমি ৫.৬৭ এবং স্ট্রাইকরেট ৩৬.২। এই সংস্করণে তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ২৬ রানে ৬ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে ২৮ ম্যাচ খেলে নামের পাশে যোগ করেছেন ২৮ উইকেট। যেখানে ওভার প্রতি তিনি রান খরচ করেছেন ৯.৪৫। তার সেরা বোলিং ফিগার ৩১ রানে ৩ উইকেট।

ঢাকায় প্রতি ঘণ্টায় একজন মানুষকে কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০ মশা!

রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার একটি বাসার কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান। তার কাজ হলো বাসার গেট পাহারা দেওয়া। দিনভর গেট পাহারা দেওয়া সম্ভব হলেও সন্ধ্যার পর মশার উৎপাত তাকে সমস্যায় ফেলে। মিজানুরের দাবি, সন্ধ্যায় তাকে এত বেশি মশা ঘিরে ধরে যে, প্রতি থাপ্পড়ে অন্তত ৫টি মশা মারা যায়। অন্যদিকে, পান্থপথ এলাকার বস্তিতে বসবাসকারী কয়েকজন নারী মশার উৎপাতের কারণে ঘরে থাকতে পারছেন না। তারা রাস্তায় বসে কাগজ জ্বালিয়ে মশা নিবারণের চেষ্টা করছেন, যা কার্যত ব্যর্থ হচ্ছে। তারা বলছেন, রাস্তার অবস্থা তাদের খুপড়ি ঘরের তুলনায় কিছুটা ভালো। রাজধানীবাসীও অভিযোগ করছেন, হঠাৎ মশার উৎপাত পুরো শহরে বেড়েছে। নিয়ন্ত্রণে নগর প্রশাসনের কার্যক্রমে তেমন উদ্যোগ দেখা যায় না। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি না থাকাও এর একটি প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন ধরে মশা নিয়ে গবেষণা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব গবেষক অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। তিনি বেসরকারী একটি টেলিভিশনকে জানান, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বিগত ৫ বছরের তুলনায় মশার ঘনত্ব বেশি ছিল। যদিও বর্তমানে তা কমতে শুরু করেছে। বর্তমান সময়ে ঢাকায় একজন মানুষকে প্রতি ঘণ্টায় কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০টি মশা। অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, আমরা যে পদ্ধতিতে ফগিং করে মশা মারছি, এতে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বিশ্বের অনেক দেশও এখন এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে না। মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে লার্ভা স্তর থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রশাসক জানাচ্ছেন, মশক নিধনের কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি নেই। বরং মশা বৃদ্ধির মূল কারণ হলো শহরের খালগুলোর অপরিচ্ছন্নতা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বেসরকারী একটি টেলিভিশনকে জানান, ডিজেল সংকটের কারণে মশক নিধন কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল। তবে আমরা পেট্রোবাংলার সঙ্গে সমাধান করেছি। এখন কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি নেই। খালগুলো অপরিচ্ছন্ন থাকায় সেখান থেকেই মশার উৎপত্তি হচ্ছে। আমরা খালগুলো সচল করার চেষ্টা করছি। তবে, নগরবাসী সহযোগিতা না করলে শতভাগ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে মশা নিধনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যেই মশা সংক্রান্ত অভিযোগ কমেছে। আশা করি শিগগিরই যেসব এলাকায় ঘাটতি রয়েছে, সেগুলোও সমাধান করা সম্ভব হবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি সংকট অবশ্যই প্রভাব ফেলে। তবে, আমরা এই ক্রাইসিস মোকাবিলার জন্য ঢাকার আসনগুলো থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরও কাজে যুক্ত করার চেষ্টা করছি।

কেরানীগঞ্জের গ্যাসলাইট কারখানায় আগুনে নিহত ৫

কেরাণীগঞ্জের কদমতলীতে একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এদিকে দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটের প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, আজ দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে কদমতলীর ওই গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় একে একে মোট ৭টি ইউনিট কাজে যোগ দেয়।

সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা,আহত-১

নিউজ ডেস্ক: ঢাকার কেরানীগঞ্জে কলাতিয়া ইউনিয়নের খাড়াকান্দি এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের পর উভয়পক্ষ স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার পরও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এনায়েত শিকদার(৫০) নামে একজন মারাত্মক আহত হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী এনায়েত শিকদার কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা গেছে এনায়েত শিকদার ও তার মামাতো ভাই জাবেদের সাথে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। গত রবিবার লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক জাবেদ জমিতে সীমানা দেয়াল করতে গেলে এনায়েত শিকদার বাধা প্রদান করে। পরবর্তীতে স্থানীয় চেয়ারম্যান আউয়াল শিকদার এসে বিরোধ মিটাতে আগামী মঙ্গলবার শালিশের সিদ্ধান্ত দেয়। এতে উভয়পক্ষ একমত হয়ে সেখান থেকে চলে আসার সময় নিলটেক এলাকায় জাবেদ তার সঙ্গী নজিমুদ্দিন,আসলাম ও আশিকসহ আরো ৫/৬ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এনায়েতের উপর হামলা চালায়। এতে এনায়েত শিকদারের মাথা ফেটে রক্তাক্ত এবং  শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা যখন হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। ঘটনার বিষয় জানতে অভিযুক্ত জাবেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল আলম জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগির পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য কলাতিয়া ফাড়িকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘তেল নেই’ লেখা পাম্পে মিলল ৯৭৮৩ লিটার জ্বালানি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে জ্বালানি তেল থাকার পরেও বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ায় একটি পেট্রোল পাম্পকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকার মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনকে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনে ‘পাম্পে তেল নেই’ ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়ে জ্বালানি তেল বিক্রয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই পাম্পে যান এবং তেলের মজুত যাচাই করেন। এ সময় দেখা যায়, সেখানে ২ হাজার ৩৬৮ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৭৬০ লিটার ডিজেল এবং ৩ হাজার ৬৫৫ লিটার অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রি না করার অপরাধে ওই পেট্রোল পাম্পকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এ সময় পার্বতীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহায়তা করেন।