ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

দখলচেষ্টা ও কোটি টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ / পুলিশের বিরুদ্ধে উল্টো জমির মালিককে ফাঁসানোর দাবি

নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী শেখের চর (বাবুরহাট) কাপড়ের বাজারে প্রতারণামূলক পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলকে কেন্দ্র করে জমি দখলচেষ্টা ও প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুটপাটের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা তদন্ত ও বিচার চাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারের মামলা গ্রহণ না করে উল্টো জমির মালিককে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।​আজ সকালে নরসিংদীর ভগীরথপুরস্থ নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন জমির মালিক শাহীন ভূইয়ার মেয়ে সাদিকা আক্তার সাথী।​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, বিতর্কিত ওই ভূমির ওপর দেওয়ানী আদালত থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা রয়েছে। তবে আদালতের স্পষ্ট আদেশ অমান্য করে বিবাদী শহীদুল্লাহ বাহার ও তার সহযোগীরা স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বুরহানকে সঙ্গে নিয়ে অন্যায্যভাবে জমি দখলের পাঁয়তারা চালায়। দখলের একপর্যায়ে ভাড়াটিয়াদের একাধিক দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে থাকা প্রায় ১ কোটি টাকার মালামাল ও কাপড় লুট করে নিয়ে যায় দখলকারীরা।​সাদিকা আক্তার সাথী অভিযোগ করে বলেন, "ঘটনার পর আমরা ন্যায়বিচারের আশায় থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। উল্টো বিবাদীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে আমার নিরীহ বাবা (জমির মালিক)-এর বিরুদ্ধেই মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার ও জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।"​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সায়মা আক্তার, ক্ষতিগ্রস্ত দোকান-ভাড়াটিয়া গোলাপ মিয়াসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বক্তব্য দেন। তারা অবিলম্বে মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জমির মালিক শাহীন ভূইয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির জোড় দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় সাংবাদিক প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশি কনসার্ট বন্ধের ঘটনা এবং এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ব্যাখ্যাও দেন তিনি।হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতোই। তার দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ওপর চাপিয়েছেন এবং সেখানকার আলেমদের ভাবমূর্তি বিশ্ববাসীর সামনে ক্ষুণ্ন করেছেন।পুলিশের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, বাস্তব চিত্র তার চেয়ে আলাদা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা সাউন্ড কমানোর অনুরোধ করেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেননি; তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন। তাই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ—এমন ধারণা তৈরি করা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এদিকে নৌকাবাইচের প্রসঙ্গেও নিজের বক্তব্যে তথ্যগত ভুলের কথা স্বীকার করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জানান, নৌকাবাইচের স্থান হিসেবে সিলেটের পরিবর্তে ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম বলে ফেলেছিলেন। এ ভুলের কারণে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে তিনি বিব্রত এবং এ পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন।তবে পাশাপাশি মূল ঘটনা কী ছিল এবং গণমাধ্যমে ঘটনাটি কীভাবে ফ্রেমিং করা হয়েছে, সে বিষয়টি সংসদে তুলে ধরা উচিত ছিল বলে মনে করেন হাসনাত। তার ভাষ্য, সম্পূরক প্রশ্নের জন্য সময় সীমিত থাকায় বিস্তারিত বলার সুযোগ তিনি পাননি।স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, তিনি এবং তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন এবং তাদের নীতি ও সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই নিতে চান।জুলাইয়ের আদর্শের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ নিজের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। মতের পার্থক্য ও বিতর্ক থাকবে, তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজের মতামতকে অন্যের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেবে না—এটাই জুলাইয়ের মূল চেতনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।হাসনাত বলেন, বাংলাদেশ সবার। এখানে মসজিদ, মন্দির, সঙ্গীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসব—সবই থাকবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনারও সুযোগ থাকবে। যার যে বিষয় পছন্দ, সে তাতে অংশ নেবে; আর যে পছন্দ করে না, সে সেখানে যাবে না।তার মতে, সরকারের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর ফলে সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন এনসিপির এই নেতা।জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জুলাই ছিল ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে মানুষের আন্দোলন। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, সর্বজনীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করার লক্ষ্যেই সেই আন্দোলন হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।তিনি বলেন, সেই আদর্শের ভিত্তিতে একটি বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা তারা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবেন।

নেপথ্যে সিন্ডিকেটের অভিযোগ / গুলশান-বনানীতে স্পার আড়ালে ‘অনৈতিক কারবার’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশি কনসার্ট বন্ধের ঘটনা এবং এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ব্যাখ্যাও দেন তিনি।হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতোই। তার দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ওপর চাপিয়েছেন এবং সেখানকার আলেমদের ভাবমূর্তি বিশ্ববাসীর সামনে ক্ষুণ্ন করেছেন।পুলিশের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, বাস্তব চিত্র তার চেয়ে আলাদা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা সাউন্ড কমানোর অনুরোধ করেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেননি; তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন। তাই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ—এমন ধারণা তৈরি করা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এদিকে নৌকাবাইচের প্রসঙ্গেও নিজের বক্তব্যে তথ্যগত ভুলের কথা স্বীকার করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জানান, নৌকাবাইচের স্থান হিসেবে সিলেটের পরিবর্তে ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম বলে ফেলেছিলেন। এ ভুলের কারণে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে তিনি বিব্রত এবং এ পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন।তবে পাশাপাশি মূল ঘটনা কী ছিল এবং গণমাধ্যমে ঘটনাটি কীভাবে ফ্রেমিং করা হয়েছে, সে বিষয়টি সংসদে তুলে ধরা উচিত ছিল বলে মনে করেন হাসনাত। তার ভাষ্য, সম্পূরক প্রশ্নের জন্য সময় সীমিত থাকায় বিস্তারিত বলার সুযোগ তিনি পাননি।স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, তিনি এবং তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন এবং তাদের নীতি ও সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই নিতে চান।জুলাইয়ের আদর্শের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ নিজের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। মতের পার্থক্য ও বিতর্ক থাকবে, তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজের মতামতকে অন্যের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেবে না—এটাই জুলাইয়ের মূল চেতনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।হাসনাত বলেন, বাংলাদেশ সবার। এখানে মসজিদ, মন্দির, সঙ্গীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসব—সবই থাকবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনারও সুযোগ থাকবে। যার যে বিষয় পছন্দ, সে তাতে অংশ নেবে; আর যে পছন্দ করে না, সে সেখানে যাবে না।তার মতে, সরকারের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর ফলে সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন এনসিপির এই নেতা।জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জুলাই ছিল ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে মানুষের আন্দোলন। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, সর্বজনীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করার লক্ষ্যেই সেই আন্দোলন হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।তিনি বলেন, সেই আদর্শের ভিত্তিতে একটি বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা তারা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবেন।

হাজারীবাগের মাদক সাম্রাজ্যের নেপথ্যের সম্রাট রাজেশ ও নিখিল

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশি কনসার্ট বন্ধের ঘটনা এবং এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ব্যাখ্যাও দেন তিনি।হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতোই। তার দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ওপর চাপিয়েছেন এবং সেখানকার আলেমদের ভাবমূর্তি বিশ্ববাসীর সামনে ক্ষুণ্ন করেছেন।পুলিশের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, বাস্তব চিত্র তার চেয়ে আলাদা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা সাউন্ড কমানোর অনুরোধ করেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেননি; তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন। তাই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ—এমন ধারণা তৈরি করা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এদিকে নৌকাবাইচের প্রসঙ্গেও নিজের বক্তব্যে তথ্যগত ভুলের কথা স্বীকার করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জানান, নৌকাবাইচের স্থান হিসেবে সিলেটের পরিবর্তে ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম বলে ফেলেছিলেন। এ ভুলের কারণে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে তিনি বিব্রত এবং এ পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন।তবে পাশাপাশি মূল ঘটনা কী ছিল এবং গণমাধ্যমে ঘটনাটি কীভাবে ফ্রেমিং করা হয়েছে, সে বিষয়টি সংসদে তুলে ধরা উচিত ছিল বলে মনে করেন হাসনাত। তার ভাষ্য, সম্পূরক প্রশ্নের জন্য সময় সীমিত থাকায় বিস্তারিত বলার সুযোগ তিনি পাননি।স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, তিনি এবং তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন এবং তাদের নীতি ও সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই নিতে চান।জুলাইয়ের আদর্শের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ নিজের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। মতের পার্থক্য ও বিতর্ক থাকবে, তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজের মতামতকে অন্যের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেবে না—এটাই জুলাইয়ের মূল চেতনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।হাসনাত বলেন, বাংলাদেশ সবার। এখানে মসজিদ, মন্দির, সঙ্গীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসব—সবই থাকবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনারও সুযোগ থাকবে। যার যে বিষয় পছন্দ, সে তাতে অংশ নেবে; আর যে পছন্দ করে না, সে সেখানে যাবে না।তার মতে, সরকারের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর ফলে সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন এনসিপির এই নেতা।জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জুলাই ছিল ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে মানুষের আন্দোলন। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, সর্বজনীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করার লক্ষ্যেই সেই আন্দোলন হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।তিনি বলেন, সেই আদর্শের ভিত্তিতে একটি বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা তারা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবেন।

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে  মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে

সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

কোন ভিডিও নেই !
কোন ভিডিও নেই !

চার মন্ত্রণালয়-বিভাগে নতুন রদবদল

চারটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব পদায়ন করেছে সরকার। এর মধ্যে তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব করা হয়েছে।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সাতটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগমকে পদোন্নতি দিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে।শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজীকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত অতিরিক্ত সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তিভিত্তিক সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হককে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) পদে বদলি করা হয়েছে।তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের চুক্তিভিত্তিক সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব (চুক্তিভিত্তিক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।এদিকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।এ ছাড়া পৃথক এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরির নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরীন জাহানকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে তার অবসর কার্যকর হবে। একই সঙ্গে অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) হিসেবে তাকে এক বছরের ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে।

নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৪৬৮ জন / নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীর তীর ও ভাটির বিস্তীর্ণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল।বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রাশুয়া ও এর আশপাশের এলাকায় বন্যার পানির প্রবল স্রোত ভুটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে যায় এবং অনেক এলাকা দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।বন্যার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন জেলার হতাহত ও নিখোঁজদের তথ্য সমন্বয় করছে কর্তৃপক্ষ। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এদিকে নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও ট্রেকার রয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ৬৬৭ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী এখনো নিখোঁজ। তাদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি নাগরিক।রাশুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং এলাকায় বন্যার সময় অবস্থানরত বা ওই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াতকারী পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে কাজ করছে ট্যুরিজম বোর্ড। ট্রাভেল এজেন্সি, ট্রেকিং কোম্পানি, গাইড, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৩১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন ভারতীয়, চারজন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন মার্কিন, দুজন রুশ, দুজন ইতালীয়, একজন বুলগেরীয় ও একজন সুইস নাগরিক রয়েছেন। বাকি ১৮ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর তীর ও ভাটির বিভিন্ন বসতিতে স্থলপথে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।ভয়াবহ বন্যায় ওই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।হঠাৎ এই ভয়াবহ বন্যার কারণ এখনো তদন্তাধীন। হিমালয়ের পাদদেশে বুধবার সকালে প্রায় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই প্রবল পানির ঢল নামে। মুহূর্তের মধ্যে ভুটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি ও ধ্বংসাবশেষ ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়ায় অনেক মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি।সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

সব বিভাগের খবর

সেরা ডিলারদের ক্রেস্ট ও পুরস্কার প্রদান / এজি পাম্পের ডিলার কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা ডিলারদের হাতে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দিয়েছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ব্যানটেক লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিটিএল ইন্টারন্যাশনালের এজি পাম্প। ঢাকার হোটেল লেকশোর হাইটসের বলরুমে প্রতিষ্ঠানটির পঞ্চম ডিলার কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এজি পাম্পের চেয়ারম্যান মো. আমীর হুসাইন। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস সাকিব জুবায়ের, পরিচালক জাকারিয়া আহমেদ ও পরিচালক রাজিব আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের হেড অব সেলস (ডিজিএম) হুমায়ূন কবির। কনফারেন্সে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ডিলার ও পরিবেশকেরা তাদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন প্রস্তাব ও পরামর্শ তুলে ধরেন।ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস সাকিব জুবায়ের বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এজি পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে এই কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।’প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. আমীর হুসাইন বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক মন্দার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’নতুন নতুন পণ্য ও সেবা কীভাবে গ্রাহকদের কাছে আরও সহজলভ্য করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাকারিয়া আহমেদ।অনুষ্ঠানে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিক্রয় লক্ষ্য অর্জনকারী ডিলারদের সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হয়। বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় সেরা ডিলারকে একটি রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণ শেষে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এজি পাম্পের পঞ্চম ডিলার কনফারেন্সের সমাপ্তি হয়।

সিংড়ায় পাটের বাম্পার ফলন! দামেও খুশি কৃষক

নাটোরের সিংড়া উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন পাট চাষীদের  জিরোনোর সময় নেই কারো। ডোবা-নালায় পাট পচানো, নদী ও বিলেে ঘাটে পাট ধোয়া আর উঠোনজুড়ে রোদে সোনালী আঁশ শুকানোর ব্যস্ততা। বাতাসে কাঁচা পাটের সুবাস আর কৃষকের মুখে এক চিলতে স্বস্তির হাসি বলে দিচ্ছে—এবার ‘সোনালী আঁশ’ তার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে এনেছে। সিংড়ায় পাটের বাম্পার ফলন ও চড়া দামে অধিকাংশ কৃষকের দিন কাটছে বেশ আনন্দে।​চলতি মৌসুমে উপজেলার চামারী ও লালোর ইউনিয়নসহ  বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট। বর্তমানে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা দরে। আর বিঘাপ্রতি পাওয়া যাচ্ছে ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত আঁশ।​উপজেলার লালোর গ্রামের সফল পাটচাষী নুরুজ্জামান  বলেন, “গত বছরের চেয়ে এবার ফলন অনেক ভালো পাইছি। দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করে বিঘায় প্রায় ৯ মণ কইরা পাইছি। সার, সেচ আর শ্রমিক সব মিলিয়ে খরচ হইছে ২৭ হাজার টাকার মতো। আর দুই বিঘা থেকে পাওয়া ১৮ মণ পাট বেচে দাম আসবে প্রায় ৬৩ থেকে ৭২ হাজার টাকা! সব খরচ বাদ দিয়েও ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ থাকবে। গত কয়েক বছরের লোকসান এবার সুদে-আসলে উঠে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।”​ সিংড়ার সর্ববৃহৎ পাটের বাজার ‘হাদিয়ান্দ হাটের’ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার পাটের কালার ও মান খুব চমৎকার। ভালো জাত ও আঁশের উজ্জ্বলতাভেদে আমরা বর্তমানে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকায় প্রতি মণ পাট কিনছি। আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবার আমরা কৃষকদের ভালো দাম দিতে পারছি।”​তবে আনন্দের এই জোয়ারে সামান্য দুশ্চিন্তার ভাঁজও আছে কিছু নিম্নঞ্চলের কৃষকের কপালে। নিচু জমিতে আগাম বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শ্রমিকের মজুরি গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ। লালোর ইউনিয়নের মাজগাতী গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক অনিল চন্দ্র আক্ষেপ করে বলেন, “দেড় বিঘা জমির পাট পানির নিচে  ডুবে গেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পাট কাটার জন্যই শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে  ৭০০ টাকা হাজিরা। আঁশ ছাড়ানো আর ধোয়ার খরচও দ্বিগুণ। সব মিলিয়ে এবার হয়তো দুই-তিন হাজার টাকা লোকসান হবে আমার।”​অন্যদিকে, পাটের এই ভরা মৌসুমে গ্রামীণ নারীদের কাজের সংস্থানও তৈরি হয়েছে। পাট খড়ির বিনিময়ে গৃহস্থের বাড়িতে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন স্থানীয় আলেয়া বেগমের মতো অনেকে। হাসিমুখে আলেয়া বলেন, এক মাস কষ্ট করে কাজ করলে যে পাটখড়ি পামু, তা দিয়ে অন্তত ৬ মাসের রান্নার জ্বালানি হয়ে যাবে। বাড়তি পাটখড়ি বেচে বাজারে দু-এক পয়সা আয়ও করা যাবে।​কৃষকদের সার্বিক সহায়তায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ বলেন,চলতি মৌসুমে সিংড়ায় ১ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ও মান দুই-ই চমৎকার। পর্যাপ্ত পানি থাকায় এবার পাট ‘জাগ’ দিতে কৃষকদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। নিচু জমির সামান্য কিছু ক্ষতি হলেও বেশিরভাগ কৃষকই এবার লাভবান হচ্ছেন। আমরা সার্বিক পরামর্শ ও কৃষি প্রণোদনা নিয়ে কৃষকের পাশে আছি। আশা করছি, পাটের এই ভালো দাম আগামীতেও বজায় থাকবে।

২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে কাজ চলমান: প্রধানমন্ত্রী

২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে কাজ চলমান ও সরকার বদ্ধ পরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২ টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি এ কথা বলেন।অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘ব্যবসায় সফলতার জন্য সরকারের ব্যবসায়ী নীতিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, একই সঙ্গে সামর্থ্যও আছে। বাংলাদেশে নিরাপদ বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। ট্যাক্স, ভ্যাট প্রক্রিয়া সহজ করে বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার দিকে জোর দিয়েছি। বাংলাদেশ টেকসই ও স্থায়ী বিদেশী বিনিয়োগ চায়, আমরা এক হয়ে কাজ করতে চাই।’এসময় তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে কাজ করছে। আর দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার বদ্ধ পরিকর।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে ভ্যাট ট্যাক্স প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশনসহ বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে সরকার।’

মোংলায় চীন বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন / ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলাকে ঘিরে বিদেশি বিনিয়োগের এক নতুন সম্ভাবনা হাতছানি দিতে শুরু করেছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর এ বন্দরকে যুগোপযোগী ও অত্যাধুনিক বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি এখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ায় পারস্পরিক উন্নয়ন সহযোগিতা ও জনশক্তি রপ্তানিতে ইতিবাচক আলোচনা সফল হওয়ার পর চীন সফর করেন তিনি। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে পারষ্পরিক  সহযোগিতার ভিত্তিতে বিনিয়োগের নতুন দুয়ার খুলে দেয় চীন।চীন সরকারের সাথে মোংলা বন্দর নিয়েও একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে বাংলাদেশ। গত ২৫ জুন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ সেমিনারে জানানো হয় মোংলা বন্দরের পাশে চীন-বাংলাদেশ মোংলা পোর্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের বিষয়ে চীন সরকার বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা করবে। সমঝোতা স্মারক সইয়ের চুক্তি অনুযায়ী  মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। একসময় ভারতের জন্য বরাদ্দ রাখা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ১১০ একর জমি এবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হল। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার অংশ হিসেবে একই জমি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারতের মনোনীত ডেভেলপার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি উন্নয়ন কাজ শুরু করতে না পারায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটির বরাদ্দ বাতিল করে।মোংলা বন্দরের উর্ধ্বতন উপব্যবস্থাপক (এসডিএম) মো. মাকরুজ্জামান বলেন,  চীন সরকারের এ পদক্ষেপ আমাদেশ দেশের বিনিয়োগ আকর্ষণ কৌশলে নতুন দিকের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে চীনা বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে।  এতে মোংলা বন্দর আরো গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরীর সুযোগ সৃষ্টি হবে।জানা গেছে, চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং আধুনিক লজিস্টিকস হাব নির্মাণে ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকারি হিসাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক রপ্তানি, কোল্ড-চেইন, গুদামজাতকরণ ও পরিবহন খাতেও ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে দেশ / বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের গন্তব্য: অর্থমন্ত্রী

দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।অর্থমন্ত্রী বলেন, কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রণীত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে বের করে সম্ভাবনার নতুন পথে এগিয়ে নেবে। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সেসব সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো যায়।তিনি বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ-সবই বাংলাদেশে আসছে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই বেশি, কারণ এখানে সমুদ্রবন্দর রয়েছে এবং এর ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্বও অনেক বেশি। এ কারণেই সরকারের পরিকল্পনায় চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।অর্থমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামকে একটি লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার প্রতিফলন এবারের বাজেটে রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের হাবে পরিণত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক করিডর ও লজিস্টিক হাব গড়ে উঠবে এবং বন্দরগুলোর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।মাতারবাড়িতেও বড় ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই বাজেট পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং সরকার যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করছে।বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন সহজ কাজ নয়। আগের সরকারগুলোর রেখে যাওয়া পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনীতি বর্তমানে কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তাই প্রথমে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে, এরপর সম্ভাবনার পথে এগোতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তৃতীয় বা চতুর্থ বছর থেকে দেশের কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধির পথচলা শুরু হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হবে। সরকার যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, দেশ ধীরে ধীরে সেদিকেই এগিয়ে যাবে। নতুন নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগও বাড়ছে। তাই বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য এবং এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান / এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সরকার ৩০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  তিনি বলেছেন, পণ্যমূল্য তদারকিতে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নজরদারি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও কার্যকর করা যায়।শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে।ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেও বলে জানান তিনি।পণ্যের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।এলপিজির মূল্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও কোথাও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও গণমাধ্যমে বিষয়টি আরও কিছুদিন গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার হলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম কমিয়ে আনবেন।রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রপ্তানি কমেছে। জ্বালানি-সংক্রান্ত কারণে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব পথে দেশে মাদক প্রবেশ করে, সেসব পথ বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে বহুতল ভবনের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চা-বাগান এলাকায় বর্তমানে থাকা পাঠদান কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে মন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে হবে : ডা. জাহেদ উর রহমান

সরকারি তথ্য ও উন্নয়নমূলক বার্তা প্রচারে / সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে হবে : ডা. জাহেদ উর রহমান

সরকারি তথ্য ও উন্নয়নমূলক বার্তা জনগণের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।একই সঙ্গে তিনি ভুল তথ্য প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে নেটওয়ার্কিং ও ডিজিটাল লিটারেসি বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন।আজ বুধবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধান অতিথি বলেন, প্রচলিত প্রচার পদ্ধতির পাশাপাশি ফেইসবুক, ইউটিউব, টিকটক, ইন্সট্রাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট ও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে সরকারি তথ্য প্রচার করা হলে তা অধিকসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। স্থানীয় কার্যক্রমের ভিডিও বা লাইভ প্রচারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।ভুল তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।ডিজিটাল লিটারেসির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য শেয়ার করা উচিত নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।সভায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল জলিল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের কিছু বাস্তব ও আইনি ঝুঁকি রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাদের তথ্য প্রচারে যাতে দ্বিধায় পড়তে না হয়, সেজন্য আইনি কাঠামোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।তিনি জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ছয় মাসে মাঠপর্যায়ে পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রংপুর বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, জেলা তথ্য কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক তথ্য অফিসের কর্মকর্তা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

অপতথ্য ও সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী প্যানেল গঠন করছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

অপতথ্য ও সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী প্যানেল গঠন করছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

অপতথ্য ও সাইবার বুলিং মোকাবিলায় তথ্য মন্ত্রণালয় আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অপতথ্য বা ভুল তথ্য নিয়ে আমরা খুবই চিন্তায় আছি। এছাড়া সাইবার বুলিং বিশেষ করে নারীদের উপরে যা হয়, নিয়মিতভাবে ফলে নারীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকেন।”এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে তথ্য মন্ত্রণালয় আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়ে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।”এ উদ্যোগ অনেকের জন্য দুঃসংবাদ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কারো জন্য দুঃসংবাদ তো বটেই, যারা এই কাজগুলো করেন—তাদের জন্য এই রাষ্ট্র, এই সরকার সিরিয়াস কগনিজেন্স নিতে যাচ্ছে; আপনারা সতর্ক হয়ে যান।”জাহেদ উর রহমান বলেন, “তথ্যের নামে অত্যাচার, অন্যায় হয়। আমরা যে কেউ অপতথ্যের শিকার হতে পারি, বুলিংয়ের শিকার হতে পারি; ফেইক ছবি, ফেইক ভিডিওর শিকার হতে পারি। সেরকম মানুষের জন্য সুখবর হচ্ছে এই আইনজীবী প্যানেল গঠন সম্পন্ন হচ্ছে।”সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান বিগত সরকারের সমালোচনাও করেন।“আগে ডিজিটাল আইনের মারাত্মক অপপ্রয়োগ হয়েছে, এই সরকার মাফিয়া বা অনির্বাচিত নয়, নির্বাচিত সরকার কোনো আইনেরই অপপ্রয়োগ করবে না।”সংবাদ সম্মেলনে ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রসঙ্গও আসে।এক সাংবাদিক বলেন, জঙ্গি, সন্ত্রাসী, স্বাধীনতাবিরোধী—যারাই ভেঙে থাকুক, বর্তমানে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বিএনপি ক্ষমতায়। তাদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখলাম না।এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নেওয়ার কথা জানিয়ে তখন উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বা সবকিছু মিলে প্রথম কথাটা হচ্ছে ভাস্কর্যটা কিন্তু কমপ্লিটেড হয়নি। ২০১৯- ২০ সালের দিকে শুরু হয়েছিল। এই ভাস্কর্য নিয়ে দুটো অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটা হচ্ছে যে, আবক্ষ মূর্তি আছে, সেটা ফেইসের সাথে; বলে রাখি জঙ্গিরা ভেঙে ফেলেছেএটার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।“দ্বিতীয়টা হচ্ছে, এটা যে ইন্টারসেকশনে আছে, এটা গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে মারাত্মক অবস্ট্রাকশন তৈরি করছে। এটা অনেক উঁচু বেদীতে তৈরি হয়েছে। সেটার কারণে এক্সিডেন্ট হচ্ছে এরকম একটা অভিযোগ—যারা ওই রাস্তায় চলাফেরা করেন। আমিও প্রাথমিকভাবে শক হয়েছি, এটা কেন হবে।“জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, উনার অবয়ব, উনার ফেইস যেন ঠিক থাকে, ফেইস যেন ভালোভাবে বোঝা যায়—উনার একটি আবক্ষ, ভাস্কর্য এবং সাথে মুক্তিযুদ্ধ রেখে একটি ভাস্কর্য তৈরি হবে। নতুন জায়গায়, দ্রুত তার সিদ্ধান্ত জানাবে। এটা সরকার করছে।"এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “একটি দেশে যখন দীর্ঘদিন এ ধরনের সরকারের (ফ্যাসিবাদী) অধীনে থাকে, তাদের প্রচুর লোকজন থেকে গেছে। খুব রাতারাতি এগুলো পরিবর্তন করা কঠিন। তবে গভীরভাবে দেখলে—এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে; এগুলো একটু সময় লাগবে।“আর আমাদের সরকারের যে আকার, একটা অংশ নির্বাচনের পরে আসে, আর মূল স্ট্রাকচার তারা তো থেকেই গেছে। ওরাও তো সরকার, এই সরকারটা থেকে যায়। এ সরকারটা বিরাট, লক্ষ লক্ষ। এ ব্যাপারে টাইম নেবে, কাজ হচ্ছে।”এক সাংবাদিক জানতে চান, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার সময় ইমিগ্রেশন, কাস্টমসসহ বেশ কিছু আইন লঙ্ঘন হয়েছে, এসব বিষয়ে সরকারের তরফে কোনো মামলা হবে কি না?জবাবে উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “যেগুলো আইন লঙ্ঘন হয়েছে, মামলা হতে পারে। আমার ধারণা এটা ব্যক্তিগত সরকারি কোনো বক্তব্য নয়; উনি আইসিটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত এবং দণ্ডপ্রাপ্ত, মৃত্যুদণ্ড।“সম্ভবত এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে আর (মামলা) করেনি। তবে আমি একমত— যেখানে আইন ভঙ্গ হয়েছে, সেসব জায়গায় প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দরকার।”বর্তমানে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী, জানতে চাওয়া হয় তথ্য উপদেষ্টার কাছে।জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমরা যে সিস্টেমের মধ্যে কাজ করছি, সদিচ্ছা থাকলেও সরকারের কতগুলো টুল আছে, অপারেটর আছে—যারা ১৭ বছরে এমন অবস্থায় ছিলেন, তারা তাদের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে জেনেছেন; এগুলো কিন্তু পাল্টে গেছে। চিন্তাই পাল্টে গেছে। এই পুরো স্ট্রাকচার নিয়ে কাজ করা, এটা চ্যালেঞ্জ।”

এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান / এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সরকার ৩০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  তিনি বলেছেন, পণ্যমূল্য তদারকিতে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নজরদারি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও কার্যকর করা যায়।শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে।ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেও বলে জানান তিনি।পণ্যের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।এলপিজির মূল্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও কোথাও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও গণমাধ্যমে বিষয়টি আরও কিছুদিন গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার হলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম কমিয়ে আনবেন।রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রপ্তানি কমেছে। জ্বালানি-সংক্রান্ত কারণে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব পথে দেশে মাদক প্রবেশ করে, সেসব পথ বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে বহুতল ভবনের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চা-বাগান এলাকায় বর্তমানে থাকা পাঠদান কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে মন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সুন্দরবনে অভয়াশ্রম কমানোর দাবীতে জেলেদের মানববন্ধন

বাগেরহাটের শরণখোলায় পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ৮০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য ও অভয়াশ্রম থাকলেও সাতক্ষীরাও চাঁদপাই রেঞ্জ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ অভয়াশ্রম এ বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল সকল মৎস্য ও পেশাজীবিবৃন্দ।  দুই অক্টোবর সকাল দশটায়  শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করায় ফুঁসে উঠেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা। তারা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের দুই রেঞ্জের জন্য দুই ধরনের আইন কখনোই তারা মেনে নিবেন না। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে যেখানে ৩০-৪০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে শরণখোলা রেঞ্জে ৮০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য শরণখোলাবাসী কখনোই মেনে নিবে না। তাছাড়া বর্তমানে শরণখোলা রেঞ্জে যতটুকু এলাকা অবমুক্ত রয়েছে তার তুলনায় সুন্দরবনে বৈধভাবে প্রবেশ করা জেলেদের সংখ্যা অনেক। ফলে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না অধিকাংশ জেলেদের জালে। অতিদ্রুত যদি অভয়ারণ্য এলাকা কমিয়ে অন্তত ৫০ ভাগ না করা হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহনের কথা বলেন তারা। এসময়  পেশাজীবিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাউথখালি ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি শহীদুল ইসলাম লিটন, মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ সেলিম খান, মোঃ খলিল হাওলাদার, মোঃ হালিম খান,  রফিকুল হাওলাদার ও শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান সুজন। এ ব্যাপারে পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল চৌধুরী বলেন, অন্যান্য রেঞ্জের তুলনায় শরণখোলায় অভয়াশ্রম ও অভয়ারণ্য এলাকা বেশি। এখানে জেলেদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক সময় পাস পারমিট নেওয়া জেলেদের বিপাকে পড়তে হয়। জেলেদের দাবি কিছুটা হলেও যৌক্তিক। তবে এ বিষয়টি নিরশন এর দায়িত্ব বনবিভাগ ও বন মন্ত্রণালয়ের।

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ডেস্ক নিউজ: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী থানায় গিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী স্বামী লিটন শেখ (৪৬) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোরেলগঞ্জের বনগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত সাইম শেখের ছেলে লিটন শেখের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দাম্পত্য জীবন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত পারিবারিক কলহ চলছিল। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় যখন লিটন শেখ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলে, তখন তার স্ত্রী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে ফেলে। ঘটনায় লিটন শেখের চিৎকার শুনে তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ওই অঙ্গটির প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরদিন সকালে অভিযুক্ত নারী নিজেই থানায় এসে অপরাধ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো শ্রীপুর গ্রাম ও আশপাশে এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

কুড়িগ্রামে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু

প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত / কুড়িগ্রামে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু

​কুড়িগ্রামে আগামী ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা পর্যায়ে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন (মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি) জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ বছর প্রতিযোগিতায় কাবাডি, হ্যান্ডবল, দাবা ও সাঁতার—এই চার টি ইভেন্টে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।​প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আজ বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।​সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, "লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্রীড়া চর্চার কোনো বিকল্প নেই। গ্রীষ্মকালীন এই জাতীয় প্রতিযোগিতা তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং তাদের মাঝে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।" তিনি প্রতিযোগিতাটি সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।​অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) মোঃ নাজির হোসেনের পরিচালনায় সভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার আশ্বাস দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান।​সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং কুড়িগ্রাম আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নূর বখত।​এ সময় জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তুতি সভায় খেলার ভেন্যু নির্বাচন, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

নিউজার্সির প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হলেন সুনামগঞ্জের আবু সুফিয়ান

নিউজার্সির প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হলেন সুনামগঞ্জের আবু সুফিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন সুনামগঞ্জের প্রবাসী আবু সুফিয়ান। প্যাটারসন সিটি হলের মেয়র কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেয়র আন্দে সায়েঘ তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।শপথ অনুষ্ঠানে কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট মারিটজা ডেবিল, ভাইস প্রেসিডেন্ট লিসা মিমস, ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিক, কাউন্সিলওম্যান রুবি কটনসহ সিটির বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য উপস্থিত ছিলেন।মেয়র আন্দে সায়েঘ বলেন, তিনি সবসময় বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশে থাকার চেষ্টা করেন এবং আবু সুফিয়ানকে সহকারী হিসেবে নির্বাচিত করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিক আবু সুফিয়ানকে একজন সজ্জন ও কমিউনিটিবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে অভিনন্দন জানান।দায়িত্ব গ্রহণের পর আবু সুফিয়ান মেয়র, সিটি কর্মকর্তাসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। পরে সুনামগঞ্জ সমিতির নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।স্থানীয় রাজনীতি ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে আবু সুফিয়ানের ডেপুটি মেয়র হওয়াকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৫৪ বছর বয়সে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী

৫৪ বছর বয়সে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী

জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী হুমায়রা বানু। ৫৪ বছর বয়সে বিয়ের খবর নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন তিনি।সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে স্বামীর সঙ্গে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন হুমায়রা। তবে ছবিগুলোতে স্বামীর পরিচয় আড়ালেই রেখেছেন অভিনেত্রী। কোনো ছবিতেই তাঁর স্বামীর মুখ দেখা যায়নি। পোস্টের ক্যাপশনে নতুন জীবন নিয়ে নিজের অনুভূতিও জানিয়েছেন তিনি।হুমায়রা লেখেন, মানুষ অনেক সময় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের পরিকল্পনা করে, কিন্তু সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা থাকে ভিন্ন। তাঁর বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনার ওপর আস্থা রাখলে পথও সহজ হয়ে আসে।বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছায় ভাসছেন এই অভিনেত্রী। ভক্তদের পাশাপাশি সহকর্মীরাও তাঁকে নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।পাকিস্তানি টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ হুমায়রা বানু। বিভিন্ন নাটকে বিশেষ করে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।‘রং মহল’, ‘ইশক জালেবি’, ‘চৌধুরী অ্যান্ড সন্স’, ‘জান্নাত সে আগে’, ‘মেহরুম’ ও ‘জান নিসার’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন হুমায়রা বানু।

গ্যাস সংকটে নরসিংদীতে স্থবির জনজীবন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরুদ্ধ

গ্যাস সংকটে নরসিংদীতে স্থবির জনজীবন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরুদ্ধ

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় রাজধানী ঢাকা ও নরসিংদীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পরিবহন ও শিল্প খাতে।​জানা গেছে, বাসাবাড়িতে চুলা না জ্বলার পাশাপাশি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। টানা কয়েকদিনের এই দুর্ভোগ গত মঙ্গলবার রাত থেকে চরম আকার ধারণ করে। সম্পূর্ণ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে শিবপুরের কারারচর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে প্রায় চার কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশ্বাস দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।​পরিবহন মালিক ও চালকদের মতে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গ্যাস না পাওয়ায় তাদের দৈনিক আয় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কারারচর এলাকার এপেক্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সৈয়দ ইকবাল হোসেন জানান, প্রেসার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।​শিবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহিম জানান, এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং শিগগিরই সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

নিউজার্সির প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হলেন সুনামগঞ্জের আবু সুফিয়ান

নিউজার্সির প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হলেন সুনামগঞ্জের আবু সুফিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন সুনামগঞ্জের প্রবাসী আবু সুফিয়ান। প্যাটারসন সিটি হলের মেয়র কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেয়র আন্দে সায়েঘ তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।শপথ অনুষ্ঠানে কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট মারিটজা ডেবিল, ভাইস প্রেসিডেন্ট লিসা মিমস, ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিক, কাউন্সিলওম্যান রুবি কটনসহ সিটির বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য উপস্থিত ছিলেন।মেয়র আন্দে সায়েঘ বলেন, তিনি সবসময় বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশে থাকার চেষ্টা করেন এবং আবু সুফিয়ানকে সহকারী হিসেবে নির্বাচিত করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিক আবু সুফিয়ানকে একজন সজ্জন ও কমিউনিটিবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে অভিনন্দন জানান।দায়িত্ব গ্রহণের পর আবু সুফিয়ান মেয়র, সিটি কর্মকর্তাসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। পরে সুনামগঞ্জ সমিতির নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।স্থানীয় রাজনীতি ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে আবু সুফিয়ানের ডেপুটি মেয়র হওয়াকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কুড়িগ্রামে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু

প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত / কুড়িগ্রামে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু

​কুড়িগ্রামে আগামী ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা পর্যায়ে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন (মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি) জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ বছর প্রতিযোগিতায় কাবাডি, হ্যান্ডবল, দাবা ও সাঁতার—এই চার টি ইভেন্টে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।​প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আজ বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।​সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, "লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্রীড়া চর্চার কোনো বিকল্প নেই। গ্রীষ্মকালীন এই জাতীয় প্রতিযোগিতা তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং তাদের মাঝে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।" তিনি প্রতিযোগিতাটি সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।​অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) মোঃ নাজির হোসেনের পরিচালনায় সভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার আশ্বাস দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান।​সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং কুড়িগ্রাম আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নূর বখত।​এ সময় জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তুতি সভায় খেলার ভেন্যু নির্বাচন, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

গ্যাস সংকটে নরসিংদীতে স্থবির জনজীবন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরুদ্ধ

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় রাজধানী ঢাকা ও নরসিংদীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পরিবহন ও শিল্প খাতে।​জানা গেছে, বাসাবাড়িতে চুলা না জ্বলার পাশাপাশি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। টানা কয়েকদিনের এই দুর্ভোগ গত মঙ্গলবার রাত থেকে চরম আকার ধারণ করে। সম্পূর্ণ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে শিবপুরের কারারচর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে প্রায় চার কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশ্বাস দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।​পরিবহন মালিক ও চালকদের মতে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গ্যাস না পাওয়ায় তাদের দৈনিক আয় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কারারচর এলাকার এপেক্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সৈয়দ ইকবাল হোসেন জানান, প্রেসার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।​শিবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহিম জানান, এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং শিগগিরই সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

ভূতুরে বিল ও বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে দিশেহারা জনজীবন

​তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং আর মাস শেষে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বোঝায় পিষ্ট হচ্ছেন দেশের সাধারণ জনগণ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনে-রাতে ৫ থেকে ৬ বার বিদ্যুৎ যাওয়া এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ প্রতিবার বিদ্যুৎ আসার পর তার স্থায়িত্ব থাকছে মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন অরাজকতায় চরম ভোগান্তির শিকার গ্রাহকরা ক্ষোভ ও হতাশায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।​ভোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এটি কেবল প্রযুক্তিগত বা সরবরাহজনিত সমস্যা নয়, বরং এর পেছনে বিদ্যুৎ খাতের একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী চক্রান্তকারী চক্র কাজ করছে। জনগণের ধারণা, ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত ও ভূতুরে বিল তৈরি এবং অস্বাভাবিক লোডশেডিং সৃষ্টি করে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।​সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে দেশের পোল্ট্রি খাতে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে খামারের শত শত মুরগি মারা যাচ্ছে। এতে একদিকে প্রান্তিক খামারিরা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে পোল্ট্রি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। খামারিরা জানান, জেনারেটর বা বিকল্প উপায়ে দীর্ঘ সময় বাতাস ও তাপমাত্রা ধরে রাখা সাধারণ খামারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তাপপ্রবাহের কারণে একের পর এক মুরগি মারা পড়ছে।​মনোহরদীতে ব্যবসায়ীদের হাহাকার:সরজমিনে মনোহরদীর স্থানীয় বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায় চরম দুর্ভোগের চিত্র। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে পুরো বাজার এলাকা। মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের মোমবাতি জ্বেলে কেনাবেচা করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পচে নষ্ট হচ্ছে মাছ ও অন্যান্য পচনশীল পণ্য। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম হাহাকার ও হতাশা।​ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন অনতিবিলম্বে এই বেপরোয়া ভূতুরে বিল প্রণয়ন এবং অযৌক্তিক লোডশেডিংয়ের লাগাম টানা হয়। একই সাথে, বিদ্যুৎ খাতের ভেতরের চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সমাধানের দাবি আইনজীবী মহলে / আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

ঢাকা কোর্ট অঙ্গনে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের নানা দুর্ভোগের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। আদালত কার্যক্রম শুরুর আগেই আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের কী ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতি অতিক্রম করে বিভিন্ন আদালতে পৌঁছাতে হয়, সেই চিত্র তুলে ধরে দেওয়া পোস্টটি প্রকাশের পর তাৎক্ষণিকভাবে আইনজীবী মহলে ব্যাপক সাড়া পড়ে।আইনজীবী মহলে পরিচিত মুখ ও আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ তার ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা ও চলাচলের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিশেষ করে অপর্যাপ্ত ও প্রায়ই বিকল হয়ে পড়া লিফট, আদালত অঙ্গনের সংকীর্ণ ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তা এবং দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও গ্যাংওয়ে নির্মাণ না হওয়ার বিষয়টি তার পোস্টে গুরুত্ব পায়।পোস্টে আবুল কালাম আজাদ উল্লেখ করেন, সিএমএম আদালত শুরু হওয়ার আগেই আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের বিভিন্ন ধরনের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি অতিক্রম করে আদালতে পৌঁছাতে হয়। ঢাকা জজ কোর্ট, সিএমএম আদালত, চিফ জুডিশিয়াল আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে মামলার শুনানিতে অংশ নিতে গিয়ে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের প্রতিনিয়ত এ ধরনের বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আদালত অঙ্গনে একটি গ্যাংওয়ে নির্মাণের জন্য আইনজীবী নেতৃবৃন্দ বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গেছেন এবং সমস্যার সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও এর কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।তার পোস্টে বর্ষাকালে আদালত অঙ্গনের দুর্ভোগের চিত্রও উঠে আসে। বৃষ্টির সময় কোর্ট অঙ্গনের একটি সংকীর্ণ রাস্তা পানিতে ডুবে যায় এবং কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। সেই রাস্তা দিয়েই আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের বহু কষ্টে বিভিন্ন আদালতে যাতায়াত করতে হয়। এতে প্রতিদিন আদালতে আসা মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিচার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।আবুল কালাম আজাদ তার পোস্টের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে ঢাকা কোর্টের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে আইন পেশা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তার এই ফেসবুক পোস্ট প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী মহলে তাৎক্ষণিক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই পোস্টটির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি বাস্তব সমস্যাকে জনসম্মুখে তুলে ধরার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের প্রতিদিনের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও সচেতন মহল থেকে দাবি উঠেছে।সচেতন মহলের মতে, আদালত অঙ্গনে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা বিচার কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশেরই অংশ। দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাংওয়ে, জলাবদ্ধতা, কাদাযুক্ত রাস্তা ও লিফটসংক্রান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা গেলে ঢাকা কোর্টের সামগ্রিক পরিবেশ অনেকটাই উন্নত হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।আইনজীবী মহলে জনপ্রিয় নেতা আবুল কালাম আজাদের এই পোস্ট তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ঢাকা কোর্টের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা ও আইনজীবী-বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং বাস্তবসম্মত কী উদ্যোগ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।পাঠকদের জন্য সেই পোস্টটির লিংক তুলে ধরা হলো:https://www.facebook.com/share/v/1DhmuUKHsR/

এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে কুড়িগ্রামে ৭ দিনের নির্ধারিত লোডশেডিং স্থগিত ঘোষণা

‎চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নির্বিঘ্ন, সুষ্ঠু ও স্বস্তিকর পরিবেশে সম্পন্ন করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পূর্বনির্ধারিত সাত দিনের পরিকল্পিত লোডশেডিং সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সরকার।আগামী ২৯ এ জুলাই থেকে ৮ ই আগষ্টের অব্দি লোডশেডিং স্থগিত ঘোষনা করা হয়।পরীক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।‎‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষা চলাকালে কোনো কেন্দ্রেই যেন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় না পড়ে, সে লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের পাশাপাশি কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।‎‎পল্লী বিদ্যুৎ লালমনিরহাট কুড়িগ্রাম অফিসের জেনারেল ম্যানেজার মোঃ শামীম পারভেজ বলেন,গ্রীষ্মকালীন অতিরিক্ত চাহিদা ও জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ থাকলেও এইচএসসি পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরিকল্পিত লোডশেডিং আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত তা সমাধানে জরুরি টিম প্রস্তুত থাকবে।