ঢাকা    শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে দেশ / বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের গন্তব্য: অর্থমন্ত্রী

দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।অর্থমন্ত্রী বলেন, কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রণীত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে বের করে সম্ভাবনার নতুন পথে এগিয়ে নেবে। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সেসব সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো যায়।তিনি বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ-সবই বাংলাদেশে আসছে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই বেশি, কারণ এখানে সমুদ্রবন্দর রয়েছে এবং এর ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্বও অনেক বেশি। এ কারণেই সরকারের পরিকল্পনায় চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।অর্থমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামকে একটি লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার প্রতিফলন এবারের বাজেটে রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের হাবে পরিণত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক করিডর ও লজিস্টিক হাব গড়ে উঠবে এবং বন্দরগুলোর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।মাতারবাড়িতেও বড় ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই বাজেট পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং সরকার যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করছে।বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন সহজ কাজ নয়। আগের সরকারগুলোর রেখে যাওয়া পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনীতি বর্তমানে কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তাই প্রথমে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে, এরপর সম্ভাবনার পথে এগোতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তৃতীয় বা চতুর্থ বছর থেকে দেশের কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধির পথচলা শুরু হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হবে। সরকার যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, দেশ ধীরে ধীরে সেদিকেই এগিয়ে যাবে। নতুন নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগও বাড়ছে। তাই বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য এবং এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

নিশ্চুপ বিএসইসি ও আইডিআরএ / আত্মগোপনে থেকেও ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে সাঈদ খোকনের দাপট

দেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকট চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। এ সময় তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সাংবাদিকতা হবে পুরোপুরি সত্যনিষ্ঠ। এখানে মিথ্যা কিংবা অর্ধসত্যের কোনো স্থান নেই। আপসেরও কোনো সুযোগ নেই।সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভাকক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা,আগ্রাসনরোধ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।অপসাংবাদিকতার প্রসঙ্গ টেনে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘বগল সম্পাদক’ এখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছেন। পত্রিকা ছাপিয়ে সেটি বগলে নিয়ে সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে তদবির বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছেন। এসব বগল সম্পাদক ও হলুদ সাংবাদিকতার কারণে মানুষ অতিষ্ঠ।তিনি আরও বলেন, যা ইচ্ছা তা লিখে দেওয়া সাংবাদিকতা নয়। সত্য লিখবেন, রাষ্ট্র আপনাকে নিরাপত্তা দেবে। সাংবাদিকদের বিবেকসম্পন্ন হতে হয়। দাস-সাংবাদিকদের মানুষ ঘৃণা করে।ভারতের গণমাধ্যম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএফইউজের এই মহাসচিব। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আগ্রাসনের শিকার হচ্ছি। ২০২৫ সালে ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে ১৪০টি ভুয়া প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তারা দেশে দাঙ্গা বাধিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ বাছির জামাল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপমুক্ত পরিবেশ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমেই বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও জনমুখী গণমাধ্যম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এবিএম রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ অন্য বক্তারা বক্তব্য রাখেন।

৫৪৬ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনছে ভারত

দেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকট চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। এ সময় তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সাংবাদিকতা হবে পুরোপুরি সত্যনিষ্ঠ। এখানে মিথ্যা কিংবা অর্ধসত্যের কোনো স্থান নেই। আপসেরও কোনো সুযোগ নেই।সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভাকক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা,আগ্রাসনরোধ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।অপসাংবাদিকতার প্রসঙ্গ টেনে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘বগল সম্পাদক’ এখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছেন। পত্রিকা ছাপিয়ে সেটি বগলে নিয়ে সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে তদবির বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছেন। এসব বগল সম্পাদক ও হলুদ সাংবাদিকতার কারণে মানুষ অতিষ্ঠ।তিনি আরও বলেন, যা ইচ্ছা তা লিখে দেওয়া সাংবাদিকতা নয়। সত্য লিখবেন, রাষ্ট্র আপনাকে নিরাপত্তা দেবে। সাংবাদিকদের বিবেকসম্পন্ন হতে হয়। দাস-সাংবাদিকদের মানুষ ঘৃণা করে।ভারতের গণমাধ্যম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএফইউজের এই মহাসচিব। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আগ্রাসনের শিকার হচ্ছি। ২০২৫ সালে ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে ১৪০টি ভুয়া প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তারা দেশে দাঙ্গা বাধিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ বাছির জামাল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপমুক্ত পরিবেশ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমেই বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও জনমুখী গণমাধ্যম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এবিএম রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ অন্য বক্তারা বক্তব্য রাখেন।

ঈশ্বরদীতে অগ্রদূত সংস্থার নতুন অফিস ও প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (TOT) কার্যক্রমের উদ্বোধন

দেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকট চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। এ সময় তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সাংবাদিকতা হবে পুরোপুরি সত্যনিষ্ঠ। এখানে মিথ্যা কিংবা অর্ধসত্যের কোনো স্থান নেই। আপসেরও কোনো সুযোগ নেই।সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভাকক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা,আগ্রাসনরোধ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।অপসাংবাদিকতার প্রসঙ্গ টেনে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘বগল সম্পাদক’ এখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছেন। পত্রিকা ছাপিয়ে সেটি বগলে নিয়ে সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে তদবির বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছেন। এসব বগল সম্পাদক ও হলুদ সাংবাদিকতার কারণে মানুষ অতিষ্ঠ।তিনি আরও বলেন, যা ইচ্ছা তা লিখে দেওয়া সাংবাদিকতা নয়। সত্য লিখবেন, রাষ্ট্র আপনাকে নিরাপত্তা দেবে। সাংবাদিকদের বিবেকসম্পন্ন হতে হয়। দাস-সাংবাদিকদের মানুষ ঘৃণা করে।ভারতের গণমাধ্যম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএফইউজের এই মহাসচিব। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আগ্রাসনের শিকার হচ্ছি। ২০২৫ সালে ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে ১৪০টি ভুয়া প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তারা দেশে দাঙ্গা বাধিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ বাছির জামাল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপমুক্ত পরিবেশ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমেই বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও জনমুখী গণমাধ্যম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এবিএম রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ অন্য বক্তারা বক্তব্য রাখেন।

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে  মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা, বাতিল ৬৪৭৬ জনের নাম

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা, বাতিল ৬৪৭৬ জনের নাম

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে

নীলফামারীকে পাখিদের অভয়ারণ্য নগরী গড়ার উদ্যোগ

নীলফামারীকে পাখিদের অভয়ারণ্য নগরী গড়ার উদ্যোগ

কোন ভিডিও নেই !
কোন ভিডিও নেই !

মোজাম্মেল হক চৌধুরীর রোগমুক্তি কামনায় হাসপাতালে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিবের চিকিৎসার খোঁজ নিলেন যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারানিজস্ব প্রতিবেদক:হৃদরোগে আক্রান্ত বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃবৃন্দ।বৃহস্পতিবার সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক যুবায়ের সিকদার, দপ্তর সম্পাদক তুহিন ভূঁইয়াসহ অন্যান্য নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে তার আশু রোগমুক্তি ও সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন।এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, যাত্রী অধিকার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর দীর্ঘদিনের অবদান অনস্বীকার্য। তারা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং দেশবাসী, শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ী, সমর্থক ও ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।উল্লেখ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার এনজিওগ্রাম সম্পন্ন করা হয়েছে হয়েছে। পরে হাসপাতাল থেকে তাকে রিলিজ দেওয়া হয়।

‘জনসংখ্যাগত পুনর্গঠন’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে / জন্মহার বাড়াতে মা-বাবার জন্য ফ্রান্সে বিশেষ ছুটি

দেশের ক্রমাগত হ্রাস পাওয়া জন্মহার বাড়াতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ‘জনসংখ্যাগত পুনর্গঠন’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১ জুন থেকে নতুন এই অতিরিক্ত বেতনসহ অভিভাবকত্ব ছুটি কার্যকর করা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী সন্তানের মা এবং বাবা—উভয়ই এই ছুটির সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।এর আগে ফ্রান্সে প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে মায়েদের জন্য প্রায় চার মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং বাবাদের জন্য ২৮ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটির বিধান ছিল। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পূর্বের বিদ্যমান ছুটির পাশাপাশি বাবা-মা চাইলে অতিরিক্ত আরও এক বা দুই মাসের ছুটি ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন। এই অতিরিক্ত ছুটির প্রথম মাসে অভিভাবকেরা তাদের মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় মাসে ৬০ শতাংশ অর্থ ভাতা হিসেবে পাবেন। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের মা-বাবা এবং দত্তক গ্রহণকারী অভিভাবকেরা এই নতুন সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন।পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন জুড়েই বর্তমানে জন্মহার কমছে। ফ্রান্সের জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুসারে, গত বছর দেশটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবার মানুষের মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে শিশুর জন্মহার কম রেকর্ড করা হয়েছে। ২০২৪ সালেই প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ দেশের এই নিম্নমুখী জন্মহার এবং বন্ধ্যাত্ব সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা উন্মোচন করেছিলেন, যারই ধারাবাহিকতায় এই নতুন নীতি বাস্তবায়ন করা হলো।তবে সরকারের এই সংস্কার উদ্যোগকে পুরোপুরি স্বাগত জানাতে পারছে না দেশটির নারী অধিকারবাদী সংগঠনগুলো। ফেমিনিস্ট গ্রুপগুলোর মতে, এই সংস্কার লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খুব একটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে না। তাদের দাবি, সাধারণত পরিবারগুলোতে পুরুষের তুলনায় নারীদের আয় কম থাকে। ফলে অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে এই অতিরিক্ত ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীরাই বেশি এগিয়ে থাকবেন, যা কর্মক্ষেত্রে তাদের আরও পিছিয়ে দিতে পারে।সূত্র: জিও নিউজ।

সব বিভাগের খবর

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান / এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সরকার ৩০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  তিনি বলেছেন, পণ্যমূল্য তদারকিতে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নজরদারি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও কার্যকর করা যায়।শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে।ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেও বলে জানান তিনি।পণ্যের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।এলপিজির মূল্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও কোথাও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও গণমাধ্যমে বিষয়টি আরও কিছুদিন গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার হলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম কমিয়ে আনবেন।রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রপ্তানি কমেছে। জ্বালানি-সংক্রান্ত কারণে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব পথে দেশে মাদক প্রবেশ করে, সেসব পথ বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে বহুতল ভবনের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চা-বাগান এলাকায় বর্তমানে থাকা পাঠদান কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে মন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে ইতিহাস

রেকর্ড দিয়ে শেষ হলো ২০২৫-২৬ অর্থবছর। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪ লাখ ৩৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকার বেশি। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স এর আগে কখনো আসেনি।আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়ায় প্রবাসীরা আগের তুলনায় বেশি বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করছেন। ফলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।এদিকে অর্থবছরের শেষ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জুনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে আগের বছরের জুনের তুলনায়ও রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত হিসাবে এ অঙ্ক কিছুটা বাড়তে পারে। এর আগে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের অক্টোবরে, তখন আসে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার।সংশ্লিষ্টদের মতে, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাঠান। ঈদ-পরবর্তী সময়ে সেই চাপ কমে যাওয়ায় জুন মাসে রেমিট্যান্সেও কিছুটা স্বাভাবিক নিম্নগতি দেখা দিয়েছে।সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্রে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার।রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

৮০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতিতে শেষ হলো অর্থবছর

শেষ মুহূর্তের জোরালো প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। তবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ঘাটতি থাকছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা।যদিও অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা ছিল, চলমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে কঠোর নজরদারি, কর ফাঁকি রোধে অভিযান, উন্নত পরিকল্পনা এবং কর পরিপালন (কমপ্লায়েন্স) জোরদারের ফলে সম্ভাব্য ঘাটতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।গত বুধবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ কৌশল নির্ধারণে এনবিআরের আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের টাস্কফোর্সগুলোর সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল তিতুমীরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী তিন বছরের জন্য একটি মধ্যমেয়াদি রাজস্ব কৌশল প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগামী তিন বছরের জন্য এমন একটি রাজস্ব কৌশল তৈরি করা হবে, যেখানে রাজস্ব আহরণের সম্ভাব্য উৎস এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হবে।তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুন পর্যন্ত রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। করের আওতা সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে।নবনিযুক্ত এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানান, বুধবার পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের শেষ দিনের হিসাব সমন্বয়ের পর আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা যুক্ত হবে। ফলে মোট রাজস্ব আদায় প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে।তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দিন থেকেই এনবিআর কাজ শুরু করেছে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে লিখিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং গত তিন মাসে টাস্কফোর্সগুলোর কার্যক্রম ইতিবাচক ফল দিয়েছে।এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগ ইতোমধ্যে তাদের রাজস্ব আহরণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। আয়কর বিভাগও শিগগিরই তাদের কৌশল চূড়ান্ত করবে।এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, নতুন বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি রাজস্ব বাড়াতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। টার্নওভারভিত্তিক ভ্যাটব্যবস্থা, খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহের ওপর ০.২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হরমুজ পাড়ি দিলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ চার মাস ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ অবশেষে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৩টার দিকে জাহাজটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। বর্তমানে জ্বালানি বা বাংকারিং নেওয়ার জন্য জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।বিএসসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর জাহাজটি এখন পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।বিএসসি’র তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। পরে এটি কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক পরাশক্তি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরপরই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।গত ১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় বিএসসি জাহাজটিকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার জন্য সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জাহাজটি রাস আল খায়ের বন্দরেই আটকে পড়ে।পরবর্তীতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে গত ৮ এপ্রিল জাহাজটি কেপটাউনের উদ্দেশ্যে রাস আল খায়ের ত্যাগ করলেও ১০ এপ্রিল হরমুজ পাড়ি দিতে গিয়ে পুনরায় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে। নিরুপায় হয়ে জাহাজটি ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নেয়। সর্বশেষ ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘ ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জাহাজটি আজ রাতে হরমুজ প্রণালী পার হতে সমর্থ হয়।২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটিতে কর্মরত ৩১ জন ক্রু-এর সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, আমাদের নাবিকদের সীমাহীন সাহসিকতা, সুনিপুণ নৌ-কৌশল এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনায় ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ এক চরম সংকটময় পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই স্পর্শকাতর যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়ে তারা যে অসীম ধৈর্য দেখিয়েছেন, তা বিশ্ব মেরিটাইম খাতে বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।কমডোর মালেক জানান, দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পুরো সংকটকালীন সময়ে জাহাজের ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের মনোবল সমুন্নত রাখতে বিএসসির পক্ষ থেকে সব ধরণের আপদকালীন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। জাহাজে সুপেয় পানি, খাবার, রসদ ও জ্বালানি তেলের মতো প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহে কখনোই কোনো ঘাটতি হতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধার অতিরিক্ত হিসেবে দৈনিক ৫ মার্কিন ডলার বিশেষ মিল অ্যালাউন্স, ঈদের বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য বিশেষ ‘ওয়ার ওয়েজ’ (War Wage) প্রদান করা হয়েছে।

খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

সরকার দেশের সব খেলাপি ঋণ আদায় করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেগুলো পূরণ করার উদ্যোগ নিয়েছি।বুধবার (২৭ মে) বিকেলে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়সভায় তিনি এ কথা জানান। তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ২০ বছরে বাংলাদেশের যত টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগ খেলাপি হয়েছে। এই পরিসংখ্যানটা দেখে বোঝা যায় বিগত সরকার ব্যাংক লুট করার জন্য সহযোগিতা করেছে। আর সেই ঋণের বোঝা এখন জাতিকে বহন করতে হচ্ছে।জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, লোকদের ভয় দেখানো, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জোর করে নির্বাচন করা হয়েছে। আগস্ট মাসে পালিয়ে গেছে। এত অপমান আর অসম্মানজনকভাবে পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রনায়ককে পালিয়ে যেতে হয়নি।আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিকদার হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ারবাজারে লুটপাটের সুযোগ দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী

শেয়ারবাজারে কোনো ধরনের লুটপাটের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে যেমন শেয়ারবাজারে অনিয়মের সুযোগ ছিল না, বর্তমান সময়েও কাউকে সে সুযোগ দেওয়া হবে না।বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ-এর ত্রয়োদশ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এদিন তিনি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ সংশোধনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’–এর ওপর বিশেষ কমিটির সুপারিশ বিবেচনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য পুঁজিবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের কথা উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকার বেশি লুটপাট হয়েছে।রুমিন ফারহানা আরও বলেন, শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।জবাবে অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যের সঙ্গে আংশিক একমত পোষণ করলেও বিলটি পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই বলে মত দেন। তিনি বলেন, বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে বিলটি পরীক্ষা করেছে, তাই আবার জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রয়োজন নেই। পরে কণ্ঠভোটে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।একই অধিবেশনে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর নিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক নিয়োগ ও বিদায়ের ঘটনাগুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গভর্নরের পারফরম্যান্স আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো এবং আর্থিক খাতে রাজনৈতিক নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান রয়েছে।এ সময় বিরোধী দলীয় উপনেতা ও কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার কারণে বর্তমান গভর্নরকে পরিবর্তন করা হবে কি না। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো দলকে সমর্থন করলেই কেউ দলীয় ব্যক্তি হয়ে যান না।অধিবেশনের শেষ দিকে ‘বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সংশোধন বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। তবে এ বিলসহ আলোচিত অন্যান্য বিল নিয়েও বিরোধী দলের আপত্তি ছিল।

এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান / এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সরকার ৩০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  তিনি বলেছেন, পণ্যমূল্য তদারকিতে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নজরদারি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও কার্যকর করা যায়।শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে।ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেও বলে জানান তিনি।পণ্যের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।এলপিজির মূল্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও কোথাও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও গণমাধ্যমে বিষয়টি আরও কিছুদিন গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার হলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম কমিয়ে আনবেন।রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রপ্তানি কমেছে। জ্বালানি-সংক্রান্ত কারণে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব পথে দেশে মাদক প্রবেশ করে, সেসব পথ বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে বহুতল ভবনের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চা-বাগান এলাকায় বর্তমানে থাকা পাঠদান কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে মন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় ৩ মাস মেয়াদি কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধি এবং অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতিহারে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আজ দেশজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, কর্মসংস্থান বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে শীর্ষে, যেখানে ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করেছি। প্রশিক্ষণ শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রোফাইল খোলা হয়, যেখানে তাদের আয় ও অগ্রগতির তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। এ সময় তিনি নিজে ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প তুলে ধরেন। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে ৩৭৩ কোটি ৭৭ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদে ষষ্ঠ ব্যাচের প্রশিক্ষণে প্রতি জেলায় ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস যুবরা এই সুযোগ পেয়েছেন। জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করেছে। এখন পর্যন্ত ৫টি পর্যায়ে মোট ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বা ৮ হাজার ৬৪০ জন দেশি ও বিদেশি মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। তাদের উপার্জিত অর্থের পরিমাণ ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ ১৪ হাজার ৪১৬ টাকা। উপার্জনে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ব্যাচে ভর্তির জন্য ৯৭ হাজার ২২৯ জন আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৬১ হাজার ৫৮১ জনকে নির্বাচন করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার ৮০০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ৮ ঘণ্টা করে ৩ মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদারকিতে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।

‘স্বপ্ন’ সুপারশপের ডেটা হ্যাক, ১৮ কোটি টাকা দাবি হ্যাকারদের

‘স্বপ্ন’ সুপারশপের ডেটা হ্যাক, ১৮ কোটি টাকা দাবি হ্যাকারদের

দেশের জনপ্রিয় সুপারশপ 'স্বপ্ন'-এর গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাক করে বিপুল পরিমাণ তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। এসব তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘স্বপ্ন’। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির জানান, গ্রাহক তথ্য সুরক্ষা ও সংকট মোকাবিলায় তারা বর্তমানে দেশি-বিদেশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কারিগরি সহায়তা নিচ্ছেন। একদিকে দেশের জনপ্রিয় সুপারশপ চেইন ‘স্বপ্ন’-এর গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাক করে ১৮ কোটি টাকা (১৫ লাখ ডলার) দাবি করেছে হ্যাকাররা। অন্যদিকে এমটিএফই (MTFE) স্ক্যামের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া প্রায় ৩.৬২২ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেশের জনপ্রিয় সুপারশপ চেইন 'স্বপ্ন'-র গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত আগস্টে আমেরিকা থেকে হ্যাকাররা গ্রাহক তথ্য প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা এমটিএফই (MTFE) স্ক্যামের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে থেকে নেওয়া বিদেশে পাচার করা প্রায় ৩.৬২২ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ​পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ বশির উদ্দিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪.৪৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ এই অর্থ গত সপ্তাহে সুইফট (SWIFT) ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় ফেরত আনা হয়েছে।

সুন্দরবনে অভয়াশ্রম কমানোর দাবীতে জেলেদের মানববন্ধন

বাগেরহাটের শরণখোলায় পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ৮০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য ও অভয়াশ্রম থাকলেও সাতক্ষীরাও চাঁদপাই রেঞ্জ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ অভয়াশ্রম এ বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল সকল মৎস্য ও পেশাজীবিবৃন্দ।  দুই অক্টোবর সকাল দশটায়  শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করায় ফুঁসে উঠেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা। তারা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের দুই রেঞ্জের জন্য দুই ধরনের আইন কখনোই তারা মেনে নিবেন না। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে যেখানে ৩০-৪০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে শরণখোলা রেঞ্জে ৮০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য শরণখোলাবাসী কখনোই মেনে নিবে না। তাছাড়া বর্তমানে শরণখোলা রেঞ্জে যতটুকু এলাকা অবমুক্ত রয়েছে তার তুলনায় সুন্দরবনে বৈধভাবে প্রবেশ করা জেলেদের সংখ্যা অনেক। ফলে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না অধিকাংশ জেলেদের জালে। অতিদ্রুত যদি অভয়ারণ্য এলাকা কমিয়ে অন্তত ৫০ ভাগ না করা হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহনের কথা বলেন তারা। এসময়  পেশাজীবিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাউথখালি ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি শহীদুল ইসলাম লিটন, মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ সেলিম খান, মোঃ খলিল হাওলাদার, মোঃ হালিম খান,  রফিকুল হাওলাদার ও শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান সুজন। এ ব্যাপারে পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল চৌধুরী বলেন, অন্যান্য রেঞ্জের তুলনায় শরণখোলায় অভয়াশ্রম ও অভয়ারণ্য এলাকা বেশি। এখানে জেলেদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক সময় পাস পারমিট নেওয়া জেলেদের বিপাকে পড়তে হয়। জেলেদের দাবি কিছুটা হলেও যৌক্তিক। তবে এ বিষয়টি নিরশন এর দায়িত্ব বনবিভাগ ও বন মন্ত্রণালয়ের।

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ডেস্ক নিউজ: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী থানায় গিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী স্বামী লিটন শেখ (৪৬) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোরেলগঞ্জের বনগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত সাইম শেখের ছেলে লিটন শেখের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দাম্পত্য জীবন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত পারিবারিক কলহ চলছিল। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় যখন লিটন শেখ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলে, তখন তার স্ত্রী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে ফেলে। ঘটনায় লিটন শেখের চিৎকার শুনে তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ওই অঙ্গটির প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরদিন সকালে অভিযুক্ত নারী নিজেই থানায় এসে অপরাধ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো শ্রীপুর গ্রাম ও আশপাশে এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ইরানের বিদায়ের ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

ইরানের বিদায়ের ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরানি-আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাভেহ লতফোল্লাহ আফরাসিয়াবি এ মামলা করেন।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় আফরাসিয়াবি দাবি করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মিশরের বিপক্ষে ইরানের শেষ মুহূর্তের একটি গোল বিতর্কিতভাবে বাতিল করে দলটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে শেষ ৩২ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।তিনি কোটি কোটি ইরানি নাগরিক ও ইরানি-আমেরিকান সমর্থকের পক্ষে ক্লাস-অ্যাকশন মামলা করার অনুমতিও চেয়েছেন। তার অভিযোগ, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ব্যবহার করে নেওয়া ওই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে জয় ও নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা।ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে শোজা খলিলজাদেহ ইরানের হয়ে যে গোলটি করেছিলেন, তা ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয় এবং সেই সিদ্ধান্তের পরই ইরানের বিশ্বকাপে টিকে থাকার আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। সে সময় বার্তা সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছিল, ভিএআর পর্যালোচনার ভিত্তিতে গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়।মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ফিফা ইরানের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে এবং দলটির জন্য ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে এ মামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে ইতিহাস

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে ইতিহাস

রেকর্ড দিয়ে শেষ হলো ২০২৫-২৬ অর্থবছর। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪ লাখ ৩৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকার বেশি। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স এর আগে কখনো আসেনি।আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়ায় প্রবাসীরা আগের তুলনায় বেশি বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করছেন। ফলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।এদিকে অর্থবছরের শেষ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জুনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে আগের বছরের জুনের তুলনায়ও রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত হিসাবে এ অঙ্ক কিছুটা বাড়তে পারে। এর আগে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের অক্টোবরে, তখন আসে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার।সংশ্লিষ্টদের মতে, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাঠান। ঈদ-পরবর্তী সময়ে সেই চাপ কমে যাওয়ায় জুন মাসে রেমিট্যান্সেও কিছুটা স্বাভাবিক নিম্নগতি দেখা দিয়েছে।সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্রে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার।রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

সালমান ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ

‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ / সালমান ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ

অক্ষয় কুমার অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত কমেডি চলচ্চিত্র ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ আগামী ২৬ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। তারকাবহুল কাস্টের কারণে ছবিটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও তুঙ্গে। তবে মুক্তির আগে সালমান খানের সম্ভাব্য ক্যামিও নিয়ে যে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত সত্যি হচ্ছে না।ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটিতে সালমান খানের কোনো বিশেষ উপস্থিতি বা ক্যামিও চরিত্র নেই। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।সূত্রটির দাবি, সালমান খান বর্তমানে একাধিক পূর্বনির্ধারিত শুটিং ও পেশাগত কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’–এর সঙ্গে তার যুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ হয়নি।সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, “সালমান এই মুহূর্তে নিজের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত। ছবিতে তার উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।” মূলত অভিনেতা ও জনপ্রিয় কমেডিয়ান কৃষ্ণা অভিষেকের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই জল্পনার সূত্রপাত। সম্প্রতি ‘লাফটার শেফস’ অনুষ্ঠানের সেটে পাপারাজ্জিদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণা রহস্যময় ভঙ্গিতে ইঙ্গিত দেন যে, ছবিতে দর্শকদের জন্য বড় কোনো চমক অপেক্ষা করছে।এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, সেই চমক হতে পারেন সালমান খান। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ছবিতে ‘ভাইজান’-এর কোনো ক্যামিও থাকছে না। তবে ক্যামিও না থাকলেও বিশাল তারকাবহুল এই কমেডি সিনেমা ঘিরে দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। মুক্তির অপেক্ষায় এখন ভক্তরা।

জাদুর নামে প্রতারণা ও পকেটমারের অভয়ারণ্য, দেখার কি কেউ নেই?

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন / জাদুর নামে প্রতারণা ও পকেটমারের অভয়ারণ্য, দেখার কি কেউ নেই?

দেশের প্রধান এবং সবচেয়ে ব্যস্ততম রেলওয়ে স্টেশন ঢাকার কমলাপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে জাদুর নামে প্রতারণা, জুয়া এবং পকেটমারদের দৌরাত্ম্য। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ট্রেনে করে এই স্টেশনে যাতায়াত করেন। সাধারণ মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় কেপিআই (KPI) এলাকা হলেও এখানে এসে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন যাত্রীরা।  ​সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও প্রবেশমুখের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে একদল চক্র তথাকথিত 'জাদুর খেলা'র আসর বসিয়েছে। আসলে জাদুর নামে সেখানে যা চলছে, তা মূলত এক ধরণের সুকৌশলী প্রতারণা ও জুয়া। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সহজ-সরল মানুষ কৌতুহলবশত সেখানে দাঁড়ালেই এই চক্রটি তাদের নানাভাবে বিভ্রান্ত করে এবং একপর্যায়ে সর্বস্ব লুটে নেয়।  ​অভিযোগ রয়েছে, এই জাদুর আসরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ভিড়ের মধ্যে তীব্রভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পকেটমার ও ছিনতাইকারী চক্র। প্রতিদিন অসংখ্য অসচেতন যাত্রী এখানে পকেট কাটা পড়ে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরছেন।  ​ভুক্তভোগী যাত্রীদের মতে, প্ল্যাটফর্মের মতো জনাকীর্ণ জায়গায় এভাবে জাদুর আসর বসিয়ে জটলা তৈরি করার কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর ফলে সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।  ​একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে দিনের পর দিন এই জাতীয় অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড চলছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব যাদের, তাদের এমন নীরব ভূমিকা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— "এখানে কি দেখার কেউ নেই?"  ​ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল অনতিবিলম্বে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এই ধরনের প্রতারণামূলক জাদুর আসর উচ্ছেদ এবং পকেটমার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে ইতিহাস

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে ইতিহাস

রেকর্ড দিয়ে শেষ হলো ২০২৫-২৬ অর্থবছর। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪ লাখ ৩৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকার বেশি। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স এর আগে কখনো আসেনি।আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়ায় প্রবাসীরা আগের তুলনায় বেশি বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করছেন। ফলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।এদিকে অর্থবছরের শেষ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জুনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে আগের বছরের জুনের তুলনায়ও রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত হিসাবে এ অঙ্ক কিছুটা বাড়তে পারে। এর আগে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের অক্টোবরে, তখন আসে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার।সংশ্লিষ্টদের মতে, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাঠান। ঈদ-পরবর্তী সময়ে সেই চাপ কমে যাওয়ায় জুন মাসে রেমিট্যান্সেও কিছুটা স্বাভাবিক নিম্নগতি দেখা দিয়েছে।সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্রে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার।রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

ইরানের বিদায়ের ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

ইরানের বিদায়ের ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরানি-আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাভেহ লতফোল্লাহ আফরাসিয়াবি এ মামলা করেন।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় আফরাসিয়াবি দাবি করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মিশরের বিপক্ষে ইরানের শেষ মুহূর্তের একটি গোল বিতর্কিতভাবে বাতিল করে দলটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে শেষ ৩২ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।তিনি কোটি কোটি ইরানি নাগরিক ও ইরানি-আমেরিকান সমর্থকের পক্ষে ক্লাস-অ্যাকশন মামলা করার অনুমতিও চেয়েছেন। তার অভিযোগ, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ব্যবহার করে নেওয়া ওই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে জয় ও নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা।ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে শোজা খলিলজাদেহ ইরানের হয়ে যে গোলটি করেছিলেন, তা ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয় এবং সেই সিদ্ধান্তের পরই ইরানের বিশ্বকাপে টিকে থাকার আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। সে সময় বার্তা সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছিল, ভিএআর পর্যালোচনার ভিত্তিতে গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়।মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ফিফা ইরানের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে এবং দলটির জন্য ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে এ মামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন / জাদুর নামে প্রতারণা ও পকেটমারের অভয়ারণ্য, দেখার কি কেউ নেই?

দেশের প্রধান এবং সবচেয়ে ব্যস্ততম রেলওয়ে স্টেশন ঢাকার কমলাপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে জাদুর নামে প্রতারণা, জুয়া এবং পকেটমারদের দৌরাত্ম্য। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ট্রেনে করে এই স্টেশনে যাতায়াত করেন। সাধারণ মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় কেপিআই (KPI) এলাকা হলেও এখানে এসে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন যাত্রীরা।  ​সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও প্রবেশমুখের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে একদল চক্র তথাকথিত 'জাদুর খেলা'র আসর বসিয়েছে। আসলে জাদুর নামে সেখানে যা চলছে, তা মূলত এক ধরণের সুকৌশলী প্রতারণা ও জুয়া। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সহজ-সরল মানুষ কৌতুহলবশত সেখানে দাঁড়ালেই এই চক্রটি তাদের নানাভাবে বিভ্রান্ত করে এবং একপর্যায়ে সর্বস্ব লুটে নেয়।  ​অভিযোগ রয়েছে, এই জাদুর আসরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ভিড়ের মধ্যে তীব্রভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পকেটমার ও ছিনতাইকারী চক্র। প্রতিদিন অসংখ্য অসচেতন যাত্রী এখানে পকেট কাটা পড়ে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরছেন।  ​ভুক্তভোগী যাত্রীদের মতে, প্ল্যাটফর্মের মতো জনাকীর্ণ জায়গায় এভাবে জাদুর আসর বসিয়ে জটলা তৈরি করার কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর ফলে সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।  ​একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে দিনের পর দিন এই জাতীয় অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড চলছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব যাদের, তাদের এমন নীরব ভূমিকা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— "এখানে কি দেখার কেউ নেই?"  ​ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল অনতিবিলম্বে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এই ধরনের প্রতারণামূলক জাদুর আসর উচ্ছেদ এবং পকেটমার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

টোল-ফ্রি কাস্টমার সার্ভিসের অভাব / সাধারণ গ্রাহকদের পকেট কাটছে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো

দেশে সাধারণ গ্রাহক সেবা বা কাস্টমার সার্ভিসের নামে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এক অভিনব উৎসব চলছে। কোনো জরুরি প্রয়োজনে বা অভিযোগ জানাতে গ্রাহকরা যখন বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করেন, তখন টোল-ফ্রি নম্বর না থাকায় তাদের মোবাইল ব্যালেন্স থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ টেলিকম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ফোন প্ল্যানে টোল-ফ্রি নম্বরের কোনো সুবিধা নেই। ফলে গ্রাহকরা বাধ্য হয়ে স্ট্যান্ডার্ড মোবাইল ব্যালেন্স খরচ করে ল্যান্ডলাইন বা সাধারণ নম্বরে ডায়াল করছেন, যা সরাসরি তাদের ওপর বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।বিদেশী কোম্পানির মুনাফা ও সরকারের উদাসীনতাঅভিযোগ উঠেছে, এই হরিলুটের প্রক্রিয়াটি বাজারে প্রকাশ্যে চললেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা সরকার এ ব্যাপারে রহস্যজনকভাবে নীরব। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার এসব খাত থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব পায় বলেই এই জনবিদ্বেষী প্রক্রিয়ার দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে না। এর ফলে মূলত বিদেশী কোম্পানিগুলোই মাত্রাতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছে এবং দেশের সাধারণ জনগণের অর্থ লুটে নিচ্ছে।বিকল্পের খোঁজে গ্রাহকেরা টাকা কাটার এই ভোগান্তি এড়াতে অনেক সচেতন গ্রাহক এখন লাইভ চ্যাট বা ইমেলের মতো ডিজিটাল মাধ্যমগুলো ব্যবহার করছেন। তবে এগুলো সময়সাপেক্ষ হওয়ায় তাৎক্ষণিক বা জরুরি সমস্যার সমাধানে সাধারণ মানুষ এখনো চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।সমতার দাবি ও আইনি ব্যবস্থার আহ্বানভোক্তা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে চুক্তিভিত্তিক সমতা থাকা জরুরি। চুক্তির সামান্য শর্ত ভঙ্গের জন্য যেভাবে সাধারণ গ্রাহকদের জরিমানা করা হয়, ঠিক একইভাবে সেবা দিতে ব্যর্থ হলে বা গ্রাহককে হয়রানি করলে এসব বড় প্রতিষ্ঠানকেও সমপরিমাণ জরিমানা বা অনুরূপ দণ্ড ভোগ করতে হবে।অবিলম্বে এই শোষণমূলক প্রক্রিয়া বিলুপ্ত করে বিদেশের মতো দেশের সকল নাগরিক পরিষেবা টোল-ফ্রি নম্বরে রূপান্তর করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ এবং আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।

১ ঘণ্টার ট্রেন ৩ ঘণ্টায়! / রেলের ঘড়িতে চলে না ‘তিতাস’

​রেলওয়ের চরম অব্যবস্থাপনা আর নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে নরসিংদী রেলস্টেশনে সাধারণ রেলযাত্রীদের ক্ষোভ এখন চরমে। বিশেষ করে ‘তিতাস কমিউটার’ ট্রেনটির ভয়াবহ সময় বিপর্যয় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন প্রতিদিন যাতায়াত করা শত শত সাধারণ যাত্রী।​ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, তিতাস কমিউটার ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছানোর কোনো তোয়াক্কাই করছে না। রেলওয়ের সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটির দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে নরসিংদী রেলস্টেশনে উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই ট্রেনটি এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে স্টেশনে আসে।​গতকালের চিত্র উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ এক যাত্রী জানান, নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিট হলেও ট্রেনটি নরসিংদী এসে পৌঁছায় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে। অর্থাৎ ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট বিলম্বে ট্রেনটি স্টেশনে আসে। এখানেই শেষ নয়, নরসিংদী থেকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছাতে ট্রেনটি সময় নেয় বিকেল ৫টা। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের এই পথটুকু পাড়ি দিতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।​আসন কেটেও দাঁড়াতে হচ্ছে যাত্রীদের:নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীরা জানান, ট্রেন দীর্ঘ সময় বিলম্বে আসায় স্টেশনে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ যাত্রী জমা হয়। ফলে ট্রেন আসার সাথে সাথেই বগিতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, অনেক যাত্রী আগে থেকে বৈধ টিকিট কেটে আসন (সিট) বরাদ্দ পাওয়ার পরও ভিড়ের কারণে নিজেদের নির্ধারিত আসনের কাছে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না। নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই ভোগান্তি আরও প্রকট রূপ নেয়।​যাত্রীদের দাবি:স্টেশনে অপেক্ষমাণ ক্ষুব্ধ যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রেলের টাইম মেন্টেনেন্স নেই। তিতাস কমিউটার বেশিরভাগ সময়ই শিডিউল মেলাতে পারে না। যদি ট্রেনটি ঠিক সময়ে আসতো, তাহলে স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রী জমা হতো না এবং আমাদের এই চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো না।"​সাধারণ যাত্রীদের একটাই দাবি, রেল কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে তিতাস কমিউটারের এই দীর্ঘদিনের শিডিউল বিপর্যয় দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করে।

ওয়াশরুম ব্যবহারেও গুণতে হচ্ছে টাকা / কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বৃষ্টিতে পানি জমার ভোগান্তি

দেশের সবচেয়ে বড় এবং ব্যস্ততম রেলওয়ে স্টেশন রাজধানীর কমলাপুর। প্রতিদিন এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন লাখো মানুষ। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী এই স্টেশনটি এখন সাধারণ যাত্রীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই স্টেশনের প্রবেশপথ ও আশপাশে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা, আর ভেতরে সাধারণ যাত্রীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত ও বিনামূল্যে ব্যবহারের উপযোগী ওয়াশরুম।​বৃষ্টি আসলেই চরম জলাবদ্ধতাসরেজমিনে দেখা গেছে, একটু মাঝারি কিংবা ভারী বৃষ্টি হলেই কমলাপুর স্টেশন এলাকার নিচু অংশগুলোতে পানি জমে যায়। ট্রেন ধরতে আসা সাধারণ যাত্রীদের ব্যাগ-লাগেজ মাথায় নিয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই পানি জমে থাকে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।​টাকা ছাড়া মেলে না ওয়াশরুম সেবাযাত্রীদের ক্ষোভের অন্যতম বড় কারণ স্টেশনের ওয়াশরুম বা টয়লেট ব্যবস্থা। এত বিশাল একটি স্টেশনে সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ব্যবহারের মতো উন্নত কোনো ওয়াশরুমের সুব্যবস্থা নেই। প্ল্যাটফর্মে যে দু-একটি ওয়াশরুম সচল আছে, সেখানে প্রবেশ করলেই গুণতে হচ্ছে টাকা।​ক্ষুব্ধ এক যাত্রী বলেন: "আমরা টিকিটের পেছনে টাকা দিচ্ছি, সরকারের ট্যাক্স দিচ্ছি। অথচ স্টেশনে এসে প্রক্ষালন কক্ষ ব্যবহার করতেও আলাদা করে টাকা গুণতে হবে? টাকা না দিলে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয় না। সাধারণ নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত যাত্রীদের জন্য এটা রীতিমতো জুলুম।"​কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা যাত্রীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যা চলে আসলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো স্থায়ী নজরদারি নেই। জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে পর্যাপ্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুমের দাবি এখন সর্বস্তরের মানুষের। মেগা প্রজেক্টের এই যুগে দেশের প্রধান রেলস্টেশনের এমন জরাজীর্ণ ও বাণিজ্যিক রূপ কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন সাধারণ নাগরিকরা।