ঢাকা    শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪
সর্বশেষ

৮০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতিতে শেষ হলো অর্থবছর

শেষ মুহূর্তের জোরালো প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। তবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ঘাটতি থাকছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা।যদিও অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা ছিল, চলমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে কঠোর নজরদারি, কর ফাঁকি রোধে অভিযান, উন্নত পরিকল্পনা এবং কর পরিপালন (কমপ্লায়েন্স) জোরদারের ফলে সম্ভাব্য ঘাটতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।গত বুধবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ কৌশল নির্ধারণে এনবিআরের আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের টাস্কফোর্সগুলোর সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল তিতুমীরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী তিন বছরের জন্য একটি মধ্যমেয়াদি রাজস্ব কৌশল প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগামী তিন বছরের জন্য এমন একটি রাজস্ব কৌশল তৈরি করা হবে, যেখানে রাজস্ব আহরণের সম্ভাব্য উৎস এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হবে।তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুন পর্যন্ত রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। করের আওতা সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে।নবনিযুক্ত এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানান, বুধবার পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের শেষ দিনের হিসাব সমন্বয়ের পর আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা যুক্ত হবে। ফলে মোট রাজস্ব আদায় প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে।তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দিন থেকেই এনবিআর কাজ শুরু করেছে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে লিখিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং গত তিন মাসে টাস্কফোর্সগুলোর কার্যক্রম ইতিবাচক ফল দিয়েছে।এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগ ইতোমধ্যে তাদের রাজস্ব আহরণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। আয়কর বিভাগও শিগগিরই তাদের কৌশল চূড়ান্ত করবে।এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, নতুন বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি রাজস্ব বাড়াতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। টার্নওভারভিত্তিক ভ্যাটব্যবস্থা, খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহের ওপর ০.২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সিংড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬৮৬ কৃষকের পাশে সরকার, বিতরণ করা হলো চাল

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ চার মাস ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ অবশেষে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৩টার দিকে জাহাজটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। বর্তমানে জ্বালানি বা বাংকারিং নেওয়ার জন্য জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।বিএসসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর জাহাজটি এখন পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।বিএসসি’র তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। পরে এটি কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক পরাশক্তি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরপরই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।গত ১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় বিএসসি জাহাজটিকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার জন্য সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জাহাজটি রাস আল খায়ের বন্দরেই আটকে পড়ে।পরবর্তীতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে গত ৮ এপ্রিল জাহাজটি কেপটাউনের উদ্দেশ্যে রাস আল খায়ের ত্যাগ করলেও ১০ এপ্রিল হরমুজ পাড়ি দিতে গিয়ে পুনরায় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে। নিরুপায় হয়ে জাহাজটি ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নেয়। সর্বশেষ ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘ ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জাহাজটি আজ রাতে হরমুজ প্রণালী পার হতে সমর্থ হয়।২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটিতে কর্মরত ৩১ জন ক্রু-এর সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, আমাদের নাবিকদের সীমাহীন সাহসিকতা, সুনিপুণ নৌ-কৌশল এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনায় ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ এক চরম সংকটময় পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই স্পর্শকাতর যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়ে তারা যে অসীম ধৈর্য দেখিয়েছেন, তা বিশ্ব মেরিটাইম খাতে বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।কমডোর মালেক জানান, দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পুরো সংকটকালীন সময়ে জাহাজের ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের মনোবল সমুন্নত রাখতে বিএসসির পক্ষ থেকে সব ধরণের আপদকালীন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। জাহাজে সুপেয় পানি, খাবার, রসদ ও জ্বালানি তেলের মতো প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহে কখনোই কোনো ঘাটতি হতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধার অতিরিক্ত হিসেবে দৈনিক ৫ মার্কিন ডলার বিশেষ মিল অ্যালাউন্স, ঈদের বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য বিশেষ ‘ওয়ার ওয়েজ’ (War Wage) প্রদান করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার থানায় মামলা / নোয়াখালী বেগমগঞ্জে পূর্বের শত্রুতার জের ধরে দুই ভাইকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ চার মাস ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ অবশেষে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৩টার দিকে জাহাজটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। বর্তমানে জ্বালানি বা বাংকারিং নেওয়ার জন্য জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।বিএসসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর জাহাজটি এখন পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।বিএসসি’র তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। পরে এটি কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক পরাশক্তি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরপরই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।গত ১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় বিএসসি জাহাজটিকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার জন্য সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জাহাজটি রাস আল খায়ের বন্দরেই আটকে পড়ে।পরবর্তীতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে গত ৮ এপ্রিল জাহাজটি কেপটাউনের উদ্দেশ্যে রাস আল খায়ের ত্যাগ করলেও ১০ এপ্রিল হরমুজ পাড়ি দিতে গিয়ে পুনরায় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে। নিরুপায় হয়ে জাহাজটি ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নেয়। সর্বশেষ ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘ ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জাহাজটি আজ রাতে হরমুজ প্রণালী পার হতে সমর্থ হয়।২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটিতে কর্মরত ৩১ জন ক্রু-এর সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, আমাদের নাবিকদের সীমাহীন সাহসিকতা, সুনিপুণ নৌ-কৌশল এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনায় ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ এক চরম সংকটময় পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই স্পর্শকাতর যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়ে তারা যে অসীম ধৈর্য দেখিয়েছেন, তা বিশ্ব মেরিটাইম খাতে বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।কমডোর মালেক জানান, দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পুরো সংকটকালীন সময়ে জাহাজের ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের মনোবল সমুন্নত রাখতে বিএসসির পক্ষ থেকে সব ধরণের আপদকালীন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। জাহাজে সুপেয় পানি, খাবার, রসদ ও জ্বালানি তেলের মতো প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহে কখনোই কোনো ঘাটতি হতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধার অতিরিক্ত হিসেবে দৈনিক ৫ মার্কিন ডলার বিশেষ মিল অ্যালাউন্স, ঈদের বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য বিশেষ ‘ওয়ার ওয়েজ’ (War Wage) প্রদান করা হয়েছে।

মাধবদীতে প্রবাসীর বাড়িতে তাণ্ডব / চাঁদাবাজ 'বোমা সেলিম' ও তার বাহিনীর বিচারের দাবিতে উত্তাল নরসিংদী

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ চার মাস ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ অবশেষে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৩টার দিকে জাহাজটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। বর্তমানে জ্বালানি বা বাংকারিং নেওয়ার জন্য জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।বিএসসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর জাহাজটি এখন পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।বিএসসি’র তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। পরে এটি কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক পরাশক্তি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরপরই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।গত ১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় বিএসসি জাহাজটিকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার জন্য সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জাহাজটি রাস আল খায়ের বন্দরেই আটকে পড়ে।পরবর্তীতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে গত ৮ এপ্রিল জাহাজটি কেপটাউনের উদ্দেশ্যে রাস আল খায়ের ত্যাগ করলেও ১০ এপ্রিল হরমুজ পাড়ি দিতে গিয়ে পুনরায় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে। নিরুপায় হয়ে জাহাজটি ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নেয়। সর্বশেষ ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘ ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জাহাজটি আজ রাতে হরমুজ প্রণালী পার হতে সমর্থ হয়।২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটিতে কর্মরত ৩১ জন ক্রু-এর সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, আমাদের নাবিকদের সীমাহীন সাহসিকতা, সুনিপুণ নৌ-কৌশল এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনায় ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ এক চরম সংকটময় পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই স্পর্শকাতর যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়ে তারা যে অসীম ধৈর্য দেখিয়েছেন, তা বিশ্ব মেরিটাইম খাতে বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।কমডোর মালেক জানান, দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পুরো সংকটকালীন সময়ে জাহাজের ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের মনোবল সমুন্নত রাখতে বিএসসির পক্ষ থেকে সব ধরণের আপদকালীন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। জাহাজে সুপেয় পানি, খাবার, রসদ ও জ্বালানি তেলের মতো প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহে কখনোই কোনো ঘাটতি হতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধার অতিরিক্ত হিসেবে দৈনিক ৫ মার্কিন ডলার বিশেষ মিল অ্যালাউন্স, ঈদের বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য বিশেষ ‘ওয়ার ওয়েজ’ (War Wage) প্রদান করা হয়েছে।

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে  মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা, বাতিল ৬৪৭৬ জনের নাম

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা, বাতিল ৬৪৭৬ জনের নাম

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে

নীলফামারীকে পাখিদের অভয়ারণ্য নগরী গড়ার উদ্যোগ

নীলফামারীকে পাখিদের অভয়ারণ্য নগরী গড়ার উদ্যোগ

৮০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতিতে শেষ হলো অর্থবছর

৮০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতিতে শেষ হলো অর্থবছর

ইরানের বিদায়ের ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

ইরানের বিদায়ের ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

ঈশ্বরদীতে অগ্রদূত সংস্থার নতুন অফিস ও প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (TOT) কার্যক্রমের উদ্বোধন

ঈশ্বরদীতে অগ্রদূত সংস্থার নতুন অফিস ও প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (TOT) কার্যক্রমের উদ্বোধন

মোজাম্মেল হক চৌধুরীর রোগমুক্তি কামনায় হাসপাতালে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা

মোজাম্মেল হক চৌধুরীর রোগমুক্তি কামনায় হাসপাতালে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা

কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

শাহজালালে গোপন কায়দায় আনা প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণের চালান জব্দ

শাহজালালে গোপন কায়দায় আনা প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণের চালান জব্দ

চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার যুবদল নেতা শামীম বহিষ্কার না হওয়ায় ক্ষোভ

চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার যুবদল নেতা শামীম বহিষ্কার না হওয়ায় ক্ষোভ

সিংড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬৮৬ কৃষকের পাশে সরকার, বিতরণ করা হলো চাল

সিংড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬৮৬ কৃষকের পাশে সরকার, বিতরণ করা হলো চাল

নোয়াখালী বেগমগঞ্জে পূর্বের শত্রুতার জের ধরে দুই ভাইকে অপহরণ করে  মুক্তিপণ দাবি

নোয়াখালী বেগমগঞ্জে পূর্বের শত্রুতার জের ধরে দুই ভাইকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি

চাঁদাবাজ 'বোমা সেলিম' ও তার বাহিনীর বিচারের দাবিতে উত্তাল নরসিংদী

চাঁদাবাজ 'বোমা সেলিম' ও তার বাহিনীর বিচারের দাবিতে উত্তাল নরসিংদী

কোন ভিডিও নেই !
কোন ভিডিও নেই !

মোজাম্মেল হক চৌধুরীর রোগমুক্তি কামনায় হাসপাতালে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিবের চিকিৎসার খোঁজ নিলেন যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারানিজস্ব প্রতিবেদক:হৃদরোগে আক্রান্ত বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃবৃন্দ।বৃহস্পতিবার সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক যুবায়ের সিকদার, দপ্তর সম্পাদক তুহিন ভূঁইয়াসহ অন্যান্য নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে তার আশু রোগমুক্তি ও সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন।এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, যাত্রী অধিকার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর দীর্ঘদিনের অবদান অনস্বীকার্য। তারা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং দেশবাসী, শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ী, সমর্থক ও ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।উল্লেখ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার এনজিওগ্রাম সম্পন্ন করা হয়েছে হয়েছে। পরে হাসপাতাল থেকে তাকে রিলিজ দেওয়া হয়।

৯২% ইসরায়েলি মনে করেন যুদ্ধে 'বিজয়ী ইরান

ইসরায়েলে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতা ঘিরে জনমতের চিত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ ইসরায়েলি মনে করেন, ইরানই এই সংঘাতের কৌশলগত বিজয়ী।হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় আগাম ইনস্টিটিউট পরিচালিত ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, ৯২.১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুদ্ধ ও পরবর্তী চুক্তির ফলে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।একইসঙ্গে, ৮২.৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এই সামরিক অভিযান ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকে দুর্বল করেছে এবং ৮৬ শতাংশ উত্তরদাতা যুদ্ধের সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।জরিপে আরও উঠে এসেছে, ৭২.৫ শতাংশ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সেই দাবির প্রতি আস্থা রাখেন না, যেখানে তিনি বলেছিলেন—ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করেছে এবং একটি অস্তিত্বগত হুমকি দূর করেছে।পাশাপাশি ৮৭.৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইসরায়েল হয় তার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, নয়তো 'আংশিকভাবে সফল' হয়েছে।নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়েও জনমত বিভক্ত ও সমালোচনামুখর। জরিপ অনুযায়ী, ৫৬.৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই সামরিক অভিযানের ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা ছিল দুর্বল বা ব্যর্থ।অন্যদিকে, দেশটির সার্বিক নিরাপত্তা নীতির ভবিষ্যৎ দিক নিয়েও ভিন্ন মত রয়েছে। জরিপে দেখা যায়, ৪৮.২ শতাংশ ইসরায়েলি, হিজবুল্লাহ'র বিরুদ্ধে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান সমর্থন করেন, এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ঝুঁকি থাকলেও।

সব বিভাগের খবর

হরমুজ পাড়ি দিলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ চার মাস ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ অবশেষে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৩টার দিকে জাহাজটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। বর্তমানে জ্বালানি বা বাংকারিং নেওয়ার জন্য জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।বিএসসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর জাহাজটি এখন পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।বিএসসি’র তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। পরে এটি কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক পরাশক্তি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরপরই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।গত ১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় বিএসসি জাহাজটিকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার জন্য সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জাহাজটি রাস আল খায়ের বন্দরেই আটকে পড়ে।পরবর্তীতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে গত ৮ এপ্রিল জাহাজটি কেপটাউনের উদ্দেশ্যে রাস আল খায়ের ত্যাগ করলেও ১০ এপ্রিল হরমুজ পাড়ি দিতে গিয়ে পুনরায় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে। নিরুপায় হয়ে জাহাজটি ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নেয়। সর্বশেষ ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘ ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জাহাজটি আজ রাতে হরমুজ প্রণালী পার হতে সমর্থ হয়।২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটিতে কর্মরত ৩১ জন ক্রু-এর সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, আমাদের নাবিকদের সীমাহীন সাহসিকতা, সুনিপুণ নৌ-কৌশল এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনায় ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ এক চরম সংকটময় পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই স্পর্শকাতর যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়ে তারা যে অসীম ধৈর্য দেখিয়েছেন, তা বিশ্ব মেরিটাইম খাতে বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।কমডোর মালেক জানান, দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পুরো সংকটকালীন সময়ে জাহাজের ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের মনোবল সমুন্নত রাখতে বিএসসির পক্ষ থেকে সব ধরণের আপদকালীন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। জাহাজে সুপেয় পানি, খাবার, রসদ ও জ্বালানি তেলের মতো প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহে কখনোই কোনো ঘাটতি হতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধার অতিরিক্ত হিসেবে দৈনিক ৫ মার্কিন ডলার বিশেষ মিল অ্যালাউন্স, ঈদের বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য বিশেষ ‘ওয়ার ওয়েজ’ (War Wage) প্রদান করা হয়েছে।

খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

সরকার দেশের সব খেলাপি ঋণ আদায় করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেগুলো পূরণ করার উদ্যোগ নিয়েছি।বুধবার (২৭ মে) বিকেলে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়সভায় তিনি এ কথা জানান। তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ২০ বছরে বাংলাদেশের যত টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগ খেলাপি হয়েছে। এই পরিসংখ্যানটা দেখে বোঝা যায় বিগত সরকার ব্যাংক লুট করার জন্য সহযোগিতা করেছে। আর সেই ঋণের বোঝা এখন জাতিকে বহন করতে হচ্ছে।জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, লোকদের ভয় দেখানো, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জোর করে নির্বাচন করা হয়েছে। আগস্ট মাসে পালিয়ে গেছে। এত অপমান আর অসম্মানজনকভাবে পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রনায়ককে পালিয়ে যেতে হয়নি।আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিকদার হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ারবাজারে লুটপাটের সুযোগ দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী

শেয়ারবাজারে কোনো ধরনের লুটপাটের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে যেমন শেয়ারবাজারে অনিয়মের সুযোগ ছিল না, বর্তমান সময়েও কাউকে সে সুযোগ দেওয়া হবে না।বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ-এর ত্রয়োদশ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এদিন তিনি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ সংশোধনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’–এর ওপর বিশেষ কমিটির সুপারিশ বিবেচনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য পুঁজিবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের কথা উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকার বেশি লুটপাট হয়েছে।রুমিন ফারহানা আরও বলেন, শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।জবাবে অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যের সঙ্গে আংশিক একমত পোষণ করলেও বিলটি পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই বলে মত দেন। তিনি বলেন, বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে বিলটি পরীক্ষা করেছে, তাই আবার জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রয়োজন নেই। পরে কণ্ঠভোটে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।একই অধিবেশনে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর নিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক নিয়োগ ও বিদায়ের ঘটনাগুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গভর্নরের পারফরম্যান্স আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো এবং আর্থিক খাতে রাজনৈতিক নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান রয়েছে।এ সময় বিরোধী দলীয় উপনেতা ও কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার কারণে বর্তমান গভর্নরকে পরিবর্তন করা হবে কি না। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো দলকে সমর্থন করলেই কেউ দলীয় ব্যক্তি হয়ে যান না।অধিবেশনের শেষ দিকে ‘বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সংশোধন বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। তবে এ বিলসহ আলোচিত অন্যান্য বিল নিয়েও বিরোধী দলের আপত্তি ছিল।

অস্বাভাবিক হারে বাড়বে তেলের দাম, কটাক্ষ ইরানি স্পিকারের

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে কটাক্ষ করেছেন মোহাম্মদ বাঘের  কালিবাফ, যিনি ইরানের পার্লামেন্ট-এর স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর নীতির সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে।তিনি মন্তব্য করেন, “বিশ্বের কিছু শক্তিধর দেশ নিজেদের স্বার্থে এমন নীতি গ্রহণ করছে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে তেলের দামে, যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।” তার এই বক্তব্যকে অনেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি কটাক্ষ হিসেবেই দেখছেন।বিশেষ করে ইরান-এর ওপর দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা তেলের বাজারকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানি স্পিকার ইঙ্গিত দেন, যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে।এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে। সরবরাহ কমে যাওয়া, উৎপাদন সীমিত রাখা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দাম বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।অন্যদিকে, পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের এই মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না বলেই মনে হচ্ছে। তারা বরং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তবতা হলো—বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে সামান্য পরিবর্তনও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হতে পারে।ইরানি স্পিকার আরও বলেন, “যারা মনে করছে তারা একতরফাভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তারা ভুল করছে। জ্বালানি বাজার একটি জটিল কাঠামো, যেখানে প্রতিটি দেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।” তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি রাজনীতির প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।এদিকে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যেও তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ, উৎপাদন ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের মূল্যও বেড়ে যায়, যা সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে।বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র পথ হতে পারে, যা তেলের বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে। অন্যথায়, ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির মুখে পড়তে পারে বিশ্ব। সব মিলিয়ে, মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ-এর এই মন্তব্য বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী পদক্ষেপ নেয়।

হরমুজ প্রণালী / নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা। বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরান নাকি কৌশলগত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘খুলে রাখতে’ যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে—এমন একটি দাবি সামনে এনেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । তার এই বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা ও বিশ্লেষণ। হরমুজ প্রনালী  বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট, যার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। ফলে এই প্রণালীর নিরাপত্তা ও উন্মুক্ততা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বিভিন্ন সময় এই প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির সময়ে। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসনের সময় ইরান পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছিল, যাতে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা যায়। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি, তবুও তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের দাবি সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা সবসময় নিজেদের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের মন্তব্য মূলত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে প্রভাবিত করার একটি কৌশল হতে পারে। বিশেষ করে United States-এর রাজনীতিতে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে এ ধরনের বক্তব্য আরও বেশি শোনা যায়। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও এতে নতুন মাত্রা পেতে পারে। এদিকে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল। বিভিন্ন সময় জাহাজে হামলা, ড্রোন নজরদারি ও সামরিক মহড়ার কারণে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে এই প্রণালীকে নিরাপদ রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছে, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। সবমিলিয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর এই দাবি নতুন করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জটিলতা সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো প্রমাণ বা যৌথ বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবুও বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন দেখার বিষয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তামাক খাতে হারিয়েছে ৮৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব

তামাক খাতের অসম কর কাঠামোর কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্র প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে বলে দাবি করেছে ন্যাশনাল সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।‘সিগারেট ইন্ডাস্ট্রি ওভারভিউ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাজারের একটি বড় অংশ কর জালের বাইরে চলে যাওয়া এবং অবৈধ সিগারেটের দাপট বেড়ে যাওয়ায় এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে সরকারকে।সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। এদিন প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আবুল খায়ের টোব্যাকোর কর্মকর্তা শেখ শাবাব আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিএটি, জাপান টোব্যাকো ও ফিলিপ মরিসের কর্মকর্তারা।শেখ শাবাব বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাতের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১৪ শতাংশ। অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটের পর বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ ভলিউম বা সিগারেট বিক্রির সক্ষমতা হারিয়ে গেছে। এই হারিয়ে যাওয়া ২০ শতাংশ ভলিউম থেকেই মূলত ৮,৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫ বছরে উচ্চবিত্তদের সিগারেটের কর মাত্র ২ শতাংশ বাড়লেও নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যবহৃত লো সেগমেন্ট বা কম দামি সিগারেটে কর বেড়েছে ১০ শতাংশ। বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ হলেও এই সেগমেন্টে দাম বাড়ানো হয়েছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। অতিরিক্ত কর বৃদ্ধির ফলে উৎপাদনকারীদের জন্য লো সেগমেন্ট এখন অলাভজনক হয়ে পড়েছে। যেখানে অন্যান্য উচ্চস্তরের সিগারেটের উৎপাদন মুনাফা ইতিবাচক, সেখানে নিম্নস্তরের সিগারেটের উৎপাদন মুনাফা ২ শতাংশ কমে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে পৌঁছেছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাজারে বিক্রিত মোট সিগারেটের প্রায় ১৫ শতাংশই অবৈধ বা কর ফাঁকি দেওয়া। প্রায় ১৮০০ কোটি স্টিক সিগারেট এখন কর জালের বাইরে বিক্রি হচ্ছে। দেশে ৩০টিরও বেশি সিগারেট কারখানা এবং তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থাকলেও কঠোর নজরদারির অভাবে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ বিদেশি সিগারেটের বাজারে লাগাম টেনে ধরতে সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর বা এআর কোড অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। এর মাধ্যমে ভোক্তারা নিজেই যাচাই করতে পারবেন যে, পণ্যটি থেকে সরকার কর বা রাজস্ব পেয়েছে কি না।এনবিআর চেয়ারম্যান এ সময় সিগারেটের ওপর থাকা ৮৩ শতাংশ ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক এবং স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আর না বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। তবে দাম বাড়ানো হতে পারে জানিয়ে সেটি কীভাবে বা কত টাকা বাড়ানো যেতে পারে, তা নিয়ে উৎপাদনকারী এবং এনবিআরের নীতি অনুবিভাগের একত্রে কাজ করার কথা বলেন তিনি।এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা মোটামুটি ডিটারমাইন্ড (দৃঢ়প্রতিজ্ঞ) যে ৮৩ শতাংশের ওপরে (করভার) আর যাওয়ার সুযোগ নেই এবং সেটা নিয়ে আমরা চিন্তা করছি না। এখন নেক্সট যেটা করতে হবে, সেটা আইদার আপনারা যেটা বলেন যে সিগারেটের প্রাইস মেকানিজমটা ঠিক করে অথবা এটাকে পার স্টিক করে অথবা মিক্সড পদ্ধতি করে। মানে সারা পৃথিবীতে যতগুলো পদ্ধতি চালু আছে, সেগুলো যাচাই করব।নির্দিষ্ট হারে কর বসানোর ক্ষেত্রে সকল দেশি-বিদেশি কোম্পানি এবং বিএটি ও জেটিআই প্রতিনিধিরা ‘একমত’ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবাই একমত হওয়াটা তো কঠিন, সময়সাপেক্ষ এবং ঝামেলা লেগে যায়। সমস্যাটা হলো এই জায়গায় আরকি। যখনই বলা হয় সবাই একসাথে হব, একেকজনের ইন্টারেস্ট একেক দিকে টানে এবং এতে একমত হওয়া যায় না।এদিকে বাংলাদেশ বিড়ি শিল্প মালিক সমিতি তাদের বাজেট প্রস্তাবে বিড়ির লাইসেন্স থাকলেই ন্যূনতম কর প্রদানের সীমা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে।প্রস্তাবে বলা হয়, বিড়ি উৎপাদনে কাগজ একটি অন্যতম উপকরণ, যা বাংলাদেশে মাত্র দুটি কোম্পানি উৎপাদন করে। কাগজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র বিড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট কাগজ বিক্রয় করতে পারবে। কোনো অবস্থায় ট্রেডিং পর্যায়ে বিড়ির কাগজ বিক্রি করতে পারবে না। এ বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ ও মনিটরিং জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় ৩ মাস মেয়াদি কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধি এবং অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতিহারে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আজ দেশজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, কর্মসংস্থান বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে শীর্ষে, যেখানে ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করেছি। প্রশিক্ষণ শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রোফাইল খোলা হয়, যেখানে তাদের আয় ও অগ্রগতির তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। এ সময় তিনি নিজে ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প তুলে ধরেন। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে ৩৭৩ কোটি ৭৭ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদে ষষ্ঠ ব্যাচের প্রশিক্ষণে প্রতি জেলায় ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস যুবরা এই সুযোগ পেয়েছেন। জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করেছে। এখন পর্যন্ত ৫টি পর্যায়ে মোট ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বা ৮ হাজার ৬৪০ জন দেশি ও বিদেশি মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। তাদের উপার্জিত অর্থের পরিমাণ ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ ১৪ হাজার ৪১৬ টাকা। উপার্জনে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ব্যাচে ভর্তির জন্য ৯৭ হাজার ২২৯ জন আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৬১ হাজার ৫৮১ জনকে নির্বাচন করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার ৮০০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ৮ ঘণ্টা করে ৩ মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদারকিতে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।

‘স্বপ্ন’ সুপারশপের ডেটা হ্যাক, ১৮ কোটি টাকা দাবি হ্যাকারদের

‘স্বপ্ন’ সুপারশপের ডেটা হ্যাক, ১৮ কোটি টাকা দাবি হ্যাকারদের

দেশের জনপ্রিয় সুপারশপ 'স্বপ্ন'-এর গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাক করে বিপুল পরিমাণ তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। এসব তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘স্বপ্ন’। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির জানান, গ্রাহক তথ্য সুরক্ষা ও সংকট মোকাবিলায় তারা বর্তমানে দেশি-বিদেশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কারিগরি সহায়তা নিচ্ছেন। একদিকে দেশের জনপ্রিয় সুপারশপ চেইন ‘স্বপ্ন’-এর গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাক করে ১৮ কোটি টাকা (১৫ লাখ ডলার) দাবি করেছে হ্যাকাররা। অন্যদিকে এমটিএফই (MTFE) স্ক্যামের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া প্রায় ৩.৬২২ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেশের জনপ্রিয় সুপারশপ চেইন 'স্বপ্ন'-র গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত আগস্টে আমেরিকা থেকে হ্যাকাররা গ্রাহক তথ্য প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা এমটিএফই (MTFE) স্ক্যামের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে থেকে নেওয়া বিদেশে পাচার করা প্রায় ৩.৬২২ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ​পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ বশির উদ্দিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪.৪৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ এই অর্থ গত সপ্তাহে সুইফট (SWIFT) ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় ফেরত আনা হয়েছে।

এনইআইআর বাস্তবায়ন ভোক্তা সুরক্ষা ও বৈধ ব্যবসার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: এমআইওবি

এনইআইআর বাস্তবায়ন ভোক্তা সুরক্ষা ও বৈধ ব্যবসার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: এমআইওবি

দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে স্বচ্ছতা জোরদার, ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি) আজ একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল - ‘এনইআইআর-এর হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ’। সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব, ভোক্তা সুবিধা এবং দেশের মোবাইল ফোন ইকোসিস্টেমে এর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানানো হয় এবং এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এতে এমআইওবি’র সদস্যবৃন্দসহ শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এমআইওবি জানায়, সরকার ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পাশাপাশি বৈধ আমদানিকে উৎসাহিত এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক হ্রাসের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সময়োপযোগী ও ইতিবাচক। সংগঠনটির মতে, এসব নীতিগত উদ্যোগ মোবাইল ফোন শিল্পে দীর্ঘদিনের অনিয়ম কমাতে এবং একটি সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। আলোচনায় বলা হয়, এনইআইআর কার্যকর হওয়ার ফলে অবৈধ, নকল ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, যা সরাসরি ভোক্তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে অবৈধ আইএমইআই ব্যবহার বন্ধ হওয়ায় ফোন ক্লোনিং, প্রতারণা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। আলোচকরা আরও বলেন, এই উদ্যোগ বাজারে বৈধ ব্যবসা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। এমআইওবি’র তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১৮টি স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এই খাতে সরাসরি ৫০ হাজার দক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি ডিলার, ডিএসআর, সার্ভিস ও খুচরা বিক্রয়সহ আরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী শ্রমিক সক্রিয়ভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে এই শিল্প থেকে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর, মজুরি ও ইউটিলিটি বিল আয় করছে। তবে এমআইওবি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানায়, এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কিছু অবৈধ স্মার্টফোন ব্যবসায়ীর সহিংস ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় একটি সীমিত গোষ্ঠী-যারা দেশের প্রায় ১২ হাজার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র এক হাজার থেকে দেড় হাজার, স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক হ্রাসের দাবি মেনে নেওয়ার পরও বেআইনি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে। এমআইওবি জানায়, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে বহিরাগতদের এনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুর, শিশুদের ব্যবহার করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ মোবাইল ফোনের দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সংগঠনটির মতে, আইনবহির্ভূত এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করছে না, বরং দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) ওপর নির্ভরশীল স্মার্টফোন শিল্পে এ ধরনের অস্থিরতা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এই অনিশ্চয়তা শুধু চলমান বিনিয়োগ নয়, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ প্রবাহ ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আগ্রহকেও নিরুৎসাহিত করতে পারে। এমআইওবি মনে করে, যেকোনো নীতিগত মতভেদ শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে সমাধান হওয়া উচিত এবং বৈধ ব্যবসা ও বিনিয়োগ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ জরুরি। এ প্রসঙ্গে এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, “এনইআইআর বাস্তবায়ন দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অবৈধ ও নকল মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং বাজারে বৈধ ব্যবসা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে। আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বিটিআরসি কার্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুরসহ যেকোনো সহিংস ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। নীতিগত ধারাবাহিকতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকলে স্মার্টফোন শিল্প ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।”

সুন্দরবনে অভয়াশ্রম কমানোর দাবীতে জেলেদের মানববন্ধন

বাগেরহাটের শরণখোলায় পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ৮০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য ও অভয়াশ্রম থাকলেও সাতক্ষীরাও চাঁদপাই রেঞ্জ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ অভয়াশ্রম এ বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল সকল মৎস্য ও পেশাজীবিবৃন্দ।  দুই অক্টোবর সকাল দশটায়  শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করায় ফুঁসে উঠেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা। তারা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের দুই রেঞ্জের জন্য দুই ধরনের আইন কখনোই তারা মেনে নিবেন না। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে যেখানে ৩০-৪০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে শরণখোলা রেঞ্জে ৮০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য শরণখোলাবাসী কখনোই মেনে নিবে না। তাছাড়া বর্তমানে শরণখোলা রেঞ্জে যতটুকু এলাকা অবমুক্ত রয়েছে তার তুলনায় সুন্দরবনে বৈধভাবে প্রবেশ করা জেলেদের সংখ্যা অনেক। ফলে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না অধিকাংশ জেলেদের জালে। অতিদ্রুত যদি অভয়ারণ্য এলাকা কমিয়ে অন্তত ৫০ ভাগ না করা হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহনের কথা বলেন তারা। এসময়  পেশাজীবিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাউথখালি ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি শহীদুল ইসলাম লিটন, মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ সেলিম খান, মোঃ খলিল হাওলাদার, মোঃ হালিম খান,  রফিকুল হাওলাদার ও শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান সুজন। এ ব্যাপারে পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল চৌধুরী বলেন, অন্যান্য রেঞ্জের তুলনায় শরণখোলায় অভয়াশ্রম ও অভয়ারণ্য এলাকা বেশি। এখানে জেলেদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক সময় পাস পারমিট নেওয়া জেলেদের বিপাকে পড়তে হয়। জেলেদের দাবি কিছুটা হলেও যৌক্তিক। তবে এ বিষয়টি নিরশন এর দায়িত্ব বনবিভাগ ও বন মন্ত্রণালয়ের।

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ডেস্ক নিউজ: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী থানায় গিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী স্বামী লিটন শেখ (৪৬) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোরেলগঞ্জের বনগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত সাইম শেখের ছেলে লিটন শেখের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দাম্পত্য জীবন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত পারিবারিক কলহ চলছিল। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় যখন লিটন শেখ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলে, তখন তার স্ত্রী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে ফেলে। ঘটনায় লিটন শেখের চিৎকার শুনে তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ওই অঙ্গটির প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরদিন সকালে অভিযুক্ত নারী নিজেই থানায় এসে অপরাধ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো শ্রীপুর গ্রাম ও আশপাশে এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ইরানের বিদায়ের ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

ইরানের বিদায়ের ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরানি-আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাভেহ লতফোল্লাহ আফরাসিয়াবি এ মামলা করেন।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় আফরাসিয়াবি দাবি করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মিশরের বিপক্ষে ইরানের শেষ মুহূর্তের একটি গোল বিতর্কিতভাবে বাতিল করে দলটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে শেষ ৩২ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।তিনি কোটি কোটি ইরানি নাগরিক ও ইরানি-আমেরিকান সমর্থকের পক্ষে ক্লাস-অ্যাকশন মামলা করার অনুমতিও চেয়েছেন। তার অভিযোগ, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ব্যবহার করে নেওয়া ওই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে জয় ও নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা।ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে শোজা খলিলজাদেহ ইরানের হয়ে যে গোলটি করেছিলেন, তা ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয় এবং সেই সিদ্ধান্তের পরই ইরানের বিশ্বকাপে টিকে থাকার আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। সে সময় বার্তা সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছিল, ভিএআর পর্যালোচনার ভিত্তিতে গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়।মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ফিফা ইরানের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে এবং দলটির জন্য ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে এ মামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

প্রবাসীদের নিয়ে সরকারের নতুন উদ্যোগ

প্রবাসীদের নিয়ে সরকারের নতুন উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, প্রবাসীদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেন ড্রেন’ থেকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা যেন দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন, সে জন্য নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তারা দেশে বিনিয়োগ করতে পারবেন, জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তর করতে পারবেন এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে শুধু ব্লু-কলার নয়, হোয়াইট-কলার পেশার ক্ষেত্রেও প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চায় সরকার। একই সঙ্গে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও দক্ষতাভিত্তিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের বিদেশে কর্মসংস্থান শুরু হয় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়, এবং পরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমে এটি আরও বিস্তৃত হয়। তার ভাষায়, অভিবাসন এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করার বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগী কমানো এবং বাজার বহুমুখীকরণ অন্যতম।প্রবাসীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন বাজার খোঁজা এবং নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রবাসী কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের অবস্থান শনাক্তকরণ ও সেবাদান আরও সহজ হবে।ভিসা ও শিক্ষা সনদকে ডিজিটাল ও কিউআর কোডভিত্তিক করার উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যাতে প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও অনুসরণযোগ্য হয়।তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের বিদেশে স্বল্পমেয়াদি কোর্স বা ভাষা শিক্ষার জন্য ঋণ সুবিধা চালু করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে।সব মিলিয়ে, সরকারের লক্ষ্য হলো অভিবাসনকে একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করা, যেখানে দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, ভাষাগত সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের বৈশ্বিক বাজারে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা যাবে।

সালমান ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ

‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ / সালমান ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ

অক্ষয় কুমার অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত কমেডি চলচ্চিত্র ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ আগামী ২৬ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। তারকাবহুল কাস্টের কারণে ছবিটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও তুঙ্গে। তবে মুক্তির আগে সালমান খানের সম্ভাব্য ক্যামিও নিয়ে যে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত সত্যি হচ্ছে না।ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটিতে সালমান খানের কোনো বিশেষ উপস্থিতি বা ক্যামিও চরিত্র নেই। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।সূত্রটির দাবি, সালমান খান বর্তমানে একাধিক পূর্বনির্ধারিত শুটিং ও পেশাগত কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’–এর সঙ্গে তার যুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ হয়নি।সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, “সালমান এই মুহূর্তে নিজের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত। ছবিতে তার উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।” মূলত অভিনেতা ও জনপ্রিয় কমেডিয়ান কৃষ্ণা অভিষেকের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই জল্পনার সূত্রপাত। সম্প্রতি ‘লাফটার শেফস’ অনুষ্ঠানের সেটে পাপারাজ্জিদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণা রহস্যময় ভঙ্গিতে ইঙ্গিত দেন যে, ছবিতে দর্শকদের জন্য বড় কোনো চমক অপেক্ষা করছে।এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, সেই চমক হতে পারেন সালমান খান। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ছবিতে ‘ভাইজান’-এর কোনো ক্যামিও থাকছে না। তবে ক্যামিও না থাকলেও বিশাল তারকাবহুল এই কমেডি সিনেমা ঘিরে দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। মুক্তির অপেক্ষায় এখন ভক্তরা।

সাধারণ গ্রাহকদের পকেট কাটছে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো

টোল-ফ্রি কাস্টমার সার্ভিসের অভাব / সাধারণ গ্রাহকদের পকেট কাটছে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো

দেশে সাধারণ গ্রাহক সেবা বা কাস্টমার সার্ভিসের নামে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এক অভিনব উৎসব চলছে। কোনো জরুরি প্রয়োজনে বা অভিযোগ জানাতে গ্রাহকরা যখন বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করেন, তখন টোল-ফ্রি নম্বর না থাকায় তাদের মোবাইল ব্যালেন্স থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ টেলিকম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ফোন প্ল্যানে টোল-ফ্রি নম্বরের কোনো সুবিধা নেই। ফলে গ্রাহকরা বাধ্য হয়ে স্ট্যান্ডার্ড মোবাইল ব্যালেন্স খরচ করে ল্যান্ডলাইন বা সাধারণ নম্বরে ডায়াল করছেন, যা সরাসরি তাদের ওপর বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।বিদেশী কোম্পানির মুনাফা ও সরকারের উদাসীনতাঅভিযোগ উঠেছে, এই হরিলুটের প্রক্রিয়াটি বাজারে প্রকাশ্যে চললেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা সরকার এ ব্যাপারে রহস্যজনকভাবে নীরব। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার এসব খাত থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব পায় বলেই এই জনবিদ্বেষী প্রক্রিয়ার দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে না। এর ফলে মূলত বিদেশী কোম্পানিগুলোই মাত্রাতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছে এবং দেশের সাধারণ জনগণের অর্থ লুটে নিচ্ছে।বিকল্পের খোঁজে গ্রাহকেরা টাকা কাটার এই ভোগান্তি এড়াতে অনেক সচেতন গ্রাহক এখন লাইভ চ্যাট বা ইমেলের মতো ডিজিটাল মাধ্যমগুলো ব্যবহার করছেন। তবে এগুলো সময়সাপেক্ষ হওয়ায় তাৎক্ষণিক বা জরুরি সমস্যার সমাধানে সাধারণ মানুষ এখনো চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।সমতার দাবি ও আইনি ব্যবস্থার আহ্বানভোক্তা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে চুক্তিভিত্তিক সমতা থাকা জরুরি। চুক্তির সামান্য শর্ত ভঙ্গের জন্য যেভাবে সাধারণ গ্রাহকদের জরিমানা করা হয়, ঠিক একইভাবে সেবা দিতে ব্যর্থ হলে বা গ্রাহককে হয়রানি করলে এসব বড় প্রতিষ্ঠানকেও সমপরিমাণ জরিমানা বা অনুরূপ দণ্ড ভোগ করতে হবে।অবিলম্বে এই শোষণমূলক প্রক্রিয়া বিলুপ্ত করে বিদেশের মতো দেশের সকল নাগরিক পরিষেবা টোল-ফ্রি নম্বরে রূপান্তর করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ এবং আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।

প্রবাসীদের নিয়ে সরকারের নতুন উদ্যোগ

প্রবাসীদের নিয়ে সরকারের নতুন উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, প্রবাসীদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেন ড্রেন’ থেকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা যেন দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন, সে জন্য নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তারা দেশে বিনিয়োগ করতে পারবেন, জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তর করতে পারবেন এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে শুধু ব্লু-কলার নয়, হোয়াইট-কলার পেশার ক্ষেত্রেও প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চায় সরকার। একই সঙ্গে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও দক্ষতাভিত্তিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের বিদেশে কর্মসংস্থান শুরু হয় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়, এবং পরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমে এটি আরও বিস্তৃত হয়। তার ভাষায়, অভিবাসন এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করার বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগী কমানো এবং বাজার বহুমুখীকরণ অন্যতম।প্রবাসীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন বাজার খোঁজা এবং নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রবাসী কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের অবস্থান শনাক্তকরণ ও সেবাদান আরও সহজ হবে।ভিসা ও শিক্ষা সনদকে ডিজিটাল ও কিউআর কোডভিত্তিক করার উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যাতে প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও অনুসরণযোগ্য হয়।তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের বিদেশে স্বল্পমেয়াদি কোর্স বা ভাষা শিক্ষার জন্য ঋণ সুবিধা চালু করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে।সব মিলিয়ে, সরকারের লক্ষ্য হলো অভিবাসনকে একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করা, যেখানে দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, ভাষাগত সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের বৈশ্বিক বাজারে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা যাবে।

ইরানের বিদায়ের ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

ইরানের বিদায়ের ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরানি-আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাভেহ লতফোল্লাহ আফরাসিয়াবি এ মামলা করেন।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় আফরাসিয়াবি দাবি করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মিশরের বিপক্ষে ইরানের শেষ মুহূর্তের একটি গোল বিতর্কিতভাবে বাতিল করে দলটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে শেষ ৩২ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।তিনি কোটি কোটি ইরানি নাগরিক ও ইরানি-আমেরিকান সমর্থকের পক্ষে ক্লাস-অ্যাকশন মামলা করার অনুমতিও চেয়েছেন। তার অভিযোগ, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ব্যবহার করে নেওয়া ওই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে জয় ও নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা।ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে শোজা খলিলজাদেহ ইরানের হয়ে যে গোলটি করেছিলেন, তা ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয় এবং সেই সিদ্ধান্তের পরই ইরানের বিশ্বকাপে টিকে থাকার আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। সে সময় বার্তা সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছিল, ভিএআর পর্যালোচনার ভিত্তিতে গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়।মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ফিফা ইরানের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে এবং দলটির জন্য ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে এ মামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

টোল-ফ্রি কাস্টমার সার্ভিসের অভাব / সাধারণ গ্রাহকদের পকেট কাটছে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো

দেশে সাধারণ গ্রাহক সেবা বা কাস্টমার সার্ভিসের নামে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এক অভিনব উৎসব চলছে। কোনো জরুরি প্রয়োজনে বা অভিযোগ জানাতে গ্রাহকরা যখন বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করেন, তখন টোল-ফ্রি নম্বর না থাকায় তাদের মোবাইল ব্যালেন্স থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ টেলিকম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ফোন প্ল্যানে টোল-ফ্রি নম্বরের কোনো সুবিধা নেই। ফলে গ্রাহকরা বাধ্য হয়ে স্ট্যান্ডার্ড মোবাইল ব্যালেন্স খরচ করে ল্যান্ডলাইন বা সাধারণ নম্বরে ডায়াল করছেন, যা সরাসরি তাদের ওপর বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।বিদেশী কোম্পানির মুনাফা ও সরকারের উদাসীনতাঅভিযোগ উঠেছে, এই হরিলুটের প্রক্রিয়াটি বাজারে প্রকাশ্যে চললেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা সরকার এ ব্যাপারে রহস্যজনকভাবে নীরব। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার এসব খাত থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব পায় বলেই এই জনবিদ্বেষী প্রক্রিয়ার দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে না। এর ফলে মূলত বিদেশী কোম্পানিগুলোই মাত্রাতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছে এবং দেশের সাধারণ জনগণের অর্থ লুটে নিচ্ছে।বিকল্পের খোঁজে গ্রাহকেরা টাকা কাটার এই ভোগান্তি এড়াতে অনেক সচেতন গ্রাহক এখন লাইভ চ্যাট বা ইমেলের মতো ডিজিটাল মাধ্যমগুলো ব্যবহার করছেন। তবে এগুলো সময়সাপেক্ষ হওয়ায় তাৎক্ষণিক বা জরুরি সমস্যার সমাধানে সাধারণ মানুষ এখনো চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।সমতার দাবি ও আইনি ব্যবস্থার আহ্বানভোক্তা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে চুক্তিভিত্তিক সমতা থাকা জরুরি। চুক্তির সামান্য শর্ত ভঙ্গের জন্য যেভাবে সাধারণ গ্রাহকদের জরিমানা করা হয়, ঠিক একইভাবে সেবা দিতে ব্যর্থ হলে বা গ্রাহককে হয়রানি করলে এসব বড় প্রতিষ্ঠানকেও সমপরিমাণ জরিমানা বা অনুরূপ দণ্ড ভোগ করতে হবে।অবিলম্বে এই শোষণমূলক প্রক্রিয়া বিলুপ্ত করে বিদেশের মতো দেশের সকল নাগরিক পরিষেবা টোল-ফ্রি নম্বরে রূপান্তর করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ এবং আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।

১ ঘণ্টার ট্রেন ৩ ঘণ্টায়! / রেলের ঘড়িতে চলে না ‘তিতাস’

​রেলওয়ের চরম অব্যবস্থাপনা আর নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে নরসিংদী রেলস্টেশনে সাধারণ রেলযাত্রীদের ক্ষোভ এখন চরমে। বিশেষ করে ‘তিতাস কমিউটার’ ট্রেনটির ভয়াবহ সময় বিপর্যয় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন প্রতিদিন যাতায়াত করা শত শত সাধারণ যাত্রী।​ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, তিতাস কমিউটার ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছানোর কোনো তোয়াক্কাই করছে না। রেলওয়ের সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটির দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে নরসিংদী রেলস্টেশনে উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই ট্রেনটি এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে স্টেশনে আসে।​গতকালের চিত্র উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ এক যাত্রী জানান, নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিট হলেও ট্রেনটি নরসিংদী এসে পৌঁছায় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে। অর্থাৎ ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট বিলম্বে ট্রেনটি স্টেশনে আসে। এখানেই শেষ নয়, নরসিংদী থেকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছাতে ট্রেনটি সময় নেয় বিকেল ৫টা। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের এই পথটুকু পাড়ি দিতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।​আসন কেটেও দাঁড়াতে হচ্ছে যাত্রীদের:নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীরা জানান, ট্রেন দীর্ঘ সময় বিলম্বে আসায় স্টেশনে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ যাত্রী জমা হয়। ফলে ট্রেন আসার সাথে সাথেই বগিতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, অনেক যাত্রী আগে থেকে বৈধ টিকিট কেটে আসন (সিট) বরাদ্দ পাওয়ার পরও ভিড়ের কারণে নিজেদের নির্ধারিত আসনের কাছে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না। নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই ভোগান্তি আরও প্রকট রূপ নেয়।​যাত্রীদের দাবি:স্টেশনে অপেক্ষমাণ ক্ষুব্ধ যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রেলের টাইম মেন্টেনেন্স নেই। তিতাস কমিউটার বেশিরভাগ সময়ই শিডিউল মেলাতে পারে না। যদি ট্রেনটি ঠিক সময়ে আসতো, তাহলে স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রী জমা হতো না এবং আমাদের এই চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো না।"​সাধারণ যাত্রীদের একটাই দাবি, রেল কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে তিতাস কমিউটারের এই দীর্ঘদিনের শিডিউল বিপর্যয় দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করে।

ওয়াশরুম ব্যবহারেও গুণতে হচ্ছে টাকা / কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বৃষ্টিতে পানি জমার ভোগান্তি

দেশের সবচেয়ে বড় এবং ব্যস্ততম রেলওয়ে স্টেশন রাজধানীর কমলাপুর। প্রতিদিন এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন লাখো মানুষ। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী এই স্টেশনটি এখন সাধারণ যাত্রীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই স্টেশনের প্রবেশপথ ও আশপাশে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা, আর ভেতরে সাধারণ যাত্রীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত ও বিনামূল্যে ব্যবহারের উপযোগী ওয়াশরুম।​বৃষ্টি আসলেই চরম জলাবদ্ধতাসরেজমিনে দেখা গেছে, একটু মাঝারি কিংবা ভারী বৃষ্টি হলেই কমলাপুর স্টেশন এলাকার নিচু অংশগুলোতে পানি জমে যায়। ট্রেন ধরতে আসা সাধারণ যাত্রীদের ব্যাগ-লাগেজ মাথায় নিয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই পানি জমে থাকে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।​টাকা ছাড়া মেলে না ওয়াশরুম সেবাযাত্রীদের ক্ষোভের অন্যতম বড় কারণ স্টেশনের ওয়াশরুম বা টয়লেট ব্যবস্থা। এত বিশাল একটি স্টেশনে সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ব্যবহারের মতো উন্নত কোনো ওয়াশরুমের সুব্যবস্থা নেই। প্ল্যাটফর্মে যে দু-একটি ওয়াশরুম সচল আছে, সেখানে প্রবেশ করলেই গুণতে হচ্ছে টাকা।​ক্ষুব্ধ এক যাত্রী বলেন: "আমরা টিকিটের পেছনে টাকা দিচ্ছি, সরকারের ট্যাক্স দিচ্ছি। অথচ স্টেশনে এসে প্রক্ষালন কক্ষ ব্যবহার করতেও আলাদা করে টাকা গুণতে হবে? টাকা না দিলে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয় না। সাধারণ নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত যাত্রীদের জন্য এটা রীতিমতো জুলুম।"​কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা যাত্রীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যা চলে আসলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো স্থায়ী নজরদারি নেই। জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে পর্যাপ্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুমের দাবি এখন সর্বস্তরের মানুষের। মেগা প্রজেক্টের এই যুগে দেশের প্রধান রেলস্টেশনের এমন জরাজীর্ণ ও বাণিজ্যিক রূপ কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন সাধারণ নাগরিকরা।

এবার ২৪ ঘন্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর রেকর্ড

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও হাম সন্দেহে রেকর্ড আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩০২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৯৩ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৫৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪৬৭ জন।১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৮৪২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৫ হাজার ১৫১ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।  গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।