ঢাকা    মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪
সর্বশেষ

জানিয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান / সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ছয় মাস বা ১৮০ দিন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই জনগণের সামনে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।  মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রেলপথ সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ইশতেহারে ঘোষিত আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন সেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রিক কমিউটার’ নামের নতুন এক জোড়া ট্রেন চালু করা হয়েছে।তিনি জানান, ১৮০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কী করছে, তার মূল্যায়ন চলছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে এজন্য একটি কমিটি রয়েছে। তিনি নিজেও ওই কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সবকিছু যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ১৮০ দিন শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণের সামনে বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে এক বছরের আলোচনার পর সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের আট হাজার ৪২৮টি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার এক হাজার ৫৪টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে একই সুবিধা পাবে।আরও পড়ুনযে কয়টারে পার, উঠায়া নিয়া যাও: শেখ হাসিনাযে কয়টারে পার, উঠায়া নিয়া যাও: শেখ হাসিনাস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশন জেলায় প্রথম বায়ো-ড্রাইং প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। এটি চালু হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।বর্জ্য থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি প্ল্যান্টটি একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।আরও দেখুনExecutive BranchSouth Asians & Diasporaসংবাদপত্র আর্কাইভসমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সামাজিক সুরক্ষাখাতে নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।তিনি জানান, পরীক্ষামূলক পাইলটিংয়ের অংশ হিসেবে গত ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হয়। জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৭০ হাজার ৮৬১টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে তথ্য সংগ্রহ শেষে আগামী ১০ অক্টোবর থেকে ধারাবাহিকভাবে সারা দেশে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।সরকারের ১৮০ দিন শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতির সামনে ভাষণ দেবেন কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর জনগণের সামনে তুলে ধরার সম্ভাবনা আছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ভূতুরে বিল ও বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে দিশেহারা জনজীবন

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখান থেকেই নতুন বাংলাদেশের পথ শুরু হবে। পথ হারিয়ে গেলে আমরা এখান থেকেই শুরু করব।বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।ড. ইউনূস বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আমাদের ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। ভবিষ্যতে কখনো আমরা পথ হারিয়ে ফেললে, নতুন বাংলাদেশের যাত্রা আবার এখান থেকেই শুরু হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘দেশের তরুণরা যেন এই স্মৃতির লেখক হয়, আমরা নতুন বাংলাদেশ তৈরিতে চলে গেলাম।’অনুষ্ঠানের শেষদিকে উপস্থিত সবার প্রতি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখার আহ্বান জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন অমিতাভ বচ্চন

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখান থেকেই নতুন বাংলাদেশের পথ শুরু হবে। পথ হারিয়ে গেলে আমরা এখান থেকেই শুরু করব।বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।ড. ইউনূস বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আমাদের ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। ভবিষ্যতে কখনো আমরা পথ হারিয়ে ফেললে, নতুন বাংলাদেশের যাত্রা আবার এখান থেকেই শুরু হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘দেশের তরুণরা যেন এই স্মৃতির লেখক হয়, আমরা নতুন বাংলাদেশ তৈরিতে চলে গেলাম।’অনুষ্ঠানের শেষদিকে উপস্থিত সবার প্রতি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখার আহ্বান জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী আর্থ-সামাজিক মুক্তির ধারাবাহিক রূপরেখা / ১৯ দফা থেকে ৩১ দফা: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখান থেকেই নতুন বাংলাদেশের পথ শুরু হবে। পথ হারিয়ে গেলে আমরা এখান থেকেই শুরু করব।বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।ড. ইউনূস বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আমাদের ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। ভবিষ্যতে কখনো আমরা পথ হারিয়ে ফেললে, নতুন বাংলাদেশের যাত্রা আবার এখান থেকেই শুরু হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘দেশের তরুণরা যেন এই স্মৃতির লেখক হয়, আমরা নতুন বাংলাদেশ তৈরিতে চলে গেলাম।’অনুষ্ঠানের শেষদিকে উপস্থিত সবার প্রতি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখার আহ্বান জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে  মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা, বাতিল ৬৪৭৬ জনের নাম

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা, বাতিল ৬৪৭৬ জনের নাম

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে জনসম্পৃক্ত করতে গণমাধ্যমের সহায়তা প্রয়োজন: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে জনসম্পৃক্ত করতে গণমাধ্যমের সহায়তা প্রয়োজন: ডিএসসিসি প্রশাসক

লোডশেডিং বন্ধসহ চার দফা দাবিতে বরিশালে বাসদের বিক্ষোভ

লোডশেডিং বন্ধসহ চার দফা দাবিতে বরিশালে বাসদের বিক্ষোভ

সন্তান নিয়ে ১১ দিন ধরে অনশনে নারী

সন্তান নিয়ে ১১ দিন ধরে অনশনে নারী

সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া

৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া

ভূতুরে বিল ও বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে দিশেহারা জনজীবন

ভূতুরে বিল ও বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে দিশেহারা জনজীবন

ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন অমিতাভ বচ্চন

ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন অমিতাভ বচ্চন

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ

১৯ দফা থেকে ৩১ দফা: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১৯ দফা থেকে ৩১ দফা: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আমরা চাই ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে: প্রধানমন্ত্রী

আমরা চাই ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে: প্রধানমন্ত্রী

কোন ভিডিও নেই !
কোন ভিডিও নেই !

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে জনসম্পৃক্ত করতে গণমাধ্যমের সহায়তা প্রয়োজন: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে (ডিএসসিসি) আরও জনসম্পৃক্ত ও নাগরিকবান্ধব করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।তিনি বলেছেন, ঢাকাবাসীকে এই শহরকে নিজের শহর হিসেবে ভাবতে হবে। নগরবাসীর মধ্যে শহরের প্রতি মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধ তৈরি না হলে ঢাকার সার্বিক উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা কঠিন।সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনে বৃহত্তর ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের নবনির্বাচিত কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।ডিএসসিসি প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, “ঢাকাবাসীদের ঢাকাকে নিজের মনে করতে হবে। নইলে এই শহরের প্রতি দরদ তৈরি হবে না।” নগরবাসীর সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের সম্পর্ক আরও নিবিড় করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নাগরিকদের সম্পৃক্ততা ছাড়া একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।তিনি আরও বলেন, “আমি যদি মেয়র নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে ঢাকাবাসীদের জন্য আরও বেশি কিছু করতে পারব বলে আশা করছি। আপনারা এ ব্যাপারে পাশে থাকেন, আমিও আপনাদের পাশে থাকব।”মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমের সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নগরবাসীর সমস্যা, নাগরিক সেবা, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরার মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশন ও নাগরিকদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করা সম্ভব বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।সভায় বৃহত্তর ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নুরুদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোমিন হোসেন, সহসভাপতি এবিএম রফিকুর রহমান, সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক অনজন রহমান, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক সুমন ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক আতিকুল ইসলাম, জনকল্যাণ সম্পাদক নুরুন্নবী রবি এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য গ্যালমান শফি, লুৎফর রহমান, দেলোয়ার হোসেন বাদল ও কুশর ইয়াসির উপস্থিত ছিলেন।বৃহত্তর ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের নেতারা এ সময় ঢাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা এবং নগরবাসীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন।মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসির প্রশাসক ও সাংবাদিক নেতারা নগরবাসীর কল্যাণে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করছে সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর আদলে ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান। আজ শুক্রবার সৌদির উপকূলীয় বন্দরশহর জেদ্দায় স্বাক্ষর করা হবে এই চুক্তি।চুক্তির চূড়ান্ত নথি প্রস্তুত। সৌদি আরবের পক্ষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের পক্ষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের পক্ষে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনা ও প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ডমার্শাল আসিম মুনির গতকাল বৃহস্পতিবার এ উপলক্ষে জেদ্দায় পৌঁছেছেন। ৮ আগস্ট শনিবার পর্যন্ত সৌদিতে অবস্থান করবেন তারা। আজ শুক্রবার জেদ্দায় আসছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।এই চুক্তির সংঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের জন্য অনেক দিন ধরেই এই তিন দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং তার জেরে হরমুজ প্রণালিতে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা প্রস্তাবিত এ চুক্তিকে বাস্তব রূপ দিতে যাচ্ছে।"বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল, কিন্তু এই অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এটিকে ত্বরান্বিত করেছে," নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন ওই কর্মকর্তা।আরেকা কর্মকর্তা বলেছেন, প্রস্তাবিত এই জোটে অর্থ ও আঞ্চলিক প্রভাবের যোগান দেবে সৌদি, তুরস্ক প্রদান করবে তাদের অগ্রসর সামরিক প্রযুক্তি এবং ন্যাটোর সমপর্যায় বা মানের সামরিক শিল্পোৎপাদন ঘাঁটি এবং পাকিস্তান যোগান দেবে তার পারমাণবিক সক্ষমতা এবং দক্ষ সেনাবাহিনী।এর আগে ২০২৫ সালে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিল সৌদি আরব ও পাকিস্তান। এর একটি বড় কারণ— বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর দেশ। সেই চুক্তিরই সম্প্রসারণ ঘটবে তুরস্ক অন্তর্ভুক্ত হলে।

সব বিভাগের খবর

মোংলায় চীন বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন / ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলাকে ঘিরে বিদেশি বিনিয়োগের এক নতুন সম্ভাবনা হাতছানি দিতে শুরু করেছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর এ বন্দরকে যুগোপযোগী ও অত্যাধুনিক বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি এখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ায় পারস্পরিক উন্নয়ন সহযোগিতা ও জনশক্তি রপ্তানিতে ইতিবাচক আলোচনা সফল হওয়ার পর চীন সফর করেন তিনি। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে পারষ্পরিক  সহযোগিতার ভিত্তিতে বিনিয়োগের নতুন দুয়ার খুলে দেয় চীন।চীন সরকারের সাথে মোংলা বন্দর নিয়েও একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে বাংলাদেশ। গত ২৫ জুন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ সেমিনারে জানানো হয় মোংলা বন্দরের পাশে চীন-বাংলাদেশ মোংলা পোর্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের বিষয়ে চীন সরকার বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা করবে। সমঝোতা স্মারক সইয়ের চুক্তি অনুযায়ী  মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। একসময় ভারতের জন্য বরাদ্দ রাখা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ১১০ একর জমি এবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হল। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার অংশ হিসেবে একই জমি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারতের মনোনীত ডেভেলপার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি উন্নয়ন কাজ শুরু করতে না পারায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটির বরাদ্দ বাতিল করে।মোংলা বন্দরের উর্ধ্বতন উপব্যবস্থাপক (এসডিএম) মো. মাকরুজ্জামান বলেন,  চীন সরকারের এ পদক্ষেপ আমাদেশ দেশের বিনিয়োগ আকর্ষণ কৌশলে নতুন দিকের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে চীনা বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে।  এতে মোংলা বন্দর আরো গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরীর সুযোগ সৃষ্টি হবে।জানা গেছে, চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং আধুনিক লজিস্টিকস হাব নির্মাণে ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকারি হিসাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক রপ্তানি, কোল্ড-চেইন, গুদামজাতকরণ ও পরিবহন খাতেও ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে দেশ / বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের গন্তব্য: অর্থমন্ত্রী

দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।অর্থমন্ত্রী বলেন, কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রণীত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে বের করে সম্ভাবনার নতুন পথে এগিয়ে নেবে। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সেসব সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো যায়।তিনি বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ-সবই বাংলাদেশে আসছে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই বেশি, কারণ এখানে সমুদ্রবন্দর রয়েছে এবং এর ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্বও অনেক বেশি। এ কারণেই সরকারের পরিকল্পনায় চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।অর্থমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামকে একটি লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার প্রতিফলন এবারের বাজেটে রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের হাবে পরিণত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক করিডর ও লজিস্টিক হাব গড়ে উঠবে এবং বন্দরগুলোর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।মাতারবাড়িতেও বড় ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই বাজেট পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং সরকার যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করছে।বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন সহজ কাজ নয়। আগের সরকারগুলোর রেখে যাওয়া পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনীতি বর্তমানে কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তাই প্রথমে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে, এরপর সম্ভাবনার পথে এগোতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তৃতীয় বা চতুর্থ বছর থেকে দেশের কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধির পথচলা শুরু হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হবে। সরকার যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, দেশ ধীরে ধীরে সেদিকেই এগিয়ে যাবে। নতুন নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগও বাড়ছে। তাই বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য এবং এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান / এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সরকার ৩০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  তিনি বলেছেন, পণ্যমূল্য তদারকিতে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নজরদারি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও কার্যকর করা যায়।শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে।ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেও বলে জানান তিনি।পণ্যের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।এলপিজির মূল্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও কোথাও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও গণমাধ্যমে বিষয়টি আরও কিছুদিন গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার হলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম কমিয়ে আনবেন।রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রপ্তানি কমেছে। জ্বালানি-সংক্রান্ত কারণে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব পথে দেশে মাদক প্রবেশ করে, সেসব পথ বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে বহুতল ভবনের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চা-বাগান এলাকায় বর্তমানে থাকা পাঠদান কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে মন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে ইতিহাস

রেকর্ড দিয়ে শেষ হলো ২০২৫-২৬ অর্থবছর। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪ লাখ ৩৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকার বেশি। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স এর আগে কখনো আসেনি।আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়ায় প্রবাসীরা আগের তুলনায় বেশি বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করছেন। ফলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।এদিকে অর্থবছরের শেষ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জুনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে আগের বছরের জুনের তুলনায়ও রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত হিসাবে এ অঙ্ক কিছুটা বাড়তে পারে। এর আগে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের অক্টোবরে, তখন আসে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার।সংশ্লিষ্টদের মতে, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাঠান। ঈদ-পরবর্তী সময়ে সেই চাপ কমে যাওয়ায় জুন মাসে রেমিট্যান্সেও কিছুটা স্বাভাবিক নিম্নগতি দেখা দিয়েছে।সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্রে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার।রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

৮০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতিতে শেষ হলো অর্থবছর

শেষ মুহূর্তের জোরালো প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। তবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ঘাটতি থাকছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা।যদিও অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা ছিল, চলমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে কঠোর নজরদারি, কর ফাঁকি রোধে অভিযান, উন্নত পরিকল্পনা এবং কর পরিপালন (কমপ্লায়েন্স) জোরদারের ফলে সম্ভাব্য ঘাটতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।গত বুধবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ কৌশল নির্ধারণে এনবিআরের আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের টাস্কফোর্সগুলোর সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল তিতুমীরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী তিন বছরের জন্য একটি মধ্যমেয়াদি রাজস্ব কৌশল প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগামী তিন বছরের জন্য এমন একটি রাজস্ব কৌশল তৈরি করা হবে, যেখানে রাজস্ব আহরণের সম্ভাব্য উৎস এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হবে।তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুন পর্যন্ত রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। করের আওতা সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে।নবনিযুক্ত এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানান, বুধবার পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের শেষ দিনের হিসাব সমন্বয়ের পর আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা যুক্ত হবে। ফলে মোট রাজস্ব আদায় প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে।তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দিন থেকেই এনবিআর কাজ শুরু করেছে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে লিখিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং গত তিন মাসে টাস্কফোর্সগুলোর কার্যক্রম ইতিবাচক ফল দিয়েছে।এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগ ইতোমধ্যে তাদের রাজস্ব আহরণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। আয়কর বিভাগও শিগগিরই তাদের কৌশল চূড়ান্ত করবে।এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, নতুন বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি রাজস্ব বাড়াতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। টার্নওভারভিত্তিক ভ্যাটব্যবস্থা, খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহের ওপর ০.২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হরমুজ পাড়ি দিলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ চার মাস ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ অবশেষে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৩টার দিকে জাহাজটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। বর্তমানে জ্বালানি বা বাংকারিং নেওয়ার জন্য জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।বিএসসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর জাহাজটি এখন পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।বিএসসি’র তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। পরে এটি কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক পরাশক্তি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরপরই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।গত ১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় বিএসসি জাহাজটিকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার জন্য সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জাহাজটি রাস আল খায়ের বন্দরেই আটকে পড়ে।পরবর্তীতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে গত ৮ এপ্রিল জাহাজটি কেপটাউনের উদ্দেশ্যে রাস আল খায়ের ত্যাগ করলেও ১০ এপ্রিল হরমুজ পাড়ি দিতে গিয়ে পুনরায় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে। নিরুপায় হয়ে জাহাজটি ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নেয়। সর্বশেষ ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘ ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জাহাজটি আজ রাতে হরমুজ প্রণালী পার হতে সমর্থ হয়।২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটিতে কর্মরত ৩১ জন ক্রু-এর সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, আমাদের নাবিকদের সীমাহীন সাহসিকতা, সুনিপুণ নৌ-কৌশল এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনায় ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ এক চরম সংকটময় পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই স্পর্শকাতর যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়ে তারা যে অসীম ধৈর্য দেখিয়েছেন, তা বিশ্ব মেরিটাইম খাতে বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।কমডোর মালেক জানান, দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পুরো সংকটকালীন সময়ে জাহাজের ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের মনোবল সমুন্নত রাখতে বিএসসির পক্ষ থেকে সব ধরণের আপদকালীন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। জাহাজে সুপেয় পানি, খাবার, রসদ ও জ্বালানি তেলের মতো প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহে কখনোই কোনো ঘাটতি হতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধার অতিরিক্ত হিসেবে দৈনিক ৫ মার্কিন ডলার বিশেষ মিল অ্যালাউন্স, ঈদের বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য বিশেষ ‘ওয়ার ওয়েজ’ (War Wage) প্রদান করা হয়েছে।

অপতথ্য ও সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী প্যানেল গঠন করছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

অপতথ্য ও সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী প্যানেল গঠন করছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

অপতথ্য ও সাইবার বুলিং মোকাবিলায় তথ্য মন্ত্রণালয় আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অপতথ্য বা ভুল তথ্য নিয়ে আমরা খুবই চিন্তায় আছি। এছাড়া সাইবার বুলিং বিশেষ করে নারীদের উপরে যা হয়, নিয়মিতভাবে ফলে নারীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকেন।”এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে তথ্য মন্ত্রণালয় আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়ে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।”এ উদ্যোগ অনেকের জন্য দুঃসংবাদ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কারো জন্য দুঃসংবাদ তো বটেই, যারা এই কাজগুলো করেন—তাদের জন্য এই রাষ্ট্র, এই সরকার সিরিয়াস কগনিজেন্স নিতে যাচ্ছে; আপনারা সতর্ক হয়ে যান।”জাহেদ উর রহমান বলেন, “তথ্যের নামে অত্যাচার, অন্যায় হয়। আমরা যে কেউ অপতথ্যের শিকার হতে পারি, বুলিংয়ের শিকার হতে পারি; ফেইক ছবি, ফেইক ভিডিওর শিকার হতে পারি। সেরকম মানুষের জন্য সুখবর হচ্ছে এই আইনজীবী প্যানেল গঠন সম্পন্ন হচ্ছে।”সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান বিগত সরকারের সমালোচনাও করেন।“আগে ডিজিটাল আইনের মারাত্মক অপপ্রয়োগ হয়েছে, এই সরকার মাফিয়া বা অনির্বাচিত নয়, নির্বাচিত সরকার কোনো আইনেরই অপপ্রয়োগ করবে না।”সংবাদ সম্মেলনে ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রসঙ্গও আসে।এক সাংবাদিক বলেন, জঙ্গি, সন্ত্রাসী, স্বাধীনতাবিরোধী—যারাই ভেঙে থাকুক, বর্তমানে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বিএনপি ক্ষমতায়। তাদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখলাম না।এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নেওয়ার কথা জানিয়ে তখন উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বা সবকিছু মিলে প্রথম কথাটা হচ্ছে ভাস্কর্যটা কিন্তু কমপ্লিটেড হয়নি। ২০১৯- ২০ সালের দিকে শুরু হয়েছিল। এই ভাস্কর্য নিয়ে দুটো অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটা হচ্ছে যে, আবক্ষ মূর্তি আছে, সেটা ফেইসের সাথে; বলে রাখি জঙ্গিরা ভেঙে ফেলেছেএটার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।“দ্বিতীয়টা হচ্ছে, এটা যে ইন্টারসেকশনে আছে, এটা গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে মারাত্মক অবস্ট্রাকশন তৈরি করছে। এটা অনেক উঁচু বেদীতে তৈরি হয়েছে। সেটার কারণে এক্সিডেন্ট হচ্ছে এরকম একটা অভিযোগ—যারা ওই রাস্তায় চলাফেরা করেন। আমিও প্রাথমিকভাবে শক হয়েছি, এটা কেন হবে।“জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, উনার অবয়ব, উনার ফেইস যেন ঠিক থাকে, ফেইস যেন ভালোভাবে বোঝা যায়—উনার একটি আবক্ষ, ভাস্কর্য এবং সাথে মুক্তিযুদ্ধ রেখে একটি ভাস্কর্য তৈরি হবে। নতুন জায়গায়, দ্রুত তার সিদ্ধান্ত জানাবে। এটা সরকার করছে।"এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “একটি দেশে যখন দীর্ঘদিন এ ধরনের সরকারের (ফ্যাসিবাদী) অধীনে থাকে, তাদের প্রচুর লোকজন থেকে গেছে। খুব রাতারাতি এগুলো পরিবর্তন করা কঠিন। তবে গভীরভাবে দেখলে—এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে; এগুলো একটু সময় লাগবে।“আর আমাদের সরকারের যে আকার, একটা অংশ নির্বাচনের পরে আসে, আর মূল স্ট্রাকচার তারা তো থেকেই গেছে। ওরাও তো সরকার, এই সরকারটা থেকে যায়। এ সরকারটা বিরাট, লক্ষ লক্ষ। এ ব্যাপারে টাইম নেবে, কাজ হচ্ছে।”এক সাংবাদিক জানতে চান, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার সময় ইমিগ্রেশন, কাস্টমসসহ বেশ কিছু আইন লঙ্ঘন হয়েছে, এসব বিষয়ে সরকারের তরফে কোনো মামলা হবে কি না?জবাবে উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “যেগুলো আইন লঙ্ঘন হয়েছে, মামলা হতে পারে। আমার ধারণা এটা ব্যক্তিগত সরকারি কোনো বক্তব্য নয়; উনি আইসিটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত এবং দণ্ডপ্রাপ্ত, মৃত্যুদণ্ড।“সম্ভবত এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে আর (মামলা) করেনি। তবে আমি একমত— যেখানে আইন ভঙ্গ হয়েছে, সেসব জায়গায় প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দরকার।”বর্তমানে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী, জানতে চাওয়া হয় তথ্য উপদেষ্টার কাছে।জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমরা যে সিস্টেমের মধ্যে কাজ করছি, সদিচ্ছা থাকলেও সরকারের কতগুলো টুল আছে, অপারেটর আছে—যারা ১৭ বছরে এমন অবস্থায় ছিলেন, তারা তাদের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে জেনেছেন; এগুলো কিন্তু পাল্টে গেছে। চিন্তাই পাল্টে গেছে। এই পুরো স্ট্রাকচার নিয়ে কাজ করা, এটা চ্যালেঞ্জ।”

এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান / এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সরকার ৩০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  তিনি বলেছেন, পণ্যমূল্য তদারকিতে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নজরদারি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও কার্যকর করা যায়।শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে।ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেও বলে জানান তিনি।পণ্যের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।এলপিজির মূল্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও কোথাও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও গণমাধ্যমে বিষয়টি আরও কিছুদিন গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার হলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম কমিয়ে আনবেন।রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রপ্তানি কমেছে। জ্বালানি-সংক্রান্ত কারণে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব পথে দেশে মাদক প্রবেশ করে, সেসব পথ বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে বহুতল ভবনের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চা-বাগান এলাকায় বর্তমানে থাকা পাঠদান কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে মন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় ৩ মাস মেয়াদি কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধি এবং অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতিহারে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আজ দেশজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, কর্মসংস্থান বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে শীর্ষে, যেখানে ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করেছি। প্রশিক্ষণ শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রোফাইল খোলা হয়, যেখানে তাদের আয় ও অগ্রগতির তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। এ সময় তিনি নিজে ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প তুলে ধরেন। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে ৩৭৩ কোটি ৭৭ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদে ষষ্ঠ ব্যাচের প্রশিক্ষণে প্রতি জেলায় ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস যুবরা এই সুযোগ পেয়েছেন। জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করেছে। এখন পর্যন্ত ৫টি পর্যায়ে মোট ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বা ৮ হাজার ৬৪০ জন দেশি ও বিদেশি মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। তাদের উপার্জিত অর্থের পরিমাণ ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ ১৪ হাজার ৪১৬ টাকা। উপার্জনে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ব্যাচে ভর্তির জন্য ৯৭ হাজার ২২৯ জন আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৬১ হাজার ৫৮১ জনকে নির্বাচন করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার ৮০০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ৮ ঘণ্টা করে ৩ মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদারকিতে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।

সুন্দরবনে অভয়াশ্রম কমানোর দাবীতে জেলেদের মানববন্ধন

বাগেরহাটের শরণখোলায় পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ৮০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য ও অভয়াশ্রম থাকলেও সাতক্ষীরাও চাঁদপাই রেঞ্জ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ অভয়াশ্রম এ বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল সকল মৎস্য ও পেশাজীবিবৃন্দ।  দুই অক্টোবর সকাল দশটায়  শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করায় ফুঁসে উঠেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা। তারা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের দুই রেঞ্জের জন্য দুই ধরনের আইন কখনোই তারা মেনে নিবেন না। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে যেখানে ৩০-৪০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে শরণখোলা রেঞ্জে ৮০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য শরণখোলাবাসী কখনোই মেনে নিবে না। তাছাড়া বর্তমানে শরণখোলা রেঞ্জে যতটুকু এলাকা অবমুক্ত রয়েছে তার তুলনায় সুন্দরবনে বৈধভাবে প্রবেশ করা জেলেদের সংখ্যা অনেক। ফলে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না অধিকাংশ জেলেদের জালে। অতিদ্রুত যদি অভয়ারণ্য এলাকা কমিয়ে অন্তত ৫০ ভাগ না করা হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহনের কথা বলেন তারা। এসময়  পেশাজীবিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাউথখালি ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি শহীদুল ইসলাম লিটন, মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ সেলিম খান, মোঃ খলিল হাওলাদার, মোঃ হালিম খান,  রফিকুল হাওলাদার ও শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান সুজন। এ ব্যাপারে পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল চৌধুরী বলেন, অন্যান্য রেঞ্জের তুলনায় শরণখোলায় অভয়াশ্রম ও অভয়ারণ্য এলাকা বেশি। এখানে জেলেদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক সময় পাস পারমিট নেওয়া জেলেদের বিপাকে পড়তে হয়। জেলেদের দাবি কিছুটা হলেও যৌক্তিক। তবে এ বিষয়টি নিরশন এর দায়িত্ব বনবিভাগ ও বন মন্ত্রণালয়ের।

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ডেস্ক নিউজ: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী থানায় গিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী স্বামী লিটন শেখ (৪৬) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোরেলগঞ্জের বনগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত সাইম শেখের ছেলে লিটন শেখের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দাম্পত্য জীবন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত পারিবারিক কলহ চলছিল। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় যখন লিটন শেখ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলে, তখন তার স্ত্রী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে ফেলে। ঘটনায় লিটন শেখের চিৎকার শুনে তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ওই অঙ্গটির প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরদিন সকালে অভিযুক্ত নারী নিজেই থানায় এসে অপরাধ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো শ্রীপুর গ্রাম ও আশপাশে এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আর্জেন্টিনার হারের পর মেসিকে সান্ত্বনা দিলেন ইয়ামাল

আর্জেন্টিনার হারের পর মেসিকে সান্ত্বনা দিলেন ইয়ামাল

ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। শিরোপা জয়ের উল্লাসের মধ্যেও ম্যাচ শেষে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ও লিওনেল মেসির একটি আবেগঘন মুহূর্ত।রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর হতাশ হয়ে মাঠে বসে ছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি। ঠিক সেই সময় স্পেনের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল এগিয়ে গিয়ে তার পিঠে হাত রেখে সান্ত্বনা দেন। মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়ায়।এই দৃশ্য নতুন নয়। ইয়ামাল ও মেসির সম্পর্কের শুরু প্রায় দুই দশক আগে। ২০০৭ সালে বার্সেলোনার একটি চ্যারিটি ফটোশুটে মাত্র ছয় মাস বয়সী ইয়ামালকে কোলে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন তৎকালীন তরুণ তারকা মেসি। সেই ছবিই পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। প্রায় ১৯ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে দুজন মুখোমুখি হন, যেখানে বিজয়ী ইয়ামালই পরাজিত মেসির পাশে দাঁড়ান।ফাইনালের আগে ইয়ামালও জানিয়েছিলেন, ছোটবেলার সেই ছবির মানুষটির বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে পারা তার জন্য বিশেষ এক অনুভূতি।ম্যাচে ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটের গোলে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। তবে ট্রফি জয়ের উল্লাসের পাশাপাশি মেসি ও ইয়ামালের এই মানবিক মুহূর্তও ফাইনালের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের সংঘর্ষে ৩ বাংলাদেশি নিহত, আহত ১

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের সংঘর্ষে ৩ বাংলাদেশি নিহত, আহত ১

মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান অঙ্গরাজ্যের পোর্ট ডিকসনে সহকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।নিউ স্ট্রেইটস টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে তামান লিঙ্গি এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।নেগেরি সেম্বিলানের পুলিশপ্রধান দাতুক আলজাফনি আহমাদ জানান, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে কয়েকজন বাংলাদেশির মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে লিঙ্গি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ৪০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়, যিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তের ধারাবাহিকতায় পরে লিঙ্গির সুয়া মাঙ্গিস এস্টেট এলাকা থেকে আরও দুই বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পুলিশের তথ্যমতে, নিহত তিন বাংলাদেশির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। আহত আরেক বাংলাদেশিকে রেমবাউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনায় জড়িত সবাই একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন এবং একই বাসভবনে থাকতেন। পুলিশের ধারণা, ঘটনাটি একাধিক স্থানে ঘটেছে। পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা ও প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।পুলিশপ্রধান আলজাফনি আহমাদ আরও জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তাকে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে সোমবার পোর্ট ডিকসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে।তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা) মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে সংঘর্ষের পেছনের উদ্দেশ্য বা প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন অমিতাভ বচ্চন

ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন অমিতাভ বচ্চন

বলিউডের শাহেনশা অমিতাভ বচ্চন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। নিজের ব্লগের পাশাপাশি এক্স হ্যান্ডেলেও নিয়মিত নানা বিষয়ে পোস্ট করেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। তবে সম্প্রতি একটি পোস্টে ধারাবাহিক নম্বর লেখার ক্ষেত্রে সামান্য ভুল করে অনুরাগীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।প্রতিদিনের এক্স পোস্টের শুরুতে ধারাবাহিকভাবে একটি নম্বর ব্যবহার করেন অমিতাভ। সম্প্রতি সেই নম্বর দিতে গিয়েই ভুল করে ফেলেন তিনি। বিষয়টি অনুরাগীদের নজরে আসার পর নিজের ভুল বুঝতে পারেন অভিনেতা। পরে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন অমিতাভ।পোস্টে তিনি লেখেন, ‘টি ৫৮২০। নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার বড় ভুল হয়েছে। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ৫৮১৭-এর পর ৫৮১৮, ৫৮১৯, ৫৮২০ হওয়া উচিত ছিল।’একই পোস্টে ভুলটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সুনীল নামের এক নেটিজেনকে ধন্যবাদ জানান অমিতাভ। তবে প্রিয় তারকার এই সামান্য ভুল নিয়েও মজা করতে ছাড়েননি অনুরাগীরা।মন্তব্যের ঘরে এক নেটিজেন রসিকতা করে লেখেন, ‘ভুল স্বীকার করেছেন দেখে ভালো লাগছে। তা না হলে এই নম্বর ফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম।’অন্য এক নেটিজেন ভুলটি ধরিয়ে দেওয়া সুনীলকে নিয়ে মজা করে লেখেন, ‘এই ভালো কাজের জন্য সুনীলের অবদান মানবজাতি চিরকাল মনে রাখবে।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, অমিতাভের অনুরাগীদের পক্ষ থেকে সুনীলের একটি পদক পাওয়া উচিত।সামান্য একটি সংখ্যার ভুল হলেও অমিতাভ যেভাবে নিজে থেকেই তা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন, সেটিই এখন অনুরাগীদের আলোচনার বিষয়। তার সরল স্বীকারোক্তি এবং রসবোধও প্রশংসা কুড়িয়েছে নেটদুনিয়ায়।এদিকে কাজের ব্যস্ততায় সময় কাটছে অমিতাভ বচ্চনের। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি আগামী দিনে তাকে দেখা যাবে ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’র সিক্যুয়েলেও।

ভূতুরে বিল ও বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে দিশেহারা জনজীবন

ভূতুরে বিল ও বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে দিশেহারা জনজীবন

​তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং আর মাস শেষে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বোঝায় পিষ্ট হচ্ছেন দেশের সাধারণ জনগণ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনে-রাতে ৫ থেকে ৬ বার বিদ্যুৎ যাওয়া এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ প্রতিবার বিদ্যুৎ আসার পর তার স্থায়িত্ব থাকছে মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন অরাজকতায় চরম ভোগান্তির শিকার গ্রাহকরা ক্ষোভ ও হতাশায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।​ভোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এটি কেবল প্রযুক্তিগত বা সরবরাহজনিত সমস্যা নয়, বরং এর পেছনে বিদ্যুৎ খাতের একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী চক্রান্তকারী চক্র কাজ করছে। জনগণের ধারণা, ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত ও ভূতুরে বিল তৈরি এবং অস্বাভাবিক লোডশেডিং সৃষ্টি করে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।​সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে দেশের পোল্ট্রি খাতে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে খামারের শত শত মুরগি মারা যাচ্ছে। এতে একদিকে প্রান্তিক খামারিরা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে পোল্ট্রি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। খামারিরা জানান, জেনারেটর বা বিকল্প উপায়ে দীর্ঘ সময় বাতাস ও তাপমাত্রা ধরে রাখা সাধারণ খামারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তাপপ্রবাহের কারণে একের পর এক মুরগি মারা পড়ছে।​মনোহরদীতে ব্যবসায়ীদের হাহাকার:সরজমিনে মনোহরদীর স্থানীয় বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায় চরম দুর্ভোগের চিত্র। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে পুরো বাজার এলাকা। মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের মোমবাতি জ্বেলে কেনাবেচা করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পচে নষ্ট হচ্ছে মাছ ও অন্যান্য পচনশীল পণ্য। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম হাহাকার ও হতাশা।​ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন অনতিবিলম্বে এই বেপরোয়া ভূতুরে বিল প্রণয়ন এবং অযৌক্তিক লোডশেডিংয়ের লাগাম টানা হয়। একই সাথে, বিদ্যুৎ খাতের ভেতরের চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের সংঘর্ষে ৩ বাংলাদেশি নিহত, আহত ১

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের সংঘর্ষে ৩ বাংলাদেশি নিহত, আহত ১

মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান অঙ্গরাজ্যের পোর্ট ডিকসনে সহকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।নিউ স্ট্রেইটস টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে তামান লিঙ্গি এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।নেগেরি সেম্বিলানের পুলিশপ্রধান দাতুক আলজাফনি আহমাদ জানান, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে কয়েকজন বাংলাদেশির মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে লিঙ্গি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ৪০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়, যিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তের ধারাবাহিকতায় পরে লিঙ্গির সুয়া মাঙ্গিস এস্টেট এলাকা থেকে আরও দুই বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পুলিশের তথ্যমতে, নিহত তিন বাংলাদেশির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। আহত আরেক বাংলাদেশিকে রেমবাউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনায় জড়িত সবাই একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন এবং একই বাসভবনে থাকতেন। পুলিশের ধারণা, ঘটনাটি একাধিক স্থানে ঘটেছে। পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা ও প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।পুলিশপ্রধান আলজাফনি আহমাদ আরও জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তাকে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে সোমবার পোর্ট ডিকসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে।তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা) মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে সংঘর্ষের পেছনের উদ্দেশ্য বা প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আর্জেন্টিনার হারের পর মেসিকে সান্ত্বনা দিলেন ইয়ামাল

আর্জেন্টিনার হারের পর মেসিকে সান্ত্বনা দিলেন ইয়ামাল

ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। শিরোপা জয়ের উল্লাসের মধ্যেও ম্যাচ শেষে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ও লিওনেল মেসির একটি আবেগঘন মুহূর্ত।রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর হতাশ হয়ে মাঠে বসে ছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি। ঠিক সেই সময় স্পেনের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল এগিয়ে গিয়ে তার পিঠে হাত রেখে সান্ত্বনা দেন। মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়ায়।এই দৃশ্য নতুন নয়। ইয়ামাল ও মেসির সম্পর্কের শুরু প্রায় দুই দশক আগে। ২০০৭ সালে বার্সেলোনার একটি চ্যারিটি ফটোশুটে মাত্র ছয় মাস বয়সী ইয়ামালকে কোলে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন তৎকালীন তরুণ তারকা মেসি। সেই ছবিই পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। প্রায় ১৯ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে দুজন মুখোমুখি হন, যেখানে বিজয়ী ইয়ামালই পরাজিত মেসির পাশে দাঁড়ান।ফাইনালের আগে ইয়ামালও জানিয়েছিলেন, ছোটবেলার সেই ছবির মানুষটির বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে পারা তার জন্য বিশেষ এক অনুভূতি।ম্যাচে ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটের গোলে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। তবে ট্রফি জয়ের উল্লাসের পাশাপাশি মেসি ও ইয়ামালের এই মানবিক মুহূর্তও ফাইনালের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

ভূতুরে বিল ও বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে দিশেহারা জনজীবন

​তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং আর মাস শেষে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বোঝায় পিষ্ট হচ্ছেন দেশের সাধারণ জনগণ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনে-রাতে ৫ থেকে ৬ বার বিদ্যুৎ যাওয়া এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ প্রতিবার বিদ্যুৎ আসার পর তার স্থায়িত্ব থাকছে মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন অরাজকতায় চরম ভোগান্তির শিকার গ্রাহকরা ক্ষোভ ও হতাশায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।​ভোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এটি কেবল প্রযুক্তিগত বা সরবরাহজনিত সমস্যা নয়, বরং এর পেছনে বিদ্যুৎ খাতের একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী চক্রান্তকারী চক্র কাজ করছে। জনগণের ধারণা, ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত ও ভূতুরে বিল তৈরি এবং অস্বাভাবিক লোডশেডিং সৃষ্টি করে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।​সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে দেশের পোল্ট্রি খাতে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে খামারের শত শত মুরগি মারা যাচ্ছে। এতে একদিকে প্রান্তিক খামারিরা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে পোল্ট্রি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। খামারিরা জানান, জেনারেটর বা বিকল্প উপায়ে দীর্ঘ সময় বাতাস ও তাপমাত্রা ধরে রাখা সাধারণ খামারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তাপপ্রবাহের কারণে একের পর এক মুরগি মারা পড়ছে।​মনোহরদীতে ব্যবসায়ীদের হাহাকার:সরজমিনে মনোহরদীর স্থানীয় বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায় চরম দুর্ভোগের চিত্র। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে পুরো বাজার এলাকা। মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের মোমবাতি জ্বেলে কেনাবেচা করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পচে নষ্ট হচ্ছে মাছ ও অন্যান্য পচনশীল পণ্য। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম হাহাকার ও হতাশা।​ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন অনতিবিলম্বে এই বেপরোয়া ভূতুরে বিল প্রণয়ন এবং অযৌক্তিক লোডশেডিংয়ের লাগাম টানা হয়। একই সাথে, বিদ্যুৎ খাতের ভেতরের চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সমাধানের দাবি আইনজীবী মহলে / আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

ঢাকা কোর্ট অঙ্গনে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের নানা দুর্ভোগের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। আদালত কার্যক্রম শুরুর আগেই আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের কী ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতি অতিক্রম করে বিভিন্ন আদালতে পৌঁছাতে হয়, সেই চিত্র তুলে ধরে দেওয়া পোস্টটি প্রকাশের পর তাৎক্ষণিকভাবে আইনজীবী মহলে ব্যাপক সাড়া পড়ে।আইনজীবী মহলে পরিচিত মুখ ও আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ তার ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা ও চলাচলের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিশেষ করে অপর্যাপ্ত ও প্রায়ই বিকল হয়ে পড়া লিফট, আদালত অঙ্গনের সংকীর্ণ ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তা এবং দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও গ্যাংওয়ে নির্মাণ না হওয়ার বিষয়টি তার পোস্টে গুরুত্ব পায়।পোস্টে আবুল কালাম আজাদ উল্লেখ করেন, সিএমএম আদালত শুরু হওয়ার আগেই আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের বিভিন্ন ধরনের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি অতিক্রম করে আদালতে পৌঁছাতে হয়। ঢাকা জজ কোর্ট, সিএমএম আদালত, চিফ জুডিশিয়াল আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে মামলার শুনানিতে অংশ নিতে গিয়ে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের প্রতিনিয়ত এ ধরনের বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আদালত অঙ্গনে একটি গ্যাংওয়ে নির্মাণের জন্য আইনজীবী নেতৃবৃন্দ বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গেছেন এবং সমস্যার সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও এর কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।তার পোস্টে বর্ষাকালে আদালত অঙ্গনের দুর্ভোগের চিত্রও উঠে আসে। বৃষ্টির সময় কোর্ট অঙ্গনের একটি সংকীর্ণ রাস্তা পানিতে ডুবে যায় এবং কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। সেই রাস্তা দিয়েই আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের বহু কষ্টে বিভিন্ন আদালতে যাতায়াত করতে হয়। এতে প্রতিদিন আদালতে আসা মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিচার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।আবুল কালাম আজাদ তার পোস্টের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে ঢাকা কোর্টের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে আইন পেশা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তার এই ফেসবুক পোস্ট প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী মহলে তাৎক্ষণিক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই পোস্টটির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি বাস্তব সমস্যাকে জনসম্মুখে তুলে ধরার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের প্রতিদিনের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও সচেতন মহল থেকে দাবি উঠেছে।সচেতন মহলের মতে, আদালত অঙ্গনে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা বিচার কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশেরই অংশ। দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাংওয়ে, জলাবদ্ধতা, কাদাযুক্ত রাস্তা ও লিফটসংক্রান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা গেলে ঢাকা কোর্টের সামগ্রিক পরিবেশ অনেকটাই উন্নত হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।আইনজীবী মহলে জনপ্রিয় নেতা আবুল কালাম আজাদের এই পোস্ট তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ঢাকা কোর্টের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা ও আইনজীবী-বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং বাস্তবসম্মত কী উদ্যোগ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।পাঠকদের জন্য সেই পোস্টটির লিংক তুলে ধরা হলো:https://www.facebook.com/share/v/1DhmuUKHsR/

এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে কুড়িগ্রামে ৭ দিনের নির্ধারিত লোডশেডিং স্থগিত ঘোষণা

‎চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নির্বিঘ্ন, সুষ্ঠু ও স্বস্তিকর পরিবেশে সম্পন্ন করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পূর্বনির্ধারিত সাত দিনের পরিকল্পিত লোডশেডিং সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সরকার।আগামী ২৯ এ জুলাই থেকে ৮ ই আগষ্টের অব্দি লোডশেডিং স্থগিত ঘোষনা করা হয়।পরীক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।‎‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষা চলাকালে কোনো কেন্দ্রেই যেন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় না পড়ে, সে লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের পাশাপাশি কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।‎‎পল্লী বিদ্যুৎ লালমনিরহাট কুড়িগ্রাম অফিসের জেনারেল ম্যানেজার মোঃ শামীম পারভেজ বলেন,গ্রীষ্মকালীন অতিরিক্ত চাহিদা ও জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ থাকলেও এইচএসসি পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরিকল্পিত লোডশেডিং আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত তা সমাধানে জরুরি টিম প্রস্তুত থাকবে।

৭০০ ফুট সড়ক নির্মাণে এলাকাবাসীর দাবি / সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন

ঢাকার দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাতার শিকদার বাড়ির নিকট থেকে শিলাকোঠা মাদ্রাসা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এলাকার শতাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন পার করছে। হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। অনেককে প্রয়োজনীয় সামগ্রী মাথায় নিয়ে পানি ভেঙে চলাচল করতে হচ্ছে, যা এলাকাবাসীর দুর্ভোগকে আরও প্রকট করে তুলেছে।সংযুক্ত ছবিতে দেখা যায়, পুরো সড়কটি পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়িঘরের আঙিনা ও চলাচলের পথ একাকার হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মাথায় বহন করে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে বাসিন্দাদের আশঙ্কা। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটিতে দীর্ঘদিন ধরে খানা-খন্দের সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সংস্কার বা উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। এতে যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং কৃষিপণ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।এদিকে এ বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদনও করা হয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুসুমহাটি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাতার শিকদার বাড়ির নিকট থেকে শিলাকোঠা মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়কটি এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও খানা-খন্দের কারণে এটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে জরুরি ভিত্তিতে মাটি ভরাট করে সড়কটি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদানের আবেদন জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ লাঘব এবং নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটির উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সামনের দিনগুলোতে দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।