গণমাধ্যম সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার কেবলই সহায়ক: তথ্যমন্ত্রী
দেশের ইতিহাসে এই প্রথম গণমাধ্যমের সব ধারার অংশীজনকে এক মঞ্চে সমবেত করেছে সরকার।এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও দেশে একটি স্বাধীন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।তিনি বলেন, ‘এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কেবল একজন ‘সহায়ক’ ও সহযোগী অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এ জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় সভা প্রধানের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসের জন্য এক অনন্য মাইলফলক। বাংলাদেশে এই প্রথম গণমাধ্যমের মূল ধারার সকল অংশীজনকে আমরা একই মঞ্চে জড়ো করতে পেরেছি।’ছবি : বাসসতিনি বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন মূলত একটি উন্মুক্ত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। আমরা সবাই যদি আলোচনার মধ্য দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে আমাদের পথ চলার মূল বিন্দুটি খুঁজে বের করতে পারি, তবেই এই আয়োজন সার্থক হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের মহান ও স্বাধীন উদ্দেশ্যকে সফলভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কেবল একজন ‘সহায়ক’ এবং ‘সমন্বয়কারী’র দায়িত্ব পালন করবে।’বর্তমান সরকারের গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনে যাওয়ার আগেই দেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল- রাষ্ট্রকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার। এজন্য রাষ্ট্রের কাঠামোগত যেসব জায়গায় মেরামত বা সংস্কার করা দরকার, সকলকে সাথে নিয়ে সেসব জায়গায় সরকার মেরামত করবে।’তিনি বলেন, ‘সংস্কারের এইতালিকাভুক্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গণমাধ্যম। সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।স্বাগত বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি রক্তক্ষয়ী বিপ্লব ও সংগ্রামের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই গণতন্ত্রকে কীভাবে সমুন্নত রাখা যায় এবং সরকারের এই উন্নয়ন যাত্রায় গণমাধ্যম কীভাবে সহযাত্রী ও সহযোগী হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ প্রয়োজন। গণমাধ্যমের অগ্রযাত্রায় সরকার ও গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।প্রস্তাবিত গণমাধ্যম কমিশনকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এমন একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে চাই যা অত্যন্ত শক্তিশালী হবে এবং যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে। এই কমিশনকে কীভাবে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিতামূলক করা যায়, সে বিষয়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি।‘মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সঞ্চালনায় কর্মশালায় ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল, সম্পাদক পরিষদ, জাতীয় নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব), টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো), ন্যাশনাল মিডিয়া ওয়াচ কাউন্সিল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি), ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন টেলিভিশন মালিক, সম্পাদকবৃন্দ, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।তথ্যমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের পর কর্মশালার মূল অধিবেশনে উপদেষ্টার উপস্থাপিত রূপরেখার ওপর ভিত্তি করে উপস্থিত গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দ, সম্পাদক ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরা স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে স্ব-স্ব মতামত, ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের খসড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন।
৫ নং চরমান্দালীয়ার সেবায় উৎসর্গীকৃত একটি জীবন / আমি নিতে আসি নাই, দিতে আসছি: মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম বিপুল
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি খাতের ৬০টি বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন বেআইনিভাবে আটকে রেখেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন ফি জমাদানকারী কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া দেয়নি আইডিআরএ। উল্টো সংশোধিত বিধিমালার আলোকে আরোপিত ২ টাকা ৫০ পয়সা হারে বর্ধিত নবায়ন ফি আদায়ের নির্দেশনা চেয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।২০২৬ সালের ফি নির্ধারণের সুবিধার্থে সংশোধিত বিধিমালা নিয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট প্রস্তাব চাওয়ার প্রেক্ষিতে ৩ জুন আইডিআরএ এ চিঠি দেয়। এতে বলা হয়, “ইতিমধ্যে গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশন সূত্রোক্ত পত্রের মাধ্যমে বীমা আইন ২০১০ এর ১১(২)(৩) ধারার বিধান মতে ২০১৮ সনে সংশোধিত বিধি অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ টাকা হারে বীমাকারীর লাইসেন্স নবায়ন ফি আদায়পূর্বক বর্ণিত লাইসেন্স নবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে এবং কোন কোন বীমাকারী বর্ধিত (১.৫০ টাকা) ফি প্রদান হতে বিরত রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনায় তারা সরকার হতে এ বিষয়ে নির্দেশনা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।ইতিমধ্যে ০৬ টি লাইফ বীমা কোম্পানি এবং ১৪ টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা হারে নবায়ন ফি জমা প্রদান করে কর্তৃপক্ষ হতে ২০২৬ সনের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করে নিয়েছে।এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ এর বিধি ৩(২) এর সর্বশেষ ২০২৬ সনে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত হারে (প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা) নবায়ন ফি আদায়ের জন্য সদয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।”যদিও এর আগে কয়েক দফায় ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন ফি জমাদানকারী বীমা কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রতি আহ্বান জানায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত নবায়ন ফি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে প্রয়োজন হলে সরকারি গেজেট সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।এর আগে খাতের অংশীজনদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমূহূর্তে তাড়াহুড়ো করে আইডিআরএ’র বিদায়ী চেয়ারম্যান এম আসলাম আলমের প্রস্তাবে নবায়ন ফি বাড়িয়ে এ সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করা হয়। সংশোধিত বিধি ৩(২) এ ২০২৬ সাল থেকে ২০৩২ ও পরবর্তী সময় পর্যন্ত ধাপে ধাপে বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন ফি বর্ধিত করার বিধান যুক্ত করা রয়েছে।তবে সংশোধিত ওই বর্ধিত ফি দিতে অস্বীকৃতি জানায় বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি। নতুন করে আরোপ করা বর্ধিত নবায়ন ফি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি খাতের ৬০টি বীমা কোম্পানির লাইসেন্স এখনো নবায়ন হয়নি।বিরোধের মূল কোথায়: বীমা আইন অনুযায়ী, পরবর্তী বছরের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন ও ফি জমা দিতে হয় আগের বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। সে অনুযায়ী বীমা কোম্পানিগুলো ২০২৫ সালের মধ্যেই ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দেয়।তবে ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশিত সংশোধিত বিধিমালায় নবায়ন ফি বাড়িয়ে প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১ টাকা থেকে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এই নতুন হারই এখন বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।বীমা কোম্পানিগুলোর যুক্তি যে সময় তারা ফি জমা দিয়েছে, তখন পুরনো বিধিমালাই কার্যকর ছিল। তাই পরবর্তীতে সংশোধিত হার প্রয়োগ করে অতিরিক্ত ফি দাবি করা আইনসম্মত নয়। আইডিআরএ’র পক্ষ থেকেও চিঠিতে আইন লঙ্ঘন করে ইচ্ছাকৃতভাবে নিবন্ধন নবায়ন স্থগিত রাখার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। বীমা আইন, ২০১০ এর ১১(২) ধারা অনুযায়ী, কোনো বীমা কোম্পানিকে সংশ্লিষ্ট বছরের লাইসেন্স নবায়নের জন্য পূর্ববর্তী বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন ও নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। একই আইনের ১১(৩) ধারা অনুযায়ী, আবেদন ও ফি গ্রহণের পর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বীমাকারীর লাইসেন্স নবায়ন করতে বাধ্য।অথচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (৩০ নভেম্বর ২০২৫) নিবন্ধন ফি জমা দেয়ার পরও আইন লঙ্ঘন করে কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। যা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে লেখা আইডিআরএ’র চিঠিতেই স্পষ্ট হয়েছে- চিঠিরে একাংশে বলা হয়েছে-“সংস্কারমূলক কার্যক্রম শুরু করায় সংস্থাটির ব্যয়ের মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে ০১-০৭-২০২৫ তারিখে উক্ত বিধিমালার বিধি ৩(২) এ নির্ধারিত বীমাকারী নিবন্ধন নবায়নের ফি সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং তা ২০২৬ সন হতে কার্যকর করার প্রস্তাব করায় নিবন্ধন নবায়ন স্থগিত রাখা হয়। বিধিমালা সংশোধনের ব্যাপারে অংশীজনদের সাথে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে একাধিকবার এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ব্যাপক পরামর্শকমূলক সভা করে ঐক্যমতে পৌঁছার পর সর্বশেষ ০৪-০২-২০২৬ তারিখে আইনের ধারা ১১ (২) এর রেফারেন্সে উক্ত বিধিমালার সংশোধনী বাংলাদেশ গেজেটে প্রজ্ঞাপন আকারে জারী করা হয়। ”বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন- কোনো সংশোধনী কার্যকর হওয়ার আগে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সেবা স্থগিত রাখা কতটা আইনসম্মত। আইন সংশোধন হওয়ার আগেই একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজস্ব স্বার্থে কোনোভাবেই বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করতে পারে কি না? বিষয়টি মূলত- রেট্রোস্পেকটিভ অ্যাপ্লিকেশন’ বা পূর্ববর্তী সময়ের ওপর নতুন বিধান প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত।যেখানে আইডিআরএ নিজেই বলেছে-প্রায় সকল বীমাকারী আইনের উপরোক্ত ধারা অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ (এক) টাকা হারে নবায়ন ফি পরিশোধ করে ২০২৬ সনের জন্য নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করেছে। তবে ফি নির্ধারণে বিলম্ব ও অংশীজনদের সঙ্গে দীর্ঘ পরামর্শ প্রক্রিয়ার কারণে সময়মতো লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, বর্ধিত ফি বাতিলের দাবিতে ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা জনস্বার্থে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারির সংশোধনী বাতিল এবং ২০১৮ সালের ফি কাঠামো বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরোধ মূলত “রেট্রোস্পেকটিভ প্রয়োগ” (পূর্ববর্তী সময়ের ওপর নতুন আইন প্রয়োগ) নিয়ে। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দেওয়ার পর নতুন হার চাপিয়ে দেওয়া হলে তা আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তারা আরও বলছেন, দ্রুত সমাধান না এলে বীমা খাতে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।আইডিআরএ’র চিঠিতে যা আছে:দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর সংগঠন -বিআইএ এই বর্ধিত ফি ছাড়াই লাইসেন্স নবায়ন করে দিতে আইডিআরএকে চিঠি দিলেও তা রক্ষা করেনি। বরং সংশোধিনীর আলোকে বর্ধিত ফি নিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনা চেয়ে আবারও চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। গত ৩ জুন আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে উপপরিচালক (নন লাইফ) মোঃ সোলায়মান সচিব বরাবর এই চিঠি দিয়েছেন।নন-লাইফ ও লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহের ২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়ন প্রসঙ্গে দেয়া ওই চিঠিতে বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করার পর বলা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সূত্রোক্ত স্মারকের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আয় হতে সকল ব্যয় মিটাতে হয়। বীমাকারী লাইসেন্স নবায়ন ফি এ সংস্থার আয়ের প্রধান উৎস। বীমা আইন, ২০১০ এর এতদসংক্রান্ত ধারা ১১(২) এর রেফারেন্সে বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ জারী করা হয় এবং এর বিধি ৩(২) অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ৩.৫০ টাকা নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়। ২০১৮ সনে হঠাৎ করে এ লাইসেন্স নবায়ন ফি উক্ত ৩.৫০ টাকা হতে কমিয়ে ১.০০ টাকায় নামিয়ে আনলে এ সংস্থার আয় দারুণভাবে কমে যাওয়ায় ব্যয় নির্বাহ কষ্টকর হয়ে পড়ে।২. তাছাড়া ২০২৫ সনে এ সংস্থার জনবল বৃদ্ধি, কমপ্লিট ডিজিটাইজেশন, ন্যাশনাল কোর ইন্স্যুরেন্স সলিউশন, বাংলাদেশ একচ্যুয়ারিয়াল ইন্সটিটিউট এবং বাংলাদেশ চার্টার্ড ইন্স্যুরেন্স ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি যুগোপযোগী সংস্কারমূলক কার্যক্রম শুরু করায় সংস্থাটির ব্যয়ের মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে ০১-০৭-২০২৫ তারিখে উক্ত বিধিমালার বিধি ৩(২) এ নির্ধারিত বীমাকারী নিবন্ধন নবায়নের ফি সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং তা ২০২৬ সন হতে কার্যকর করার প্রস্তাব করায় নিবন্ধন নবায়ন স্থগিত রাখা হয়। বিধিমালা সংশোধনের ব্যাপারে অংশীজনদের সাথে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে একাধিকবার এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ব্যাপক পরামর্শকমূলক (Consultation) সভা করে ঐক্যমতে পৌঁছার পর সর্বশেষ ০৪-০২-২০২৬ তারিখে আইনের ধারা ১১ (২) এর রেফারেন্সে উক্ত বিধিমালার সংশোধনী বাংলাদেশ গেজেটে প্রজ্ঞাপন আকারে জারী করা হয়। সর্বশেষ সংশোধিত এ বিধিমালায় ২০২৬, ২০২৭ এবং ২০২৮ সনের বীমা ব্যবসার নিবন্ধন নবায়ন ফি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।৩. ইতিমধ্যে গত ০৮-০৩-২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশন সূত্রোক্ত পত্রের মাধ্যমে বীমা আইন ২০১০ এর ১১(২)(৩) ধারার বিধান মতে ২০১৮ সনে সংশোধিত বিধি অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ টাকা হারে বীমাকারীর লাইসেন্স নবায়ন ফি আদায়পূর্বক বর্ণিত লাইসেন্স নবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে এবং কোন কোন বীমাকারী বর্ধিত (১.৫০ টাকা) ফি প্রদান হতে বিরত রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনায় তারা সরকার হতে এ বিষয়ে নির্দেশনা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ৪. ইতিমধ্যে ০৬ টি লাইফ বীমা কোম্পানি এবং ১৪ টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা হারে নবায়ন ফি জমা প্রদান করে কর্তৃপক্ষ হতে ২০২৬ সনের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করেনিয়েছে।৫. এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ এর বিধি ৩(২) এর সর্বশেষ ২০২৬ সনে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত হারে (প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা) নবায়ন ফি আদায়ের জন্য সদয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।”
সিংড়ায় শতাধিক গবাদিপশুকে বিনামূল্যে লাম্পি ও ক্ষুরা রোগের টিকা প্রদান
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি খাতের ৬০টি বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন বেআইনিভাবে আটকে রেখেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন ফি জমাদানকারী কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া দেয়নি আইডিআরএ। উল্টো সংশোধিত বিধিমালার আলোকে আরোপিত ২ টাকা ৫০ পয়সা হারে বর্ধিত নবায়ন ফি আদায়ের নির্দেশনা চেয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।২০২৬ সালের ফি নির্ধারণের সুবিধার্থে সংশোধিত বিধিমালা নিয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট প্রস্তাব চাওয়ার প্রেক্ষিতে ৩ জুন আইডিআরএ এ চিঠি দেয়। এতে বলা হয়, “ইতিমধ্যে গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশন সূত্রোক্ত পত্রের মাধ্যমে বীমা আইন ২০১০ এর ১১(২)(৩) ধারার বিধান মতে ২০১৮ সনে সংশোধিত বিধি অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ টাকা হারে বীমাকারীর লাইসেন্স নবায়ন ফি আদায়পূর্বক বর্ণিত লাইসেন্স নবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে এবং কোন কোন বীমাকারী বর্ধিত (১.৫০ টাকা) ফি প্রদান হতে বিরত রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনায় তারা সরকার হতে এ বিষয়ে নির্দেশনা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।ইতিমধ্যে ০৬ টি লাইফ বীমা কোম্পানি এবং ১৪ টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা হারে নবায়ন ফি জমা প্রদান করে কর্তৃপক্ষ হতে ২০২৬ সনের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করে নিয়েছে।এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ এর বিধি ৩(২) এর সর্বশেষ ২০২৬ সনে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত হারে (প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা) নবায়ন ফি আদায়ের জন্য সদয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।”যদিও এর আগে কয়েক দফায় ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন ফি জমাদানকারী বীমা কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রতি আহ্বান জানায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত নবায়ন ফি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে প্রয়োজন হলে সরকারি গেজেট সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।এর আগে খাতের অংশীজনদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমূহূর্তে তাড়াহুড়ো করে আইডিআরএ’র বিদায়ী চেয়ারম্যান এম আসলাম আলমের প্রস্তাবে নবায়ন ফি বাড়িয়ে এ সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করা হয়। সংশোধিত বিধি ৩(২) এ ২০২৬ সাল থেকে ২০৩২ ও পরবর্তী সময় পর্যন্ত ধাপে ধাপে বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন ফি বর্ধিত করার বিধান যুক্ত করা রয়েছে।তবে সংশোধিত ওই বর্ধিত ফি দিতে অস্বীকৃতি জানায় বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি। নতুন করে আরোপ করা বর্ধিত নবায়ন ফি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি খাতের ৬০টি বীমা কোম্পানির লাইসেন্স এখনো নবায়ন হয়নি।বিরোধের মূল কোথায়: বীমা আইন অনুযায়ী, পরবর্তী বছরের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন ও ফি জমা দিতে হয় আগের বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। সে অনুযায়ী বীমা কোম্পানিগুলো ২০২৫ সালের মধ্যেই ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দেয়।তবে ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশিত সংশোধিত বিধিমালায় নবায়ন ফি বাড়িয়ে প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১ টাকা থেকে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এই নতুন হারই এখন বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।বীমা কোম্পানিগুলোর যুক্তি যে সময় তারা ফি জমা দিয়েছে, তখন পুরনো বিধিমালাই কার্যকর ছিল। তাই পরবর্তীতে সংশোধিত হার প্রয়োগ করে অতিরিক্ত ফি দাবি করা আইনসম্মত নয়। আইডিআরএ’র পক্ষ থেকেও চিঠিতে আইন লঙ্ঘন করে ইচ্ছাকৃতভাবে নিবন্ধন নবায়ন স্থগিত রাখার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। বীমা আইন, ২০১০ এর ১১(২) ধারা অনুযায়ী, কোনো বীমা কোম্পানিকে সংশ্লিষ্ট বছরের লাইসেন্স নবায়নের জন্য পূর্ববর্তী বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন ও নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। একই আইনের ১১(৩) ধারা অনুযায়ী, আবেদন ও ফি গ্রহণের পর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বীমাকারীর লাইসেন্স নবায়ন করতে বাধ্য।অথচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (৩০ নভেম্বর ২০২৫) নিবন্ধন ফি জমা দেয়ার পরও আইন লঙ্ঘন করে কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। যা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে লেখা আইডিআরএ’র চিঠিতেই স্পষ্ট হয়েছে- চিঠিরে একাংশে বলা হয়েছে-“সংস্কারমূলক কার্যক্রম শুরু করায় সংস্থাটির ব্যয়ের মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে ০১-০৭-২০২৫ তারিখে উক্ত বিধিমালার বিধি ৩(২) এ নির্ধারিত বীমাকারী নিবন্ধন নবায়নের ফি সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং তা ২০২৬ সন হতে কার্যকর করার প্রস্তাব করায় নিবন্ধন নবায়ন স্থগিত রাখা হয়। বিধিমালা সংশোধনের ব্যাপারে অংশীজনদের সাথে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে একাধিকবার এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ব্যাপক পরামর্শকমূলক সভা করে ঐক্যমতে পৌঁছার পর সর্বশেষ ০৪-০২-২০২৬ তারিখে আইনের ধারা ১১ (২) এর রেফারেন্সে উক্ত বিধিমালার সংশোধনী বাংলাদেশ গেজেটে প্রজ্ঞাপন আকারে জারী করা হয়। ”বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন- কোনো সংশোধনী কার্যকর হওয়ার আগে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সেবা স্থগিত রাখা কতটা আইনসম্মত। আইন সংশোধন হওয়ার আগেই একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজস্ব স্বার্থে কোনোভাবেই বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করতে পারে কি না? বিষয়টি মূলত- রেট্রোস্পেকটিভ অ্যাপ্লিকেশন’ বা পূর্ববর্তী সময়ের ওপর নতুন বিধান প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত।যেখানে আইডিআরএ নিজেই বলেছে-প্রায় সকল বীমাকারী আইনের উপরোক্ত ধারা অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ (এক) টাকা হারে নবায়ন ফি পরিশোধ করে ২০২৬ সনের জন্য নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করেছে। তবে ফি নির্ধারণে বিলম্ব ও অংশীজনদের সঙ্গে দীর্ঘ পরামর্শ প্রক্রিয়ার কারণে সময়মতো লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, বর্ধিত ফি বাতিলের দাবিতে ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা জনস্বার্থে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারির সংশোধনী বাতিল এবং ২০১৮ সালের ফি কাঠামো বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরোধ মূলত “রেট্রোস্পেকটিভ প্রয়োগ” (পূর্ববর্তী সময়ের ওপর নতুন আইন প্রয়োগ) নিয়ে। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দেওয়ার পর নতুন হার চাপিয়ে দেওয়া হলে তা আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তারা আরও বলছেন, দ্রুত সমাধান না এলে বীমা খাতে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।আইডিআরএ’র চিঠিতে যা আছে:দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর সংগঠন -বিআইএ এই বর্ধিত ফি ছাড়াই লাইসেন্স নবায়ন করে দিতে আইডিআরএকে চিঠি দিলেও তা রক্ষা করেনি। বরং সংশোধিনীর আলোকে বর্ধিত ফি নিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনা চেয়ে আবারও চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। গত ৩ জুন আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে উপপরিচালক (নন লাইফ) মোঃ সোলায়মান সচিব বরাবর এই চিঠি দিয়েছেন।নন-লাইফ ও লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহের ২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়ন প্রসঙ্গে দেয়া ওই চিঠিতে বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করার পর বলা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সূত্রোক্ত স্মারকের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আয় হতে সকল ব্যয় মিটাতে হয়। বীমাকারী লাইসেন্স নবায়ন ফি এ সংস্থার আয়ের প্রধান উৎস। বীমা আইন, ২০১০ এর এতদসংক্রান্ত ধারা ১১(২) এর রেফারেন্সে বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ জারী করা হয় এবং এর বিধি ৩(২) অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ৩.৫০ টাকা নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়। ২০১৮ সনে হঠাৎ করে এ লাইসেন্স নবায়ন ফি উক্ত ৩.৫০ টাকা হতে কমিয়ে ১.০০ টাকায় নামিয়ে আনলে এ সংস্থার আয় দারুণভাবে কমে যাওয়ায় ব্যয় নির্বাহ কষ্টকর হয়ে পড়ে।২. তাছাড়া ২০২৫ সনে এ সংস্থার জনবল বৃদ্ধি, কমপ্লিট ডিজিটাইজেশন, ন্যাশনাল কোর ইন্স্যুরেন্স সলিউশন, বাংলাদেশ একচ্যুয়ারিয়াল ইন্সটিটিউট এবং বাংলাদেশ চার্টার্ড ইন্স্যুরেন্স ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি যুগোপযোগী সংস্কারমূলক কার্যক্রম শুরু করায় সংস্থাটির ব্যয়ের মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে ০১-০৭-২০২৫ তারিখে উক্ত বিধিমালার বিধি ৩(২) এ নির্ধারিত বীমাকারী নিবন্ধন নবায়নের ফি সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং তা ২০২৬ সন হতে কার্যকর করার প্রস্তাব করায় নিবন্ধন নবায়ন স্থগিত রাখা হয়। বিধিমালা সংশোধনের ব্যাপারে অংশীজনদের সাথে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে একাধিকবার এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ব্যাপক পরামর্শকমূলক (Consultation) সভা করে ঐক্যমতে পৌঁছার পর সর্বশেষ ০৪-০২-২০২৬ তারিখে আইনের ধারা ১১ (২) এর রেফারেন্সে উক্ত বিধিমালার সংশোধনী বাংলাদেশ গেজেটে প্রজ্ঞাপন আকারে জারী করা হয়। সর্বশেষ সংশোধিত এ বিধিমালায় ২০২৬, ২০২৭ এবং ২০২৮ সনের বীমা ব্যবসার নিবন্ধন নবায়ন ফি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।৩. ইতিমধ্যে গত ০৮-০৩-২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশন সূত্রোক্ত পত্রের মাধ্যমে বীমা আইন ২০১০ এর ১১(২)(৩) ধারার বিধান মতে ২০১৮ সনে সংশোধিত বিধি অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ টাকা হারে বীমাকারীর লাইসেন্স নবায়ন ফি আদায়পূর্বক বর্ণিত লাইসেন্স নবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে এবং কোন কোন বীমাকারী বর্ধিত (১.৫০ টাকা) ফি প্রদান হতে বিরত রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনায় তারা সরকার হতে এ বিষয়ে নির্দেশনা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ৪. ইতিমধ্যে ০৬ টি লাইফ বীমা কোম্পানি এবং ১৪ টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা হারে নবায়ন ফি জমা প্রদান করে কর্তৃপক্ষ হতে ২০২৬ সনের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করেনিয়েছে।৫. এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ এর বিধি ৩(২) এর সর্বশেষ ২০২৬ সনে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত হারে (প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা) নবায়ন ফি আদায়ের জন্য সদয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।”
থানায় অভিযোগ দিতে গিয়ে হয়রানির শিকার ভুক্তভোগী / নরসিংদীতে সাংবাদিকের বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি: স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি খাতের ৬০টি বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন বেআইনিভাবে আটকে রেখেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন ফি জমাদানকারী কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া দেয়নি আইডিআরএ। উল্টো সংশোধিত বিধিমালার আলোকে আরোপিত ২ টাকা ৫০ পয়সা হারে বর্ধিত নবায়ন ফি আদায়ের নির্দেশনা চেয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।২০২৬ সালের ফি নির্ধারণের সুবিধার্থে সংশোধিত বিধিমালা নিয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট প্রস্তাব চাওয়ার প্রেক্ষিতে ৩ জুন আইডিআরএ এ চিঠি দেয়। এতে বলা হয়, “ইতিমধ্যে গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশন সূত্রোক্ত পত্রের মাধ্যমে বীমা আইন ২০১০ এর ১১(২)(৩) ধারার বিধান মতে ২০১৮ সনে সংশোধিত বিধি অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ টাকা হারে বীমাকারীর লাইসেন্স নবায়ন ফি আদায়পূর্বক বর্ণিত লাইসেন্স নবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে এবং কোন কোন বীমাকারী বর্ধিত (১.৫০ টাকা) ফি প্রদান হতে বিরত রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনায় তারা সরকার হতে এ বিষয়ে নির্দেশনা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।ইতিমধ্যে ০৬ টি লাইফ বীমা কোম্পানি এবং ১৪ টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা হারে নবায়ন ফি জমা প্রদান করে কর্তৃপক্ষ হতে ২০২৬ সনের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করে নিয়েছে।এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ এর বিধি ৩(২) এর সর্বশেষ ২০২৬ সনে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত হারে (প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা) নবায়ন ফি আদায়ের জন্য সদয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।”যদিও এর আগে কয়েক দফায় ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন ফি জমাদানকারী বীমা কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রতি আহ্বান জানায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত নবায়ন ফি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে প্রয়োজন হলে সরকারি গেজেট সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।এর আগে খাতের অংশীজনদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমূহূর্তে তাড়াহুড়ো করে আইডিআরএ’র বিদায়ী চেয়ারম্যান এম আসলাম আলমের প্রস্তাবে নবায়ন ফি বাড়িয়ে এ সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করা হয়। সংশোধিত বিধি ৩(২) এ ২০২৬ সাল থেকে ২০৩২ ও পরবর্তী সময় পর্যন্ত ধাপে ধাপে বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন ফি বর্ধিত করার বিধান যুক্ত করা রয়েছে।তবে সংশোধিত ওই বর্ধিত ফি দিতে অস্বীকৃতি জানায় বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি। নতুন করে আরোপ করা বর্ধিত নবায়ন ফি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি খাতের ৬০টি বীমা কোম্পানির লাইসেন্স এখনো নবায়ন হয়নি।বিরোধের মূল কোথায়: বীমা আইন অনুযায়ী, পরবর্তী বছরের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন ও ফি জমা দিতে হয় আগের বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। সে অনুযায়ী বীমা কোম্পানিগুলো ২০২৫ সালের মধ্যেই ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দেয়।তবে ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশিত সংশোধিত বিধিমালায় নবায়ন ফি বাড়িয়ে প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১ টাকা থেকে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এই নতুন হারই এখন বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।বীমা কোম্পানিগুলোর যুক্তি যে সময় তারা ফি জমা দিয়েছে, তখন পুরনো বিধিমালাই কার্যকর ছিল। তাই পরবর্তীতে সংশোধিত হার প্রয়োগ করে অতিরিক্ত ফি দাবি করা আইনসম্মত নয়। আইডিআরএ’র পক্ষ থেকেও চিঠিতে আইন লঙ্ঘন করে ইচ্ছাকৃতভাবে নিবন্ধন নবায়ন স্থগিত রাখার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। বীমা আইন, ২০১০ এর ১১(২) ধারা অনুযায়ী, কোনো বীমা কোম্পানিকে সংশ্লিষ্ট বছরের লাইসেন্স নবায়নের জন্য পূর্ববর্তী বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন ও নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। একই আইনের ১১(৩) ধারা অনুযায়ী, আবেদন ও ফি গ্রহণের পর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বীমাকারীর লাইসেন্স নবায়ন করতে বাধ্য।অথচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (৩০ নভেম্বর ২০২৫) নিবন্ধন ফি জমা দেয়ার পরও আইন লঙ্ঘন করে কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। যা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে লেখা আইডিআরএ’র চিঠিতেই স্পষ্ট হয়েছে- চিঠিরে একাংশে বলা হয়েছে-“সংস্কারমূলক কার্যক্রম শুরু করায় সংস্থাটির ব্যয়ের মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে ০১-০৭-২০২৫ তারিখে উক্ত বিধিমালার বিধি ৩(২) এ নির্ধারিত বীমাকারী নিবন্ধন নবায়নের ফি সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং তা ২০২৬ সন হতে কার্যকর করার প্রস্তাব করায় নিবন্ধন নবায়ন স্থগিত রাখা হয়। বিধিমালা সংশোধনের ব্যাপারে অংশীজনদের সাথে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে একাধিকবার এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ব্যাপক পরামর্শকমূলক সভা করে ঐক্যমতে পৌঁছার পর সর্বশেষ ০৪-০২-২০২৬ তারিখে আইনের ধারা ১১ (২) এর রেফারেন্সে উক্ত বিধিমালার সংশোধনী বাংলাদেশ গেজেটে প্রজ্ঞাপন আকারে জারী করা হয়। ”বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন- কোনো সংশোধনী কার্যকর হওয়ার আগে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সেবা স্থগিত রাখা কতটা আইনসম্মত। আইন সংশোধন হওয়ার আগেই একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজস্ব স্বার্থে কোনোভাবেই বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করতে পারে কি না? বিষয়টি মূলত- রেট্রোস্পেকটিভ অ্যাপ্লিকেশন’ বা পূর্ববর্তী সময়ের ওপর নতুন বিধান প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত।যেখানে আইডিআরএ নিজেই বলেছে-প্রায় সকল বীমাকারী আইনের উপরোক্ত ধারা অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ (এক) টাকা হারে নবায়ন ফি পরিশোধ করে ২০২৬ সনের জন্য নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করেছে। তবে ফি নির্ধারণে বিলম্ব ও অংশীজনদের সঙ্গে দীর্ঘ পরামর্শ প্রক্রিয়ার কারণে সময়মতো লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, বর্ধিত ফি বাতিলের দাবিতে ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা জনস্বার্থে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারির সংশোধনী বাতিল এবং ২০১৮ সালের ফি কাঠামো বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরোধ মূলত “রেট্রোস্পেকটিভ প্রয়োগ” (পূর্ববর্তী সময়ের ওপর নতুন আইন প্রয়োগ) নিয়ে। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দেওয়ার পর নতুন হার চাপিয়ে দেওয়া হলে তা আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তারা আরও বলছেন, দ্রুত সমাধান না এলে বীমা খাতে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।আইডিআরএ’র চিঠিতে যা আছে:দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর সংগঠন -বিআইএ এই বর্ধিত ফি ছাড়াই লাইসেন্স নবায়ন করে দিতে আইডিআরএকে চিঠি দিলেও তা রক্ষা করেনি। বরং সংশোধিনীর আলোকে বর্ধিত ফি নিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনা চেয়ে আবারও চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। গত ৩ জুন আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে উপপরিচালক (নন লাইফ) মোঃ সোলায়মান সচিব বরাবর এই চিঠি দিয়েছেন।নন-লাইফ ও লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহের ২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়ন প্রসঙ্গে দেয়া ওই চিঠিতে বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করার পর বলা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সূত্রোক্ত স্মারকের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আয় হতে সকল ব্যয় মিটাতে হয়। বীমাকারী লাইসেন্স নবায়ন ফি এ সংস্থার আয়ের প্রধান উৎস। বীমা আইন, ২০১০ এর এতদসংক্রান্ত ধারা ১১(২) এর রেফারেন্সে বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ জারী করা হয় এবং এর বিধি ৩(২) অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ৩.৫০ টাকা নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়। ২০১৮ সনে হঠাৎ করে এ লাইসেন্স নবায়ন ফি উক্ত ৩.৫০ টাকা হতে কমিয়ে ১.০০ টাকায় নামিয়ে আনলে এ সংস্থার আয় দারুণভাবে কমে যাওয়ায় ব্যয় নির্বাহ কষ্টকর হয়ে পড়ে।২. তাছাড়া ২০২৫ সনে এ সংস্থার জনবল বৃদ্ধি, কমপ্লিট ডিজিটাইজেশন, ন্যাশনাল কোর ইন্স্যুরেন্স সলিউশন, বাংলাদেশ একচ্যুয়ারিয়াল ইন্সটিটিউট এবং বাংলাদেশ চার্টার্ড ইন্স্যুরেন্স ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি যুগোপযোগী সংস্কারমূলক কার্যক্রম শুরু করায় সংস্থাটির ব্যয়ের মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে ০১-০৭-২০২৫ তারিখে উক্ত বিধিমালার বিধি ৩(২) এ নির্ধারিত বীমাকারী নিবন্ধন নবায়নের ফি সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং তা ২০২৬ সন হতে কার্যকর করার প্রস্তাব করায় নিবন্ধন নবায়ন স্থগিত রাখা হয়। বিধিমালা সংশোধনের ব্যাপারে অংশীজনদের সাথে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে একাধিকবার এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ব্যাপক পরামর্শকমূলক (Consultation) সভা করে ঐক্যমতে পৌঁছার পর সর্বশেষ ০৪-০২-২০২৬ তারিখে আইনের ধারা ১১ (২) এর রেফারেন্সে উক্ত বিধিমালার সংশোধনী বাংলাদেশ গেজেটে প্রজ্ঞাপন আকারে জারী করা হয়। সর্বশেষ সংশোধিত এ বিধিমালায় ২০২৬, ২০২৭ এবং ২০২৮ সনের বীমা ব্যবসার নিবন্ধন নবায়ন ফি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।৩. ইতিমধ্যে গত ০৮-০৩-২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশন সূত্রোক্ত পত্রের মাধ্যমে বীমা আইন ২০১০ এর ১১(২)(৩) ধারার বিধান মতে ২০১৮ সনে সংশোধিত বিধি অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ টাকা হারে বীমাকারীর লাইসেন্স নবায়ন ফি আদায়পূর্বক বর্ণিত লাইসেন্স নবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে এবং কোন কোন বীমাকারী বর্ধিত (১.৫০ টাকা) ফি প্রদান হতে বিরত রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনায় তারা সরকার হতে এ বিষয়ে নির্দেশনা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ৪. ইতিমধ্যে ০৬ টি লাইফ বীমা কোম্পানি এবং ১৪ টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা হারে নবায়ন ফি জমা প্রদান করে কর্তৃপক্ষ হতে ২০২৬ সনের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করেনিয়েছে।৫. এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ এর বিধি ৩(২) এর সর্বশেষ ২০২৬ সনে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত হারে (প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা) নবায়ন ফি আদায়ের জন্য সদয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।”
এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত
নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ
আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ
ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন
৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা
ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা, বাতিল ৬৪৭৬ জনের নাম
ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে
নীলফামারীকে পাখিদের অভয়ারণ্য নগরী গড়ার উদ্যোগ
সুন্দরবনে দস্যুতা, মাদক ও মানব পাচার রোধে কোস্ট গার্ড দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে: কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক
গণমাধ্যম সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার কেবলই সহায়ক: তথ্যমন্ত্রী
কাভার্ডভ্যানে লুকিয়ে ঢাকায় পাচারকালে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৫
ঢাকার ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা
নরসিংদীতে মা-মেয়ের বিরুদ্ধে ৭ ভরি স্বর্ণ ও ডায়মন্ড আত্মসাতের অভিযোগ
আমি নিতে আসি নাই, দিতে আসছি: মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম বিপুল
১৬ বছর পর সেই ‘জ্বালাময়ী সত্য’ নিয়ে মুখ খুললেন প্রভা
দিল্লির বিমানবন্দরে কী ঘটেছিল, জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
সিংড়ায় শতাধিক গবাদিপশুকে বিনামূল্যে লাম্পি ও ক্ষুরা রোগের টিকা প্রদান
নরসিংদীতে সাংবাদিকের বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি: স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট
গণমাধ্যম সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার কেবলই সহায়ক: তথ্যমন্ত্রী
দেশের ইতিহাসে এই প্রথম গণমাধ্যমের সব ধারার অংশীজনকে এক মঞ্চে সমবেত করেছে সরকার।এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও দেশে একটি স্বাধীন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।তিনি বলেন, ‘এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কেবল একজন ‘সহায়ক’ ও সহযোগী অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এ জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় সভা প্রধানের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসের জন্য এক অনন্য মাইলফলক। বাংলাদেশে এই প্রথম গণমাধ্যমের মূল ধারার সকল অংশীজনকে আমরা একই মঞ্চে জড়ো করতে পেরেছি।’ছবি : বাসসতিনি বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন মূলত একটি উন্মুক্ত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। আমরা সবাই যদি আলোচনার মধ্য দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে আমাদের পথ চলার মূল বিন্দুটি খুঁজে বের করতে পারি, তবেই এই আয়োজন সার্থক হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের মহান ও স্বাধীন উদ্দেশ্যকে সফলভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কেবল একজন ‘সহায়ক’ এবং ‘সমন্বয়কারী’র দায়িত্ব পালন করবে।’বর্তমান সরকারের গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনে যাওয়ার আগেই দেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল- রাষ্ট্রকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার। এজন্য রাষ্ট্রের কাঠামোগত যেসব জায়গায় মেরামত বা সংস্কার করা দরকার, সকলকে সাথে নিয়ে সেসব জায়গায় সরকার মেরামত করবে।’তিনি বলেন, ‘সংস্কারের এইতালিকাভুক্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গণমাধ্যম। সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।স্বাগত বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি রক্তক্ষয়ী বিপ্লব ও সংগ্রামের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই গণতন্ত্রকে কীভাবে সমুন্নত রাখা যায় এবং সরকারের এই উন্নয়ন যাত্রায় গণমাধ্যম কীভাবে সহযাত্রী ও সহযোগী হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ প্রয়োজন। গণমাধ্যমের অগ্রযাত্রায় সরকার ও গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।প্রস্তাবিত গণমাধ্যম কমিশনকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এমন একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে চাই যা অত্যন্ত শক্তিশালী হবে এবং যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে। এই কমিশনকে কীভাবে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিতামূলক করা যায়, সে বিষয়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি।‘মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সঞ্চালনায় কর্মশালায় ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল, সম্পাদক পরিষদ, জাতীয় নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব), টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো), ন্যাশনাল মিডিয়া ওয়াচ কাউন্সিল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি), ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন টেলিভিশন মালিক, সম্পাদকবৃন্দ, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।তথ্যমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের পর কর্মশালার মূল অধিবেশনে উপদেষ্টার উপস্থাপিত রূপরেখার ওপর ভিত্তি করে উপস্থিত গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দ, সম্পাদক ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরা স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে স্ব-স্ব মতামত, ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের খসড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন।
শাপলা চত্বরে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ, তদন্তে আলোচিত নাম
শাপলা চত্বরে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ, তদন্তে আলোচিত নাম
অপরাধীর কোনো ধর্ম নেই, আইনের চোখে সবাই সমান: থালাপতি
অপরাধীর কোনো ধর্ম নেই, আইনের চোখে সবাই সমান: থালাপতি
প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও সিলেটে শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর
প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও সিলেটে শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর