ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪
সর্বশেষ

কপ-৩১: বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কারিগরি সমন্বয় কমিটির দ্বিতীয় সভা

আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় ৩১তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩১)-এ বাংলাদেশের কার্যকর ও সফল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কারিগরি সমন্বয় কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।সভায় কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় দেশের অবস্থান নির্ধারণ, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন স্থাপন, সাইড ইভেন্ট আয়োজন এবং প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।সভায় জানানো হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।কপ-৩১-এর আলোচ্যসূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের খসড়া পজিশন পেপার প্রস্তুত ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ন্যায্য রূপান্তর (Just Transition), ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (CBAM), আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিয়ে কারিগরি প্রতিবেদন ও পলিসি ব্রিফ প্রস্তুতের বিষয়েও আলোচনা হয়।আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট (LDC Group), উন্নয়নশীল দেশ ও সমমনা রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে যৌথ অবস্থান গ্রহণের সুযোগও পর্যালোচনা করা হবে।কপ-৩১ সম্মেলন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নে দেশের জলবায়ু ঝুঁকি, অভিযোজন অভিজ্ঞতা, NDC 3.0, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP), জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষয়ক্ষতি (Loss and Damage), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কার্বন বাজার, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগ তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।এ লক্ষ্যে প্যাভিলিয়নের নকশা, ব্র্যান্ডিং, প্রদর্শনী উপকরণ, সাইড ইভেন্টের ক্যালেন্ডার ও পরিচালন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।সভায় মূল জলবায়ু আলোচনায় বিষয়ভিত্তিক ও পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, নতুন ও তরুণ কর্মকর্তাদের আলোচনায় সম্পৃক্ত করা এবং প্রতিনিধিদলের নিবন্ধন, ভিসা, যাতায়াত ও আবাসনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।কপ-৩১-এর প্রস্তুতি সমন্বয়ের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ১৮ আগস্ট একটি কারিগরি সমন্বয় কমিটি এবং তিনটি উপকমিটি গঠন করে। উপকমিটিগুলো হলো—পজিশন পেপার প্রণয়ন উপকমিটি, প্যাভিলিয়ন স্থাপন ও সাইড ইভেন্ট আয়োজন উপকমিটি এবং লজিস্টিক সাপোর্ট উপকমিটি।বুধবারের সভায় তিনটি উপকমিটির কার্যক্রমের অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে কপ-৩১-এর প্রস্তুতি আরও সুসংহত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।উল্লেখ্য, আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় কপ-৩১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের অংশ হিসেবে ১১ ও ১২ নভেম্বর বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলন (World Leaders’ Summit) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অব্যবস্থাপনা নিরসন ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি

ব্যাংক খাতে সংস্কার ও ঋণ আদায়ে জোরদার উদ্যোগের কারণে গত নয় মাসে দেশে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) পরিমাণ প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে এনপিএল অনুপাত কমে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নয় মাসে এনপিএল অনুপাত কমেছে ২ দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ এখনো বেশি।জুন শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও আড়ালে থাকা খেলাপি ঋণ চিহ্নিত করে ব্যাংকগুলোর হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এনপিএল অনুপাতে এই উন্নতি এসেছে।ফলে একদিকে খেলাপি ঋণের অনুপাতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে, অন্যদিকে ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্রও আগের তুলনায় স্পষ্ট হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়।এর ফলে আগে গোপন থাকা বা পুনঃতফসিলের মাধ্যমে আড়াল করা অনেক ঋণের প্রকৃত অবস্থা সামনে আসে।তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে এককালীন প্রস্থান নীতি এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিলসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের সুফল পুরোপুরি প্রতিফলিত হলে খেলাপি ঋণের অনুপাত আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। চলতি বছরের জুনে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ সামান্য বেড়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা হলেও মোট ঋণের তুলনায় এর অনুপাত কমেছে।সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকাশিত খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি তুলে ধরেনি। ২০০৮ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা থাকলেও ২০২৪ সালে সরকারি হিসাবে তা প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। তবে শ্বেতপত্রে প্রকৃত খেলাপি ও সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা বলে উঠে এসেছে।তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারে এসব সংস্কারের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানো এবং খেলাপি ঋণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণ কমার বর্তমান প্রবণতা উৎসাহব্যঞ্জক হলেও এটিকে এখনই চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, প্রকৃত খেলাপি ঋণ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ায় শুরুতে অনুপাত বাড়তেও পারে। তবে ব্যাংকের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ করাই টেকসই সংস্কারের প্রথম শর্ত।সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ব্যাংক খাতের হিসাব পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় স্বল্পমেয়াদে কিছু চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এ জন্য পেশাদার ব্যবস্থাপনা, যথাযথ ঋণ মূল্যায়ন এবং কার্যকর ঋণ আদায় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর জন্য সংস্কার কাঠামোও জোরদার করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদনের মানদণ্ড আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি (ইসিএল) হিসাব চালু হলে সম্ভাব্য ঋণঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।তাদের মতে, এখন শুধু প্রকাশিত খেলাপি ঋণ কমানোর দিকে নজর না দিয়ে এর কাঠামোগত কারণ দূর করতে হবে। ঋণ আদায় জোরদার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ও দুর্বল আস্থার একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা পেয়েছে। তাই খেলাপি ও পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংক পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত নয় মাসের এনপিএল কমার প্রবণতা ব্যাংক খাতের সংস্কারে একটি ইতিবাচক প্রাথমিক সংকেত। তবে এ অগ্রগতি কতটা টেকসই হয়েছে, তা বোঝার জন্য ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। ধারাবাহিক সংস্কার, ঋণ আদায় এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে খেলাপি ঋণ আরও কমার পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা ও ব্যাংক খাতে ঋণশৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

সায়েদাবাদে প্রকাশ্যে মাদকের কারবার, নীরব প্রশাসন

ব্যাংক খাতে সংস্কার ও ঋণ আদায়ে জোরদার উদ্যোগের কারণে গত নয় মাসে দেশে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) পরিমাণ প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে এনপিএল অনুপাত কমে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নয় মাসে এনপিএল অনুপাত কমেছে ২ দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ এখনো বেশি।জুন শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও আড়ালে থাকা খেলাপি ঋণ চিহ্নিত করে ব্যাংকগুলোর হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এনপিএল অনুপাতে এই উন্নতি এসেছে।ফলে একদিকে খেলাপি ঋণের অনুপাতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে, অন্যদিকে ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্রও আগের তুলনায় স্পষ্ট হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়।এর ফলে আগে গোপন থাকা বা পুনঃতফসিলের মাধ্যমে আড়াল করা অনেক ঋণের প্রকৃত অবস্থা সামনে আসে।তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে এককালীন প্রস্থান নীতি এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিলসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের সুফল পুরোপুরি প্রতিফলিত হলে খেলাপি ঋণের অনুপাত আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। চলতি বছরের জুনে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ সামান্য বেড়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা হলেও মোট ঋণের তুলনায় এর অনুপাত কমেছে।সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকাশিত খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি তুলে ধরেনি। ২০০৮ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা থাকলেও ২০২৪ সালে সরকারি হিসাবে তা প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। তবে শ্বেতপত্রে প্রকৃত খেলাপি ও সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা বলে উঠে এসেছে।তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারে এসব সংস্কারের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানো এবং খেলাপি ঋণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণ কমার বর্তমান প্রবণতা উৎসাহব্যঞ্জক হলেও এটিকে এখনই চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, প্রকৃত খেলাপি ঋণ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ায় শুরুতে অনুপাত বাড়তেও পারে। তবে ব্যাংকের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ করাই টেকসই সংস্কারের প্রথম শর্ত।সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ব্যাংক খাতের হিসাব পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় স্বল্পমেয়াদে কিছু চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এ জন্য পেশাদার ব্যবস্থাপনা, যথাযথ ঋণ মূল্যায়ন এবং কার্যকর ঋণ আদায় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর জন্য সংস্কার কাঠামোও জোরদার করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদনের মানদণ্ড আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি (ইসিএল) হিসাব চালু হলে সম্ভাব্য ঋণঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।তাদের মতে, এখন শুধু প্রকাশিত খেলাপি ঋণ কমানোর দিকে নজর না দিয়ে এর কাঠামোগত কারণ দূর করতে হবে। ঋণ আদায় জোরদার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ও দুর্বল আস্থার একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা পেয়েছে। তাই খেলাপি ও পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংক পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত নয় মাসের এনপিএল কমার প্রবণতা ব্যাংক খাতের সংস্কারে একটি ইতিবাচক প্রাথমিক সংকেত। তবে এ অগ্রগতি কতটা টেকসই হয়েছে, তা বোঝার জন্য ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। ধারাবাহিক সংস্কার, ঋণ আদায় এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে খেলাপি ঋণ আরও কমার পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা ও ব্যাংক খাতে ঋণশৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

তত্ত্বাবধায়কের অপসারণ দাবি / ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতির পাহাড়

ব্যাংক খাতে সংস্কার ও ঋণ আদায়ে জোরদার উদ্যোগের কারণে গত নয় মাসে দেশে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) পরিমাণ প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে এনপিএল অনুপাত কমে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নয় মাসে এনপিএল অনুপাত কমেছে ২ দশমিক ৯৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ এখনো বেশি।জুন শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও আড়ালে থাকা খেলাপি ঋণ চিহ্নিত করে ব্যাংকগুলোর হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এনপিএল অনুপাতে এই উন্নতি এসেছে।ফলে একদিকে খেলাপি ঋণের অনুপাতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে, অন্যদিকে ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্রও আগের তুলনায় স্পষ্ট হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়।এর ফলে আগে গোপন থাকা বা পুনঃতফসিলের মাধ্যমে আড়াল করা অনেক ঋণের প্রকৃত অবস্থা সামনে আসে।তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে এককালীন প্রস্থান নীতি এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিলসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের সুফল পুরোপুরি প্রতিফলিত হলে খেলাপি ঋণের অনুপাত আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। চলতি বছরের জুনে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ সামান্য বেড়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা হলেও মোট ঋণের তুলনায় এর অনুপাত কমেছে।সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকাশিত খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি তুলে ধরেনি। ২০০৮ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা থাকলেও ২০২৪ সালে সরকারি হিসাবে তা প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। তবে শ্বেতপত্রে প্রকৃত খেলাপি ও সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা বলে উঠে এসেছে।তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারে এসব সংস্কারের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানো এবং খেলাপি ঋণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণ কমার বর্তমান প্রবণতা উৎসাহব্যঞ্জক হলেও এটিকে এখনই চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, প্রকৃত খেলাপি ঋণ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ায় শুরুতে অনুপাত বাড়তেও পারে। তবে ব্যাংকের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ করাই টেকসই সংস্কারের প্রথম শর্ত।সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ব্যাংক খাতের হিসাব পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় স্বল্পমেয়াদে কিছু চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এ জন্য পেশাদার ব্যবস্থাপনা, যথাযথ ঋণ মূল্যায়ন এবং কার্যকর ঋণ আদায় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর জন্য সংস্কার কাঠামোও জোরদার করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদনের মানদণ্ড আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি (ইসিএল) হিসাব চালু হলে সম্ভাব্য ঋণঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।তাদের মতে, এখন শুধু প্রকাশিত খেলাপি ঋণ কমানোর দিকে নজর না দিয়ে এর কাঠামোগত কারণ দূর করতে হবে। ঋণ আদায় জোরদার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ও দুর্বল আস্থার একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা পেয়েছে। তাই খেলাপি ও পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংক পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত নয় মাসের এনপিএল কমার প্রবণতা ব্যাংক খাতের সংস্কারে একটি ইতিবাচক প্রাথমিক সংকেত। তবে এ অগ্রগতি কতটা টেকসই হয়েছে, তা বোঝার জন্য ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। ধারাবাহিক সংস্কার, ঋণ আদায় এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে খেলাপি ঋণ আরও কমার পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা ও ব্যাংক খাতে ঋণশৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে  মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৩১০ জন হাসপাতালে

সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

ভোগান্তিতে গবাঘোনার দুই হাজার পরিবার

ভোগান্তিতে গবাঘোনার দুই হাজার পরিবার

সিটি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে অস্বাভাবিক উত্থান, তদন্তে বিএসইসি

সিটি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে অস্বাভাবিক উত্থান, তদন্তে বিএসইসি

কপ-৩১: বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কারিগরি সমন্বয় কমিটির দ্বিতীয় সভা

কপ-৩১: বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কারিগরি সমন্বয় কমিটির দ্বিতীয় সভা

ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব

ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব

ওয়ান হেলথকে নীতি থেকে কার্যক্রমে রূপ দিতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

ওয়ান হেলথকে নীতি থেকে কার্যক্রমে রূপ দিতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

মাদকবিরোধী অভিযান ও অপরাধ দমনে সফলতা

মাদকবিরোধী অভিযান ও অপরাধ দমনে সফলতা

নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল: সড়কমন্ত্রী

নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল: সড়কমন্ত্রী

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে পৃথকভাবে দেখার সুযোগ নেই: এফএও সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে পৃথকভাবে দেখার সুযোগ নেই: এফএও সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অব্যবস্থাপনা নিরসন ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অব্যবস্থাপনা নিরসন ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি

আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর সম্পদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি

আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর সম্পদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি

কোন ভিডিও নেই !
কোন ভিডিও নেই !

কপ-৩১: বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কারিগরি সমন্বয় কমিটির দ্বিতীয় সভা

আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় ৩১তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩১)-এ বাংলাদেশের কার্যকর ও সফল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কারিগরি সমন্বয় কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।সভায় কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় দেশের অবস্থান নির্ধারণ, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন স্থাপন, সাইড ইভেন্ট আয়োজন এবং প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।সভায় জানানো হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।কপ-৩১-এর আলোচ্যসূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের খসড়া পজিশন পেপার প্রস্তুত ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ন্যায্য রূপান্তর (Just Transition), ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (CBAM), আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিয়ে কারিগরি প্রতিবেদন ও পলিসি ব্রিফ প্রস্তুতের বিষয়েও আলোচনা হয়।আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট (LDC Group), উন্নয়নশীল দেশ ও সমমনা রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে যৌথ অবস্থান গ্রহণের সুযোগও পর্যালোচনা করা হবে।কপ-৩১ সম্মেলন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নে দেশের জলবায়ু ঝুঁকি, অভিযোজন অভিজ্ঞতা, NDC 3.0, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP), জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষয়ক্ষতি (Loss and Damage), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কার্বন বাজার, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগ তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।এ লক্ষ্যে প্যাভিলিয়নের নকশা, ব্র্যান্ডিং, প্রদর্শনী উপকরণ, সাইড ইভেন্টের ক্যালেন্ডার ও পরিচালন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।সভায় মূল জলবায়ু আলোচনায় বিষয়ভিত্তিক ও পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, নতুন ও তরুণ কর্মকর্তাদের আলোচনায় সম্পৃক্ত করা এবং প্রতিনিধিদলের নিবন্ধন, ভিসা, যাতায়াত ও আবাসনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।কপ-৩১-এর প্রস্তুতি সমন্বয়ের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ১৮ আগস্ট একটি কারিগরি সমন্বয় কমিটি এবং তিনটি উপকমিটি গঠন করে। উপকমিটিগুলো হলো—পজিশন পেপার প্রণয়ন উপকমিটি, প্যাভিলিয়ন স্থাপন ও সাইড ইভেন্ট আয়োজন উপকমিটি এবং লজিস্টিক সাপোর্ট উপকমিটি।বুধবারের সভায় তিনটি উপকমিটির কার্যক্রমের অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে কপ-৩১-এর প্রস্তুতি আরও সুসংহত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।উল্লেখ্য, আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় কপ-৩১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের অংশ হিসেবে ১১ ও ১২ নভেম্বর বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলন (World Leaders’ Summit) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব

প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে।সূত্র: ডেইলি মেইল

সব বিভাগের খবর

ঢাকা প্রেসক্লাবকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুদানের চেক হস্তান্তর

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদানের চেক ঢাকা প্রেসক্লাবের অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সমাজসেবা অধিদপ্তরের শহর সমাজসেবা কার্যালয়-১, যাত্রাবাড়ী, ঢাকার সমাজসেবা অফিসার আবু নাইম মৃধা ঢাকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাদেক মাহমুদ পাভেলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।ঢাকা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন প্রাপ্তির পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সরকারি অনুদান পেয়ে আসছে। সর্বশেষ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের অনুদানের চেক হস্তান্তরকে ক্লাবের সামাজিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের সহযোগিতার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে ঢাকা প্রেসক্লাবের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে পৃথক কমিটি বা সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, একটি মহল একই নাম ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে ঐতিহ্যবাহী ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।ক্লাব কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ঢাকা প্রেসক্লাবের নিবন্ধন, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সরকারি পর্যায়ে স্বীকৃতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র রয়েছে। তাদের দাবি, কথিত কয়েকটি কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কখনোই ঢাকা প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন না। এ বিষয়ে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের আদালতে মতামতও দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। ঢাকা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, প্রতিষ্ঠানটি যখন নিয়মতান্ত্রিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সরকারি পর্যায় থেকে অনুদান পাচ্ছে, তখন একই নামে পৃথক কমিটি বা সংগঠনের প্রচার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এতে শুধু ক্লাবের সদস্যদের মধ্যেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় ও বৈধতা নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তাদের দাবি।এ বিষয়ে ঢাকা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের  আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো দাবি বা বিরোধ থাকলে তা প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে নয়, বরং বিদ্যমান আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনি কাঠামোর মধ্যেই নিষ্পত্তি করা উচিত।ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, বিভ্রান্তি ও বিরোধ সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্টরা বাস্তবতা অনুধাবন করবেন এবং ঢাকা প্রেসক্লাবের নাম ও ভাবমূর্তি নিয়ে যে কোনো বিরোধ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।চেক হস্তান্তরের সময় ঢাকা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে আসছে নতুন সুবিধা, পাবেন আজীবন

সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে একগুচ্ছ নতুন সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়া, পেনশনারদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা, বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ সুবিধা চালু এবং নির্দিষ্ট শর্তে পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হওয়ার সুযোগ।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। অর্থমন্ত্রী পদাধিকারবলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান।জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানান, জনআগ্রহ বাড়াতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদ অনুমোদন দিলে এবং বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব হলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এসব সুবিধা চালু করা হতে পারে।বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাওয়ার কারণে নির্ভরশীলতার হার বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করে সরকার। তবে তিন বছর পার হলেও এতে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি।ব্যাংকের আমানতের সুদের তুলনায় পেনশনের রিটার্ন কম এবং গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক সুবিধা সীমিত থাকাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ পর্যন্ত চারটি স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন। তাঁদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।এর মধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের জন্য চালু করা ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। তাঁদের জমার পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ‘প্রবাস’ স্কিমে সাড়া সবচেয়ে কম। এ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী। তাঁদের মধ্যে নারী ৯৭ জন। এ স্কিমে জমার পরিমাণ ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।বর্তমান নিয়মে পেনশনভোগী ৬০ বছর বয়সে মাসিক পেনশন পাওয়া শুরু করেন। পেনশন পাওয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হলে নমিনি পেনশনারের ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত সমহারে মাসিক পেনশন পান।নতুন প্রস্তাবে নমিনির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের প্রচলিত পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবও পর্ষদ সভায় উঠতে পারে।আইনে গ্রাহকের জমা করা অর্থের একটি অংশ বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এখনো তা চালু হয়নি। এবার এ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। ঋণের সুদও গ্রাহকের পেনশন হিসাবে জমা হওয়ার কথা রয়েছে।পাশাপাশি পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক ও আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ ব্যবস্থা থেকে বের হতে চাইলে বিশেষ বিবেচনায় পুরো অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।পেনশনারদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।এ ছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবস্থাটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার। পর্ষদের অনুমোদন পেলে এসব সুবিধা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আগস্টে এলো ৩৬ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

সদ্য সমাপ্ত আগস্টে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৯৭ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)।বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে দেশে এসেছে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ।চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রেমিট্যান্স এসেছে ৫৮২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশে ডলারের সরবরাহ বাড়ে, যা আমদানি ব্যয় মেটানো ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের নানা উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবা সহজ হওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।এদিকে, বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।

সেরা ডিলারদের ক্রেস্ট ও পুরস্কার প্রদান / এজি পাম্পের ডিলার কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা ডিলারদের হাতে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দিয়েছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ব্যানটেক লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিটিএল ইন্টারন্যাশনালের এজি পাম্প। ঢাকার হোটেল লেকশোর হাইটসের বলরুমে প্রতিষ্ঠানটির পঞ্চম ডিলার কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এজি পাম্পের চেয়ারম্যান মো. আমীর হুসাইন। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস সাকিব জুবায়ের, পরিচালক জাকারিয়া আহমেদ ও পরিচালক রাজিব আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের হেড অব সেলস (ডিজিএম) হুমায়ূন কবির। কনফারেন্সে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ডিলার ও পরিবেশকেরা তাদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন প্রস্তাব ও পরামর্শ তুলে ধরেন।ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস সাকিব জুবায়ের বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এজি পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে এই কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।’প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. আমীর হুসাইন বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক মন্দার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’নতুন নতুন পণ্য ও সেবা কীভাবে গ্রাহকদের কাছে আরও সহজলভ্য করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাকারিয়া আহমেদ।অনুষ্ঠানে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিক্রয় লক্ষ্য অর্জনকারী ডিলারদের সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হয়। বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় সেরা ডিলারকে একটি রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণ শেষে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এজি পাম্পের পঞ্চম ডিলার কনফারেন্সের সমাপ্তি হয়।

সিংড়ায় পাটের বাম্পার ফলন! দামেও খুশি কৃষক

নাটোরের সিংড়া উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন পাট চাষীদের  জিরোনোর সময় নেই কারো। ডোবা-নালায় পাট পচানো, নদী ও বিলেে ঘাটে পাট ধোয়া আর উঠোনজুড়ে রোদে সোনালী আঁশ শুকানোর ব্যস্ততা। বাতাসে কাঁচা পাটের সুবাস আর কৃষকের মুখে এক চিলতে স্বস্তির হাসি বলে দিচ্ছে—এবার ‘সোনালী আঁশ’ তার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে এনেছে। সিংড়ায় পাটের বাম্পার ফলন ও চড়া দামে অধিকাংশ কৃষকের দিন কাটছে বেশ আনন্দে।​চলতি মৌসুমে উপজেলার চামারী ও লালোর ইউনিয়নসহ  বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট। বর্তমানে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা দরে। আর বিঘাপ্রতি পাওয়া যাচ্ছে ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত আঁশ।​উপজেলার লালোর গ্রামের সফল পাটচাষী নুরুজ্জামান  বলেন, “গত বছরের চেয়ে এবার ফলন অনেক ভালো পাইছি। দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করে বিঘায় প্রায় ৯ মণ কইরা পাইছি। সার, সেচ আর শ্রমিক সব মিলিয়ে খরচ হইছে ২৭ হাজার টাকার মতো। আর দুই বিঘা থেকে পাওয়া ১৮ মণ পাট বেচে দাম আসবে প্রায় ৬৩ থেকে ৭২ হাজার টাকা! সব খরচ বাদ দিয়েও ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ থাকবে। গত কয়েক বছরের লোকসান এবার সুদে-আসলে উঠে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।”​ সিংড়ার সর্ববৃহৎ পাটের বাজার ‘হাদিয়ান্দ হাটের’ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার পাটের কালার ও মান খুব চমৎকার। ভালো জাত ও আঁশের উজ্জ্বলতাভেদে আমরা বর্তমানে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকায় প্রতি মণ পাট কিনছি। আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবার আমরা কৃষকদের ভালো দাম দিতে পারছি।”​তবে আনন্দের এই জোয়ারে সামান্য দুশ্চিন্তার ভাঁজও আছে কিছু নিম্নঞ্চলের কৃষকের কপালে। নিচু জমিতে আগাম বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শ্রমিকের মজুরি গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ। লালোর ইউনিয়নের মাজগাতী গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক অনিল চন্দ্র আক্ষেপ করে বলেন, “দেড় বিঘা জমির পাট পানির নিচে  ডুবে গেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পাট কাটার জন্যই শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে  ৭০০ টাকা হাজিরা। আঁশ ছাড়ানো আর ধোয়ার খরচও দ্বিগুণ। সব মিলিয়ে এবার হয়তো দুই-তিন হাজার টাকা লোকসান হবে আমার।”​অন্যদিকে, পাটের এই ভরা মৌসুমে গ্রামীণ নারীদের কাজের সংস্থানও তৈরি হয়েছে। পাট খড়ির বিনিময়ে গৃহস্থের বাড়িতে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন স্থানীয় আলেয়া বেগমের মতো অনেকে। হাসিমুখে আলেয়া বলেন, এক মাস কষ্ট করে কাজ করলে যে পাটখড়ি পামু, তা দিয়ে অন্তত ৬ মাসের রান্নার জ্বালানি হয়ে যাবে। বাড়তি পাটখড়ি বেচে বাজারে দু-এক পয়সা আয়ও করা যাবে।​কৃষকদের সার্বিক সহায়তায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ বলেন,চলতি মৌসুমে সিংড়ায় ১ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ও মান দুই-ই চমৎকার। পর্যাপ্ত পানি থাকায় এবার পাট ‘জাগ’ দিতে কৃষকদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। নিচু জমির সামান্য কিছু ক্ষতি হলেও বেশিরভাগ কৃষকই এবার লাভবান হচ্ছেন। আমরা সার্বিক পরামর্শ ও কৃষি প্রণোদনা নিয়ে কৃষকের পাশে আছি। আশা করছি, পাটের এই ভালো দাম আগামীতেও বজায় থাকবে।

২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে কাজ চলমান: প্রধানমন্ত্রী

২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে কাজ চলমান ও সরকার বদ্ধ পরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২ টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি এ কথা বলেন।অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘ব্যবসায় সফলতার জন্য সরকারের ব্যবসায়ী নীতিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, একই সঙ্গে সামর্থ্যও আছে। বাংলাদেশে নিরাপদ বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। ট্যাক্স, ভ্যাট প্রক্রিয়া সহজ করে বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার দিকে জোর দিয়েছি। বাংলাদেশ টেকসই ও স্থায়ী বিদেশী বিনিয়োগ চায়, আমরা এক হয়ে কাজ করতে চাই।’এসময় তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে কাজ করছে। আর দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার বদ্ধ পরিকর।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে ভ্যাট ট্যাক্স প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশনসহ বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে সরকার।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে হবে : ডা. জাহেদ উর রহমান

সরকারি তথ্য ও উন্নয়নমূলক বার্তা প্রচারে / সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে হবে : ডা. জাহেদ উর রহমান

সরকারি তথ্য ও উন্নয়নমূলক বার্তা জনগণের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।একই সঙ্গে তিনি ভুল তথ্য প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে নেটওয়ার্কিং ও ডিজিটাল লিটারেসি বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন।আজ বুধবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধান অতিথি বলেন, প্রচলিত প্রচার পদ্ধতির পাশাপাশি ফেইসবুক, ইউটিউব, টিকটক, ইন্সট্রাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট ও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে সরকারি তথ্য প্রচার করা হলে তা অধিকসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। স্থানীয় কার্যক্রমের ভিডিও বা লাইভ প্রচারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।ভুল তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।ডিজিটাল লিটারেসির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য শেয়ার করা উচিত নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।সভায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল জলিল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের কিছু বাস্তব ও আইনি ঝুঁকি রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাদের তথ্য প্রচারে যাতে দ্বিধায় পড়তে না হয়, সেজন্য আইনি কাঠামোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।তিনি জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ছয় মাসে মাঠপর্যায়ে পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রংপুর বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, জেলা তথ্য কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক তথ্য অফিসের কর্মকর্তা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

অপতথ্য ও সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী প্যানেল গঠন করছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

অপতথ্য ও সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী প্যানেল গঠন করছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

অপতথ্য ও সাইবার বুলিং মোকাবিলায় তথ্য মন্ত্রণালয় আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অপতথ্য বা ভুল তথ্য নিয়ে আমরা খুবই চিন্তায় আছি। এছাড়া সাইবার বুলিং বিশেষ করে নারীদের উপরে যা হয়, নিয়মিতভাবে ফলে নারীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকেন।”এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে তথ্য মন্ত্রণালয় আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়ে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।”এ উদ্যোগ অনেকের জন্য দুঃসংবাদ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কারো জন্য দুঃসংবাদ তো বটেই, যারা এই কাজগুলো করেন—তাদের জন্য এই রাষ্ট্র, এই সরকার সিরিয়াস কগনিজেন্স নিতে যাচ্ছে; আপনারা সতর্ক হয়ে যান।”জাহেদ উর রহমান বলেন, “তথ্যের নামে অত্যাচার, অন্যায় হয়। আমরা যে কেউ অপতথ্যের শিকার হতে পারি, বুলিংয়ের শিকার হতে পারি; ফেইক ছবি, ফেইক ভিডিওর শিকার হতে পারি। সেরকম মানুষের জন্য সুখবর হচ্ছে এই আইনজীবী প্যানেল গঠন সম্পন্ন হচ্ছে।”সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান বিগত সরকারের সমালোচনাও করেন।“আগে ডিজিটাল আইনের মারাত্মক অপপ্রয়োগ হয়েছে, এই সরকার মাফিয়া বা অনির্বাচিত নয়, নির্বাচিত সরকার কোনো আইনেরই অপপ্রয়োগ করবে না।”সংবাদ সম্মেলনে ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রসঙ্গও আসে।এক সাংবাদিক বলেন, জঙ্গি, সন্ত্রাসী, স্বাধীনতাবিরোধী—যারাই ভেঙে থাকুক, বর্তমানে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বিএনপি ক্ষমতায়। তাদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখলাম না।এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নেওয়ার কথা জানিয়ে তখন উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বা সবকিছু মিলে প্রথম কথাটা হচ্ছে ভাস্কর্যটা কিন্তু কমপ্লিটেড হয়নি। ২০১৯- ২০ সালের দিকে শুরু হয়েছিল। এই ভাস্কর্য নিয়ে দুটো অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটা হচ্ছে যে, আবক্ষ মূর্তি আছে, সেটা ফেইসের সাথে; বলে রাখি জঙ্গিরা ভেঙে ফেলেছেএটার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।“দ্বিতীয়টা হচ্ছে, এটা যে ইন্টারসেকশনে আছে, এটা গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে মারাত্মক অবস্ট্রাকশন তৈরি করছে। এটা অনেক উঁচু বেদীতে তৈরি হয়েছে। সেটার কারণে এক্সিডেন্ট হচ্ছে এরকম একটা অভিযোগ—যারা ওই রাস্তায় চলাফেরা করেন। আমিও প্রাথমিকভাবে শক হয়েছি, এটা কেন হবে।“জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, উনার অবয়ব, উনার ফেইস যেন ঠিক থাকে, ফেইস যেন ভালোভাবে বোঝা যায়—উনার একটি আবক্ষ, ভাস্কর্য এবং সাথে মুক্তিযুদ্ধ রেখে একটি ভাস্কর্য তৈরি হবে। নতুন জায়গায়, দ্রুত তার সিদ্ধান্ত জানাবে। এটা সরকার করছে।"এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “একটি দেশে যখন দীর্ঘদিন এ ধরনের সরকারের (ফ্যাসিবাদী) অধীনে থাকে, তাদের প্রচুর লোকজন থেকে গেছে। খুব রাতারাতি এগুলো পরিবর্তন করা কঠিন। তবে গভীরভাবে দেখলে—এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে; এগুলো একটু সময় লাগবে।“আর আমাদের সরকারের যে আকার, একটা অংশ নির্বাচনের পরে আসে, আর মূল স্ট্রাকচার তারা তো থেকেই গেছে। ওরাও তো সরকার, এই সরকারটা থেকে যায়। এ সরকারটা বিরাট, লক্ষ লক্ষ। এ ব্যাপারে টাইম নেবে, কাজ হচ্ছে।”এক সাংবাদিক জানতে চান, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার সময় ইমিগ্রেশন, কাস্টমসসহ বেশ কিছু আইন লঙ্ঘন হয়েছে, এসব বিষয়ে সরকারের তরফে কোনো মামলা হবে কি না?জবাবে উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “যেগুলো আইন লঙ্ঘন হয়েছে, মামলা হতে পারে। আমার ধারণা এটা ব্যক্তিগত সরকারি কোনো বক্তব্য নয়; উনি আইসিটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত এবং দণ্ডপ্রাপ্ত, মৃত্যুদণ্ড।“সম্ভবত এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে আর (মামলা) করেনি। তবে আমি একমত— যেখানে আইন ভঙ্গ হয়েছে, সেসব জায়গায় প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দরকার।”বর্তমানে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী, জানতে চাওয়া হয় তথ্য উপদেষ্টার কাছে।জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমরা যে সিস্টেমের মধ্যে কাজ করছি, সদিচ্ছা থাকলেও সরকারের কতগুলো টুল আছে, অপারেটর আছে—যারা ১৭ বছরে এমন অবস্থায় ছিলেন, তারা তাদের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে জেনেছেন; এগুলো কিন্তু পাল্টে গেছে। চিন্তাই পাল্টে গেছে। এই পুরো স্ট্রাকচার নিয়ে কাজ করা, এটা চ্যালেঞ্জ।”

এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান / এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সরকার ৩০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  তিনি বলেছেন, পণ্যমূল্য তদারকিতে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নজরদারি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও কার্যকর করা যায়।শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে।ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেও বলে জানান তিনি।পণ্যের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।এলপিজির মূল্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও কোথাও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও গণমাধ্যমে বিষয়টি আরও কিছুদিন গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার হলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম কমিয়ে আনবেন।রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রপ্তানি কমেছে। জ্বালানি-সংক্রান্ত কারণে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব পথে দেশে মাদক প্রবেশ করে, সেসব পথ বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে বহুতল ভবনের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চা-বাগান এলাকায় বর্তমানে থাকা পাঠদান কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে মন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সুন্দরবনে অভয়াশ্রম কমানোর দাবীতে জেলেদের মানববন্ধন

বাগেরহাটের শরণখোলায় পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ৮০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য ও অভয়াশ্রম থাকলেও সাতক্ষীরাও চাঁদপাই রেঞ্জ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ অভয়াশ্রম এ বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল সকল মৎস্য ও পেশাজীবিবৃন্দ।  দুই অক্টোবর সকাল দশটায়  শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করায় ফুঁসে উঠেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা। তারা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের দুই রেঞ্জের জন্য দুই ধরনের আইন কখনোই তারা মেনে নিবেন না। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে যেখানে ৩০-৪০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে শরণখোলা রেঞ্জে ৮০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য শরণখোলাবাসী কখনোই মেনে নিবে না। তাছাড়া বর্তমানে শরণখোলা রেঞ্জে যতটুকু এলাকা অবমুক্ত রয়েছে তার তুলনায় সুন্দরবনে বৈধভাবে প্রবেশ করা জেলেদের সংখ্যা অনেক। ফলে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না অধিকাংশ জেলেদের জালে। অতিদ্রুত যদি অভয়ারণ্য এলাকা কমিয়ে অন্তত ৫০ ভাগ না করা হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহনের কথা বলেন তারা। এসময়  পেশাজীবিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাউথখালি ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি শহীদুল ইসলাম লিটন, মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ সেলিম খান, মোঃ খলিল হাওলাদার, মোঃ হালিম খান,  রফিকুল হাওলাদার ও শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান সুজন। এ ব্যাপারে পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল চৌধুরী বলেন, অন্যান্য রেঞ্জের তুলনায় শরণখোলায় অভয়াশ্রম ও অভয়ারণ্য এলাকা বেশি। এখানে জেলেদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক সময় পাস পারমিট নেওয়া জেলেদের বিপাকে পড়তে হয়। জেলেদের দাবি কিছুটা হলেও যৌক্তিক। তবে এ বিষয়টি নিরশন এর দায়িত্ব বনবিভাগ ও বন মন্ত্রণালয়ের।

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ডেস্ক নিউজ: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী থানায় গিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী স্বামী লিটন শেখ (৪৬) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোরেলগঞ্জের বনগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত সাইম শেখের ছেলে লিটন শেখের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দাম্পত্য জীবন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত পারিবারিক কলহ চলছিল। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় যখন লিটন শেখ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলে, তখন তার স্ত্রী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে ফেলে। ঘটনায় লিটন শেখের চিৎকার শুনে তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ওই অঙ্গটির প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরদিন সকালে অভিযুক্ত নারী নিজেই থানায় এসে অপরাধ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো শ্রীপুর গ্রাম ও আশপাশে এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আইপিএলের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে জানুয়ারিতে হতে পারে পিএসএল

আইপিএলের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে জানুয়ারিতে হতে পারে পিএসএল

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) সূচি পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সূচির সঙ্গে সংঘাত এড়াতে আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পিএসএল আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে পিসিবি ও আট ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকেরা আলোচনা করেছেন।ক্রিকইনফো জানিয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে পিএসএল পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। পিএসএলের সম্প্রচার ও ডিজিটাল স্বত্বধারী ওয়ালি টেকনোলজিস জানুয়ারিতে আয়োজনের প্রস্তাব দেয়।তাদের যুক্তি, এপ্রিল-মে মাসে পিএসএল আয়োজন করা হয় রমজানের পর। তখন অনেক প্রতিষ্ঠানের বিপণন ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের বাজেটের বড় অংশই খরচ হয়ে যায়।ফলে বিজ্ঞাপন থেকে প্রত্যাশিত আয় পাওয়া কঠিন হয়। তা ছাড়া আইপিএলও চলে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো শঙ্কামুক্ত নয়। তারা জানতে চায়, সময় বদলালেও সম্প্রচার স্বত্ব থেকে তাদের প্রাপ্য অর্থ পুরোপুরি নিশ্চিত থাকবে কি না।বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় রাজস্ব তহবিলের সম্প্রচার আয়ের ৯৫ শতাংশ পায় আট ফ্র্যাঞ্চাইজি।২০১৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পিএসএল ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কারণে তা এপ্রিল-মে মাসে চলে যায়। আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পিএসএল হলে আইপিএলের সঙ্গে সূচির সংঘাত এড়ানো যাবে। সে ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রিকেটার পেতে পিএসএলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ ও দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০-এর সঙ্গে।আবহাওয়াও বড় বাধা হতে পারে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা থাকে। লাহোর, মুলতান ও রাওয়ালপিন্ডি—তিনটি ভেন্যুই পাঞ্জাবে।তাই প্রস্তাব এসেছে সিন্ধু প্রদেশের করাচিতে শুরু করে পরে পাঞ্জাব হয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ারে টুর্নামেন্ট নেওয়ার।

নিউজার্সির প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হলেন সুনামগঞ্জের আবু সুফিয়ান

নিউজার্সির প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হলেন সুনামগঞ্জের আবু সুফিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন সুনামগঞ্জের প্রবাসী আবু সুফিয়ান। প্যাটারসন সিটি হলের মেয়র কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেয়র আন্দে সায়েঘ তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।শপথ অনুষ্ঠানে কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট মারিটজা ডেবিল, ভাইস প্রেসিডেন্ট লিসা মিমস, ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিক, কাউন্সিলওম্যান রুবি কটনসহ সিটির বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য উপস্থিত ছিলেন।মেয়র আন্দে সায়েঘ বলেন, তিনি সবসময় বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশে থাকার চেষ্টা করেন এবং আবু সুফিয়ানকে সহকারী হিসেবে নির্বাচিত করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিক আবু সুফিয়ানকে একজন সজ্জন ও কমিউনিটিবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে অভিনন্দন জানান।দায়িত্ব গ্রহণের পর আবু সুফিয়ান মেয়র, সিটি কর্মকর্তাসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। পরে সুনামগঞ্জ সমিতির নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।স্থানীয় রাজনীতি ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে আবু সুফিয়ানের ডেপুটি মেয়র হওয়াকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৫৪ বছর বয়সে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী

৫৪ বছর বয়সে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী

জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী হুমায়রা বানু। ৫৪ বছর বয়সে বিয়ের খবর নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন তিনি।সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে স্বামীর সঙ্গে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন হুমায়রা। তবে ছবিগুলোতে স্বামীর পরিচয় আড়ালেই রেখেছেন অভিনেত্রী। কোনো ছবিতেই তাঁর স্বামীর মুখ দেখা যায়নি। পোস্টের ক্যাপশনে নতুন জীবন নিয়ে নিজের অনুভূতিও জানিয়েছেন তিনি।হুমায়রা লেখেন, মানুষ অনেক সময় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের পরিকল্পনা করে, কিন্তু সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা থাকে ভিন্ন। তাঁর বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনার ওপর আস্থা রাখলে পথও সহজ হয়ে আসে।বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছায় ভাসছেন এই অভিনেত্রী। ভক্তদের পাশাপাশি সহকর্মীরাও তাঁকে নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।পাকিস্তানি টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ হুমায়রা বানু। বিভিন্ন নাটকে বিশেষ করে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।‘রং মহল’, ‘ইশক জালেবি’, ‘চৌধুরী অ্যান্ড সন্স’, ‘জান্নাত সে আগে’, ‘মেহরুম’ ও ‘জান নিসার’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন হুমায়রা বানু।

নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল: সড়কমন্ত্রী

নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল: সড়কমন্ত্রী

সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক পয়সাও বেশি আদায় করলে সংশ্লিষ্ট বাসের রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে জরিমানা এবং ভবিষ্যতে রুট পারমিট দেওয়ার ক্ষেত্রে জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী জানান, নতুন নির্ধারিত বাসভাড়ার প্রজ্ঞাপন মঙ্গলবারই প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পরই নতুন ভাড়া কার্যকর হবে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রতি লিটার জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ভাড়াও সমন্বয়ের দাবি থাকে বলে জানান তিনি।শেখ রবিউল আলম বলেন, এবার জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়েছে। প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ার কথা থাকলেও সরকার তা ১৭ পয়সা নির্ধারণ করেছে।তিনি বলেন, জ্বালানির পাশাপাশি পরিবহন খাতে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দামও বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। তবে ভাড়া কমানো সম্ভব হলে সেটিই ভালো হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইতোমধ্যে বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এবার নির্ধারিত ভাড়ার কোনো ব্যত্যয় হতে দেওয়া হবে না। কেউ বাড়তি ভাড়া নিলে তার বিরুদ্ধে জরিমানা করা হবে এবং রুট পারমিট বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পারমিট পাওয়ার বিষয়েও জবাবদিহি করতে হবে।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।রেলভাড়া প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, গতবার রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি, এবারও এখন পর্যন্ত রেলের ভাড়া বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই।এ ছাড়া লঞ্চভাড়া নিয়ে লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে আগামী বৃহস্পতিবার আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।

নিউজার্সির প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হলেন সুনামগঞ্জের আবু সুফিয়ান

নিউজার্সির প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হলেন সুনামগঞ্জের আবু সুফিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের প্যাটারসন সিটির ডেপুটি মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন সুনামগঞ্জের প্রবাসী আবু সুফিয়ান। প্যাটারসন সিটি হলের মেয়র কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেয়র আন্দে সায়েঘ তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।শপথ অনুষ্ঠানে কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট মারিটজা ডেবিল, ভাইস প্রেসিডেন্ট লিসা মিমস, ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিক, কাউন্সিলওম্যান রুবি কটনসহ সিটির বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য উপস্থিত ছিলেন।মেয়র আন্দে সায়েঘ বলেন, তিনি সবসময় বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশে থাকার চেষ্টা করেন এবং আবু সুফিয়ানকে সহকারী হিসেবে নির্বাচিত করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিক আবু সুফিয়ানকে একজন সজ্জন ও কমিউনিটিবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে অভিনন্দন জানান।দায়িত্ব গ্রহণের পর আবু সুফিয়ান মেয়র, সিটি কর্মকর্তাসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। পরে সুনামগঞ্জ সমিতির নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।স্থানীয় রাজনীতি ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে আবু সুফিয়ানের ডেপুটি মেয়র হওয়াকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইপিএলের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে জানুয়ারিতে হতে পারে পিএসএল

আইপিএলের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে জানুয়ারিতে হতে পারে পিএসএল

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) সূচি পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সূচির সঙ্গে সংঘাত এড়াতে আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পিএসএল আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে পিসিবি ও আট ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকেরা আলোচনা করেছেন।ক্রিকইনফো জানিয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে পিএসএল পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। পিএসএলের সম্প্রচার ও ডিজিটাল স্বত্বধারী ওয়ালি টেকনোলজিস জানুয়ারিতে আয়োজনের প্রস্তাব দেয়।তাদের যুক্তি, এপ্রিল-মে মাসে পিএসএল আয়োজন করা হয় রমজানের পর। তখন অনেক প্রতিষ্ঠানের বিপণন ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের বাজেটের বড় অংশই খরচ হয়ে যায়।ফলে বিজ্ঞাপন থেকে প্রত্যাশিত আয় পাওয়া কঠিন হয়। তা ছাড়া আইপিএলও চলে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো শঙ্কামুক্ত নয়। তারা জানতে চায়, সময় বদলালেও সম্প্রচার স্বত্ব থেকে তাদের প্রাপ্য অর্থ পুরোপুরি নিশ্চিত থাকবে কি না।বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় রাজস্ব তহবিলের সম্প্রচার আয়ের ৯৫ শতাংশ পায় আট ফ্র্যাঞ্চাইজি।২০১৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পিএসএল ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কারণে তা এপ্রিল-মে মাসে চলে যায়। আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পিএসএল হলে আইপিএলের সঙ্গে সূচির সংঘাত এড়ানো যাবে। সে ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রিকেটার পেতে পিএসএলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ ও দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০-এর সঙ্গে।আবহাওয়াও বড় বাধা হতে পারে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা থাকে। লাহোর, মুলতান ও রাওয়ালপিন্ডি—তিনটি ভেন্যুই পাঞ্জাবে।তাই প্রস্তাব এসেছে সিন্ধু প্রদেশের করাচিতে শুরু করে পরে পাঞ্জাব হয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ারে টুর্নামেন্ট নেওয়ার।

নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল: সড়কমন্ত্রী

সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক পয়সাও বেশি আদায় করলে সংশ্লিষ্ট বাসের রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে জরিমানা এবং ভবিষ্যতে রুট পারমিট দেওয়ার ক্ষেত্রে জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী জানান, নতুন নির্ধারিত বাসভাড়ার প্রজ্ঞাপন মঙ্গলবারই প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পরই নতুন ভাড়া কার্যকর হবে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রতি লিটার জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ভাড়াও সমন্বয়ের দাবি থাকে বলে জানান তিনি।শেখ রবিউল আলম বলেন, এবার জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়েছে। প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ার কথা থাকলেও সরকার তা ১৭ পয়সা নির্ধারণ করেছে।তিনি বলেন, জ্বালানির পাশাপাশি পরিবহন খাতে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দামও বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। তবে ভাড়া কমানো সম্ভব হলে সেটিই ভালো হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইতোমধ্যে বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এবার নির্ধারিত ভাড়ার কোনো ব্যত্যয় হতে দেওয়া হবে না। কেউ বাড়তি ভাড়া নিলে তার বিরুদ্ধে জরিমানা করা হবে এবং রুট পারমিট বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পারমিট পাওয়ার বিষয়েও জবাবদিহি করতে হবে।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।রেলভাড়া প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, গতবার রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি, এবারও এখন পর্যন্ত রেলের ভাড়া বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই।এ ছাড়া লঞ্চভাড়া নিয়ে লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে আগামী বৃহস্পতিবার আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।

সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে / ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এ এম এ মুহিত বলেছেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে এবং সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের টানেলে এক ব্রিফিংয়ে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তথ্য ও ডাটার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই অক্টোবরের আগেই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় এ বছর এখনো ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কম। তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামীকাল থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে ড. এ এম এ মুহিত বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাসপাতালসহ সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাকে মশার প্রজননস্থলমুক্ত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। জনগণকে সম্পৃক্ত করেই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

গ্যাস সংকটে নরসিংদীতে স্থবির জনজীবন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরুদ্ধ

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় রাজধানী ঢাকা ও নরসিংদীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পরিবহন ও শিল্প খাতে।​জানা গেছে, বাসাবাড়িতে চুলা না জ্বলার পাশাপাশি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। টানা কয়েকদিনের এই দুর্ভোগ গত মঙ্গলবার রাত থেকে চরম আকার ধারণ করে। সম্পূর্ণ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে শিবপুরের কারারচর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে প্রায় চার কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশ্বাস দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।​পরিবহন মালিক ও চালকদের মতে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গ্যাস না পাওয়ায় তাদের দৈনিক আয় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কারারচর এলাকার এপেক্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সৈয়দ ইকবাল হোসেন জানান, প্রেসার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।​শিবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহিম জানান, এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং শিগগিরই সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

ভূতুরে বিল ও বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে দিশেহারা জনজীবন

​তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং আর মাস শেষে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বোঝায় পিষ্ট হচ্ছেন দেশের সাধারণ জনগণ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনে-রাতে ৫ থেকে ৬ বার বিদ্যুৎ যাওয়া এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ প্রতিবার বিদ্যুৎ আসার পর তার স্থায়িত্ব থাকছে মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন অরাজকতায় চরম ভোগান্তির শিকার গ্রাহকরা ক্ষোভ ও হতাশায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।​ভোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এটি কেবল প্রযুক্তিগত বা সরবরাহজনিত সমস্যা নয়, বরং এর পেছনে বিদ্যুৎ খাতের একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী চক্রান্তকারী চক্র কাজ করছে। জনগণের ধারণা, ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত ও ভূতুরে বিল তৈরি এবং অস্বাভাবিক লোডশেডিং সৃষ্টি করে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।​সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে দেশের পোল্ট্রি খাতে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে খামারের শত শত মুরগি মারা যাচ্ছে। এতে একদিকে প্রান্তিক খামারিরা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে পোল্ট্রি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। খামারিরা জানান, জেনারেটর বা বিকল্প উপায়ে দীর্ঘ সময় বাতাস ও তাপমাত্রা ধরে রাখা সাধারণ খামারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তাপপ্রবাহের কারণে একের পর এক মুরগি মারা পড়ছে।​মনোহরদীতে ব্যবসায়ীদের হাহাকার:সরজমিনে মনোহরদীর স্থানীয় বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায় চরম দুর্ভোগের চিত্র। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে পুরো বাজার এলাকা। মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের মোমবাতি জ্বেলে কেনাবেচা করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পচে নষ্ট হচ্ছে মাছ ও অন্যান্য পচনশীল পণ্য। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম হাহাকার ও হতাশা।​ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন অনতিবিলম্বে এই বেপরোয়া ভূতুরে বিল প্রণয়ন এবং অযৌক্তিক লোডশেডিংয়ের লাগাম টানা হয়। একই সাথে, বিদ্যুৎ খাতের ভেতরের চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।