ঢাকা    বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪
সর্বশেষ

সিঙ্গাপুরে ‘বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

সিঙ্গাপুরে ‘বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দৈনিক বণিক বার্তা ও সিঙ্গাপুরের Thakral Group এর যৌথ উদ্যোগে সিঙ্গাপুরে কর্মরত, অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী- প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশ থেকে বিদেশ গমনে অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারণে জমিজমা বিক্রি করে প্রবাসীদের ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে আসতে হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই খরচ কমিয়ে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে।তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের গর্ব ও শক্তি এবং তাঁদের কঠোর পরিশ্রম একদিকে যেমন তাঁদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিতকে আরও শক্তিশালী করছে। বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার বাংলাদেশি সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরত রয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫-‘২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যার মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অবলম্বন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।অভিবাসীদের সার্বিক সেবা ও সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ডেডিকেটেড ‘মাইগ্রেশন উইং’ খোলা হয়েছে যেটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে জনশক্তি ও কর্মসংস্থান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং দক্ষতা উন্নয়ন, পুনঃকর্মসংস্থান, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তর ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি পাঁচটি বিশেষ অনুরোধ জানান- ১. হুন্ডি পরিহার করে সর্বদা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো। ২. সিঙ্গাপুরের আইন, বিধি-বিধান ও কর্মসংস্কৃতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা। ৩. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল হওয়া এবং যেকোনো উগ্রবাদ বা বিদ্বেষমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকা। ৪. ভিন্ন ভাষা ও ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা। ৫. নতুন প্রযুক্তি, কারিগরি বিদ্যা ও ভাষার দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিয়ত দক্ষ করে তোলা।তিনি সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে বেতন-বকেয়া ও কর্মসংস্থান হারানো বাংলাদেশি কর্মীদের সহায়তায় সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও Ministry of Manpower-এর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।বর্তমান সরকার দেশে একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ যুক্ত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে উল্লেখ করে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যারা বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, আপনারা কেবল রেমিট্যান্স প্রেরক না হয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা হিসেবে ভূমিকা রাখুন। প্রবাসীদের বিনিয়োগ দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।ঊক্ত অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে কর্মরত ১৫ জন অসাধারণ প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া চারটি প্রতিষ্ঠান, দুইজন সিআইপি এবং সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশভিত্তিক ব্যাংকগুলোর আওতাধীন শীর্ষস্থানীয় তিনটি এক্সচেঞ্জ হাউজকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

নিরপেক্ষ তদন্ত ও অপতৎপরতা রোখার হুঁশিয়ারি যুবদলের / পলাশে গোপন বৈঠককালে গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর আদলে ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান। আজ শুক্রবার সৌদির উপকূলীয় বন্দরশহর জেদ্দায় স্বাক্ষর করা হবে এই চুক্তি।চুক্তির চূড়ান্ত নথি প্রস্তুত। সৌদি আরবের পক্ষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের পক্ষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের পক্ষে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনা ও প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ডমার্শাল আসিম মুনির গতকাল বৃহস্পতিবার এ উপলক্ষে জেদ্দায় পৌঁছেছেন। ৮ আগস্ট শনিবার পর্যন্ত সৌদিতে অবস্থান করবেন তারা। আজ শুক্রবার জেদ্দায় আসছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।এই চুক্তির সংঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের জন্য অনেক দিন ধরেই এই তিন দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং তার জেরে হরমুজ প্রণালিতে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা প্রস্তাবিত এ চুক্তিকে বাস্তব রূপ দিতে যাচ্ছে।"বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল, কিন্তু এই অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এটিকে ত্বরান্বিত করেছে," নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন ওই কর্মকর্তা।আরেকা কর্মকর্তা বলেছেন, প্রস্তাবিত এই জোটে অর্থ ও আঞ্চলিক প্রভাবের যোগান দেবে সৌদি, তুরস্ক প্রদান করবে তাদের অগ্রসর সামরিক প্রযুক্তি এবং ন্যাটোর সমপর্যায় বা মানের সামরিক শিল্পোৎপাদন ঘাঁটি এবং পাকিস্তান যোগান দেবে তার পারমাণবিক সক্ষমতা এবং দক্ষ সেনাবাহিনী।এর আগে ২০২৫ সালে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিল সৌদি আরব ও পাকিস্তান। এর একটি বড় কারণ— বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর দেশ। সেই চুক্তিরই সম্প্রসারণ ঘটবে তুরস্ক অন্তর্ভুক্ত হলে।

সিংড়ায় পাটের বাম্পার ফলন! দামেও খুশি কৃষক

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর আদলে ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান। আজ শুক্রবার সৌদির উপকূলীয় বন্দরশহর জেদ্দায় স্বাক্ষর করা হবে এই চুক্তি।চুক্তির চূড়ান্ত নথি প্রস্তুত। সৌদি আরবের পক্ষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের পক্ষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের পক্ষে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনা ও প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ডমার্শাল আসিম মুনির গতকাল বৃহস্পতিবার এ উপলক্ষে জেদ্দায় পৌঁছেছেন। ৮ আগস্ট শনিবার পর্যন্ত সৌদিতে অবস্থান করবেন তারা। আজ শুক্রবার জেদ্দায় আসছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।এই চুক্তির সংঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের জন্য অনেক দিন ধরেই এই তিন দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং তার জেরে হরমুজ প্রণালিতে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা প্রস্তাবিত এ চুক্তিকে বাস্তব রূপ দিতে যাচ্ছে।"বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল, কিন্তু এই অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এটিকে ত্বরান্বিত করেছে," নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন ওই কর্মকর্তা।আরেকা কর্মকর্তা বলেছেন, প্রস্তাবিত এই জোটে অর্থ ও আঞ্চলিক প্রভাবের যোগান দেবে সৌদি, তুরস্ক প্রদান করবে তাদের অগ্রসর সামরিক প্রযুক্তি এবং ন্যাটোর সমপর্যায় বা মানের সামরিক শিল্পোৎপাদন ঘাঁটি এবং পাকিস্তান যোগান দেবে তার পারমাণবিক সক্ষমতা এবং দক্ষ সেনাবাহিনী।এর আগে ২০২৫ সালে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিল সৌদি আরব ও পাকিস্তান। এর একটি বড় কারণ— বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর দেশ। সেই চুক্তিরই সম্প্রসারণ ঘটবে তুরস্ক অন্তর্ভুক্ত হলে।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে জনসম্পৃক্ত করতে গণমাধ্যমের সহায়তা প্রয়োজন: ডিএসসিসি প্রশাসক

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর আদলে ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান। আজ শুক্রবার সৌদির উপকূলীয় বন্দরশহর জেদ্দায় স্বাক্ষর করা হবে এই চুক্তি।চুক্তির চূড়ান্ত নথি প্রস্তুত। সৌদি আরবের পক্ষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের পক্ষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের পক্ষে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনা ও প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ডমার্শাল আসিম মুনির গতকাল বৃহস্পতিবার এ উপলক্ষে জেদ্দায় পৌঁছেছেন। ৮ আগস্ট শনিবার পর্যন্ত সৌদিতে অবস্থান করবেন তারা। আজ শুক্রবার জেদ্দায় আসছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।এই চুক্তির সংঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের জন্য অনেক দিন ধরেই এই তিন দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং তার জেরে হরমুজ প্রণালিতে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা প্রস্তাবিত এ চুক্তিকে বাস্তব রূপ দিতে যাচ্ছে।"বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল, কিন্তু এই অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এটিকে ত্বরান্বিত করেছে," নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন ওই কর্মকর্তা।আরেকা কর্মকর্তা বলেছেন, প্রস্তাবিত এই জোটে অর্থ ও আঞ্চলিক প্রভাবের যোগান দেবে সৌদি, তুরস্ক প্রদান করবে তাদের অগ্রসর সামরিক প্রযুক্তি এবং ন্যাটোর সমপর্যায় বা মানের সামরিক শিল্পোৎপাদন ঘাঁটি এবং পাকিস্তান যোগান দেবে তার পারমাণবিক সক্ষমতা এবং দক্ষ সেনাবাহিনী।এর আগে ২০২৫ সালে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিল সৌদি আরব ও পাকিস্তান। এর একটি বড় কারণ— বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর দেশ। সেই চুক্তিরই সম্প্রসারণ ঘটবে তুরস্ক অন্তর্ভুক্ত হলে।

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে  মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

নীলফামারী লক্ষীচাপে নিজস্ব অর্থায়নে মাস্ক, সাবান, টিসু ও জনসচেতনামুলক লিফলেট বিতরণ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ লাখ অবৈধ জাল জব্দ

আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

৫০ স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

মহাসংকটের বছর হবে ২০২৩ সাল : শেখ হাসিনা

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

ময়মনসিংহে বালিকাদের সপ্তাহব্যাপী হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণ সমাপন

সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

শাপলা চত্বরে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ, তদন্তে আলোচিত নাম

শাপলা চত্বরে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ, তদন্তে আলোচিত নাম

কোন ভিডিও নেই !
কোন ভিডিও নেই !

হ্যালো ডিসি অ্যাপ / প্রবাসে থেকেই মিলছে ঢাকা জেলার ভূমি সমস্যার প্রতিকার

প্রবাসে থেকেও এখন ঢাকা জেলার ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যার প্রতিকার চেয়ে আবেদন করতে পারছেন প্রবাসীরা। জেলা প্রশাসনের চালু করা ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ ও আবেদন করে সেবা পাওয়ার এ সুযোগ তৈরি হয়েছে।সম্প্রতি ইংল্যান্ড প্রবাসী নাজমুল হোসেন ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে তার জমি দখল-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে দেশে না থাকায় তার জমি অন্যরা দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।বুধবার (১২ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঢাকার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।নাজমুল হোসেন জানান, তিনি প্রায় ১৯ বছর ধরে ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন।২০১৮ সালে রাজধানীর গুলশান-জোয়ার সাহারা এলাকার ক্যান্টনমেন্টের মানিকদিয়ায় আড়াই কাঠা জমি কেনেন। জমি কেনার পর দেশে আসতে না পারায় পার্শ্ববর্তী কয়েকজন ওই জমি দখল করে নেন বলে অভিযোগ তার। তিনি বলেন, ‘আমি দেশে না থাকায় আমার জায়গাটি পার্শ্ববর্তী লোকজন দখল করে নিয়েছে। পরে আমার আত্মীয়-স্বজনরা সেখানে গেলে তাদেরও হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়।ফলে আমি জায়গাটি দখলে নিতে পারিনি। এখন দেশে এসে কিভাবে এর সমাধান করব, সেটি জানতে চাচ্ছিলাম। তখন জানতে পারি, হ্যালো ডিসি অ্যাপের মাধ্যমে এ বিষয়ে আবেদন করা যায়।’ পরে তিনি ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ ডাউনলোড করে সেখানে আবেদন করেন। আবেদন করার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং বিষয়টি সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।এ সময় ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়, ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের প্রতিকারের জন্য ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর আওতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর আওতায় আবেদন করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর আইন অনুযায়ী শুনানি গ্রহণ করে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।প্রবাসী নাজমুল হোসেন বলেন, ‘দেশের বাইরে থেকেও যে এভাবে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের সমস্যার কথা জানানো এবং প্রতিকারের পথ জানা যায়, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’ জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীরাও তাদের জমি, ভূমি, সরকারি সেবা ও বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে সহজেই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে প্রবাসীদের জন্য ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপটি দেশের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে সেবা পাওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম বলেন, ‘প্রবাসীরা আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকায় অনেক সময় নিজেদের জমিজমা বা অন্যান্য নাগরিক সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে পারেন না। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা হ্যালো ডিসি সেবাকে আরো জনবান্ধব ও সহজলভ্য করার চেষ্টা করছি। দেশের বাইরে থেকেও যেন একজন প্রবাসী তার সমস্যার কথা আমাদের জানাতে পারেন এবং যথাযথ প্রতিকার পাওয়ার পথ জানতে পারেন, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’

প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্তের পূর্ণ অধিকার আছে

প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বাবা-মায়ের সম্পত্তি নয়। নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে তার। কোথায় থাকবেন, উচ্চশিক্ষা নেবেন কি না, কাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেবেন কিংবা বিয়ে করবেন কি না, এসব সিদ্ধান্তে পরিবারের পক্ষ থেকে জোর করা যায় না। ভারতের বোম্বে হাইকোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এমনই পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।পছন্দের যুবকের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া ২১ বছরের এক তরুণীকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে মায়ের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের ইচ্ছায় জীবনসঙ্গী বেছে নিলে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আদালতের বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ আবেদন করা যায় না।ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘাটে এবং বিচারপতি গৌতম এ আনখাদের সমন্বয়ে গঠিত বোম্বে হাইকোর্টের বিভাগীয় বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হায়দরাবাদের ওই তরুণী গত ১৫ জুন টিউশন ক্লাসে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। পরে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে এক যুবকের সঙ্গে যেতে দেখা যায়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু কিছুদিন পর তিনি আবার বাড়ি ছেড়ে চলে যান।এরপর মেয়েকে ফিরে পাওয়ার জন্য বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেন তার মা। অন্যদিকে ওই তরুণীও পুলিশের পদক্ষেপ এবং পরিবারের চাপ থেকে সুরক্ষা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মিহির দেশাই। শুনানির সময় বিচারকেরা ওই তরুণীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।আদালতের কাছে তিনি জানান, নিজের ইচ্ছাতেই মায়ের বাড়ি ছেড়ে ওই যুবকের কাছে গিয়েছেন এবং তার সঙ্গেই থাকতে চান। তিনি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে তার চেয়ে প্রায় ১০ বছর বড় এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সেই চাপের কারণেই তিনি হায়দরাবাদ থেকে কোলহাপুর হয়ে মুম্বাইয়ে চলে যান।আদালত আবেদনকারী তরুণী এবং তার বাবা-মায়ের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। বিচারকেরা জানান, তরুণীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিয়েছেন। নিজের সিদ্ধান্তের পরিণতি সম্পর্কেও তিনি সচেতন বলে আদালতের মনে হয়েছে। এরপরই আদালত বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বাবা-মায়ের সম্পত্তি নন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন। তার জীবনসঙ্গী কে হবেন, কোথায় থাকবেন কিংবা কীভাবে জীবন কাটাবেন, এসব বিষয়ে পারিবারিক চাপ বা সামাজিক রীতিনীতি দিয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যায় না।‌ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে উল্লেখ করে আদালত বলেন, নিজের বাসস্থান বেছে নেওয়া, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা এবং বিয়ে করবেন কি না বা কাকে বিয়ে করবেন, এসবই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, পারিবারিক আবেগকে আইনি নিয়ন্ত্রণে পরিণত করা যায় না। বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক থাকলেও সেই সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায় না। আদালত স্পষ্ট করে দেন, বাবা-মা কিংবা রাষ্ট্র, কেউই কোনও প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে তার স্পষ্ট ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাড়িতে ফিরতে বা নির্দিষ্ট কাউকে বিয়ে করতে বাধ্য করতে পারে না। পারিবারিক চাপ, সামাজিক প্রত্যাশা কিংবা সম্প্রদায়ের রীতিনীতি কোনও প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপরে স্থান পেতে পারে না।শুনানির সময় তরুণীর মা আদালতে ব্যক্তিগত হলফনামা দিয়ে জানান, মেয়েকে বিয়ের জন্য কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হবে না। উচ্চশিক্ষা গ্রহণেও তাকে বাধা দেওয়া হবে না। এরপর আদালত তরুণীর আবেদনে সাড়া দিয়ে তেলেঙ্গানা পুলিশকে তার বিরুদ্ধে করা নিখোঁজের প্রতিবেদন বন্ধ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।আদালত আরও বলেন, ওই তরুণীকে নিখোঁজ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে কোনও চাপ দেওয়া যাবে না। এমনকি ফৌজদারি মামলার ভয় দেখিয়েও তাকে বাড়ি ফিরতে বাধ্য করা যাবে না। বোম্বে হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণকে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সব বিভাগের খবর

২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে কাজ চলমান: প্রধানমন্ত্রী

২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে কাজ চলমান ও সরকার বদ্ধ পরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২ টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি এ কথা বলেন।অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘ব্যবসায় সফলতার জন্য সরকারের ব্যবসায়ী নীতিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, একই সঙ্গে সামর্থ্যও আছে। বাংলাদেশে নিরাপদ বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। ট্যাক্স, ভ্যাট প্রক্রিয়া সহজ করে বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার দিকে জোর দিয়েছি। বাংলাদেশ টেকসই ও স্থায়ী বিদেশী বিনিয়োগ চায়, আমরা এক হয়ে কাজ করতে চাই।’এসময় তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে কাজ করছে। আর দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার বদ্ধ পরিকর।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে ভ্যাট ট্যাক্স প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশনসহ বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে সরকার।’

মোংলায় চীন বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন / ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলাকে ঘিরে বিদেশি বিনিয়োগের এক নতুন সম্ভাবনা হাতছানি দিতে শুরু করেছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর এ বন্দরকে যুগোপযোগী ও অত্যাধুনিক বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি এখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ায় পারস্পরিক উন্নয়ন সহযোগিতা ও জনশক্তি রপ্তানিতে ইতিবাচক আলোচনা সফল হওয়ার পর চীন সফর করেন তিনি। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে পারষ্পরিক  সহযোগিতার ভিত্তিতে বিনিয়োগের নতুন দুয়ার খুলে দেয় চীন।চীন সরকারের সাথে মোংলা বন্দর নিয়েও একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে বাংলাদেশ। গত ২৫ জুন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ সেমিনারে জানানো হয় মোংলা বন্দরের পাশে চীন-বাংলাদেশ মোংলা পোর্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের বিষয়ে চীন সরকার বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা করবে। সমঝোতা স্মারক সইয়ের চুক্তি অনুযায়ী  মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। একসময় ভারতের জন্য বরাদ্দ রাখা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ১১০ একর জমি এবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হল। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার অংশ হিসেবে একই জমি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারতের মনোনীত ডেভেলপার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি উন্নয়ন কাজ শুরু করতে না পারায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটির বরাদ্দ বাতিল করে।মোংলা বন্দরের উর্ধ্বতন উপব্যবস্থাপক (এসডিএম) মো. মাকরুজ্জামান বলেন,  চীন সরকারের এ পদক্ষেপ আমাদেশ দেশের বিনিয়োগ আকর্ষণ কৌশলে নতুন দিকের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে চীনা বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে।  এতে মোংলা বন্দর আরো গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরীর সুযোগ সৃষ্টি হবে।জানা গেছে, চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং আধুনিক লজিস্টিকস হাব নির্মাণে ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকারি হিসাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক রপ্তানি, কোল্ড-চেইন, গুদামজাতকরণ ও পরিবহন খাতেও ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে দেশ / বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের গন্তব্য: অর্থমন্ত্রী

দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।অর্থমন্ত্রী বলেন, কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রণীত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে বের করে সম্ভাবনার নতুন পথে এগিয়ে নেবে। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সেসব সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো যায়।তিনি বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ-সবই বাংলাদেশে আসছে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই বেশি, কারণ এখানে সমুদ্রবন্দর রয়েছে এবং এর ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্বও অনেক বেশি। এ কারণেই সরকারের পরিকল্পনায় চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।অর্থমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামকে একটি লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার প্রতিফলন এবারের বাজেটে রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের হাবে পরিণত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক করিডর ও লজিস্টিক হাব গড়ে উঠবে এবং বন্দরগুলোর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।মাতারবাড়িতেও বড় ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই বাজেট পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং সরকার যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করছে।বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন সহজ কাজ নয়। আগের সরকারগুলোর রেখে যাওয়া পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনীতি বর্তমানে কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তাই প্রথমে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে, এরপর সম্ভাবনার পথে এগোতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তৃতীয় বা চতুর্থ বছর থেকে দেশের কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধির পথচলা শুরু হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হবে। সরকার যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, দেশ ধীরে ধীরে সেদিকেই এগিয়ে যাবে। নতুন নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগও বাড়ছে। তাই বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য এবং এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান / এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সরকার ৩০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  তিনি বলেছেন, পণ্যমূল্য তদারকিতে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নজরদারি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও কার্যকর করা যায়।শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে।ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেও বলে জানান তিনি।পণ্যের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।এলপিজির মূল্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও কোথাও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও গণমাধ্যমে বিষয়টি আরও কিছুদিন গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার হলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম কমিয়ে আনবেন।রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রপ্তানি কমেছে। জ্বালানি-সংক্রান্ত কারণে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব পথে দেশে মাদক প্রবেশ করে, সেসব পথ বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে বহুতল ভবনের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চা-বাগান এলাকায় বর্তমানে থাকা পাঠদান কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে মন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে ইতিহাস

রেকর্ড দিয়ে শেষ হলো ২০২৫-২৬ অর্থবছর। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪ লাখ ৩৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকার বেশি। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স এর আগে কখনো আসেনি।আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়ায় প্রবাসীরা আগের তুলনায় বেশি বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করছেন। ফলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।এদিকে অর্থবছরের শেষ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জুনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে আগের বছরের জুনের তুলনায়ও রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত হিসাবে এ অঙ্ক কিছুটা বাড়তে পারে। এর আগে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের অক্টোবরে, তখন আসে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার।সংশ্লিষ্টদের মতে, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাঠান। ঈদ-পরবর্তী সময়ে সেই চাপ কমে যাওয়ায় জুন মাসে রেমিট্যান্সেও কিছুটা স্বাভাবিক নিম্নগতি দেখা দিয়েছে।সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্রে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার।রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

৮০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতিতে শেষ হলো অর্থবছর

শেষ মুহূর্তের জোরালো প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। তবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ঘাটতি থাকছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা।যদিও অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা ছিল, চলমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে কঠোর নজরদারি, কর ফাঁকি রোধে অভিযান, উন্নত পরিকল্পনা এবং কর পরিপালন (কমপ্লায়েন্স) জোরদারের ফলে সম্ভাব্য ঘাটতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।গত বুধবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ কৌশল নির্ধারণে এনবিআরের আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের টাস্কফোর্সগুলোর সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল তিতুমীরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী তিন বছরের জন্য একটি মধ্যমেয়াদি রাজস্ব কৌশল প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগামী তিন বছরের জন্য এমন একটি রাজস্ব কৌশল তৈরি করা হবে, যেখানে রাজস্ব আহরণের সম্ভাব্য উৎস এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হবে।তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুন পর্যন্ত রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। করের আওতা সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে।নবনিযুক্ত এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানান, বুধবার পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের শেষ দিনের হিসাব সমন্বয়ের পর আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা যুক্ত হবে। ফলে মোট রাজস্ব আদায় প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে।তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দিন থেকেই এনবিআর কাজ শুরু করেছে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে লিখিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং গত তিন মাসে টাস্কফোর্সগুলোর কার্যক্রম ইতিবাচক ফল দিয়েছে।এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগ ইতোমধ্যে তাদের রাজস্ব আহরণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। আয়কর বিভাগও শিগগিরই তাদের কৌশল চূড়ান্ত করবে।এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, নতুন বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি রাজস্ব বাড়াতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। টার্নওভারভিত্তিক ভ্যাটব্যবস্থা, খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহের ওপর ০.২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অপতথ্য ও সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী প্যানেল গঠন করছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

অপতথ্য ও সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী প্যানেল গঠন করছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

অপতথ্য ও সাইবার বুলিং মোকাবিলায় তথ্য মন্ত্রণালয় আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অপতথ্য বা ভুল তথ্য নিয়ে আমরা খুবই চিন্তায় আছি। এছাড়া সাইবার বুলিং বিশেষ করে নারীদের উপরে যা হয়, নিয়মিতভাবে ফলে নারীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকেন।”এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে তথ্য মন্ত্রণালয় আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়ে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।”এ উদ্যোগ অনেকের জন্য দুঃসংবাদ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কারো জন্য দুঃসংবাদ তো বটেই, যারা এই কাজগুলো করেন—তাদের জন্য এই রাষ্ট্র, এই সরকার সিরিয়াস কগনিজেন্স নিতে যাচ্ছে; আপনারা সতর্ক হয়ে যান।”জাহেদ উর রহমান বলেন, “তথ্যের নামে অত্যাচার, অন্যায় হয়। আমরা যে কেউ অপতথ্যের শিকার হতে পারি, বুলিংয়ের শিকার হতে পারি; ফেইক ছবি, ফেইক ভিডিওর শিকার হতে পারি। সেরকম মানুষের জন্য সুখবর হচ্ছে এই আইনজীবী প্যানেল গঠন সম্পন্ন হচ্ছে।”সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান বিগত সরকারের সমালোচনাও করেন।“আগে ডিজিটাল আইনের মারাত্মক অপপ্রয়োগ হয়েছে, এই সরকার মাফিয়া বা অনির্বাচিত নয়, নির্বাচিত সরকার কোনো আইনেরই অপপ্রয়োগ করবে না।”সংবাদ সম্মেলনে ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রসঙ্গও আসে।এক সাংবাদিক বলেন, জঙ্গি, সন্ত্রাসী, স্বাধীনতাবিরোধী—যারাই ভেঙে থাকুক, বর্তমানে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বিএনপি ক্ষমতায়। তাদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখলাম না।এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নেওয়ার কথা জানিয়ে তখন উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বা সবকিছু মিলে প্রথম কথাটা হচ্ছে ভাস্কর্যটা কিন্তু কমপ্লিটেড হয়নি। ২০১৯- ২০ সালের দিকে শুরু হয়েছিল। এই ভাস্কর্য নিয়ে দুটো অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটা হচ্ছে যে, আবক্ষ মূর্তি আছে, সেটা ফেইসের সাথে; বলে রাখি জঙ্গিরা ভেঙে ফেলেছেএটার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।“দ্বিতীয়টা হচ্ছে, এটা যে ইন্টারসেকশনে আছে, এটা গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে মারাত্মক অবস্ট্রাকশন তৈরি করছে। এটা অনেক উঁচু বেদীতে তৈরি হয়েছে। সেটার কারণে এক্সিডেন্ট হচ্ছে এরকম একটা অভিযোগ—যারা ওই রাস্তায় চলাফেরা করেন। আমিও প্রাথমিকভাবে শক হয়েছি, এটা কেন হবে।“জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, উনার অবয়ব, উনার ফেইস যেন ঠিক থাকে, ফেইস যেন ভালোভাবে বোঝা যায়—উনার একটি আবক্ষ, ভাস্কর্য এবং সাথে মুক্তিযুদ্ধ রেখে একটি ভাস্কর্য তৈরি হবে। নতুন জায়গায়, দ্রুত তার সিদ্ধান্ত জানাবে। এটা সরকার করছে।"এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “একটি দেশে যখন দীর্ঘদিন এ ধরনের সরকারের (ফ্যাসিবাদী) অধীনে থাকে, তাদের প্রচুর লোকজন থেকে গেছে। খুব রাতারাতি এগুলো পরিবর্তন করা কঠিন। তবে গভীরভাবে দেখলে—এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে; এগুলো একটু সময় লাগবে।“আর আমাদের সরকারের যে আকার, একটা অংশ নির্বাচনের পরে আসে, আর মূল স্ট্রাকচার তারা তো থেকেই গেছে। ওরাও তো সরকার, এই সরকারটা থেকে যায়। এ সরকারটা বিরাট, লক্ষ লক্ষ। এ ব্যাপারে টাইম নেবে, কাজ হচ্ছে।”এক সাংবাদিক জানতে চান, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার সময় ইমিগ্রেশন, কাস্টমসসহ বেশ কিছু আইন লঙ্ঘন হয়েছে, এসব বিষয়ে সরকারের তরফে কোনো মামলা হবে কি না?জবাবে উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “যেগুলো আইন লঙ্ঘন হয়েছে, মামলা হতে পারে। আমার ধারণা এটা ব্যক্তিগত সরকারি কোনো বক্তব্য নয়; উনি আইসিটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত এবং দণ্ডপ্রাপ্ত, মৃত্যুদণ্ড।“সম্ভবত এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে আর (মামলা) করেনি। তবে আমি একমত— যেখানে আইন ভঙ্গ হয়েছে, সেসব জায়গায় প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দরকার।”বর্তমানে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী, জানতে চাওয়া হয় তথ্য উপদেষ্টার কাছে।জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমরা যে সিস্টেমের মধ্যে কাজ করছি, সদিচ্ছা থাকলেও সরকারের কতগুলো টুল আছে, অপারেটর আছে—যারা ১৭ বছরে এমন অবস্থায় ছিলেন, তারা তাদের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে জেনেছেন; এগুলো কিন্তু পাল্টে গেছে। চিন্তাই পাল্টে গেছে। এই পুরো স্ট্রাকচার নিয়ে কাজ করা, এটা চ্যালেঞ্জ।”

এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান / এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সরকার ৩০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  তিনি বলেছেন, পণ্যমূল্য তদারকিতে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নজরদারি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও কার্যকর করা যায়।শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে।ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেও বলে জানান তিনি।পণ্যের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।এলপিজির মূল্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও কোথাও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও গণমাধ্যমে বিষয়টি আরও কিছুদিন গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার হলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম কমিয়ে আনবেন।রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রপ্তানি কমেছে। জ্বালানি-সংক্রান্ত কারণে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব পথে দেশে মাদক প্রবেশ করে, সেসব পথ বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে বহুতল ভবনের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চা-বাগান এলাকায় বর্তমানে থাকা পাঠদান কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে মন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় ৩ মাস মেয়াদি কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধি এবং অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতিহারে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আজ দেশজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, কর্মসংস্থান বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে শীর্ষে, যেখানে ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করেছি। প্রশিক্ষণ শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রোফাইল খোলা হয়, যেখানে তাদের আয় ও অগ্রগতির তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। এ সময় তিনি নিজে ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প তুলে ধরেন। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে ৩৭৩ কোটি ৭৭ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদে ষষ্ঠ ব্যাচের প্রশিক্ষণে প্রতি জেলায় ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস যুবরা এই সুযোগ পেয়েছেন। জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করেছে। এখন পর্যন্ত ৫টি পর্যায়ে মোট ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বা ৮ হাজার ৬৪০ জন দেশি ও বিদেশি মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। তাদের উপার্জিত অর্থের পরিমাণ ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ ১৪ হাজার ৪১৬ টাকা। উপার্জনে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ব্যাচে ভর্তির জন্য ৯৭ হাজার ২২৯ জন আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৬১ হাজার ৫৮১ জনকে নির্বাচন করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার ৮০০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ৮ ঘণ্টা করে ৩ মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদারকিতে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।

সুন্দরবনে অভয়াশ্রম কমানোর দাবীতে জেলেদের মানববন্ধন

বাগেরহাটের শরণখোলায় পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ৮০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য ও অভয়াশ্রম থাকলেও সাতক্ষীরাও চাঁদপাই রেঞ্জ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ অভয়াশ্রম এ বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল সকল মৎস্য ও পেশাজীবিবৃন্দ।  দুই অক্টোবর সকাল দশটায়  শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করায় ফুঁসে উঠেছে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা। তারা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের দুই রেঞ্জের জন্য দুই ধরনের আইন কখনোই তারা মেনে নিবেন না। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মৎস্য পেশাজীবিরা বলেন, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে যেখানে ৩০-৪০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে শরণখোলা রেঞ্জে ৮০ ভাগ এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য শরণখোলাবাসী কখনোই মেনে নিবে না। তাছাড়া বর্তমানে শরণখোলা রেঞ্জে যতটুকু এলাকা অবমুক্ত রয়েছে তার তুলনায় সুন্দরবনে বৈধভাবে প্রবেশ করা জেলেদের সংখ্যা অনেক। ফলে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না অধিকাংশ জেলেদের জালে। অতিদ্রুত যদি অভয়ারণ্য এলাকা কমিয়ে অন্তত ৫০ ভাগ না করা হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহনের কথা বলেন তারা। এসময়  পেশাজীবিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাউথখালি ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি শহীদুল ইসলাম লিটন, মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ সেলিম খান, মোঃ খলিল হাওলাদার, মোঃ হালিম খান,  রফিকুল হাওলাদার ও শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান সুজন। এ ব্যাপারে পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল চৌধুরী বলেন, অন্যান্য রেঞ্জের তুলনায় শরণখোলায় অভয়াশ্রম ও অভয়ারণ্য এলাকা বেশি। এখানে জেলেদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক সময় পাস পারমিট নেওয়া জেলেদের বিপাকে পড়তে হয়। জেলেদের দাবি কিছুটা হলেও যৌক্তিক। তবে এ বিষয়টি নিরশন এর দায়িত্ব বনবিভাগ ও বন মন্ত্রণালয়ের।

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর!

ডেস্ক নিউজ: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী থানায় গিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী স্বামী লিটন শেখ (৪৬) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোরেলগঞ্জের বনগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত সাইম শেখের ছেলে লিটন শেখের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দাম্পত্য জীবন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত পারিবারিক কলহ চলছিল। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টায় যখন লিটন শেখ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলে, তখন তার স্ত্রী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে ফেলে। ঘটনায় লিটন শেখের চিৎকার শুনে তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ওই অঙ্গটির প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরদিন সকালে অভিযুক্ত নারী নিজেই থানায় এসে অপরাধ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো শ্রীপুর গ্রাম ও আশপাশে এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আর্জেন্টিনার হারের পর মেসিকে সান্ত্বনা দিলেন ইয়ামাল

আর্জেন্টিনার হারের পর মেসিকে সান্ত্বনা দিলেন ইয়ামাল

ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। শিরোপা জয়ের উল্লাসের মধ্যেও ম্যাচ শেষে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ও লিওনেল মেসির একটি আবেগঘন মুহূর্ত।রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর হতাশ হয়ে মাঠে বসে ছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি। ঠিক সেই সময় স্পেনের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল এগিয়ে গিয়ে তার পিঠে হাত রেখে সান্ত্বনা দেন। মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়ায়।এই দৃশ্য নতুন নয়। ইয়ামাল ও মেসির সম্পর্কের শুরু প্রায় দুই দশক আগে। ২০০৭ সালে বার্সেলোনার একটি চ্যারিটি ফটোশুটে মাত্র ছয় মাস বয়সী ইয়ামালকে কোলে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন তৎকালীন তরুণ তারকা মেসি। সেই ছবিই পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। প্রায় ১৯ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে দুজন মুখোমুখি হন, যেখানে বিজয়ী ইয়ামালই পরাজিত মেসির পাশে দাঁড়ান।ফাইনালের আগে ইয়ামালও জানিয়েছিলেন, ছোটবেলার সেই ছবির মানুষটির বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে পারা তার জন্য বিশেষ এক অনুভূতি।ম্যাচে ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটের গোলে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। তবে ট্রফি জয়ের উল্লাসের পাশাপাশি মেসি ও ইয়ামালের এই মানবিক মুহূর্তও ফাইনালের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

সিঙ্গাপুরে ‘বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

সিঙ্গাপুরে ‘বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

সিঙ্গাপুরে ‘বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দৈনিক বণিক বার্তা ও সিঙ্গাপুরের Thakral Group এর যৌথ উদ্যোগে সিঙ্গাপুরে কর্মরত, অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী- প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশ থেকে বিদেশ গমনে অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারণে জমিজমা বিক্রি করে প্রবাসীদের ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে আসতে হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই খরচ কমিয়ে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে।তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের গর্ব ও শক্তি এবং তাঁদের কঠোর পরিশ্রম একদিকে যেমন তাঁদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিতকে আরও শক্তিশালী করছে। বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার বাংলাদেশি সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরত রয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫-‘২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যার মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অবলম্বন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।অভিবাসীদের সার্বিক সেবা ও সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ডেডিকেটেড ‘মাইগ্রেশন উইং’ খোলা হয়েছে যেটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে জনশক্তি ও কর্মসংস্থান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং দক্ষতা উন্নয়ন, পুনঃকর্মসংস্থান, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তর ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি পাঁচটি বিশেষ অনুরোধ জানান- ১. হুন্ডি পরিহার করে সর্বদা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো। ২. সিঙ্গাপুরের আইন, বিধি-বিধান ও কর্মসংস্কৃতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা। ৩. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল হওয়া এবং যেকোনো উগ্রবাদ বা বিদ্বেষমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকা। ৪. ভিন্ন ভাষা ও ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা। ৫. নতুন প্রযুক্তি, কারিগরি বিদ্যা ও ভাষার দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিয়ত দক্ষ করে তোলা।তিনি সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে বেতন-বকেয়া ও কর্মসংস্থান হারানো বাংলাদেশি কর্মীদের সহায়তায় সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও Ministry of Manpower-এর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।বর্তমান সরকার দেশে একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ যুক্ত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে উল্লেখ করে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যারা বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, আপনারা কেবল রেমিট্যান্স প্রেরক না হয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা হিসেবে ভূমিকা রাখুন। প্রবাসীদের বিনিয়োগ দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।ঊক্ত অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে কর্মরত ১৫ জন অসাধারণ প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া চারটি প্রতিষ্ঠান, দুইজন সিআইপি এবং সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশভিত্তিক ব্যাংকগুলোর আওতাধীন শীর্ষস্থানীয় তিনটি এক্সচেঞ্জ হাউজকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন অমিতাভ বচ্চন

ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন অমিতাভ বচ্চন

বলিউডের শাহেনশা অমিতাভ বচ্চন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। নিজের ব্লগের পাশাপাশি এক্স হ্যান্ডেলেও নিয়মিত নানা বিষয়ে পোস্ট করেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। তবে সম্প্রতি একটি পোস্টে ধারাবাহিক নম্বর লেখার ক্ষেত্রে সামান্য ভুল করে অনুরাগীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।প্রতিদিনের এক্স পোস্টের শুরুতে ধারাবাহিকভাবে একটি নম্বর ব্যবহার করেন অমিতাভ। সম্প্রতি সেই নম্বর দিতে গিয়েই ভুল করে ফেলেন তিনি। বিষয়টি অনুরাগীদের নজরে আসার পর নিজের ভুল বুঝতে পারেন অভিনেতা। পরে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন অমিতাভ।পোস্টে তিনি লেখেন, ‘টি ৫৮২০। নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার বড় ভুল হয়েছে। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ৫৮১৭-এর পর ৫৮১৮, ৫৮১৯, ৫৮২০ হওয়া উচিত ছিল।’একই পোস্টে ভুলটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সুনীল নামের এক নেটিজেনকে ধন্যবাদ জানান অমিতাভ। তবে প্রিয় তারকার এই সামান্য ভুল নিয়েও মজা করতে ছাড়েননি অনুরাগীরা।মন্তব্যের ঘরে এক নেটিজেন রসিকতা করে লেখেন, ‘ভুল স্বীকার করেছেন দেখে ভালো লাগছে। তা না হলে এই নম্বর ফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম।’অন্য এক নেটিজেন ভুলটি ধরিয়ে দেওয়া সুনীলকে নিয়ে মজা করে লেখেন, ‘এই ভালো কাজের জন্য সুনীলের অবদান মানবজাতি চিরকাল মনে রাখবে।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, অমিতাভের অনুরাগীদের পক্ষ থেকে সুনীলের একটি পদক পাওয়া উচিত।সামান্য একটি সংখ্যার ভুল হলেও অমিতাভ যেভাবে নিজে থেকেই তা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন, সেটিই এখন অনুরাগীদের আলোচনার বিষয়। তার সরল স্বীকারোক্তি এবং রসবোধও প্রশংসা কুড়িয়েছে নেটদুনিয়ায়।এদিকে কাজের ব্যস্ততায় সময় কাটছে অমিতাভ বচ্চনের। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি আগামী দিনে তাকে দেখা যাবে ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’র সিক্যুয়েলেও।

গ্যাস সংকটে নরসিংদীতে স্থবির জনজীবন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরুদ্ধ

গ্যাস সংকটে নরসিংদীতে স্থবির জনজীবন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরুদ্ধ

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় রাজধানী ঢাকা ও নরসিংদীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পরিবহন ও শিল্প খাতে।​জানা গেছে, বাসাবাড়িতে চুলা না জ্বলার পাশাপাশি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। টানা কয়েকদিনের এই দুর্ভোগ গত মঙ্গলবার রাত থেকে চরম আকার ধারণ করে। সম্পূর্ণ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে শিবপুরের কারারচর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে প্রায় চার কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশ্বাস দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।​পরিবহন মালিক ও চালকদের মতে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গ্যাস না পাওয়ায় তাদের দৈনিক আয় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কারারচর এলাকার এপেক্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সৈয়দ ইকবাল হোসেন জানান, প্রেসার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।​শিবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহিম জানান, এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং শিগগিরই সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

সিঙ্গাপুরে ‘বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

সিঙ্গাপুরে ‘বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

সিঙ্গাপুরে ‘বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দৈনিক বণিক বার্তা ও সিঙ্গাপুরের Thakral Group এর যৌথ উদ্যোগে সিঙ্গাপুরে কর্মরত, অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী- প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশ থেকে বিদেশ গমনে অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারণে জমিজমা বিক্রি করে প্রবাসীদের ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে আসতে হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই খরচ কমিয়ে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে।তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের গর্ব ও শক্তি এবং তাঁদের কঠোর পরিশ্রম একদিকে যেমন তাঁদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিতকে আরও শক্তিশালী করছে। বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার বাংলাদেশি সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরত রয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫-‘২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যার মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অবলম্বন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।অভিবাসীদের সার্বিক সেবা ও সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ডেডিকেটেড ‘মাইগ্রেশন উইং’ খোলা হয়েছে যেটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে জনশক্তি ও কর্মসংস্থান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং দক্ষতা উন্নয়ন, পুনঃকর্মসংস্থান, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তর ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি পাঁচটি বিশেষ অনুরোধ জানান- ১. হুন্ডি পরিহার করে সর্বদা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো। ২. সিঙ্গাপুরের আইন, বিধি-বিধান ও কর্মসংস্কৃতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা। ৩. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল হওয়া এবং যেকোনো উগ্রবাদ বা বিদ্বেষমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকা। ৪. ভিন্ন ভাষা ও ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা। ৫. নতুন প্রযুক্তি, কারিগরি বিদ্যা ও ভাষার দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিয়ত দক্ষ করে তোলা।তিনি সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে বেতন-বকেয়া ও কর্মসংস্থান হারানো বাংলাদেশি কর্মীদের সহায়তায় সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও Ministry of Manpower-এর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।বর্তমান সরকার দেশে একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ যুক্ত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে উল্লেখ করে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যারা বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, আপনারা কেবল রেমিট্যান্স প্রেরক না হয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা হিসেবে ভূমিকা রাখুন। প্রবাসীদের বিনিয়োগ দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।ঊক্ত অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে কর্মরত ১৫ জন অসাধারণ প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া চারটি প্রতিষ্ঠান, দুইজন সিআইপি এবং সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশভিত্তিক ব্যাংকগুলোর আওতাধীন শীর্ষস্থানীয় তিনটি এক্সচেঞ্জ হাউজকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

আর্জেন্টিনার হারের পর মেসিকে সান্ত্বনা দিলেন ইয়ামাল

আর্জেন্টিনার হারের পর মেসিকে সান্ত্বনা দিলেন ইয়ামাল

ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। শিরোপা জয়ের উল্লাসের মধ্যেও ম্যাচ শেষে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ও লিওনেল মেসির একটি আবেগঘন মুহূর্ত।রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর হতাশ হয়ে মাঠে বসে ছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি। ঠিক সেই সময় স্পেনের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল এগিয়ে গিয়ে তার পিঠে হাত রেখে সান্ত্বনা দেন। মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়ায়।এই দৃশ্য নতুন নয়। ইয়ামাল ও মেসির সম্পর্কের শুরু প্রায় দুই দশক আগে। ২০০৭ সালে বার্সেলোনার একটি চ্যারিটি ফটোশুটে মাত্র ছয় মাস বয়সী ইয়ামালকে কোলে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন তৎকালীন তরুণ তারকা মেসি। সেই ছবিই পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। প্রায় ১৯ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে দুজন মুখোমুখি হন, যেখানে বিজয়ী ইয়ামালই পরাজিত মেসির পাশে দাঁড়ান।ফাইনালের আগে ইয়ামালও জানিয়েছিলেন, ছোটবেলার সেই ছবির মানুষটির বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে পারা তার জন্য বিশেষ এক অনুভূতি।ম্যাচে ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটের গোলে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। তবে ট্রফি জয়ের উল্লাসের পাশাপাশি মেসি ও ইয়ামালের এই মানবিক মুহূর্তও ফাইনালের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

গ্যাস সংকটে নরসিংদীতে স্থবির জনজীবন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরুদ্ধ

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় রাজধানী ঢাকা ও নরসিংদীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পরিবহন ও শিল্প খাতে।​জানা গেছে, বাসাবাড়িতে চুলা না জ্বলার পাশাপাশি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। টানা কয়েকদিনের এই দুর্ভোগ গত মঙ্গলবার রাত থেকে চরম আকার ধারণ করে। সম্পূর্ণ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে শিবপুরের কারারচর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে প্রায় চার কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশ্বাস দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।​পরিবহন মালিক ও চালকদের মতে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গ্যাস না পাওয়ায় তাদের দৈনিক আয় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কারারচর এলাকার এপেক্স ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সৈয়দ ইকবাল হোসেন জানান, প্রেসার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।​শিবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহিম জানান, এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং শিগগিরই সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

ভূতুরে বিল ও বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে দিশেহারা জনজীবন

​তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং আর মাস শেষে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বোঝায় পিষ্ট হচ্ছেন দেশের সাধারণ জনগণ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনে-রাতে ৫ থেকে ৬ বার বিদ্যুৎ যাওয়া এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ প্রতিবার বিদ্যুৎ আসার পর তার স্থায়িত্ব থাকছে মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন অরাজকতায় চরম ভোগান্তির শিকার গ্রাহকরা ক্ষোভ ও হতাশায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।​ভোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এটি কেবল প্রযুক্তিগত বা সরবরাহজনিত সমস্যা নয়, বরং এর পেছনে বিদ্যুৎ খাতের একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী চক্রান্তকারী চক্র কাজ করছে। জনগণের ধারণা, ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত ও ভূতুরে বিল তৈরি এবং অস্বাভাবিক লোডশেডিং সৃষ্টি করে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।​সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে দেশের পোল্ট্রি খাতে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে খামারের শত শত মুরগি মারা যাচ্ছে। এতে একদিকে প্রান্তিক খামারিরা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে পোল্ট্রি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। খামারিরা জানান, জেনারেটর বা বিকল্প উপায়ে দীর্ঘ সময় বাতাস ও তাপমাত্রা ধরে রাখা সাধারণ খামারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তাপপ্রবাহের কারণে একের পর এক মুরগি মারা পড়ছে।​মনোহরদীতে ব্যবসায়ীদের হাহাকার:সরজমিনে মনোহরদীর স্থানীয় বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায় চরম দুর্ভোগের চিত্র। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে পুরো বাজার এলাকা। মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের মোমবাতি জ্বেলে কেনাবেচা করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পচে নষ্ট হচ্ছে মাছ ও অন্যান্য পচনশীল পণ্য। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম হাহাকার ও হতাশা।​ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন অনতিবিলম্বে এই বেপরোয়া ভূতুরে বিল প্রণয়ন এবং অযৌক্তিক লোডশেডিংয়ের লাগাম টানা হয়। একই সাথে, বিদ্যুৎ খাতের ভেতরের চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সমাধানের দাবি আইনজীবী মহলে / আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের দুর্ভোগের চিত্র

ঢাকা কোর্ট অঙ্গনে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের নানা দুর্ভোগের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। আদালত কার্যক্রম শুরুর আগেই আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের কী ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতি অতিক্রম করে বিভিন্ন আদালতে পৌঁছাতে হয়, সেই চিত্র তুলে ধরে দেওয়া পোস্টটি প্রকাশের পর তাৎক্ষণিকভাবে আইনজীবী মহলে ব্যাপক সাড়া পড়ে।আইনজীবী মহলে পরিচিত মুখ ও আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ তার ফেসবুক পোস্টে ঢাকা কোর্টের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা ও চলাচলের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিশেষ করে অপর্যাপ্ত ও প্রায়ই বিকল হয়ে পড়া লিফট, আদালত অঙ্গনের সংকীর্ণ ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তা এবং দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও গ্যাংওয়ে নির্মাণ না হওয়ার বিষয়টি তার পোস্টে গুরুত্ব পায়।পোস্টে আবুল কালাম আজাদ উল্লেখ করেন, সিএমএম আদালত শুরু হওয়ার আগেই আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের বিভিন্ন ধরনের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি অতিক্রম করে আদালতে পৌঁছাতে হয়। ঢাকা জজ কোর্ট, সিএমএম আদালত, চিফ জুডিশিয়াল আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে মামলার শুনানিতে অংশ নিতে গিয়ে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের প্রতিনিয়ত এ ধরনের বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আদালত অঙ্গনে একটি গ্যাংওয়ে নির্মাণের জন্য আইনজীবী নেতৃবৃন্দ বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গেছেন এবং সমস্যার সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও এর কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।তার পোস্টে বর্ষাকালে আদালত অঙ্গনের দুর্ভোগের চিত্রও উঠে আসে। বৃষ্টির সময় কোর্ট অঙ্গনের একটি সংকীর্ণ রাস্তা পানিতে ডুবে যায় এবং কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। সেই রাস্তা দিয়েই আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের বহু কষ্টে বিভিন্ন আদালতে যাতায়াত করতে হয়। এতে প্রতিদিন আদালতে আসা মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিচার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।আবুল কালাম আজাদ তার পোস্টের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে ঢাকা কোর্টের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে আইন পেশা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তার এই ফেসবুক পোস্ট প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী মহলে তাৎক্ষণিক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই পোস্টটির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি বাস্তব সমস্যাকে জনসম্মুখে তুলে ধরার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের প্রতিদিনের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও সচেতন মহল থেকে দাবি উঠেছে।সচেতন মহলের মতে, আদালত অঙ্গনে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা বিচার কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশেরই অংশ। দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাংওয়ে, জলাবদ্ধতা, কাদাযুক্ত রাস্তা ও লিফটসংক্রান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা গেলে ঢাকা কোর্টের সামগ্রিক পরিবেশ অনেকটাই উন্নত হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।আইনজীবী মহলে জনপ্রিয় নেতা আবুল কালাম আজাদের এই পোস্ট তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ঢাকা কোর্টের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা ও আইনজীবী-বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং বাস্তবসম্মত কী উদ্যোগ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।পাঠকদের জন্য সেই পোস্টটির লিংক তুলে ধরা হলো:https://www.facebook.com/share/v/1DhmuUKHsR/

এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে কুড়িগ্রামে ৭ দিনের নির্ধারিত লোডশেডিং স্থগিত ঘোষণা

‎চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নির্বিঘ্ন, সুষ্ঠু ও স্বস্তিকর পরিবেশে সম্পন্ন করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পূর্বনির্ধারিত সাত দিনের পরিকল্পিত লোডশেডিং সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সরকার।আগামী ২৯ এ জুলাই থেকে ৮ ই আগষ্টের অব্দি লোডশেডিং স্থগিত ঘোষনা করা হয়।পরীক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।‎‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষা চলাকালে কোনো কেন্দ্রেই যেন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় না পড়ে, সে লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের পাশাপাশি কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।‎‎পল্লী বিদ্যুৎ লালমনিরহাট কুড়িগ্রাম অফিসের জেনারেল ম্যানেজার মোঃ শামীম পারভেজ বলেন,গ্রীষ্মকালীন অতিরিক্ত চাহিদা ও জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ থাকলেও এইচএসসি পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরিকল্পিত লোডশেডিং আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত তা সমাধানে জরুরি টিম প্রস্তুত থাকবে।