সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন

উচ্ছেদ হওয়া জমিতে ফের দখল, ১৫ দপ্তরে বিআইডব্লিউটিএর চিঠি

ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর তীরের কস্তুরাঘাট এলাকায় উচ্ছেদ করা জমিতে আবারও ঘর তুলে দখলের অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের রাত থেকে দখল কার্যক্রম শুরু হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সর্বশেষ দুই দিনে সেখানে টিনশেডের অন্তত ৩০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার (কস্তুরাঘাট) নদী বন্দরের সীমানাধীন এলাকায় এভাবে পুনর্দখল শুরু হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সংস্থাটি দখল বন্ধ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ১৫টি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার (কস্তুরাঘাট) নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠানো হয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিআইডব্লিউটিএ শাখার সচিব, বিআইডব্লিউটিএর প্রশাসন ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক, বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব, পুলিশের আইজিপির পিএস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (প্রশাসন), সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের সমন্বয় কর্মকর্তা, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী এবং বিআইডব্লিউটিএর পরিকল্পনা ও পরিচালনা সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী বরাবর।

চিঠিতে বলা হয়, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় কস্তুরাঘাট নদী বন্দরের সীমানাধীন বাঁকখালী নদী ও তীরভূমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নদী ও তীরভূমির ৬৩ একর জায়গা উদ্ধার করা হয় এবং ৪৯৬টি কাঁচা-পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

উচ্ছেদের পর নদী বন্দরের সীমানা চিহ্নিত করতে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি), কক্সবাজারের নেতৃত্বে যৌথ জরিপ পরিচালিত হয়। সীমানা পিলার স্থাপনের সময় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে তিনটি এবং পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১ হাজার ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে চলমান মামলার পরও একই স্থানে ফের ঘর তোলার ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিআইডব্লিউটিএর ভাষ্য, আগে যাদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল, তারাই আবার দখলে জড়িত।

পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল বলেন, আগে যাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, তারাই আবার এই দখল কার্যক্রম করছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, নির্বাচনের রাত থেকেই প্রভাবশালী একটি চক্র দ্রুত ঘর নির্মাণ শুরু করে। নদীর তীরের গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গা দখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে আবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশকর্মীরা।

নদী রক্ষা ও বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো মাঠপর্যায়ে নতুন কোনো উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষণা করা হয়নি।

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2011-2025 VisionBangla24.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com