শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ০৫:০১ অপরাহ্ন

প্রতারণার মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় মোংলায় বিকাশের আরও ৮৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা ব্যর্থ

প্রতারণার মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় মোংলায় বিকাশের আরও ৮৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা ব্যর্থ

ফিরোজ আহম্মেদ, মংলা প্রতিনিধি: প্রতারণার মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় মোংলায় বিকাশের আরও ৮৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিকাশের স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটরের চুরি হওয়া ব্যাংক চেকের মাধ্যমে সাবেক কর্মচারি শাহিন ওই টাকা তুলে নেয়ার চেস্টা চালায়। ওই প্রতারক প্রথম দফায় একই পন্থায় প্রতিষ্ঠানটির ৬০ লাখ হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। প্রায় সাড়ে তিন বছর আত্মগোপনে থাকার পর আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে ওই প্রতারক। এমনকি প্রতারণার মামলা থেকে রেহাই পেতে উল্টো মামলার ফাঁসানোর চেস্টাও ব্যর্থ হয়েছে তার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিকাশ লিঃ এর মোংলা, রামপাল, শরনখোলা ও মোড়েলগঞ্জের জোনাল ডিস্ট্রিবিউটর লাক্সমি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। এ প্রতিষ্ঠানে ২০১২ সালে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ শুরু করে জনৈক শাহিন হাওলাদার। কাজের সুবাদে অল্প দিনেই বিকাশের স্থানীয় এজেন্টের বিশ্বস্ত কর্মচারী হয়ে ওঠে সে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেন-দেনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করে আসছিল কর্মচারি শাহিন। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিশ্বস্ততার সুযোগে ২০১৪ সালের ১২ জুন ব্র্যাক ব্যাংকের বাগেরহাট শাখা থেকে গোপনে প্রতারণার মাধ্যমে ৬০ লাখ টাকা তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। আর এ টাকা নিয়ে আতœগোপনে থাকা অবস্থায় ভারত, দুবাই সহ বিভিন্ন দেশে সফর করে। এ ঘটনায় বিকাশের স্থানীয় এজেন্ট হারুন অর রশিদ বাদি হয়ে বাগেরহাট সদর থানায় ২০১৪ সালের ১২ জুন একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলা থেকে রেহাই পেতে প্রতারক শাহিন আত্মগোপনে থেকে নানা কৌশল অবলম্বন করে। এক পর্যায় প্রায় সাড়ে ৩ বছর পর এলাকায় ফিরে এসে বিকাশ এজেন্ট হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর মিথ্যা অপহরন ও মানব পাচার মামলা দায়ের করে। আর এ মামলাটির তদন্ত শুরু করে বাগেরহাট পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) । পুলিশের বিশেষ শাখার দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে আসে ৬০ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারক শাহিনের পালিয়ে যাওয়া এবং আত্মগোপনে থাকার মূল রহস্য। পিবিআই তাদের তদন্তে এবং ইমেগ্রেশন শাখায় খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হয় প্রতারক শাহিন ওই টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর নিজের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভারতসহ একাধিক দেশে ভ্রমণ করে। ফলে এজেন্ট মালিকের বিরুদ্ধে কর্মচারি শাহিনের দায়ের করা অপহরন ও মানব পাচার মামলাটি মিথ্যা প্রমানিত হয় এবং পিবিআই এ সংক্রান্ত চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে আদালতে। আর এ মামলায় পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর অর্থ লোভী প্রতারক শাহিন স্থানীয় এজেন্টের চুরি যাওয়া চেকের মাধ্যমে গত ৮জুলাই বাগেরহাট ব্র্যাক ব্যাংক থেকে দ্বিতীয় দফায় আবারও ৮৭ লাখ টাকা তুলে নেয়ার চেস্টা চালায়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এজেন্ট মালিককে বিষয়টি তাৎক্ষনিক অবগত করায় প্রতারক শাহিনের টাকা তুলে নেয়ার প্রচেস্টা ব্যর্থ হয়। প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় একের পর এক প্রতারনার ফাঁদসহ বিকাশের স্থানীয় এজেন্ট হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে ধুরন্ধর শাহিন। এ বিষয় শাহিন তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে বলেন, তার কাছে বিকাশের চেক থাকায় টাকা তুলে নেয়ার জন্য ব্যাংকে জমা দেয়া হয়েছিল।
অপর দিকে বিকাশ এজেন্ট হারুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, তার বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে সাবেক কর্মচারি শাহিন প্রথম দফায় প্রতারনার মাধ্যমে ৬০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ছাড়া দ্বিতীয় দফায়ও অনুরুপ ভাবে আরও ৮৭ লাখ টাকা তুলে নেয়ার চেস্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। তিনি আরও বলেন, প্রতারক শাহিন তার বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত্রের পাশাপাশি তাকে এবং তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিদের হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে।

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2014 VisionBangla24.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com