বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রস্তাবিত ‘বীমা কর্পোরেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি) কর্মচারী ইউনিয়ন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ও আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। ইউনিয়নের দাবি, প্রস্তাবিত এই সংশোধনী এসবিসি’র অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং দেশের বীমা শিল্পে অরাজকতা, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
রোববার (১০ নভেম্বর) এসবিসি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি কাজী আবদুর রহিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি সংশ্লিষ্টদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, আইডিআরএ বীমা কর্পোরেশন আইন, ২০১৯ সংশোধনের খসড়া একতরফাভাবে তৈরি করেছে এবং স্টেকহোল্ডারদের মতামত না নিয়েই অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠিয়েছে। যদিও অধ্যাদেশের খসড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, আইডিআরএ’র নিজস্ব ওয়েবসাইটে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত আইনে সরকারি সম্পত্তির সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হলে এসবিসি’র শতভাগ সরকারি সম্পত্তি বীমা কভারেজ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা শিথিল হবে। এতে সরকারি সম্পত্তির বীমা ব্যবসা বেসরকারি কিছু প্রভাবশালী কোম্পানির হাতে চলে যেতে পারে, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
এছাড়া, প্রস্তাবিত আইনে আন্তর্জাতিক রেটিং সংযোজনের মাধ্যমে বিদেশি বীমা কোম্পানিকে সরকারি প্রকল্পের বীমায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা মানি লন্ডারিং ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের ঝুঁকি বাড়াবে বলে আশঙ্কা করা হয়।
এসবিসি কর্মচারী ইউনিয়নের দাবি, প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে ২০১৯ সালের আইনটির ১৭ ধারা বিয়োজন করে পুনঃবীমা বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হলে এসবিসি আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের সুযোগ তৈরি হবে।
তারা আরও বলেন, পরিচালনা বোর্ডের সদস্য সংখ্যা ১১ থেকে ১৩ জনে বাড়ানোর প্রস্তাবটি অপ্রয়োজনীয় ও অকার্যকর। বরং বীমাবিদ সদস্যদের সংখ্যা বাড়িয়ে বোর্ডকে কার্যকর করা উচিত।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এসবিসি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব ও লভ্যাংশ জমা দিয়ে আসছে, ২০২৩ সালে ২৯৮.৮৭ কোটি এবং ২০২২ সালে ২৭০.৫৩ কোটি টাকা। গত ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২,৮৮০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে।
ইউনিয়নের নেতারা অভিযোগ করেন, লাভজনক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এসবিসি কে দুর্বল করে কিছু বেসরকারি স্বার্থগোষ্ঠীর সুবিধার্থে বীমা কর্পোরেশন আইন পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র চলছে। এটি কার্যকর হলে বীমা শিল্পে অরাজকতা, অবৈধ কমিশন বাণিজ্য ও অনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়বে।
জাতীয় নির্বাচনের আগে অধ্যাদেশ আকারে আইন পরিবর্তনের এই উদ্যোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে এসবিসি কর্মচারী ইউনিয়ন হুঁশিয়ারি দিয়েছে, প্রস্তাবিত সংশোধনী প্রত্যাহার না করা হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
এর আগে রোববার সকালে এক মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আইনটি কার্যকর হলে সরকারি খাতের শত শত কোটি টাকার বীমা ব্যবসা মাত্র ৫-৬টি প্রভাবশালী বেসরকারি কোম্পানির দখলে চলে যাবে এবং দেশের প্রায় ৪০টি দুর্বল বীমা কোম্পানি বাজার থেকে ছিটকে পড়বে।
তারা আরও দাবি করেন, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে সরকারি সম্পত্তির সংজ্ঞা শিথিল করার সুযোগে দুর্নীতি ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেন বহুগুণে বেড়ে যাবে, যা দেশের বীমা খাতের স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করবে।