ঢাকা    সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

চলচ্চিত্রের দুরবস্থা ! শিল্পী ও পুঁজির অভাবেই নতুন ছবির দেখা নেই



চলচ্চিত্রের দুরবস্থা ! শিল্পী ও পুঁজির অভাবেই নতুন ছবির দেখা নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক:  ‘চলচ্চিত্র’ বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু দিন দিন এই বিনোদনের মাধ্যম ক্রমশই হারিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন পর পরই হচ্ছে নতুন নতুন চলচ্চিত্রের মহরত শুটিং ও শুরু হচ্ছে কিন্তু বেশ কিছু দিন পরে নানা কারনেই থমকে যাচ্ছে ছবির শুটিং। কমে আসছে সিনেমা মুক্তির পরিমাণ। কমছে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যাও। গেল কয়েক বছর যাবত বেশ কমে এসেছে ছবি মুক্তির পরিমাণ। শুধু তাই নয় যেসব ছবি মুক্তি পাচ্ছে হাতে গোনা কিছু ছবি ছাড়া বেশির ভাগ ছবি ব্যবসায়িক ভাবে সফল হচ্ছে না। গেল বছর উল্লেখ করার মতো কিছু ছবি ব্যবসা করলেও নতুন বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আলো জ্বালানোর মতো কোন ছবিই মুক্তি পায়নি। বরং মাস খানেক নতুন ছবি মুক্তি না পাওয়াতে পুরাতন ছবি দিয়েই হল চালাতে হয়েছে হল মালিকদের। এমনকি ছবি না থাকায় সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারতের ফাইনাই ক্রিকেট ম্যাচ দেখিয়েছেন জোনাকি সিনেমা হল। গেল ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে একটি ও তৃতীয় সপ্তাহে অর্থাৎ ১৬ ফেব্রুয়ারি দুটি সিনেমা মুক্তি পায়। এরপর থেকে দীর্ঘ একমাস নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি। শুধু তাই নয় সেন্সরেও জমা পড়ছে না নতুন ছবি। সর্ব শেষ সেন্সরের ছাড় পত্র পেয়েছে ‘পোষ্ট মাষ্টার একাত্তর’ যা এখনো মুক্তি পায়নি। আর এভাবেই নতুন ছবি মুক্তি না পাওয়া ও ছবি না চলাতে অসংখ্যাক জনক হারে কমছে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা। চলচ্চিত্রের এমন দুরবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিগণ। বাংলা চলচ্চিত্রের এমন বেহাল দশা নিয়ে চলচ্চিত্র বিশ্লেষক নুপম হায়াৎ বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্র এখন চিন্তা-চেতনা আর সৃজনশীলতার ব্রাম্মনতায় ভুগছে। নতুন করে কোন কিছু চিন্তা করতে পারছে না। যার ফলে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছেন না। শুধু তাই নয় প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে যেমন সব কিছুই অনেক সহজ হয়েছে ঠিক তেমনি চলচ্চিত্র দেখাটাও আজ খুবই সহজ হয়ে উঠেছে। এখান আর কেউ আগের মতো করে হলে গিয়ে ছবি দেখে না। সবাই মোবাইলে কিংবা ইউটিউবেই দেখে। যার ফলে সিনেমা হল গুলোকে লোকশান গুনতে হচ্ছে।’ বাংলা চলচ্চিত্রের এমন ভরাডুবির কারণ হিসেবে খুব সহজেই বলা যায় বাংলাদেশে বর্তমানে যে সব চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে তার বেশীভাগ চলচ্চিত্রেরই গল্প দুর্বল। পাশাপাশি নকলতো আছেই। যার ফলে সাধারণ দর্শকদের কাছে তা গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। চলচ্চিত্রের এমন বেহাল দশা নিয়ে নির্মাতা শাহ আলম কিরন বলেন, ‘আমাদের এই চলচিত্রের দুরবস্থার কারন একাধিক। আমাদের ছবি নির্মাণ হচ্ছে ঠিকই কিন্তু তা প্রদর্শন হচ্ছে না এর প্রথম কারন শিল্পী। যেসব ছবি নির্মাণ হচ্ছে সেগুলোতে পরিচিত শিল্পী না থাকায় অনেক প্রদর্শকরা তা চালাচ্ছে না। তাছাড়া মেশিনের বিষয়টি তো আছেই।’ পুঁজির অভাব উল্লেখ করে এই নির্মাতা বলেন, ‘ছবি নির্মাণ না হওয়ার পেছনে মূল কারণ পুঁজি। ছবিতে বিনয়োগ কৃত অর্থ ফেরত না পাওয়ার কারনে অনেক প্রযোজক এখন ছবিতে লগ্নি করছে না। আর যারা করছে তারা হয়তো একটি দুটি ছবিতে লগ্নি করে আর করছেনা। পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহের অনুন্নত পরিবেশ তো আছেই।’ এদিকে জানা গেছে দেশের প্রেক্ষাগৃহের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) উদ্যোগ নিচ্ছে। সম্প্রতি সিনেমা হলে ডিজিটাল প্রদর্শন সিস্টেম প্রবর্তন’ শীর্ষক এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জানানো হয় দেশের ৫০টি প্রেক্ষাগৃহ আধুনিকায়ন করতে ৫০ কোটি টাকার সম্ভাব্য বাজেট ধরা হয়েছে। সারা দেশের প্রেক্ষাগৃহ আধুনিকায়নের এ প্রকল্পে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমারকে সভাপতি এবং এফডিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আইয়ুব আলীকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দীন নওশাদ, উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দীন ও সাজেদ হোসেন।

ভিশন বাংলা ২৪

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬


চলচ্চিত্রের দুরবস্থা ! শিল্পী ও পুঁজির অভাবেই নতুন ছবির দেখা নেই

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০১৮

featured Image
নিজস্ব প্রতিবেদক:  ‘চলচ্চিত্র’ বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু দিন দিন এই বিনোদনের মাধ্যম ক্রমশই হারিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন পর পরই হচ্ছে নতুন নতুন চলচ্চিত্রের মহরত শুটিং ও শুরু হচ্ছে কিন্তু বেশ কিছু দিন পরে নানা কারনেই থমকে যাচ্ছে ছবির শুটিং। কমে আসছে সিনেমা মুক্তির পরিমাণ। কমছে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যাও। গেল কয়েক বছর যাবত বেশ কমে এসেছে ছবি মুক্তির পরিমাণ। শুধু তাই নয় যেসব ছবি মুক্তি পাচ্ছে হাতে গোনা কিছু ছবি ছাড়া বেশির ভাগ ছবি ব্যবসায়িক ভাবে সফল হচ্ছে না। গেল বছর উল্লেখ করার মতো কিছু ছবি ব্যবসা করলেও নতুন বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আলো জ্বালানোর মতো কোন ছবিই মুক্তি পায়নি। বরং মাস খানেক নতুন ছবি মুক্তি না পাওয়াতে পুরাতন ছবি দিয়েই হল চালাতে হয়েছে হল মালিকদের। এমনকি ছবি না থাকায় সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারতের ফাইনাই ক্রিকেট ম্যাচ দেখিয়েছেন জোনাকি সিনেমা হল। গেল ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে একটি ও তৃতীয় সপ্তাহে অর্থাৎ ১৬ ফেব্রুয়ারি দুটি সিনেমা মুক্তি পায়। এরপর থেকে দীর্ঘ একমাস নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি। শুধু তাই নয় সেন্সরেও জমা পড়ছে না নতুন ছবি। সর্ব শেষ সেন্সরের ছাড় পত্র পেয়েছে ‘পোষ্ট মাষ্টার একাত্তর’ যা এখনো মুক্তি পায়নি। আর এভাবেই নতুন ছবি মুক্তি না পাওয়া ও ছবি না চলাতে অসংখ্যাক জনক হারে কমছে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা। চলচ্চিত্রের এমন দুরবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিগণ। বাংলা চলচ্চিত্রের এমন বেহাল দশা নিয়ে চলচ্চিত্র বিশ্লেষক নুপম হায়াৎ বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্র এখন চিন্তা-চেতনা আর সৃজনশীলতার ব্রাম্মনতায় ভুগছে। নতুন করে কোন কিছু চিন্তা করতে পারছে না। যার ফলে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছেন না। শুধু তাই নয় প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে যেমন সব কিছুই অনেক সহজ হয়েছে ঠিক তেমনি চলচ্চিত্র দেখাটাও আজ খুবই সহজ হয়ে উঠেছে। এখান আর কেউ আগের মতো করে হলে গিয়ে ছবি দেখে না। সবাই মোবাইলে কিংবা ইউটিউবেই দেখে। যার ফলে সিনেমা হল গুলোকে লোকশান গুনতে হচ্ছে।’ বাংলা চলচ্চিত্রের এমন ভরাডুবির কারণ হিসেবে খুব সহজেই বলা যায় বাংলাদেশে বর্তমানে যে সব চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে তার বেশীভাগ চলচ্চিত্রেরই গল্প দুর্বল। পাশাপাশি নকলতো আছেই। যার ফলে সাধারণ দর্শকদের কাছে তা গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। চলচ্চিত্রের এমন বেহাল দশা নিয়ে নির্মাতা শাহ আলম কিরন বলেন, ‘আমাদের এই চলচিত্রের দুরবস্থার কারন একাধিক। আমাদের ছবি নির্মাণ হচ্ছে ঠিকই কিন্তু তা প্রদর্শন হচ্ছে না এর প্রথম কারন শিল্পী। যেসব ছবি নির্মাণ হচ্ছে সেগুলোতে পরিচিত শিল্পী না থাকায় অনেক প্রদর্শকরা তা চালাচ্ছে না। তাছাড়া মেশিনের বিষয়টি তো আছেই।’ পুঁজির অভাব উল্লেখ করে এই নির্মাতা বলেন, ‘ছবি নির্মাণ না হওয়ার পেছনে মূল কারণ পুঁজি। ছবিতে বিনয়োগ কৃত অর্থ ফেরত না পাওয়ার কারনে অনেক প্রযোজক এখন ছবিতে লগ্নি করছে না। আর যারা করছে তারা হয়তো একটি দুটি ছবিতে লগ্নি করে আর করছেনা। পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহের অনুন্নত পরিবেশ তো আছেই।’ এদিকে জানা গেছে দেশের প্রেক্ষাগৃহের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) উদ্যোগ নিচ্ছে। সম্প্রতি সিনেমা হলে ডিজিটাল প্রদর্শন সিস্টেম প্রবর্তন’ শীর্ষক এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জানানো হয় দেশের ৫০টি প্রেক্ষাগৃহ আধুনিকায়ন করতে ৫০ কোটি টাকার সম্ভাব্য বাজেট ধরা হয়েছে। সারা দেশের প্রেক্ষাগৃহ আধুনিকায়নের এ প্রকল্পে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমারকে সভাপতি এবং এফডিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আইয়ুব আলীকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দীন নওশাদ, উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দীন ও সাজেদ হোসেন।

ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত