ডলারের বিপরীতে টাকার রেকর্ড পতন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দাম বেড়ে ১০৯ টাকায় উঠেছে। গতকাল বুধবার এ দামে ব্যাংকগুলো লেনদেন করেছে। দেশের ইতিহাসে ডলারের এই বিনিময় হার এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ১০৮ টাকা ৭৫ পয়সায় উঠেছিল।বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
চাহিদা মেটাতে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক কখনো বাংলাদেশ ব্যাংক আবার কখনো অন্য ব্যাংক থেকে ডলার কেনে। এটিই আন্তঃব্যাংক ডলার লেনদেন। যখন চাহিদা বেশি থাকে তখন দাম বাড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে ডলারের লেনদেন করেছে ১০৮ টাকা ৩ পয়সা থেকে ১০৯ টাকায়। এক বছর আগে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দাম ছিল ৯২ টাকা ৮০ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ১৪.৮৬ শতাংশ বা ১৬ টাকা ২০ পয়সা।
বৃহস্পতিবার খোলাবাজারে নগদ এক ডলার বিক্রি হয়েছে ১১১ টাকা ৭০ পয়সায়।
আর বিক্রি করে পেয়েছেন ১১১ টাকা ৩০ পয়সা।
চলতি জুন মাসে প্রায় প্রতিটি কার্যদিবসেই আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের বিনিময় হার বেড়েছে। গত ১ জুন প্রতি ডলারের দাম ছিল ১০৮ টাকা। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গত বছরের মার্চ থেকে দেশে ডলার সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। এ সংকট মোকাবেলায় শুরুতে ডলারের দাম বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
কিন্তু এতে সংকট আরো বেড়ে যায়। পরে গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়। এ দায়িত্ব দেওয়া হয় এবিবি ও বাফেদার ওপর। এর পর থেকে এই দুই সংগঠন মিলে রপ্তানি ও প্রবাস আয় এবং আমদানি দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে ডলারের দাম নির্ধারণ করে আসছে।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি জুন মাসে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে ডলারের দাম বাড়িয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এখন বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রতি ডলারে পাচ্ছেন ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা। সরকারের আড়াই শতাংশ প্রণোদনাসহ প্রবাস আয়ে মিলবে ১১১ টাকা। আর রপ্তানিকারকরা প্রতি ডলারের বিপরীতে পাবে ১০৭ টাকা। এত দিন রেমিট্যান্সে ডলারের দাম ছিল ১০৮ টাকা এবং রপ্তানি আয়ে ছিল ১০৬ টাকা।