বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৫৬ অপরাহ্ন
নওগাঁ থেকে উজ্জ্বল কুমার সরকার:
নওগাঁ জেলার পত্নীতলায় বিআরটিসি বাসে একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। উক্ত ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে নওগাঁ জেলা পুলিশ অভিযান অব্যাহত রাখে। উক্ত অভিযানের অংশ হিসেবে নওগাঁ জেলা পুলিশের একাধিক টিম গতকাল নওগাঁ সহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় অভিযান পরিচালনা করে।
উক্ত অভিযানের মাধ্যমে জয়পুরহাট গাইবান্ধা ও বগুড়া জেলা থেকে আন্তজেলা ডাকাত দলের ৬ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে জয়পুরহাটের কালাই থেকে, দুইজনকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে এবং একজনকে বগুড়ার কাহালু থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন (১) মোঃ শামীম ইসলাম সব্দুল (২৭), পিতা-মুজিবুর রহমান, গ্রাম- আওড়া পশ্চিমপাড়া, (২) শ্রী রঞ্জিত চন্দ্র বর্মন (৩০), পিতা-অরুণ চন্দ্র বর্মন, গ্রাম হাতিয়র, (৩) মোঃ আব্দুল লতিফ ওরফে নাঈম (২৭), পিতা-মোঃ লুৎফর রহমান, গ্রাম-ঝমুটপুর,সর্ব থানা-কালাই, জেলা-জয়পুরহাট, (৪)মোঃ শাহারুল ইসলাম(৩৭), পিতা-মনসুর বেপারী এবং ৫। মোঃ শহিদুল ইসলাম(৪০), পিতা-মোঃ মফিজ উদ্দিন, উভয় সাং-পুরন্দর, গোবিন্দগঞ্জ, জেলা-গাইবান্ধা এবং ৬। মোঃ শাহাদাত হোসেন(৪০),পিতা-মোঃ খোরশেদ আলী, গ্রাম-সিন্ধুরাইল, থানা-কাহালু, বগুড়া। তাদের মধ্যে শহিদুল এর বিরুদ্ধে ছয়টি, শাহরুলের বিরুদ্ধে দুইটি,শামীমের বিরুদ্ধে দুইটি এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে একটি করে ডাকাতির মামলা রয়েছে। পত্নীতলায় বিআরটিসি বাসে ডাকাতির ঘটনায় লুন্ঠিত একজোড়া কানের দুল ও কয়েকটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত করাত, কয়েকটি হাসুয়া, একটি প্লাস এবং একটি হায়েস মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।
উক্ত ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ডাকাতদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আপনারা জানেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে পাবনা জেলার সাঁথিয়ায় কয়েকটি গাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় গ্রেফতারকৃত এই ৬ জনের মধ্যে পাঁচজনই জড়িত ছিল বলে তারা পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। পাবনায় ডাকাতির মাধ্যমে লুন্ঠিত একটি ল্যাপটপ এবং একটি মোবাইল ডাকাতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,পত্নীতলায় বাস ডাকাতিতে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি তারা পাবনায় ডাকাতির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেছে বলে তারা আমাদের জানায়। জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাত দল পত্নীতলায় বিআরটিসি বাসে ডাকাতি এবং পাবনার সাঁথিয়ায় কয়েকটি গাড়িতে ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে।