শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
পদ্মা ও যমুনা সেতুতে টোল আদায়-যানবাহন পারাপারে নতুন রেকর্ড গ্রন্থালোচনা: বদল হাওয়ায় বদলে গেছে দিন দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি, শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর আগৈলঝাড়ায় গণঅধিকার পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল ঈদে আসছে কাজী বাহাদুর হিমুর ‘বায়ান্ন পাতার প্রেম’ চালকের অবহেলায় ৯টি বগি লাইনচ্যুত, মাস্টার বরখাস্ত রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি ঈদের দিন সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী মানিকগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে শতাধিক মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: কুড়িগ্রামে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ
এবার গোপনে বিদেশে পাড়ি জমালেন শেখ হাসিনার চাচা শেখ কবির

এবার গোপনে বিদেশে পাড়ি জমালেন শেখ হাসিনার চাচা শেখ কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক:

এবার গোপনে বিদেশে গেলেন সাবেক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা শেখ কবির হোসেন। আজ রবিবার সকালে একটি ফ্লাইটে তিনি সিঙ্গাপুরে যান। তার বিরুদ্ধে টাকা পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি বড় বড় পদ দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ক্ষমতাবান একটি চক্রের সহায়তায় তিনি বিমানবন্দর ছাড়তে সক্ষম হন। উল্লেখ করা যেতে পারে, এর আগে বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ ২৩ প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার শীর্ষপদে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা শেখ কবির হোসেন। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মধ্যে রয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একাধিক বিমা কম্পানি, সেবা খাতের সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসোসিয়েশন।

ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর অনেকটা আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানের বোর্ড মিটিংয়েও নিয়মিত অংশ নিতেন না তিনি। এর আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় শেখ কবির হোসেনের নাম ভাঙিয়ে এবং কখনও ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে সরকারি নানা সুবিধা পেয়েছেন বিভিন্ন ব্যক্তি। আবার কোনও কোম্পানি দখল করার পর তাকে সামনে রাখা হয়েছিল।

বেশকিছু প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি নিজেও সুবিধা নিয়েছেন। এ ছাড়া একই সময়ে একাধিক তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক আবার অন্য একাধিক তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক ছিলেন, বিদ্যমান আইনে যা সাংঘর্ষিক। শেখ কবির হোসেন শেখ মুজিবুর রহমানের চাচাতো ভাই। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি ছিলেন তিনি। এ পরিচয়েই তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে ছিলেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন শেখ কবির হোসেন ছিলেন অর্থ ও বীমা খাতসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে। তিনি ২০১১ সাল থেকে একটানা বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি ছিলেন। শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ায় তার অধীনে বিআইএর কোনো নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া তিনি ছিলেন—বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্নিংবডির সদস্য, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে জড়িত, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)-এর চেয়ারম্যান।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, দেশত্যাগের আগে কোনো উচ্চপর্যায়ের বাধার মুখে পড়তে হয়নি শেখ কবিরকে।

ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রোববার সকালে শেখ কবির হোসেন একটি ফ্লাইটে দেশত্যাগ করেন। অথচ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তারপরও প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে তাকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয় বলে দাবি ওই কর্মকর্তার।

এখন বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম করা শেখ হাসিনার চাচার গন্তব্য কেন সিঙ্গাপুরেই? তিনি কি বয়সজনিত কারণে দেশটিতে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার জন্য গিয়েছেন? না কি তার বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলা থেকে রেহাই পেতে পালিয়েছেন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ–সিঙ্গাপুরের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি (extradition treaty) নেই, ফলে আইনগতভাবে তাকে ফেরানোর বাধ্যবাধকতা নেই। প্রতিবেশী কোনো দেশে গেলে সহজেই সম্ভাব্য প্রত্যর্পণের মুখোমুখি হতে লাগতে পারে; কিন্তু সিঙ্গাপুরে ঢুকলেই তা কঠিন হয়ে যায়। তাই তিনি হয়তো সিঙ্গাপুরকেই গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

এ ছাড়া অনেকের ধারণা, শেখ কবির হোসেনের বয়স অনেক (আনুমানিক ৮২–৯৫ বছর)। এই বয়সে সিঙ্গাপুরে উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের উদ্দেশ্যেই তিনি যেতে পারেন।

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2011-2025 VisionBangla24.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com