ঢাকা    মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

সবশেষ জনমত জরিপে বিএনপি-জামায়াত 'কাছাকাছি'



সবশেষ জনমত জরিপে বিএনপি-জামায়াত 'কাছাকাছি'

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত সবশেষ জনমত জরিপে প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত মিলেছে। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রায় ৩৪ শতাংশের বেশি ভোটার, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে মত দিয়েছেন প্রায় ৩৩ শতাংশের বেশি মানুষ।

জরিপ অনুযায়ী, বর্তমান জনসমর্থনের ভিত্তিতে ভোটের সম্ভাব্য বণ্টন হলো-- বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) পাবে ৩৪.৭ শতাংশ। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন থাকবে ৩৩.৬ শতাংশ। এ নির্বাচনে আনডিসাইডেড (সিদ্ধান্তহীন) ভোটার থাকতে পারে ১৭.০ শতাংশ। অন্য দলগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি) ৭.১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩.১ এবং অন্যান্য দল ৪.৫ শতাংশ ভোট পাবে।

যদিও মেশিন লার্নিং (এমএল) প্রজেকশন অনুযায়ী, আনডিসাইডেড ভোটারদের ঝোঁক বিবেচনায় নিলে বিএনপির সমর্থন ৪৩.২ এবং জামায়াতে ইসলামির সমর্থন ৪০.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

আজ (সোমবার, ১২ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রাক-নির্বাচনি জরিপ প্রকাশ করা হয়। ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দুই হাজার ছাব্বিশ’ শীর্ষক এ জরিপটি প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি। জরিপটি পরিচালনায় যৌথভাবে কাজ করেছে প্রজেকশন বিডি, জাগরণ ফাউন্ডেশন ও ন্যারাটিভ।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, মোট ভোটারের প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সম্ভাব্য অবস্থান যুক্ত করলে বিএনপির সমর্থন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪৩ শতাংশের কাছাকাছি এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন পৌঁছাতে পারে প্রায় ৪১ শতাংশের মতো।

জরিপের পরিসর ও পদ্ধতি

জরিপটি পরিচালিত হয় ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এতে দেশের ৬৪ জেলার অন্তর্ভুক্ত প্রায় ২৯৫ সংসদীয় আসনের মোট বাইশ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। শহর-গ্রাম, অঞ্চল ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে স্তরভিত্তিক নমুনা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় এবং জাতীয় আদমশুমারির তথ্যের আলোকে পরবর্তী ওজন প্রয়োগ করা হয়েছে।

ভোটারদের ভাবনা ও দলভিত্তিক সমর্থনের কারণ

বিএনপি: বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, দলটির রাষ্ট্র পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতাই তাদের সমর্থনের প্রধান কারণ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ থেকে ৪৪ এবং ৩৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিএনপির সমর্থন তুলনামূলক বেশি। পেশাভিত্তিক হিসাবে কৃষক ও শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যেও দলটির অবস্থান শক্ত।

জামায়াতে ইসলামী: জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা দলটির প্রতি আস্থা রাখার পেছনে মূলত কম দুর্নীতির ভাবমূর্তি ও সততার পরিচয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি, বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে।

উচ্চশিক্ষিত, বিশেষ করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যেও জামায়াতের সমর্থন অন্য দলগুলোর তুলনায় এগিয়ে।

ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের সম্পৃক্ত করায় দলটি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

জরিপে অংশ নেয়া ভোটারদের প্রায় ১৭ শতাংশ এখনও ভোটের সিদ্ধান্ত নেননি। এ অংশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না।

আবার একটি বড় অংশ মতামত দিতেও অনিচ্ছুক ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতে পারেন।

সামগ্রিকভাবে জরিপটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২৬ সালের নির্বাচন হবে একদিকে অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার রাজনীতি, অন্যদিকে সততা, ন্যায়বিচার ও মূল্যবোধের রাজনীতির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। ভোটারদের বড় অংশই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহিন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মুশতাক খান, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী একে এম ফাহিম মাশরুরসহ আরও অনেকে।

ভিশন বাংলা ২৪

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬


সবশেষ জনমত জরিপে বিএনপি-জামায়াত 'কাছাকাছি'

প্রকাশের তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত সবশেষ জনমত জরিপে প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত মিলেছে। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রায় ৩৪ শতাংশের বেশি ভোটার, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে মত দিয়েছেন প্রায় ৩৩ শতাংশের বেশি মানুষ।

জরিপ অনুযায়ী, বর্তমান জনসমর্থনের ভিত্তিতে ভোটের সম্ভাব্য বণ্টন হলো-- বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) পাবে ৩৪.৭ শতাংশ। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন থাকবে ৩৩.৬ শতাংশ। এ নির্বাচনে আনডিসাইডেড (সিদ্ধান্তহীন) ভোটার থাকতে পারে ১৭.০ শতাংশ। অন্য দলগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি) ৭.১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩.১ এবং অন্যান্য দল ৪.৫ শতাংশ ভোট পাবে।

যদিও মেশিন লার্নিং (এমএল) প্রজেকশন অনুযায়ী, আনডিসাইডেড ভোটারদের ঝোঁক বিবেচনায় নিলে বিএনপির সমর্থন ৪৩.২ এবং জামায়াতে ইসলামির সমর্থন ৪০.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

আজ (সোমবার, ১২ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রাক-নির্বাচনি জরিপ প্রকাশ করা হয়। ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দুই হাজার ছাব্বিশ’ শীর্ষক এ জরিপটি প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি। জরিপটি পরিচালনায় যৌথভাবে কাজ করেছে প্রজেকশন বিডি, জাগরণ ফাউন্ডেশন ও ন্যারাটিভ।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, মোট ভোটারের প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সম্ভাব্য অবস্থান যুক্ত করলে বিএনপির সমর্থন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪৩ শতাংশের কাছাকাছি এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন পৌঁছাতে পারে প্রায় ৪১ শতাংশের মতো।

জরিপের পরিসর ও পদ্ধতি

জরিপটি পরিচালিত হয় ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এতে দেশের ৬৪ জেলার অন্তর্ভুক্ত প্রায় ২৯৫ সংসদীয় আসনের মোট বাইশ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। শহর-গ্রাম, অঞ্চল ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে স্তরভিত্তিক নমুনা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় এবং জাতীয় আদমশুমারির তথ্যের আলোকে পরবর্তী ওজন প্রয়োগ করা হয়েছে।

ভোটারদের ভাবনা ও দলভিত্তিক সমর্থনের কারণ

বিএনপি: বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, দলটির রাষ্ট্র পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতাই তাদের সমর্থনের প্রধান কারণ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ থেকে ৪৪ এবং ৩৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিএনপির সমর্থন তুলনামূলক বেশি। পেশাভিত্তিক হিসাবে কৃষক ও শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যেও দলটির অবস্থান শক্ত।

জামায়াতে ইসলামী: জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা দলটির প্রতি আস্থা রাখার পেছনে মূলত কম দুর্নীতির ভাবমূর্তি ও সততার পরিচয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি, বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে।

উচ্চশিক্ষিত, বিশেষ করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যেও জামায়াতের সমর্থন অন্য দলগুলোর তুলনায় এগিয়ে।

ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের সম্পৃক্ত করায় দলটি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

জরিপে অংশ নেয়া ভোটারদের প্রায় ১৭ শতাংশ এখনও ভোটের সিদ্ধান্ত নেননি। এ অংশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না।

আবার একটি বড় অংশ মতামত দিতেও অনিচ্ছুক ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতে পারেন।

সামগ্রিকভাবে জরিপটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২৬ সালের নির্বাচন হবে একদিকে অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার রাজনীতি, অন্যদিকে সততা, ন্যায়বিচার ও মূল্যবোধের রাজনীতির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। ভোটারদের বড় অংশই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহিন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মুশতাক খান, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী একে এম ফাহিম মাশরুরসহ আরও অনেকে।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত