মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
ডেস্ক নিউজ: প্রাথমিক তদন্তে ভাইরাল হওয়া আপত্তিকর ভিডিওটির সত্যতা পাওয়ার পর নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনাকে ঘিরে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনিক মহলেও নড়চড় দেখা দিয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় একজন ব্যক্তিকে দেখা যায়, যাকে ইউএনও মো. আলাউদ্দিন বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই ভিডিওটি শেয়ার করে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করতে থাকেন, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই ইউএনও মো. আলাউদ্দিন কর্মস্থল ত্যাগ করে জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এরপর থেকে তিনি কারও ফোন রিসিভ করছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। তার এই হঠাৎ কর্মস্থল ত্যাগকে কেন্দ্র করে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে যাওয়ার আগে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটির আবেদন জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসন।
ইউএনও কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। তবে ভিডিওতে থাকা নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ ধারণা করছেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে এবং ইউএনও কোনো ‘হানিট্র্যাপ’-এর শিকার হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও মো. আলাউদ্দিন দাবি করেছেন, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এটি তার বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার। তিনি বলেন, পূর্বের কর্মস্থলে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তার বিরোধ ছিল এবং সেই শত্রুতার জের ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন এবং আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন।
এদিকে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন এবং ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, ইউএনও সোমবার সকালে তার দপ্তরে ছুটির আবেদন জমা দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন।
ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে মো. আলাউদ্দিনকে ওএসডি করা হয়। যদিও প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ভিডিওটির সত্যতা পাওয়ার কারণেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মু. তানভীর হাসান রুমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে শেয়ার করছেন, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হলেও, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া কিছু বিশ্বাস করা ঠিক নয়। তাই পুরো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মহল পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ওপর জোর দিচ্ছে।
এদিকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জনসেবার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে এমন ঘটনা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।