ঢাকা    রোববার, ০৩ মে ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

চালকের অবহেলায় ৯টি বগি লাইনচ্যুত, মাস্টার বরখাস্ত



চালকের অবহেলায় ৯টি বগি লাইনচ্যুত, মাস্টার বরখাস্ত

সজীব হাসান (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার সান্তাহারে ট্রেন চালকের নজিরবিহীন দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বলি হলেন শত শত ঘরমুখো যাত্রী। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় অন্তত শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার দায়ে সান্তাহার সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে সান্তাহার জংশন স্টেশনের বাগবাড়ী দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ট্রেনের চালক পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও রেলওয়ে কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নীলসাগর ট্রেনটি ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যাত্রী নিয়ে চিলাহাটির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। সান্তাহার স্টেশনের অদূরে বগারবাড়ী নামক স্থানে রেললাইনের মেরামতের কাজ চলছিল। নিয়ম অনুযায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিল এবং লাইনে ‘লাল ব্যানার’ বা লাল পতাকা টাঙানো ছিল। কিন্তু ট্রেনের চালক সব ধরনের সিগন্যাল এবং এমনকি কর্মীদের হাতের সিগন্যালও তোয়াক্কা না করে দ্রুতগতিতে ট্রেনটি মেরামতাধীন লাইনের ওপর চালিয়ে দেন। এতে বিকট শব্দে ট্রেনের পাওয়ার কারসহ ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তারা লাইনচ্যুত বগিগুলো থেকে ৬২ জন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের ভেতরে ও ছাদে থাকা আরও অনেক যাত্রী আহত হয়েছেন, যারা নিজস্ব উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য চলে গেছেন। লাইনচ্যুত বগিগুলোর মধ্যে এসি চেয়ার (৭২৩৫), শোভন চেয়ার (৭২৫০, ৭২২৭, ৭৯০৫, ৭৯২৭, ৭৯২৮) এবং পাওয়ার কার (৭৫১৩) রয়েছে। সান্তাহার জংশন স্টেশনের ওয়েম্যান সোহেল বলেন, “লাইন ভেঙে যাওয়ায় আমরা কাজ করছিলাম। লাল ব্যানার টাঙানো ছিল, সিগন্যালও ছিল। কিন্তু চালক কোনো কিছুই মানেননি। এটি সরাসরি চালকের অবহেলা। সান্তাহার স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন জানান, ট্রেনের চালক বর্তমানে পলাতক থাকায় দুর্ঘটনার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দায়িত্ব অবহেলার প্রাথমিক অভিযোগে সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সান্তাহার রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনার ফলে উত্তরবঙ্গের সাথে ঢাকার রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা চালুর চেষ্টা চলছে।

ভিশন বাংলা ২৪

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


চালকের অবহেলায় ৯টি বগি লাইনচ্যুত, মাস্টার বরখাস্ত

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

সজীব হাসান (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার সান্তাহারে ট্রেন চালকের নজিরবিহীন দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বলি হলেন শত শত ঘরমুখো যাত্রী। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় অন্তত শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার দায়ে সান্তাহার সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে সান্তাহার জংশন স্টেশনের বাগবাড়ী দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ট্রেনের চালক পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও রেলওয়ে কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নীলসাগর ট্রেনটি ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যাত্রী নিয়ে চিলাহাটির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। সান্তাহার স্টেশনের অদূরে বগারবাড়ী নামক স্থানে রেললাইনের মেরামতের কাজ চলছিল। নিয়ম অনুযায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিল এবং লাইনে ‘লাল ব্যানার’ বা লাল পতাকা টাঙানো ছিল। কিন্তু ট্রেনের চালক সব ধরনের সিগন্যাল এবং এমনকি কর্মীদের হাতের সিগন্যালও তোয়াক্কা না করে দ্রুতগতিতে ট্রেনটি মেরামতাধীন লাইনের ওপর চালিয়ে দেন। এতে বিকট শব্দে ট্রেনের পাওয়ার কারসহ ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তারা লাইনচ্যুত বগিগুলো থেকে ৬২ জন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের ভেতরে ও ছাদে থাকা আরও অনেক যাত্রী আহত হয়েছেন, যারা নিজস্ব উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য চলে গেছেন। লাইনচ্যুত বগিগুলোর মধ্যে এসি চেয়ার (৭২৩৫), শোভন চেয়ার (৭২৫০, ৭২২৭, ৭৯০৫, ৭৯২৭, ৭৯২৮) এবং পাওয়ার কার (৭৫১৩) রয়েছে। সান্তাহার জংশন স্টেশনের ওয়েম্যান সোহেল বলেন, “লাইন ভেঙে যাওয়ায় আমরা কাজ করছিলাম। লাল ব্যানার টাঙানো ছিল, সিগন্যালও ছিল। কিন্তু চালক কোনো কিছুই মানেননি। এটি সরাসরি চালকের অবহেলা। সান্তাহার স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন জানান, ট্রেনের চালক বর্তমানে পলাতক থাকায় দুর্ঘটনার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দায়িত্ব অবহেলার প্রাথমিক অভিযোগে সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সান্তাহার রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনার ফলে উত্তরবঙ্গের সাথে ঢাকার রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা চালুর চেষ্টা চলছে।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত