থানায় অভিযোগ দিতে গিয়ে হয়রানির শিকার ভুক্তভোগী
নরসিংদীতে সাংবাদিকের বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি: স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট
নরসিংদী শহরের বিলাসদী এলাকায় এক সাংবাদিকের বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরচক্র বাসা থেকে প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় নরসিংদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. শফিকুল ইসলাম মতি। তিনি স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘গ্লোবাল টিভি’ এবং ‘দৈনিক নবচেতনা’ পত্রিকার নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পেশাগত কাজে বাসার বাইরে যান সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম মতি। ওই সময় তার মেয়ে সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং স্ত্রী ছাদে কাপড় শুকাতে যান। এই সুযোগে ঘরের দরজার পাশে রাখা চাবি দিয়ে তালা খুলে অজ্ঞাতনামা চোরচক্র বাসায় প্রবেশ করে। চোরেরা ঘরের সুকেসের ড্রয়ার ভেঙে আনুমানিক ৩ লাখ টাকা মূল্যের ২ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা চুরি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সিসিটিভি ক্যামেরার তার কেটে নিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, চুরির ঘটনা আড়াল করতে এবং প্রমাণ নষ্ট করতেই তারা এই কাজ করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাংবাদিক নরসিংদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের (এসপি) সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কেউ কল রিসিভ করেননি। এরপর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে ডিউটি অফিসার প্রথমে অভিযোগ নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে থানার ওসি (অপারেশন)-এর হস্তক্ষেপে অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়। একজন সংবাদকর্মী থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় সাধারণ মানুষের পুলিশি সেবা পাওয়া নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক মো. শফিকুল ইসলাম মতি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মহিদুল ইসলাম জানান, "অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে