জ্ঞানী-গুণী ও দায়িত্বশীলদের পরামর্শে এগিয়ে যেতে চায় সাংবাদিক-পাঠক কল্যাণ ট্রাস্ট
সাংবাদিক ও পাঠকদের বিভিন্ন সমস্যা, অধিকার, পেশাগত উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণকে সামনে রেখে গঠিত সাংবাদিক-পাঠক কল্যাণ ট্রাস্টকে একটি কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সেক্টরের জ্ঞানী-গুণী, অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা ও মতবিনিময় কার্যক্রম চলছে। সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রমের পরিধি নিয়ে এসব আলোচনায় সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ট্রাস্টের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য দেশের বিভিন্ন পত্রিকা ও অন্যান্য গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও পাঠকদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সেমিনার ও গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম সম্পর্কে পাঠকদের সচেতন করা এবং পাঠকদের বিভিন্ন মতামত, অভিযোগ ও অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও ট্রাস্টের কার্যক্রমের অন্যতম অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাংবাদিক-পাঠকদের মধ্যে ঐক্য ও সৌহার্দ্য সৃষ্টি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেও কাজ করতে চায় সংগঠনটি। জনকল্যাণমূলক ও অলাভজনক কার্যক্রমে সাংবাদিক ও পাঠকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের ইতিবাচক বিকাশে ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও রয়েছে।
সাংবাদিক ও পাঠকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও ট্রাস্টের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি কল্যাণমূলক তহবিল গঠন করে বিপদগ্রস্ত, অসুস্থ, দুর্ঘটনাকবলিত কিংবা অসচ্ছল সাংবাদিক ও পাঠকদের প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা, মহামারি কিংবা মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিশু-কিশোরদের নিয়েও কাজ করার লক্ষ্য রয়েছে ট্রাস্টের। মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, শিক্ষা উপকরণসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া এবং তাদের উৎসাহিত করতে ক্রেস্ট, সনদ ও আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতি নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিও সংগঠনের পরিকল্পনায় রয়েছে।
বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের গুরুত্ব বিবেচনায় সাংবাদিকদের আধুনিক সাংবাদিকতা, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারে দক্ষ করে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা, গণমাধ্যমের নৈতিকতা এবং পাঠকের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ট্রাস্টের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাংবাদিক ও পাঠককে একই প্ল্যাটফর্মে এনে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতার পরিবেশ তৈরি করা গেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। এ লক্ষ্যেই সংগঠনের সার্বিক কাঠামো, কর্মপরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন পেশা ও সেক্টরের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে। তাদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সাংবাদিক-পাঠক কল্যাণ ট্রাস্টকে একটি স্বচ্ছ, জনকল্যাণমুখী ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।