শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
ডোমারে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডব, ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি পুলিশকে আগের পোশাকে ফেরাতে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনোহরদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বগুড়ার সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ গ্রেপ্তার লিও ক্লাবের আয়োজনে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত ‘তেল নেই’ লেখা পাম্পে মিলল ৯৭৮৩ লিটার জ্বালানি ডিজেল সংকটে মাঠে পানি নেই, বোরো ধান ঝুঁকিতে — কৃষকের কান্নায় ভাসছে নরসিংদী ভারত-পাকিস্তানসহ ৪ দেশের নাম লিখে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার চেতনায় উদ্দীপ্ত নরসিংদী: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
ডোমারে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডব, ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি

ডোমারে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডব, ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি

সোহেল রানা,স্টাফ রিপোর্টার নীলফামারীঃ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও টানা প্রায় আধাঘণ্টার শিলাবৃষ্টিতে ফসলের মাঠ ও বসতবাড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকের স্বপ্নের ফসল মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বড় আকারের শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে পুরো এলাকায়। এতে অনেক বাড়ির টিনের চাল ফুটো হয়ে যায়, যেন চালগুলো ঝাঁঝরা হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে মাঠের ধান, ভুট্টা, কলা, আখ, বেগুন ও মরিচসহ প্রায় সব ধরনের ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভুট্টা, মরিচ ও বেগুন গাছের পাতা ঝরে গিয়ে কেবল খালি ডাঁটা দাঁড়িয়ে আছে। বোরো ধানের গাছ ছিঁড়ে জমিতে লুটিয়ে পড়েছে। কলাগাছগুলো দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে রয়েছে, অনেক গাছ ভেঙে গেছে।

বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বোড়াগাড়ী গ্রামের কৃষক ইব্রাহীম আলী জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে কলা, ৫ বিঘায় ভুট্টা এবং ১ বিঘায় বোরো ধানের চাষ করেছিলেন। কিন্তু শিলাবৃষ্টিতে তার সব আবাদ নষ্ট হয়ে গেছে।

একই এলাকার কৃষক আজিজার রহমান, ইয়াছিন আলী, দিলীপ রায়, অঘোর চন্দ্র রায়, মজিবর রহমান, রবিউল ইসলাম ও জয়নাল আবেদীন বলেন, ঋণ ও বাকিতে সার-বীজ কিনে চাষাবাদ করেছিলেন তারা। জীবনে এমন শিলাবৃষ্টি আগে দেখেননি। অল্প সময়েই তাদের সব ফসল ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও তারা জানান।

ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুব হাসান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলের ক্ষতি হলেও পশ্চিম বোড়াগাড়ী এলাকায় ক্ষতির মাত্রা বেশি। প্রাথমিক হিসেবে, উপজেলায় ১৩ হাজার ২০৮ হেক্টর ধানের মধ্যে প্রায় ১৫০ হেক্টর, ৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর ভুট্টার মধ্যে ২০০ হেক্টর, ৮০০ হেক্টর মরিচের মধ্যে ৩০ হেক্টর, ১৮ হেক্টর কলার মধ্যে ৫ হেক্টর এবং ১২ হেক্টর আখের মধ্যে প্রায় ৪ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশি যে তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে।

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2011-2026 VisionBangla24.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com