ঢাকা    সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

‘বিয়ের চাপ দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে মেঘনায় ভাসিয়ে দেয় আমিরুল’



‘বিয়ের চাপ দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে মেঘনায় ভাসিয়ে দেয় আমিরুল’
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেড় বছর আগে নরসিংদী সদর থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর নিপা হত্যা ঘটনার দুজনকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)। তারা হলো, সুজন মিয়া ও জহিরুল ইসলাম। গত বুধবার দুজনকে গ্রেপ্তার করে এ ঘটনার আসল রহস্য জানা যায়। বৃহষ্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে পিবিআই নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ২০২০ সালের ২৬ এপ্রিল নরসিংদীর সদর থানা এলাকায় মেঘনা নদীতে ভাসমান অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। পরে ফেসবুকে ছবি দেখে পুলিশের সহায়তায় পরিবার নিশ্চিত হয় মরদেহটি লিপা আক্তার নিপার। অজ্ঞাতনামা হিসেবে মরদেহ দাফনের পর নরসিংদী সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। পরবর্তীতে নিপার মা কোহিনুর বেগমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে নরসিংদী সদর থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলাটি প্রথমে নৌ-পুলিশ তদন্ত করলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, ২০২০ সালের ২৪ এপ্রিল রাতে বিয়ের কথা বলে নিপাকে ঘর থেকে নিয়ে যান তার প্রেমিক আমিরুল ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠরা। এরপর মেঘনা নদীর মাঝে নৌকায় নিপাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ভাসিয়ে দেয় তারা। আমিরুলসহ এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন মোট সাতজন। এক প্রশ্নের জবাবে পিবিআইয়ের এসপি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সাত জনের মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার হলেও প্রধান অভিযুক্ত আমিরুল বিদেশে পলাতক বলে শোনা যাচ্ছে। বাকি চারজন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, নিপাকে হত্যার পর চরের কোথাও মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু নদীর সবদিকে জেলেদের উপস্থিতি থাকায় মরদেহটি নদীতে ভাসিয়ে দেন তাঁরা। হত্যায় ব্যবহূত গামছা ও সঙ্গে থাকা কোদাল নদীতে ফেলে দেন। এমনকি নৌকাটিও অন্যত্র বিক্রি করে দেন তাঁরা। পরে নৌকাটিকে আলামত হিসেবে সংগ্রহ করতে পেরেছে পিবিআই। ঘটনাস্থল থেকে মেঘনার প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে নিপার মরদেহ উদ্ধার করা হয় জানিয়ে পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা করতে গিয়ে পরিবার নানা ধরনের ভয়ভীতির সম্মুখীন হয়। পরে আদালতে নিপার মা কোহিনুর বেগমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নরসিংদী সদর থানায় হত্যা মামলা হয়। আজ পিবিআই কার্যালয়ে এসপি এনায়েত যখন নিপা হত্যার ঘটনা বর্ণনা করছিলেন তখন সেখানে উপস্থিত নিপার মা কোহিনুর বেগম অঝোরে কাঁদছিলেন। এ সময় মেয়ে হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে পদে পদে হেনস্তা ও অসহযোগিতার কথা বলেন তিনি। কোহিনুর বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে থানা-পুলিশ সহযোগিতা করে আসছিল। আসামিরা স্থানীয়ভাবে প্রভাশালী হওয়ায় আমি কারও কাছে সহযোগিতা পাইনি।’ মেয়ে হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে তিনি বাড়ি ছাড়া হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসে থাকা স্বামী খলিলুর রহমানও তাঁদের ভয়ে মামলা না করার জন্য বলছিলেন। কিন্তু কোনো হুমকি ধমকিতেই তিনি থেমে যাননি। বাড়িছাড়া হয়েও মেয়ে হত্যার বিচারের জন্য নানা জায়গায় চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। সর্বশেষ পিবিআইয়ের মাধ্যমে মেয়ে হত্যায় জড়িতরা গ্রেপ্তার হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। গ্রেপ্তার দুজনের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, আমিরুলের সঙ্গে নিপার দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু আমিরুলের বাবা তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেননি। বরং নিপাকে অন্য একটি ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে ঘটকালি করেন আমিরুলের বাবা। বিয়ের পর নিপা এক বছর সংসার করেন। সেখানে তাঁর একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। পিবিআই সূত্র জানায়, এক সন্তান নিয়ে সুখের সংসারই ছিল নিপার। তবে সেই সুখ নষ্ট করেন আমিনুল। তার কারণে সংসার ভেঙে যায় নিপার। নিপা ফিরে আসেন বাবার বাড়ি। এরপর পুরোনো প্রেমিক আমিনুল ইসলাম ওরফে আমিরুলের সঙ্গে আবার যোগাযোগ শুরু হয় নিপার। একপর্যায়ে নিপা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। তখন আমিরুলকে বিয়ের জন্য চাপ দেন নিপা। আমিনুল নিপার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চিকিত্সকের কাছেও যান। চিকিত্সক বলে দেন, সেটি সম্ভব না। এক পর্যায়ে পরিবারের বাধার কারণে বিয়ে না করে সহযোগীদের নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন আমিরুল। সে অনুযায়ী গত বছরের ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যার পর নিপাকে বিয়ের কথা বলে নৌকায় করে মেঘনা নদীতে নিয়ে যান। মাঝ নদীতে নিয়ে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং কাঠ দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে নিপার মৃত্যু নিশ্চিত করেন তাঁরা।

ভিশন বাংলা ২৪

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


‘বিয়ের চাপ দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে মেঘনায় ভাসিয়ে দেয় আমিরুল’

প্রকাশের তারিখ : ১৯ নভেম্বর ২০২১

featured Image
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেড় বছর আগে নরসিংদী সদর থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর নিপা হত্যা ঘটনার দুজনকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)। তারা হলো, সুজন মিয়া ও জহিরুল ইসলাম। গত বুধবার দুজনকে গ্রেপ্তার করে এ ঘটনার আসল রহস্য জানা যায়। বৃহষ্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে পিবিআই নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ২০২০ সালের ২৬ এপ্রিল নরসিংদীর সদর থানা এলাকায় মেঘনা নদীতে ভাসমান অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। পরে ফেসবুকে ছবি দেখে পুলিশের সহায়তায় পরিবার নিশ্চিত হয় মরদেহটি লিপা আক্তার নিপার। অজ্ঞাতনামা হিসেবে মরদেহ দাফনের পর নরসিংদী সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। পরবর্তীতে নিপার মা কোহিনুর বেগমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে নরসিংদী সদর থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলাটি প্রথমে নৌ-পুলিশ তদন্ত করলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, ২০২০ সালের ২৪ এপ্রিল রাতে বিয়ের কথা বলে নিপাকে ঘর থেকে নিয়ে যান তার প্রেমিক আমিরুল ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠরা। এরপর মেঘনা নদীর মাঝে নৌকায় নিপাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ভাসিয়ে দেয় তারা। আমিরুলসহ এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন মোট সাতজন। এক প্রশ্নের জবাবে পিবিআইয়ের এসপি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সাত জনের মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার হলেও প্রধান অভিযুক্ত আমিরুল বিদেশে পলাতক বলে শোনা যাচ্ছে। বাকি চারজন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, নিপাকে হত্যার পর চরের কোথাও মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু নদীর সবদিকে জেলেদের উপস্থিতি থাকায় মরদেহটি নদীতে ভাসিয়ে দেন তাঁরা। হত্যায় ব্যবহূত গামছা ও সঙ্গে থাকা কোদাল নদীতে ফেলে দেন। এমনকি নৌকাটিও অন্যত্র বিক্রি করে দেন তাঁরা। পরে নৌকাটিকে আলামত হিসেবে সংগ্রহ করতে পেরেছে পিবিআই। ঘটনাস্থল থেকে মেঘনার প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে নিপার মরদেহ উদ্ধার করা হয় জানিয়ে পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা করতে গিয়ে পরিবার নানা ধরনের ভয়ভীতির সম্মুখীন হয়। পরে আদালতে নিপার মা কোহিনুর বেগমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নরসিংদী সদর থানায় হত্যা মামলা হয়। আজ পিবিআই কার্যালয়ে এসপি এনায়েত যখন নিপা হত্যার ঘটনা বর্ণনা করছিলেন তখন সেখানে উপস্থিত নিপার মা কোহিনুর বেগম অঝোরে কাঁদছিলেন। এ সময় মেয়ে হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে পদে পদে হেনস্তা ও অসহযোগিতার কথা বলেন তিনি। কোহিনুর বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে থানা-পুলিশ সহযোগিতা করে আসছিল। আসামিরা স্থানীয়ভাবে প্রভাশালী হওয়ায় আমি কারও কাছে সহযোগিতা পাইনি।’ মেয়ে হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে তিনি বাড়ি ছাড়া হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসে থাকা স্বামী খলিলুর রহমানও তাঁদের ভয়ে মামলা না করার জন্য বলছিলেন। কিন্তু কোনো হুমকি ধমকিতেই তিনি থেমে যাননি। বাড়িছাড়া হয়েও মেয়ে হত্যার বিচারের জন্য নানা জায়গায় চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। সর্বশেষ পিবিআইয়ের মাধ্যমে মেয়ে হত্যায় জড়িতরা গ্রেপ্তার হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। গ্রেপ্তার দুজনের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, আমিরুলের সঙ্গে নিপার দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু আমিরুলের বাবা তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেননি। বরং নিপাকে অন্য একটি ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে ঘটকালি করেন আমিরুলের বাবা। বিয়ের পর নিপা এক বছর সংসার করেন। সেখানে তাঁর একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। পিবিআই সূত্র জানায়, এক সন্তান নিয়ে সুখের সংসারই ছিল নিপার। তবে সেই সুখ নষ্ট করেন আমিনুল। তার কারণে সংসার ভেঙে যায় নিপার। নিপা ফিরে আসেন বাবার বাড়ি। এরপর পুরোনো প্রেমিক আমিনুল ইসলাম ওরফে আমিরুলের সঙ্গে আবার যোগাযোগ শুরু হয় নিপার। একপর্যায়ে নিপা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। তখন আমিরুলকে বিয়ের জন্য চাপ দেন নিপা। আমিনুল নিপার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চিকিত্সকের কাছেও যান। চিকিত্সক বলে দেন, সেটি সম্ভব না। এক পর্যায়ে পরিবারের বাধার কারণে বিয়ে না করে সহযোগীদের নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন আমিরুল। সে অনুযায়ী গত বছরের ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যার পর নিপাকে বিয়ের কথা বলে নৌকায় করে মেঘনা নদীতে নিয়ে যান। মাঝ নদীতে নিয়ে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং কাঠ দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে নিপার মৃত্যু নিশ্চিত করেন তাঁরা।

ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত