ঢাকা    রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

ভারতীয় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় বিএমডিসির অভিযোগ



ভারতীয় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় বিএমডিসির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ বিজ্ঞাপন দিয়ে বাংলাদেশে এসে রোগী দেখার অভিযোগে ভারতীয় এক চিকিৎসকের বিষয়ে বনানী থানায় অভিযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। ভারতীয় ওই চিকিৎসকের নাম রীনা গুপ্ত। বিজ্ঞাপনে তিনি নিজেকে ফার্টিলিটি (বন্ধ্যাত্ব) বিশেষজ্ঞ হিসেবে দাবি করেছেন।

বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রটি গত ৫ মার্চ বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর দায়ের করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগৃহীত বিজ্ঞপ্তি (ফটোকপি সংযুক্ত) ভারতীয় চিকিৎসক রীনা গুপ্ত (ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ, বেবি সাইন্স, নিউ দিল্লি) আজ বনানীর বিটিআই আর্মিটেজের (হাউজ-৭৭, রোড-১২) ঠিকানায় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেবেন। তবে, উল্লেখিত বিদেশি চিকিৎসক বিএমডিসি থেকে রেজিষ্ট্রেশনপ্রাপ্ত নয়, যেকারণে চিকিৎসা কার্য পরিচালনা ও ভিডিও কলের মাধ্যমে পরামর্শ প্রদান করলে তা হবে আইনের পরিপন্থি। এই বিষয়ে অনতিবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, বিএমডিসির ২০১০ সালের ৬১ নম্বর আইনে আছে- ২২। নিবন্ধন ব্যতীত এলোপ্যাথি চিকিৎসা নিষিদ্ধ - (১) অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন নিবন্ধন ব্যতীত, কোনো মেডিকেল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক এলোপ্যাথি চিকিৎসা করতে, অথবা নিজেকে মেডিকেল চিকিৎসক বা ক্ষেত্রমত, ডেন্টাল চিকিৎসক বলে পরিচয় প্রদান করতে পারবেন না । (২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করলে উক্ত লঙ্ঘন হবে একটি অপরাধ, এবং তার জন্য তিনি ৩ বছর কারাদণ্ড অথবা ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএমডিসির রেজিস্ট্রার লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় একজন চিকিৎসক কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। বিষয়টি আমাদের নজরে আসলে যা করার সেটি করেছি। এটি আমাদের নিয়মিত কাজ।’

তিনি বলেন, ‘ভিনদেশি কেউ বাংলাদেশে চিকিৎসা দিতে চাইলে বা যারা আনতে চান তাদেরকে সমস্ত কাগজপত্রসহ বিএমডিসিতে আবেদন করতে হবে। তারপর আমরা সাময়িক একটি অনুমোদনপত্র দিয়ে থাকি। কিন্তু ভারতীয় এই চিকিৎসকের ব্যাপারে আমাদের কাছে এমন কিছু তথ্য ছিল না। পরে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি যারা তাকে এনেছেন তাদের কাছে একইসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে পাঠানো হয়েছে। সে অনুযায়ী বনানী থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।’

লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘শুধু এটি নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা শহরে ভারতীয় চিকিৎসকদের আনার ঢল নেমেছে। মাঝখানে করোনা মহামারির সময়ে কমেছিল, আবারও এখন শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশি চিকিৎসক যে কেউ আলাপ- আলোচনা, সভা-সেমিনারে অতিথি হিসেবে আসতে পারে। কিন্তু যখনই চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে তথা পরামর্শ, ব্যবস্থাপত্র দিতে চাইবেন তখনই তাদের বিএমডিসির অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু দেশের কিছু সংস্থা তাদেরকে অতিথি হিসেবে আনার কথা বলে চিকিৎসা দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। আবার দেখা যায়, অনুষ্ঠান করে রোগীদের প্রলুব্ধ করে দেশের বাইরে নিয়ে যায়। আসলে চিকিৎসা নয়, তাদের উদ্দেশ্য ব্যবসা।’

ভিশন বাংলা ২৪

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


ভারতীয় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় বিএমডিসির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৩

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ বিজ্ঞাপন দিয়ে বাংলাদেশে এসে রোগী দেখার অভিযোগে ভারতীয় এক চিকিৎসকের বিষয়ে বনানী থানায় অভিযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। ভারতীয় ওই চিকিৎসকের নাম রীনা গুপ্ত। বিজ্ঞাপনে তিনি নিজেকে ফার্টিলিটি (বন্ধ্যাত্ব) বিশেষজ্ঞ হিসেবে দাবি করেছেন।

বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রটি গত ৫ মার্চ বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর দায়ের করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগৃহীত বিজ্ঞপ্তি (ফটোকপি সংযুক্ত) ভারতীয় চিকিৎসক রীনা গুপ্ত (ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ, বেবি সাইন্স, নিউ দিল্লি) আজ বনানীর বিটিআই আর্মিটেজের (হাউজ-৭৭, রোড-১২) ঠিকানায় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেবেন। তবে, উল্লেখিত বিদেশি চিকিৎসক বিএমডিসি থেকে রেজিষ্ট্রেশনপ্রাপ্ত নয়, যেকারণে চিকিৎসা কার্য পরিচালনা ও ভিডিও কলের মাধ্যমে পরামর্শ প্রদান করলে তা হবে আইনের পরিপন্থি। এই বিষয়ে অনতিবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, বিএমডিসির ২০১০ সালের ৬১ নম্বর আইনে আছে- ২২। নিবন্ধন ব্যতীত এলোপ্যাথি চিকিৎসা নিষিদ্ধ - (১) অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন নিবন্ধন ব্যতীত, কোনো মেডিকেল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক এলোপ্যাথি চিকিৎসা করতে, অথবা নিজেকে মেডিকেল চিকিৎসক বা ক্ষেত্রমত, ডেন্টাল চিকিৎসক বলে পরিচয় প্রদান করতে পারবেন না । (২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করলে উক্ত লঙ্ঘন হবে একটি অপরাধ, এবং তার জন্য তিনি ৩ বছর কারাদণ্ড অথবা ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএমডিসির রেজিস্ট্রার লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় একজন চিকিৎসক কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। বিষয়টি আমাদের নজরে আসলে যা করার সেটি করেছি। এটি আমাদের নিয়মিত কাজ।’

তিনি বলেন, ‘ভিনদেশি কেউ বাংলাদেশে চিকিৎসা দিতে চাইলে বা যারা আনতে চান তাদেরকে সমস্ত কাগজপত্রসহ বিএমডিসিতে আবেদন করতে হবে। তারপর আমরা সাময়িক একটি অনুমোদনপত্র দিয়ে থাকি। কিন্তু ভারতীয় এই চিকিৎসকের ব্যাপারে আমাদের কাছে এমন কিছু তথ্য ছিল না। পরে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি যারা তাকে এনেছেন তাদের কাছে একইসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে পাঠানো হয়েছে। সে অনুযায়ী বনানী থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।’

লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘শুধু এটি নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা শহরে ভারতীয় চিকিৎসকদের আনার ঢল নেমেছে। মাঝখানে করোনা মহামারির সময়ে কমেছিল, আবারও এখন শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশি চিকিৎসক যে কেউ আলাপ- আলোচনা, সভা-সেমিনারে অতিথি হিসেবে আসতে পারে। কিন্তু যখনই চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে তথা পরামর্শ, ব্যবস্থাপত্র দিতে চাইবেন তখনই তাদের বিএমডিসির অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু দেশের কিছু সংস্থা তাদেরকে অতিথি হিসেবে আনার কথা বলে চিকিৎসা দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। আবার দেখা যায়, অনুষ্ঠান করে রোগীদের প্রলুব্ধ করে দেশের বাইরে নিয়ে যায়। আসলে চিকিৎসা নয়, তাদের উদ্দেশ্য ব্যবসা।’


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত