রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মা হারা, এতিম অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থী মতিউরের স্বপ্ন– ডাক্তার হতে চাই দেবিদ্বারে ঈদের ছুটিতে ও থেমে নেই পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম হিন্দু-মুসলিম কোনো ভেদাভেদ নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তারাবাড়িয়া ও বিলমহিষা গ্রামবাসীর উদ্যোগে আধুনিক সভ্যতার আড়ালে হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে লাঠি বাড়ি খেলা অনুষ্ঠিত অটো থেকে নামিয়ে জিম্মি, ৫০ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনতাই—জলঢাকায় শামীম ইসলামের অভিযোগে চাঞ্চল্য কেরানীগঞ্জে ‘আল্লাহ দান’ রিক্সার গ্যারেজে অবাধ জুয়া, এলাকাবাসীর ক্ষোভ বাগমারায় গোবিন্দপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের ঈদ উপহার বিতরণ নতুন উচ্চতায় প্রবেশ করছে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক : ড. ইউনূস গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত উদ্দিপ্ত তরুন সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ
অটো থেকে নামিয়ে জিম্মি, ৫০ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনতাই—জলঢাকায় শামীম ইসলামের অভিযোগে চাঞ্চল্য

অটো থেকে নামিয়ে জিম্মি, ৫০ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনতাই—জলঢাকায় শামীম ইসলামের অভিযোগে চাঞ্চল্য

নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় অটো থেকে নামিয়ে কৌশলে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একজন ব্যক্তিকে জিম্মি করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর নাম মো: শামীম ইসলাম। তিনি সদর উপজেলার লক্ষীচাপ (খামাতপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ডিমলায় আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শামীম ইসলাম অটোতে করে রওনা হন। পথিমধ্যে ধর্মপাল হাজিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে তার পূর্ব পরিচিত শাওন নামের এক যুবক তাকে পথরোধ করে কথা আছে বলে অটো থেকে নামিয়ে নেয়। এরপর শাওনের কথামতো তিনি অটো থেকে নামলে শাওন তাকে কৌশলে অভিযুক্ত লিটনের বাড়িতে নিয়ে যান।

লিটনের বাড়িতে পৌঁছানোর পরপরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত লিটন তাকে জিম্মি করে রাখেন এবং তার কাছে থাকা Vivo Y13 মডেলের একটি স্মার্টফোন এবং নগদ ৫০,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেন। যে টাকাটা তার বোন জামাই জোবায়ের আহম্মেদ কে দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলো। জোবায়ের হোসেনের কাছে সে এই টাকা ধার নিয়েছিলো বাড়ি করার সময়। এ সময় লিটন দাবি করেন, শামীমের প্রতিবেশী শাহীনুর ও রাকিবের কাছ থেকে টাকা পাওনা রয়েছে এবং তাদের হাজির না করলে টাকা ও মোবাইল ফেরত দেওয়া হবে না। অথচ অভিযোগকারী শামীম জানান, শাহীনুর ও রাকিব তার ভাই বা আত্মীয় নন, কেবল প্রতিবেশী মাত্র।

জিম্মি অবস্থায় হুমকি-ধমকির মধ্যে দিয়ে সময় পার হওয়ার পর অভিযুক্তরা শামীমকে ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি তার বোনজামাই মো: জোবায়ের হোসেনকে জানিয়ে বলেন- আপনার জন্য নিয়ে আসা ৫০০০০ টাকা লিটন ছিনিয়ে নেওয়ার ফলে এই মুহুর্তে আজকে আপনার পাওয়া টাকাটা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে নাএবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সমাধান না হওয়ায় ৪ এপ্রিল শামীম ইসলাম লিখিত অভিযোগ দেন মীরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামীম ইসলাম বলেন, “আমি বুঝতেই পারিনি এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ। শাওন আমাকে অটো থেকে নামিয়ে কৌশলে লিটনের বাড়িতে নিয়ে যায়, এরপর তারা যা করল, তাতে আমি আতঙ্কিত। ওরা আমাকে ভয় দেখিয়েছে, বলেছে যদি কথামতো না করি তাহলে কোনো কিছুই ফেরত পাব না।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত লিটন ও শাওনের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়ম ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে, তবে কেউ সরাসরি থানায় অভিযোগ জানাতে সাহস পাননি। এবারের ঘটনায় এলাকার মানুষ বেশ চাঞ্চল্য ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার মীরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এস আই সুবোধ রায় বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের ঘটনাগুলি সাধারণত পূর্বপরিকল্পিত হয়ে থাকে। তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

নীলফামারী জেলার একাধিক মানবাধিকারকর্মীও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন, যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।

নীলফামারী জেলা আইনজীবী সমিতির আইনজীবী রেয়াজুল ইসলাম রিপন বলেন, “এই ঘটনায় আইনের ধারা অনুযায়ী অপহরণ, জিম্মি করে অর্থ ছিনতাই এবং হুমকি প্রদান—সবগুলোই দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগী মামলা করলে পুলিশ বাধ্য আইনগত পদক্ষেপ নিতে।”

অভিযোগকারী শামীম ইসলাম এখনো ঘটনার মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি আইনের প্রতি আস্থা রেখেই অভিযোগ করেছি। আমি চাই ন্যায়বিচার। আমার কষ্টার্জিত টাকা আর মোবাইল ফেরত চাই, আর যারা আমার সঙ্গে এমন করেছে তাদের বিচার চাই।”

ঘটনার পর এলাকা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, “এখন রাস্তায় বের হলেই ভয়। পূর্বপরিচিত কেউ বললেও সাবধান হওয়া দরকার।”

এদিকে পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তদের নাম ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণের পাশাপাশি প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চলছে বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ নাগরিকদের জন্য একটি বার্তা পরিষ্কার হয়ে উঠেছে—সতর্কতা, সচেতনতা ও সাহসের মাধ্যমে অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। শামীম ইসলামের মতো অনেকেই হয়তো ভয় বা সামাজিক চাপের কারণে মুখ খুলতে পারেন না, কিন্তু আইনের আশ্রয় গ্রহণ করলেই অপরাধীদের বিচার সম্ভব।

এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত ও কতটা সঠিকভাবে তদন্ত শেষ করে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং শামীম ইসলাম তার ন্যায়বিচার পান।

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2011 VisionBangla24.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com