ঢাকা    মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

অর্থ সংকটে আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং: কি আছে বিনিয়োগকারীদের ভাগ্যে?



অর্থ সংকটে আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং: কি আছে বিনিয়োগকারীদের ভাগ্যে?
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভালো নেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড।  ২০২৪ সালে সর্বনিম্ন মুনাফা করে কোম্পানিটি।  যায় ফলে শেয়ার হোল্ডারদের জন্য মাত্র ২ শতাংশ কম ডিভিডেন্ড ঘোষনা করে।  এছাড়াও আলিফের নগদ অর্থের পরিমান মাত্র ২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।  এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে ডিভিডেন্ডতো দূরের কথা উল্টো অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে আংশকা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।  কেন, কি কারণে ও কার অযোগ্যতায় এতো বড় একটি প্রতিষ্ঠানের অধ:পতন- সেই প্রশ্ন তুলছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে কমেছে আলিফের নগদ অর্থের পরিমাণ, অন্যদিকে বাড়ছে পাওনা। আবার বছরের ব্যবধানে টার্নওভার কমলেও খরচ, মজুরি এবং ওভারও টাইমে প্রভাব পড়েছে।  কম মুনাফা আর প্রায় শূন্যের কোঠায় ডিভিডেন্ড দেয়া, আলিফের যোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করছে।  আর এভাবে চলতে থাকলে কি আছে বিনিয়োগকারীদের ভাগ্যে- তা ভাবতে হবে। আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের তথ্য মতে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই ২৪-মার্চ ২৫) ট্রেড রিসিভেবল (গ্রাহকের কাছে পাওনা টাকা) এসে দাঁড়িয়েছে ১৪১ কোটি ২৩ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১১০ কোটি ৫৬ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫০ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে গ্রাহকের কাছে আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা পাওনা টাকা বেড়েছে। এদিকে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ক্যাশ অ্যান্ড ক্যাশ ইকুইভ্যালেন্ট (নগদ অর্থের পরিমাণ) এসে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৯০ টাকা। এর আগের বছরের একই সময় যা ছিল ৭৫ কোটি ৫৫ লাখ ২৪ হাজার ২২ টাকা। বছরের ব্যবধানে আনুমানিক ৭৩ কোটি টাকা কমে যাওয়ার কোন সদুত্তর দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। অথচ শ্রমিকদের মজুরি ও ওভারটাইম চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এসে দাঁড়িয়েছে ৪৭ লাখ ৩৬৭ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৩০ টাকা। বছরের ব্যবধানে আনুমানিক ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বেড়েছে। আর চলতি বছরে টার্নওভার হয়েছে ৯৬ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১২১ কোটি ৬ লাখ ৩৩ হাজার ২২ টাকা। বছরের ব্যবধানে টার্নওভার কমেছে আনুমানিক ২৫ কোটি টাকার মতো কমেছে। টার্নওভার কমলেও মজুরি এবং ওভার টাইম বেড়েছে।  টার্নওভার কমলেও মজুরি এবং ওভার টাইম- তাহলে কেন বাড়লো, এই প্রশ্নের উত্তর মিলেনি। এছাড়াও চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপেনসেস হয়েছে ৯৬ লাখ ২১ হাজার ৫০৯ টাকা। এর আগের বছরের একই সময় যা ছিল ৪৪ লাখ ৩২ হাজার ৫৪৩ টাকা। বছরের ব্যবধানে ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপেন্স ৫০ লাখ টাকার বেশি করেছে আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং। শুধু তাই নয়, তালিকাভুক্ত এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে সর্বনিম্ন মুনাফা অর্জন করে। ফলে গ্রাহকদের জন্য ২ শতাংশের কম ডিভিডেন্ড ঘোষনা দেয় আলিফ কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের সিইও নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘‘আমি এখন ব্যস্ত আছি, কোম্পানী সেক্রেটারী এসব বিষয়ে ভালো জানেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দিক নিয়ে কথা বলবেন।’’ কোম্পানী সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি আলিফে খন্ডকালীন দায়িত্ব পালন করছি। মাঝে মাঝে কিছু কাজ থাকে, প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীক অবস্থান নিয়ে আমার কোন কিছু জানা নেই।  সবকিছু সিএফও জানেন। সিএফও হানিফকে ফোন করা হলে তিনি অফিস টাইমে জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।  হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠালেও উত্তর মিলেনি। তথ্যসূত্র: অর্থবাংলা.কম

ভিশন বাংলা ২৪

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬


অর্থ সংকটে আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং: কি আছে বিনিয়োগকারীদের ভাগ্যে?

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৫

featured Image
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভালো নেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড।  ২০২৪ সালে সর্বনিম্ন মুনাফা করে কোম্পানিটি।  যায় ফলে শেয়ার হোল্ডারদের জন্য মাত্র ২ শতাংশ কম ডিভিডেন্ড ঘোষনা করে।  এছাড়াও আলিফের নগদ অর্থের পরিমান মাত্র ২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।  এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে ডিভিডেন্ডতো দূরের কথা উল্টো অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে আংশকা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।  কেন, কি কারণে ও কার অযোগ্যতায় এতো বড় একটি প্রতিষ্ঠানের অধ:পতন- সেই প্রশ্ন তুলছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে কমেছে আলিফের নগদ অর্থের পরিমাণ, অন্যদিকে বাড়ছে পাওনা। আবার বছরের ব্যবধানে টার্নওভার কমলেও খরচ, মজুরি এবং ওভারও টাইমে প্রভাব পড়েছে।  কম মুনাফা আর প্রায় শূন্যের কোঠায় ডিভিডেন্ড দেয়া, আলিফের যোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করছে।  আর এভাবে চলতে থাকলে কি আছে বিনিয়োগকারীদের ভাগ্যে- তা ভাবতে হবে। আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের তথ্য মতে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই ২৪-মার্চ ২৫) ট্রেড রিসিভেবল (গ্রাহকের কাছে পাওনা টাকা) এসে দাঁড়িয়েছে ১৪১ কোটি ২৩ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১১০ কোটি ৫৬ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫০ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে গ্রাহকের কাছে আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা পাওনা টাকা বেড়েছে। এদিকে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ক্যাশ অ্যান্ড ক্যাশ ইকুইভ্যালেন্ট (নগদ অর্থের পরিমাণ) এসে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৯০ টাকা। এর আগের বছরের একই সময় যা ছিল ৭৫ কোটি ৫৫ লাখ ২৪ হাজার ২২ টাকা। বছরের ব্যবধানে আনুমানিক ৭৩ কোটি টাকা কমে যাওয়ার কোন সদুত্তর দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। অথচ শ্রমিকদের মজুরি ও ওভারটাইম চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এসে দাঁড়িয়েছে ৪৭ লাখ ৩৬৭ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৩০ টাকা। বছরের ব্যবধানে আনুমানিক ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বেড়েছে। আর চলতি বছরে টার্নওভার হয়েছে ৯৬ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১২১ কোটি ৬ লাখ ৩৩ হাজার ২২ টাকা। বছরের ব্যবধানে টার্নওভার কমেছে আনুমানিক ২৫ কোটি টাকার মতো কমেছে। টার্নওভার কমলেও মজুরি এবং ওভার টাইম বেড়েছে।  টার্নওভার কমলেও মজুরি এবং ওভার টাইম- তাহলে কেন বাড়লো, এই প্রশ্নের উত্তর মিলেনি। এছাড়াও চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপেনসেস হয়েছে ৯৬ লাখ ২১ হাজার ৫০৯ টাকা। এর আগের বছরের একই সময় যা ছিল ৪৪ লাখ ৩২ হাজার ৫৪৩ টাকা। বছরের ব্যবধানে ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপেন্স ৫০ লাখ টাকার বেশি করেছে আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং। শুধু তাই নয়, তালিকাভুক্ত এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে সর্বনিম্ন মুনাফা অর্জন করে। ফলে গ্রাহকদের জন্য ২ শতাংশের কম ডিভিডেন্ড ঘোষনা দেয় আলিফ কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের সিইও নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘‘আমি এখন ব্যস্ত আছি, কোম্পানী সেক্রেটারী এসব বিষয়ে ভালো জানেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দিক নিয়ে কথা বলবেন।’’ কোম্পানী সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি আলিফে খন্ডকালীন দায়িত্ব পালন করছি। মাঝে মাঝে কিছু কাজ থাকে, প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীক অবস্থান নিয়ে আমার কোন কিছু জানা নেই।  সবকিছু সিএফও জানেন। সিএফও হানিফকে ফোন করা হলে তিনি অফিস টাইমে জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।  হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠালেও উত্তর মিলেনি। তথ্যসূত্র: অর্থবাংলা.কম

ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত