আদালতে সাজা পেয়েও শুধরাননি সমীর
ভেলানগরে মাদকের প্রকাশ্য সিন্ডিকেট, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
নরসিংদী সদর উপজেলার ভেলানগর এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি ও মাদকসেবী মো. সমীর মিয়ার (৪০) মাদকের প্রকাশ্য সিন্ডিকেট ও চরম ঔদ্ধত্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আদালতের মাধ্যমে সাজা পাওয়ার পরও জামিনে বা কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে পুনরায় বীরদর্পে মাদক ব্যবসা ও সেবন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার এই প্রকাশ্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে জনমনে।
স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভেলানগর এলাকার মৃত মো. শব্দর আলীর ছেলে মো. সমীর মিয়া দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে জানান, সমীর মিয়া এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা এবং সেবন করেন। এলাকার কোনো সচেতন নাগরিক তার এই অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গেলে বা বাধা দিলে, তাদেরকে প্রকাশ্য দিবালোকে গালিগালাজ, চরম দুর্ব্যবহার এবং নানা ধরনের হুমকি-ধমকি প্রদান করা হয়। তার এই উগ্র আচরণের ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পান না।
সরকারি নথি ও আদালতের দণ্ডাদেশের তথ্য সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC) নরসিংদীর পরিদর্শক শাহিদা বেগমের দায়ের করা প্রসিকিউশন ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সম্প্রতি গত ১৯/০৫/২০২৬ তারিখে নরসিংদী সদর এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্ট/আদালতের মাধ্যমে সমীর মিয়াকে হাতেনাতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কারাদণ্ড এবং নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করেন। কিন্তু কারাগার থেকে বের হয়ে এসে তিনি আবারো পুরোনো ভেলানগর এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এবং পুনরায় মাদকের রাজত্ব চালাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, এলাকার তরুণ ও যুবসমাজকে এই মাদকের মরণছোবল থেকে রক্ষা করতে এবং ভেলানগরে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই চিহ্নিত অপরাধীর স্থায়ী আইনি প্রতিকার প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা মো. সমীর মিয়াকে পুনরায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য নরসিংদী জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।