সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ছাত্র বা সন্তানের বয়সি কর্মকর্তারাও ‘স্যার’ সম্বোধন শুনতে চান নরসিংদী জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত পঙ্গু হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার নামে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মোড়ক উন্মোচন ও পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ শেষে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করল এনসিপি বৈষম্য ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশের পথে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন: প্রধান উপদেষ্টা নরসিংদীর বেলাবোতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, ভাঙচুর-আগুন জুয়ার আসরে অভিযান, ১২ জুয়ারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বাবা–মায়ের সঙ্গে অভিমানে সিংড়ায় যুবকের মর্মান্তিক আত্মহত্যা কুড়িগ্রামে এলপিজি গ্যাসের দাম দ্বিগুণ: তবু মিলছে না গ্যাস রাণীশংকৈলে জাল দলিল চক্রের এক সদস্য আটক

পদ্মা ব্যাংকে আটকে আছে ন্যাশনাল টি কোম্পানির ১৯ কোটি টাকা

ভিশন বাংলা ২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:


পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড তার প্লেসমেন্ট শেয়ারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা ১৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। এই অর্থ পদ্মা ব্যাংকের গুলশান কর্পোরেট শাখায় জমা থাকলেও, ব্যাংকটি এখনও তা পুরোপুরি ফেরত দেয়নি।

বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়ে একটি চিঠি দিয়েছে। বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ন্যাশনাল টি কোম্পানির পক্ষ থেকে ২০ আগস্ট কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সহযোগিতা চাওয়া হয়।

প্লেসমেন্টের অর্থ আটকে

ন্যাশনাল টি কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে মোট ২৭৯ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহের পরিকল্পনায় প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যু করে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই প্লেসমেন্টের প্রথম ধাপ শেষ হয় এবং বিনিয়োগকারীরা পদ্মা ব্যাংকের গুলশান শাখায় ৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা জমা দেন।

তবে, ব্যাংকটি এর মধ্যে মাত্র ২৫ কোটি টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করে, এবং বাকি ১৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা এখনও ফেরত দেয়নি। এই অর্থ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল টি কোম্পানি পূর্বে নির্দেশিত পুবালী ব্যাংকে স্থানান্তরের অনুরোধ জানালেও পদ্মা ব্যাংক তা বাস্তবায়ন করেনি।

পদ্মা ব্যাংকের সাফাই

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. তালহা বিষয়টি স্বীকার করে জানান, বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক গুরুতর তারল্য সংকটে রয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা কিছু টাকা ফেরত দিয়েছি, বাকিটা ধাপে ধাপে দেওয়ার কথা থাকলেও তারল্য ঘাটতির কারণে তা সম্ভব হয়নি।”

তিনি আরও জানান, ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে জমাকৃত অর্থ ব্যয় হয়েছে তারল্য সংকট সামাল দিতে, যার ফলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আটকে গেছে।

খেলাপি ঋণ এবং আর্থিক দুরাবস্থা

২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫,১০৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯০.৫৫ শতাংশ। ব্যাংকের সমন্বিত লোকসান দাঁড়িয়েছে ৫,৩৪৯ কোটি টাকা। এই পরিসংখ্যান ব্যাংকটির আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে, ব্যাংকটিতে এখনও ৪৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার আমানত রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের একক আমানত প্রায় ৮৯৯ কোটি টাকা

সরকারের নির্দেশনা

সরকারি আমানত রক্ষায় অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যাংককে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে বাস্তবে ব্যাংকের পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠেছে। ব্যাংকে নতুন আমানত না আসার পাশাপাশি বিদ্যমান গ্রাহকরাও বড় অঙ্কের অর্থ তুলে নিচ্ছেন। ব্যাংকটির বিভিন্ন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে ব্যাংক ঋণ আদায়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল

দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি

ন্যাশনাল টি কোম্পানি জানিয়েছে, আটকে থাকা অর্থ না পাওয়ায় তারা ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য আর্থিক দায় পরিশোধে সমস্যায় পড়েছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে দ্রুত অর্থ ফেরতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের অর্থের নিরাপত্তা এবং পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি’র তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2011-2025 VisionBangla24.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com