নীলফামারী সদর উপজেলার চওড়া ইউনিয়নের দলুয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডে এক সন্তানের জননী সুমাইয়া আক্তারের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনা এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর চার দিনের চিকিৎসা শেষে ভিক্টিমের পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে নির্যাতনের সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে।
মাছ চুরির অভিযোগ তুলে হামলা
ঘটনার দিন ১১ নভেম্বর দুপুরে সুমাইয়া বেগম নিজের ধানক্ষেত পরিদর্শনে গেলে তার দূর সম্পর্কের চাচা জাহাঙ্গীর আলম তাকে মাছ চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। অভিযোগকে কেন্দ্রে করে দু’জনের মধ্যে তর্ক শুরু হলে জাহাঙ্গীর আলম ক্ষিপ্ত হয়ে সুমাইয়ার ওপর হামলা চালান। মারধরের ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত হয়ে পড়ে যান।
স্থানীয় লোকজন, ভিক্টিমের বাবা আজিজুল ইসলাম ও মা রাশিদা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমাইয়াকে উদ্ধার করে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে জানা যায় ।সেখানে চার দিন চিকিৎসা শেষে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
থানায় অভিযোগ, পুলিশের তদন্তে নির্যাতনের সত্যতা
চিকিৎসা শেষে সুমাইয়ার পরিবার নীলফামারী সদর থানায় অভিযোগ দিলে এসআই আব্দুল মালেক ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব পান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, “শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ আমরা পেয়েছি। সুমাইয়ার শরীরের আঘাত এবং চিকিৎসা নথিতে ঘটনার সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে।”
তদন্তের অংশ হিসেবে বাদী আজিজুল ইসলাম, ভিক্টিম সুমাইয়া এবং তার মা রাশিদাকে থানায় ডাকা হলে তারা উপস্থিত হন, তবে বিবাদী পক্ষ হাজির হয়নি। এসআই মালেক মোবাইল ফোনে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তারা বুধবার থানায় আসতে পারবেন।
এসআই মালেক বলেন, “ বুধবার বিবাদী পক্ষ আসুক আর না আসুক উভয় পক্ষের জবানবন্দি ও চিকিৎসা-প্রতিবেদনসহ সম্পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন ওসি স্যারের কাছে পাঠানো হবে। পরবর্তী ব্যবস্থা ওসি স্যার গ্রহণ করবেন।”
ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি: বৈঠকে দোষ স্বীকার করেছিলেন বিবাদী
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে চওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের (বিটু) জানান, বিষয়টি আপোষ-মীমাংসার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হয়েছিল। বৈঠকে জাহাঙ্গীর আলম দোষ স্বীকার করেন এবং স্থানীয় গণ্যমান্যরা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪ হাজার ৫০০ টাকা বিবাদীর কাছ থেকে নিয়ে বাদীকে দিয়ে আপোষ করার প্রস্তাব দেন।
তবে ভিক্টিমের পরিবার এভাবে আপোষ করতে রাজি হয় নাই।
আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিবাদী স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের পরিবার নানা ধরনের হুমকি ও চাপের মুখে রয়েছে।
আইনী সহায়তার আশ্বাস
আইনজীবী এজাজুল ইসলাম রিপন এ ঘটনাকে “গুরুতর শারীরিক নির্যাতন” আখ্যা দিয়ে বলেন, “বিবাদী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, আইনের চোখে সবাই সমান। সুমাইয়ার ওপর হামলার স্পষ্ট প্রমাণ থাকলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুলিশ তদন্ত সঠিকভাবে পরিচালনা করবে এবং ভিক্টিম পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।
উপসংহার
চওড়া ইউনিয়নের এই ঘটনা নারী নিরাপত্তা ও বিচারপ্রাপ্তির প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে বিষয়টি নীলফামারী সদর থানায় তদন্তাধীন। বুধবার বিবাদী থানায় হাজির হলে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ভিক্টিম পরিবার একটাই দাবি জানিয়েছে—
“আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই।”