নরসিংদী জেলার সার্বিক ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন নরসিংদীর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী ইয়াসিন হাবীব। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ হুমায়ুন কবীর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেলাল হোসেন। ফৌজদারি মামলায় পরোয়ানা তামিল ও তদন্ত কার্যক্রমে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেশকাতুল ইসলাম। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির সর্বশেষ সংশোধনী বিষয়ে পৃথক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন।
কনফারেন্সে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমস অ্যান্ড অপারেশনস), সিনিয়র সিভিল জজ (সদর), বিভিন্ন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার, নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পাবলিক প্রসিকিউটর, র্যাব-১১ সিপিএসসির কমান্ডার, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, জেল সুপার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, প্রবেশন অফিসার, কোর্ট ইন্সপেক্টর, ডিবি পুলিশের ওসি এবং নরসিংদী জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কনফারেন্সে নরসিংদী জেলার ফৌজদারি বিচারিক ব্যবস্থার সার্বিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সেসব সমস্যার সমাধানের উপায় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। সঠিক সময়ে মেডিকেল সার্টিফিকেট ও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, সাক্ষীদের যথাযথভাবে সমন প্রদান ও তা কার্যকরভাবে জারির মাধ্যমে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ হুমায়ুন কবীর বলেন, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সকল অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী ইয়াসিন হাবীব ফৌজদারি মামলা দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আদালত কর্তৃক ইস্যুকৃত পরোয়ানা সঠিকভাবে তামিলের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল, আদালতে সাক্ষী হাজিরা নিশ্চিত করা এবং আদালত প্রাঙ্গনে বিচারপ্রার্থী জনগণ ও বিচারকদের নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। সভা শেষে সভাপতি সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।