রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি ফালু মিয়া:
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চরমান্দালীয়া ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামের প্রবাসী উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম—শূন্য হাতে বিদেশ পাড়ি জমিয়ে দীর্ঘ ২০ বছরের নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজ কোটিপতি ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গড়ে তুলেছেন ফ্ল্যাট ভাড়া ভিত্তিক সফল ব্যবসা, যেখানে তার অধীনে কর্মরত রয়েছেন বহু বাংলাদেশি।
অভাব আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার পেরিয়ে গড়ে ওঠা এই সফলতার গল্প আজ অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করেই ধাপে ধাপে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। নিজের সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সাইফুল ইসলাম বলেন,
“একসময় আমার কিছুই ছিল না। অনেক কষ্ট করেছি, সংগ্রাম করেছি। আজ আলহামদুলিল্লাহ—আল্লাহ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছেন।”
বর্তমানে তার ব্যবসার মাধ্যমে প্রবাসে বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন তিনি।
তিনি বলেন,
“আমি সবসময় বৈধ পথে টাকা দেশে পাঠাই। এতে সরকার উপকৃত হয়, দেশের উন্নয়ন হয়—এটাই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।”
তবে সাফল্যের এই পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। নানা বাধা, প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।
তার ভাষায়,
“ভালো মানুষের শত্রুর অভাব নাই। কিছু দুষ্কৃতকারী সবসময় ভালো কাজের পথে বাধা দেয়। তারপরও আমি থেমে থাকিনি।”
শুধু ব্যবসায়িক সফলতা নয়, মানবিকতার জায়গাতেও তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের দায়িত্ব মনে করেন এই প্রবাসী উদ্যোক্তা।
তিনি বলেন,
“আমি চেষ্টা করি, কোনো অসহায় মানুষ যেন আমার কাছ থেকে নিরাশ হয়ে ফিরে না যায়।”
নিজের জীবনদর্শন তুলে ধরে তিনি আরও বলেন,
“যদি আমার মৃত্যু হয়, তারপরও আমি ভালো কাজ করে যেতে চাই—ইনশাআল্লাহ। আমি চাই আমার কাজের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন হোক, গরিব-দুঃখী মানুষ সুন্দরভাবে জীবনযাপন করুক।”
তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি দিয়েছেন বাস্তবধর্মী বার্তা। প্রবাসে সফল হতে হলে দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন,
“যে সকল যুবক বিদেশে যেতে চাও, অবশ্যই আগে কোনো কাজ শিখে নাও। তাহলে ইনশাআল্লাহ তোমরাও ভালো কিছু করতে পারবে।”
দেশের উন্নয়ন নিয়েও রয়েছে তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। তিনি জানান, ভবিষ্যতে রাস্তার পাশে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে চান। পাশাপাশি খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন,
“আগে খাল-বিল থেকে মাছ ধরতাম। এখন অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে। খাল খনন হলে আবার মাছের ঘাটতি কমবে—ইনশাআল্লাহ।”
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিও তার মতো প্রবাসী ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা তার ব্যবসায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন,
“ইরান-আমেরিকার মধ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এতে আমাদের মতো প্রবাসীদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ব্যবসা আগের মতো চলছে না, অনেক ফ্ল্যাট বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এই অবস্থায় খুব কষ্ট করে টিকে থাকতে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন,
“যুদ্ধ বা অস্থিরতা শুধু একটি দেশের ক্ষতি করে না—এর প্রভাব পড়ে বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে প্রবাসীদের জীবনে। আমরা শান্তি চাই, স্থিতিশীলতা চাই, যেন আবার স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারি।”
স্থানীয়দের মতে, প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের জন্য তার অবদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবিক কর্মকাণ্ড তাকে এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তার সংগ্রাম, সফলতা ও মানবিকতা আজকের যুব সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।