সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
ফালু মিয়া, বিশেষ প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে নরসিংদীর অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র ড্রিম হলিডে পার্ক। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু দর্শনার্থীর পদচারণায় যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো পার্ক এলাকা।
নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা চৈতাব এলাকায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক মানের এই বিনোদন কেন্দ্রটি রাজধানী থেকে মাত্র ৪২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় সহজেই ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পার্কটিকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জা ও নতুন নতুন আকর্ষণীয় রাইডে।
এবারের ঈদে নতুন সংযোজন হিসেবে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে “হেলিকপ্টার রেসকিউ” রাইড, কৃত্রিম নদী ও পাহাড়বেষ্টিত “ড্রিম সাফারি পার্ক”। এছাড়াও ড্রিম আই, ডাইনোসর অ্যাটাক, সুইং কারসহ বিভিন্ন আধুনিক রাইডে চড়ে আনন্দ উপভোগ করছেন শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ।
পার্কের এক কিলোমিটার দীর্ঘ কৃত্রিম নদী, বনমানুষের দ্বীপ, কেবল কার, স্কাই ট্রেন, রোলার কোস্টার, এয়ার বাইসাইকেল, ডেমু ট্রেনসহ নানা আয়োজন দর্শনার্থীদের জন্য ভিন্ন মাত্রার বিনোদন এনে দিয়েছে। বিশেষ করে ওয়াটার পার্কে গানের তালে তালে পানির ঢেউয়ে নেচে-গেয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠছেন তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোররা। পুরনো আকর্ষণ “ভূতের বাড়ি” ঘিরেও আগ্রহের কমতি নেই।
আধুনিক কটেজ ও উন্নতমানের রেস্টুরেন্ট সুবিধা থাকায় অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনভর সময় কাটাচ্ছেন এই পার্কে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের আগরতলা থেকে আগত পর্যটকদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।
সিলেট থেকে আগত দর্শনার্থী সুজন বলেন, “ব্যস্ততার কারণে সারা বছর কোথাও যাওয়া হয় না। ঈদ উপলক্ষে এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। পরিবেশটা সত্যিই মনোরম—প্রতিটি রাইড উপভোগ করেছি, বিশেষ করে ভূতের বাড়ি ও সুইমিং পুল।”
পার্কের ব্যবস্থাপক প্রবীর কুমার সাহা জানান, “ঈদকে সামনে রেখে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী আসছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, পার্কটিতে ওয়াটার পার্ক, স্কাই ট্রেন, বুলেট ট্রেন, স্পিডবোট, রোলার কোস্টারসহ প্রায় ২৬টির বেশি রাইড রয়েছে। দর্শনার্থীরা ৩৫০ টাকার টিকিটে পার্কে প্রবেশ করতে পারছেন। রাইডভেদে খরচ পড়ছে ৭০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকছে পার্কটি।
সব মিলিয়ে, নগর জীবনের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতি আর বিনোদনের মেলবন্ধনে ঈদের আনন্দ উদযাপনে নরসিংদীর এই পার্কটি হয়ে উঠেছে ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য।