ট্রাক দুর্ঘটনায় ৭ আহত, ক্ষুব্ধ জনতার হামলায় প্রাণ গেল চালকের
ফরিদপুর জেলায় সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একটি ট্রাকের ধাক্কায় অন্তত সাতজন আহত হওয়ার পর ক্ষুব্ধ জনতা ট্রাকচালককে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার বিকেলে জেলার একটি ব্যস্ত সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন পথচারী ও স্থানীয় লোকজনকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন আহত হয়ে পড়ে এবং চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং ট্রাকটিকে ঘিরে ফেলে। এ সময় চালক পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরে ফেলে উত্তেজিত জনতা। পরে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠায় এবং ট্রাকটি জব্দ করে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গণপিটুনির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ওই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া যানবাহন চলাচল করছে এবং যথাযথ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নিয়মিত নজরদারির দাবি জানান।
এ ধরনের ঘটনায় মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, দুর্ঘটনা যতই মর্মান্তিক হোক না কেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধের বিচার আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যায়। নিহত চালকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সার্বিকভাবে, এই ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একদিকে যেমন বেপরোয়া যানচালনা বন্ধ করতে হবে, অন্যদিকে জনসাধারণকে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।