ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

ইটাখোলা-সিলেট মহাসড়কে সিএনজি ভাড়ার চরম নৈরাজ্য

ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে চালক সিন্ডিকেট, দেখার কেউ নেই


ফালু মিয়া
ফালু মিয়া

ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে চালক সিন্ডিকেট, দেখার কেউ নেই

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর ইটাখোলা মোড় ও সংলগ্ন এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নৈরাজ্য চরম আকার ধারণ করেছে। চালকদের গড়ে তোলা শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন ঈদে ঘরমুখো সাধারণ মানুষ ও খেটে খাওয়া নিম্ন-মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীরা। মহাসড়কের এই রুটগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নামে চলছে প্রকাশ্য ‘পকেট কাটা’। প্রশাসনের কোনো নজরদারি না থাকায় চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

​স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি ভাড়া আদায়ের মহোৎসব

​সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইটাখোলা ও জেলখানা মোড় থেকে মনোহরদী যাতায়াতের স্বাভাবিক ভাড়া যেখানে জনপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা, সেখানে ঈদকে পুঁজি করে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা! অর্থাৎ, প্রতিটি যাত্রীর কাছ থেকে প্রতি ট্রিপে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

​একই চিত্র দেখা গেছে ইটাখোলা থেকে অন্যান্য লোকাল রুটগুলোতেও। মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের বাধ্য হয়েই এই আকাশচুম্বী ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে ফিরতে হচ্ছে।

​যাত্রীদের চোখে জল, ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব

​মনোহরদীগামী এক বেসরকারি চাকরিজীবী ক্ষোভ ও চোখের জল সংবরণ করে বলেন:

​"আমরা সারা মাস হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে সামান্য টাকা বেতন পাই। পরিবার নিয়ে একটু শান্তিতে ঈদ করতে বাড়ি ফিরছি। কিন্তু ইটাখোলা এসে দেখি সিএনজি চালকরা আমাদের ওপর জুলুম শুরু করেছে। যে ভাড়া ৭০ টাকা, তা চাচ্ছে ২০০ টাকা! আমাদের পকেট কাটার এই উৎসব দেখার যেন কেউ নেই।"

​আরেক নারী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সিন্ডিকেটের কারণে সিএনজি চালকরা কাউকেই তোয়াক্কা করছে না। প্রতিবাদ করলে উল্টো গাড়ি থেকে নেমে যেতে বলে। সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।"

​মোবাইল কোর্ট ও তদারকির দাবি

​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কোনো কার্যকর তদারকি নেই। যাত্রীদের অভিযোগ, যদি ইটাখোলা মোড় ও জেলখানা মোড়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হতো, তবে চালকরা এভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার সাহস পেত না।

​ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে গিয়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যেভাবে চালকদের সিন্ডিকেটের শিকার হচ্ছেন, তাতে আনন্দের চেয়ে মানুষের কপালেই চিন্তার ভাঁজ এবং চোখে জল বেশি দেখা যাচ্ছে।

​জনগণের প্রশ্ন: এই নৈরাজ্যের শেষ কোথায়?

​প্রতি বছর ঈদের সময় আসলেই পরিবহন খাতের এই চেনা নৈরাজ্য শুরু হয়। কিন্তু এবার ইটাখোলা-মনোহরদী রুটে সিএনজি চালকদের এই প্রকাশ্য জুলুম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—এই শোষণের শেষ কোথায়? ঈদুল আজহার এই আনন্দযাত্রায় সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এবং এই সিন্ডিকেট ভাঙতে অতি দ্রুত জেলা প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সর্বস্তরের জনগণ।

ভিশন বাংলা ২৪

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬


ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে চালক সিন্ডিকেট, দেখার কেউ নেই

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর ইটাখোলা মোড় ও সংলগ্ন এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নৈরাজ্য চরম আকার ধারণ করেছে। চালকদের গড়ে তোলা শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন ঈদে ঘরমুখো সাধারণ মানুষ ও খেটে খাওয়া নিম্ন-মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীরা। মহাসড়কের এই রুটগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নামে চলছে প্রকাশ্য ‘পকেট কাটা’। প্রশাসনের কোনো নজরদারি না থাকায় চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

​স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি ভাড়া আদায়ের মহোৎসব

​সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইটাখোলা ও জেলখানা মোড় থেকে মনোহরদী যাতায়াতের স্বাভাবিক ভাড়া যেখানে জনপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা, সেখানে ঈদকে পুঁজি করে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা! অর্থাৎ, প্রতিটি যাত্রীর কাছ থেকে প্রতি ট্রিপে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

​একই চিত্র দেখা গেছে ইটাখোলা থেকে অন্যান্য লোকাল রুটগুলোতেও। মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের বাধ্য হয়েই এই আকাশচুম্বী ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে ফিরতে হচ্ছে।

​যাত্রীদের চোখে জল, ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব

​মনোহরদীগামী এক বেসরকারি চাকরিজীবী ক্ষোভ ও চোখের জল সংবরণ করে বলেন:

​"আমরা সারা মাস হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে সামান্য টাকা বেতন পাই। পরিবার নিয়ে একটু শান্তিতে ঈদ করতে বাড়ি ফিরছি। কিন্তু ইটাখোলা এসে দেখি সিএনজি চালকরা আমাদের ওপর জুলুম শুরু করেছে। যে ভাড়া ৭০ টাকা, তা চাচ্ছে ২০০ টাকা! আমাদের পকেট কাটার এই উৎসব দেখার যেন কেউ নেই।"

​আরেক নারী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সিন্ডিকেটের কারণে সিএনজি চালকরা কাউকেই তোয়াক্কা করছে না। প্রতিবাদ করলে উল্টো গাড়ি থেকে নেমে যেতে বলে। সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।"

​মোবাইল কোর্ট ও তদারকির দাবি

​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কোনো কার্যকর তদারকি নেই। যাত্রীদের অভিযোগ, যদি ইটাখোলা মোড় ও জেলখানা মোড়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হতো, তবে চালকরা এভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার সাহস পেত না।

​ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে গিয়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যেভাবে চালকদের সিন্ডিকেটের শিকার হচ্ছেন, তাতে আনন্দের চেয়ে মানুষের কপালেই চিন্তার ভাঁজ এবং চোখে জল বেশি দেখা যাচ্ছে।

​জনগণের প্রশ্ন: এই নৈরাজ্যের শেষ কোথায়?

​প্রতি বছর ঈদের সময় আসলেই পরিবহন খাতের এই চেনা নৈরাজ্য শুরু হয়। কিন্তু এবার ইটাখোলা-মনোহরদী রুটে সিএনজি চালকদের এই প্রকাশ্য জুলুম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—এই শোষণের শেষ কোথায়? ঈদুল আজহার এই আনন্দযাত্রায় সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এবং এই সিন্ডিকেট ভাঙতে অতি দ্রুত জেলা প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সর্বস্তরের জনগণ।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত