অডিওতে অভিযোগকারী তুষার দাসের বিস্ফোরক দাবি
নরসিংদীতে মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নতুন মোড়
সম্প্রতি নরসিংদী জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক দীপক কুমার বর্মণ প্রিন্সের বিরুদ্ধে মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রকাশের পর ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও কল রেকর্ডে অভিযোগকারী হিসেবে পরিচিত তুষার দাস দাবি করেছেন, অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না এবং নরসিংদী প্রেসক্লাবে ডেকে নিয়ে তার কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মাখন দাস।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে এক পর্যায়ে তুষার দাসকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, দুই দিন আগে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মাখন দাস তাকে ফোন করে প্রেসক্লাবে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করানো হয় মামলার ভয় দেখিয়ে।
অডিওতে আরও শোনা যায়, তুষার দাস দাবি করেন, পরে তাকে জাতীয় পরিচয়পত্র আনতে বলা হয় এবং বলা হয় তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। তার দাবি, তাকে বলা হয়েছিল অভিযোগ করলে তিনি রক্ষা পাবেন। এরপর একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলা হলে তিনি না বুঝেই সেখানে স্বাক্ষর করেন।
অডিওতে অপর প্রান্তের কণ্ঠে অভিযোগ করা হয়, এই অভিযোগের কারণে দীপক কুমার বর্মণ প্রিন্সের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগপত্র কীভাবে তৈরি হলো, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
এদিকে দীপক কুমার বর্মণের সমর্থকদের দাবি, পুরো অভিযোগটি পূর্বপরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের ভাষ্য, অডিও রেকর্ডটি অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তবে এ বিষয়ে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মাখন দাসের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি প্রকাশের পর থেকেই নরসিংদীতে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নতুন এই অডিও প্রকাশের পর ঘটনাটির সত্যতা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।