শেরপুরের শ্রীবরর্দীতে স্বাস্থ্যকর্মীদের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন
শেরপুর জেলার শ্রীবরর্দী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত চিকিৎসক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীরা
হাসপাতালের এমন পরিস্থিতির প্রতিবাদে ৩১ অক্টোবর সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকসংলগ্ন সড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নিয়ে চিকিৎসক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে মানববন্ধন করেন। এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম মফিদুল ইসলাম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অমিয় জ্যোতি সাইফুল্লাহ, মেডিকেল অফিসার ডা. শরীফ মো. হাসানুজ্জামান সাব্বির,নার্সিং ইনচার্জ শারমিন আলম,মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. মাহবুবুল আলম শাহীন এবং উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. মনিরুজ্জামান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন স্থানীয় রেজাউল করিম ফাক্কুর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসক,নার্সসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছেন। শুধু অসাদাচরণই নয়, তাঁদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমেও।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন,শুক্রবার দুপুরে রেজাউল করিম ফাক্কুর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে আসার কথা বলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন এবং চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেন। এ ধরনের ঘটনায় হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সেবাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তাঁরা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানানো এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শ্রীবরদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁদের দাবি পূরণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তাঁরা।