ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

টেকনাফে ৩ কোটি টাকার কারেন্ট জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

টেকনাফে ৩ কোটি টাকার কারেন্ট জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস

কক্সবাজারের টেকনাফে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১০ লাখ ১০ হাজার ৮০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা। পরে জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এদিকে, বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন বোটঘাট ও মাছ ধরার নৌযানেও কারেন্ট জাল মজুত ও ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সেখানে অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টেকনাফ পৌরসভার লামার বাজারের বিভিন্ন দোকানে এ অভিযান চালানো হয়। পরে জব্দ করা জাল কায়ুকখালী খালের পাড়ে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেয় উপজেলা প্রশাসন। এতে অংশ নেয় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি), উপজেলা মৎস্য অধিদফতর, টেকনাফ মডেল থানা ও টেকনাফ নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।

অভিযান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন অবৈধ পথে কারেন্ট জাল টেকনাফে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব জাল বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি সাগর ও নাফ নদীতে মাছ ধরতেও এসব জাল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কারেন্ট জালের ফাঁস অত্যন্ত চিকন হওয়ায় এতে মাছের পোনা থেকে শুরু করে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ প্রাণী আটকা পড়ে। এতে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ মেয়াদে নদী ও সাগরে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

লামার বাজারে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দের পর স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বাজার ও দোকানে অভিযানের পাশাপাশি টেকনাফের বিভিন্ন বোটঘাট এবং মাছ ধরার নৌযানেও অভিযান চালানোর দাবি উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী বোটঘাট, নাইট্যংপাড়া, মহেশখালীয়াপাড়া, তুলাতলী, লম্বরী, রাজারছড়া, হাবিবছড়া ও মিঠাপানিরছড়া এলাকার বিভিন্ন মাছ ধরার বোটে কারেন্ট জাল রয়েছে। এ ছাড়া শাহপরীরদ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া, ঘোলাচর, পশ্চিমপাড়া, সাদীরপাড়া ও দক্ষিণপাড়া এলাকাতেও এসব জাল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া, শীলখালী, বড় ডেইল, কচ্ছপিয়া ও মাথাভাঙ্গা এবং সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়া, বাহারছড়া, খুরেরমুক ও মুন্ডার ডেইল নৌঘাটের মাছ ধরার বোটেও কারেন্ট জাল ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

জেলেরা বলছেন, বাজার ও দোকানে অভিযান চালিয়ে কারেন্ট জাল জব্দ করা জরুরি। তবে শুধু এসব স্থানে অভিযান চালিয়ে এর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। সাগর ও নাফ নদীতে মাছ ধরার বোটগুলোতেও নিয়মিত তল্লাশি চালাতে হবে। যেসব বোটে নিষিদ্ধ জাল মজুত বা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে অবৈধ জালের সরবরাহকারী, বিক্রেতা ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ চান স্থানীয় জেলেরা।

টেকনাফ নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আতিকুর হক বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। টেকনাফের সব নৌঘাটে মাছ ধরার বোটে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। কারেন্ট জাল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহরুল হক জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, উপ-অধিনায়ক মেজর মুবাশশির নাকিব তরফদার, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী, টেকনাফ নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আতিকুর হক এবং উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহরুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মৎস্যসম্পদ রক্ষা, মাছের পোনা সংরক্ষণ এবং নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে কারেন্ট জাল আনা, মজুত, বিক্রি ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বাজার ও দোকানের পাশাপাশি টেকনাফের বিভিন্ন বোটঘাট, নাফ নদী ও সাগরে মাছ ধরার নৌযানেও নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। তাঁদের মতে, সরবরাহ থেকে শুরু করে মজুত ও ব্যবহার—সব পর্যায়ে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ রক্ষাও সহজ হবে।

ভিশন বাংলা ২৪

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


টেকনাফে ৩ কোটি টাকার কারেন্ট জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের টেকনাফে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১০ লাখ ১০ হাজার ৮০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা। পরে জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এদিকে, বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন বোটঘাট ও মাছ ধরার নৌযানেও কারেন্ট জাল মজুত ও ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সেখানে অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টেকনাফ পৌরসভার লামার বাজারের বিভিন্ন দোকানে এ অভিযান চালানো হয়। পরে জব্দ করা জাল কায়ুকখালী খালের পাড়ে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।


মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেয় উপজেলা প্রশাসন। এতে অংশ নেয় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি), উপজেলা মৎস্য অধিদফতর, টেকনাফ মডেল থানা ও টেকনাফ নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।


অভিযান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন অবৈধ পথে কারেন্ট জাল টেকনাফে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব জাল বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি সাগর ও নাফ নদীতে মাছ ধরতেও এসব জাল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


কারেন্ট জালের ফাঁস অত্যন্ত চিকন হওয়ায় এতে মাছের পোনা থেকে শুরু করে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ প্রাণী আটকা পড়ে। এতে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ মেয়াদে নদী ও সাগরে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।


লামার বাজারে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দের পর স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বাজার ও দোকানে অভিযানের পাশাপাশি টেকনাফের বিভিন্ন বোটঘাট এবং মাছ ধরার নৌযানেও অভিযান চালানোর দাবি উঠেছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী বোটঘাট, নাইট্যংপাড়া, মহেশখালীয়াপাড়া, তুলাতলী, লম্বরী, রাজারছড়া, হাবিবছড়া ও মিঠাপানিরছড়া এলাকার বিভিন্ন মাছ ধরার বোটে কারেন্ট জাল রয়েছে। এ ছাড়া শাহপরীরদ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া, ঘোলাচর, পশ্চিমপাড়া, সাদীরপাড়া ও দক্ষিণপাড়া এলাকাতেও এসব জাল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।


বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া, শীলখালী, বড় ডেইল, কচ্ছপিয়া ও মাথাভাঙ্গা এবং সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়া, বাহারছড়া, খুরেরমুক ও মুন্ডার ডেইল নৌঘাটের মাছ ধরার বোটেও কারেন্ট জাল ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।


জেলেরা বলছেন, বাজার ও দোকানে অভিযান চালিয়ে কারেন্ট জাল জব্দ করা জরুরি। তবে শুধু এসব স্থানে অভিযান চালিয়ে এর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। সাগর ও নাফ নদীতে মাছ ধরার বোটগুলোতেও নিয়মিত তল্লাশি চালাতে হবে। যেসব বোটে নিষিদ্ধ জাল মজুত বা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে অবৈধ জালের সরবরাহকারী, বিক্রেতা ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ চান স্থানীয় জেলেরা।


টেকনাফ নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আতিকুর হক বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। টেকনাফের সব নৌঘাটে মাছ ধরার বোটে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। কারেন্ট জাল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।


উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহরুল হক জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


অভিযানে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, উপ-অধিনায়ক মেজর মুবাশশির নাকিব তরফদার, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী, টেকনাফ নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আতিকুর হক এবং উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহরুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মৎস্যসম্পদ রক্ষা, মাছের পোনা সংরক্ষণ এবং নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে কারেন্ট জাল আনা, মজুত, বিক্রি ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বাজার ও দোকানের পাশাপাশি টেকনাফের বিভিন্ন বোটঘাট, নাফ নদী ও সাগরে মাছ ধরার নৌযানেও নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। তাঁদের মতে, সরবরাহ থেকে শুরু করে মজুত ও ব্যবহার—সব পর্যায়ে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ রক্ষাও সহজ হবে।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত