সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
প্রথম দেখায় নিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন প্রিয়াঙ্কা! হাদি হত্যার প্রধান আসামী ফয়সাল করিম মাসুদ গ্রেপ্তার নীলফামারীর লক্ষীচাপ ইউনিয়নে বিএনপি অফিসের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ. ওহাবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রমজানের গুরুত্ব তুলে ধরে এতিম হাফেজদের মাঝে কোরআন শরীফ ও ঈদবস্ত্র বিতরণ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৪৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত সামাজিক অবক্ষয় রোধে পরিবার, সমাজ ও পুলিশের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব ‘এমন দেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে’ ঈদে টানা ১২ দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ, মিলবে যেভাবে আলোর ছোঁয়ার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ইরানের যুদ্ধ কি ক্ষয় যুদ্ধে পরিনিত হবে?
আজ কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১১০তম জন্মবার্ষিকী

আজ কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১১০তম জন্মবার্ষিকী

ভিশন বাংলা নিউজ:  কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১১০তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯০৮ সালের ১৯ মে (১৩১৫ বঙ্গাব্দের ৬ জ্যৈষ্ঠ) বিহারের সাওতাল পরগনা, বর্তমান ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে৷ তার নাম প্রবোধকুমার হলেও ডাকনাম মানিক নামেই লিখে গেছেন।

১৪ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ৮ম। তার পিতা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তদানীন্তন ঢাকা জেলার সেটেলমেন্ট বিভাগের সাব-রেজিস্টার। পিতার চাকরির সূত্রে তার শৈশব ও শিক্ষাজীবন অতিবাহিত হয়েছে বাংলা-বিহার-ওড়িষার দুমকা, আরা, সাসারাম, কলকাতা, বারাসাত, বাঁকুড়া, তমলুক, কাঁথি, মহিষাদল, গুইগাদা, শালবনি, নন্দীগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল প্রভৃতি শহরে।

তার মা নীরদাসুন্দরীর আদিনিবাস ছিল সে সময়ের পূর্ববঙ্গ অর্থাৎ এ বাংলাদেশেই। প্রসিদ্ধ উপন্যাস ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’য় তিনি তার মায়ের গ্রাম গাউদিয়া’র পটভূমি রচনা করেছেন  ।

বুদ্ধদেব, জীবনানন্দ, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অচিন্তকুমার, বিষ্ণু দে, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শক্তিমান কথাসাহিত্যিকও ছিলেন তার সমকালীন লেখক। এদের ভিড়ে মাত্র ৪৮ বছরের অল্প আয়ুষ্কালে ব্যতিক্রমী কথাশিল্পী হিসেবে নিজের নামটি স্মরণীয় করে রেখেছেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ অল্প সময়ে তিনি বাঙালিকে যা দিয়েছেন তার কোনো পরিসংখ্যান দরকার করে না। ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর শক্তিশালী এ কথাসাহিত্যিকের জীবনাবসান ঘটে।

চল্লিশের দশকে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘে’ যুক্ত হওয়া আপাদমস্তক কমিউনিজমে বিশ্বাসী সেই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কলেজে বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে জীবনের প্রথম গল্প ‘অতসীমামী’ লিখে ফেলেন। তার পর আর পেছন ফিরে তাকাননি। এর পর ‘বঙ্গশ্রী’ সাহিত্য পত্রিকায় ‘দিবারাত্রীর কাব্য’ উপন্যাসটির ধারাবাহিক প্রকাশের মধ্য দিয়ে ঔপন্যাসিক হিসেবে তার যাত্রা শুরু। পরের বছর ‘পূর্ব্বাশা’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসটি। ১৯৩৫ সালে ‘জননী’, ‘দিবারাত্রীর কাব্য’ উপন্যাস এবং ‘অতসীমামী ও অন্যান্য গল্প’ গল্পগ্রন্থ প্রকাশের মধ্য দিয়ে তার গ্রন্থকার হিসেবে যাত্রা শুরু হয়।

কেবল লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নিয়ে সামান্য উপার্জনের মাধ্যমে সংসারের হাল ধরার আশায় একে একে লিখে গেছেন ৪০টি উপন্যাস, ৩০০টিরও অধিক ছোটগল্প আর বিপুল প্রবন্ধ।

বাংলা উপন্যাসের সূচনালগ্নে প্যারীচাঁদ মিত্র, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এমনকি সব্যসাচী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসেও নিম্নবর্গের যথোচিত উন্মোচন দেখা যায়। সেখানে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সমসাময়িক তুখোড় লেখকদের প্রভাবমুক্ত হয়ে নিজের চিন্তা ও কল্পনার গভীরতা প্রকাশ করে বিশিষ্ট হতে পেরেছেন।

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2011-2025 VisionBangla24.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com