সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
ঢাকায় প্রতি ঘণ্টায় একজন মানুষকে কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০ মশা! ২২ দিনে হাম সন্দেহে মৃত্যু ১১৩ শিশুর, আক্রান্ত ৭৬১০ আমরা সব ধর্মের মানুষকে একইরকম ভালোবাসি: প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যম মানুষের মনোজগৎ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি এম এ আউয়াল, সাধারণ সম্পাদক সজল ভূইয়া বগুড়ায় পারিবারিক বিরোধে ননদের ধাক্কায় ভাবীর মৃত্যু নরসিংদীতে তুচ্ছ কারণেই বেধড়ক প্রহার: মাদরাসার শিক্ষক গ্রেফতার মধ্যরাতে সিএনজি পাম্পে ‘গ্যাস সিন্ডিকেট’: কন্টেইনারে পাচারের মহোৎসব কেরানীগঞ্জের গ্যাসলাইট কারখানায় আগুনে নিহত ৫ মনোহরদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে জুয়ার আসর ভেঙে আটক ৭, নগদ অর্থ ও সরঞ্জাম জব্দ
সোশ্যাল মিডিয়া বাচ্চাদের ‘মানসিক সমস্যা তৈরি করছে’

সোশ্যাল মিডিয়া বাচ্চাদের ‘মানসিক সমস্যা তৈরি করছে’

শিশু-কিশোরদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের কুফল নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বেশ কিছু চিকিৎসক ও শিশু কল্যাণ বিশেষজ্ঞ।

ব্রিটেনের একজন চিকিৎসক রঙ্গন চ্যাটার্জী বলছেন, কিশোরকিশোরীদের মধ্যে মানসিক সমস্যা এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের মধ্যে যে একটা সম্পর্ক আছে তার অনেক প্রমাণ তিনি পেয়েছেন।

সম্প্রতি একদল মার্কিন শিশু কল্যাণ বিশেষজ্ঞ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের কাছে একটি চিঠি লেখেন। এতে তারা ‘মেসেঞ্জার কিডস’ নামে বাচ্চাদের মেসেজিং অ্যাপটি বন্ধ করে দেবার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, ১৩ বছরের কম বয়েসীদেরকে এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করারটা দায়িত্বজ্ঞানহীন।

তারা বলেন, তারা তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন যে সামাজিক মাধ্যমের কারণে কিশোরকিশোরীদের মানসিকতায় অস্বাভাবিক সব পরিবর্তন হচ্ছে, ১০ বছরের মেয়েও তার দৈহিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগছে।

ডাক্তার রঙ্গন চ্যাটার্জী বলছেন, তিনি একবার ১৬ বছরের একটি কিশোরকে রোগী হিসেবে পেয়েছিলেন – যে তার নিজের হাত-পা কাটার পর তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়েছিল।

“আমি প্রথমে ভেবেছিলাম তাকে বিষণ্ণতা-রোধী ওষুধ দেবো। কিন্তু আমি তার সাথে কথা বলার পর মনে হলো, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করায় তার স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”

২০১৭ সালে রয়াল সোসাইটি অব পাবলিক হেলথ একটি জরিপ চালায় ১১ থেকে ১৫ বছর বয়স্ক দেড় হাজার কিশোর-কিশোরীর ওপর।

এতে দেখা যায় স্ন্যাপচ্যাট এবং ইনস্টাগ্রাম তাদের মনে সবচেয়ে বেশি হীনমন্যতা এবং দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করে। ১০ জনের মধ্যে ৭ জন বলেছে ইনস্টাগ্রামের কারণে তাদের নিজেদের দেহ নিয়ে মন খারাপ হয়েছে। ১৪ থেকে ১৪ বছর বয়সের তরুণতরুণীদের অর্ধেকই বলেছে ফেসবুকের কারণে তাদের মানসিক দুশ্চিন্তা ও অশান্তি বেড়ে গেছে।

দু-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা বলেছে, ফেসবুকের কারণে সাইবার বুলিইং বা অনলাইনে অপমান-হয়রানি করার প্রবণতা আরো গুরুতর আকার নিয়েছে।

ড. চ্যাটার্জী তার কাছে আসা ছেলেটিকে একটা সহজ সমাধান দিয়েছিলেন – তাকে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করা কমিয়ে আনতে হবে, রাতে ঘুমাতে যাবার আগে এক ঘন্টার বেশি নয়। তবে কয়েক সপ্তাহ পর এ সময় বাড়ানো যেতে পারে।

“ছয় মাস পর তার অবস্থা লক্ষণীয়ভাবে ভালো হতে শুরু করলো। আমি তার মার কাছ থেকে চিঠি পেলাম যে সে স্কুলে গিয়ে অনেক আনন্দ পাচ্ছে, এবং স্থানীয় লোকজনের সাথেও মিশছে।”

তিনি বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়া মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এটা একটা বড় সমস্যা এবং এ ক্ষেত্রে কিছু নিয়মকানুন করা দরকার।”

সাইকিয়াট্রিস্ট লুই থিওডোসিও বলছেন, “দু-তিন বছর আগেও তার সাথে এ্যাপয়েন্টমেন্টের মাঝখানে কোন বাচ্চা তাদের ফোন ব্যবহার করছে, বা টেক্সট করছে – এমন ঘটনা ছিল খুবই অস্বাভাবিক। কিন্তু এখন এটা খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে।”

“বাচ্চারা তাদের ফোন নিয়ে খুব বেশি সময় কাটাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে টিনএজাররা বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা বা অন্য মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে – এমন কেসের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ”

তিনি বলেন, এসব বাচ্চারা এক কল্পনার জগতে বাস করছে, এতে তাদের শারীরিক স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, অভিভাবকদের জন্য পরিস্থিতি খুব কঠিন হয়ে গেছে। তিনি এমন অভিভাবকের কথাও শুনেছেন যারা ওয়াইফাই রুটার নিজেদের সাথে নিয়ে ঘুমান -যাতে বাচ্চারা মাঝরাতে উঠে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারে।

বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের নানা উপায়ে বাচ্চাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর নজর রাখতে ও তা সীমিত করতে পরামর্শ দিচ্ছেন।

ফেসবুক, টুইটার, এ্যাপল এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এসব অভিযোগ নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে তারা এ ব্যাপারে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2011-2026 VisionBangla24.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com