ঢাকা    শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

'পিলখানায় গিয়ে দেখি অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদ ছড়িয়ে আছে'



'পিলখানায় গিয়ে দেখি অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদ ছড়িয়ে আছে'
বাংলাদেশের ইতিহাসের আলোচিত এক বিদ্রোহ ও সেনা হত্যাকাণ্ডের নবম বার্ষিকী রোববার। ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন বিডিআর সদরদপ্তর পিলখানায় ওই বিদ্রোহের ঘটনায় মহাপরিচালকসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হয়। ওই ঘটনার পর বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিডিআরের নাম বদলে বর্ডার গার্ড রাখা হয়। ঘটনার পর বিধ্বস্ত বাহিনীটির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান লে. জেনারেল (অব.) মো. মইনুল ইসলাম। তিনি দায়িত্ব নেবার সময় বাহিনীর অবস্থা ঠিক কেমন ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে মি.ইসলাম বিবিসিকে বলেন, "দায়িত্ব নেয়ার কথা আমি টেলিফোনের মাধ্যমে ২৬শে ফেব্রুয়ারি জানতে পারি। পরদিন ২৭শে ফেব্রুয়ারি সকালে সেখানে যাই। ভেতরে যে অবস্থা সেটা ছিলো অনিশ্চিত একটা বিষয়। অস্ত্রশস্ত্র অবিস্ফোরিত গোলা বারুদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে"। সেখানকার পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, "দেখলাম সব আছে। তৎকালীন বিডিআরের সৈনিক আছে। খাওয়া বেতন অস্ত্র সবই আছে। নেই শুধু আস্থা। অধীনস্থ ও নেতৃত্বের মধ্যে আস্থা ছিলোনা যা কোন বাহিনীর জন্য আত্মহত্যার সামিল"। তিনি বলেন সেনাবাহিনীতে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মীয় স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী সবার মধ্যে প্রচণ্ড আবেগ কাজ করছিলো আর এর মধ্যেই তাকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। তখন সৈনিক কর্মকর্তাদের মনোবল কেমন ছিলো ? জবাবে মইনুল ইসলাম বলেন তখন বাহিনীর যারা সদস্য ছিলো তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তার ভাব ছিলো যে কি হবে -না হবে। ঘটনা তো ঘটে গেছে। "কেউ হয়তো স্বতঃস্ফূর্ত জড়িত ছিলো যারা পরিকল্পনা করেছিলো। আর কিছু ছিলো তারা হয়তো সবাই করেছে তাই করেছি বা বের হওয়ার উপায় নেই-এমন যারা ছিলো তাদের সবার মধ্যেই অজানা আশঙ্কা ছিলো। বাইরে সবার মধ্যেও শঙ্কা কাজ করেছিলো যে কি হবে - না হবে"। তিনি বলেন এ অনিশ্চয়তা কাটানোর জন্যই যারা বিজিবি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলো তাদের ফিরে আসতে বলা হয় ও তারাও আসতে শুরু করে। "প্রথমে স্কুল চালু করি, মানুষের আনাগোনা শুরু করি। এক পর্যায়ে পরিবারসহ আমি যাই যেন আস্থা ফিরে আসে এবং আমরা কাজ শুরু করতে পারি"। কিন্তু কাজ শুরুর পর কি মনে হয়েছিলো যে আস্থা ফিরিয়ে আনা বা পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে ? জবাবে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, "এজন্য আমরা প্রশিক্ষিত। এজন্য জনগণের অর্থে আমাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।কঠিন ছিলো। কিন্তু আমি মনে করি জনগণ সাহস জুগিয়েছে। যারা ঘটনায় জড়িত ছিলোনা তারা সৎসাহস দেখিয়েছেন। গণমাধ্যম ও সর্বোপরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে বিডিআরকে বিজিবিতে পরিবর্তন ও সংস্কৃতি পরিবর্তনের কাজটা করতে পেরেছিলাম"। কিন্তু যেসব কারণে বিদ্রোহ হয়েছিলো বলে শোনা গিয়েছিলো অর্থাৎ অসন্তোষ সেটি কি দুর হয়েছে? জবাবে ইসলাম বলেন বিজিবি কিন্তু এখন কাজ করে যাচ্ছে। বাহিনীতে সবাই সমমনা হবে বা দাবী থাকবেনা সেটা ঠিক না। কিন্তু সেটি একটি প্রক্রিয়াতে হবে। বিজিবি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে এখন পর্যন্ত কোথাও ব্যর্থ হয়নি। বিচারের বিস্তারিত তথ্য পিলখানায় বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ২০১৩ সালে হত্যা মামলাটিতে ৮৫০জন আসামির মধ্যে ১৫২ জনের ফাঁসির রায় দেয়। পরে বিদ্রোহে হত্যার দায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। হাইকোর্ট যে ১৩জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেনি, তাদের মধ্যে চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আটজনকে। বাকি একজন আগেই মারা গেছে। বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের একই সাজা বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। অন্যদিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রাপ্ত ৩১ জনের সাজা বাড়িয়ে যাবজ্জীবন করা হয়েছে। এখন সব মিলিয়ে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামীর সংখ্যা ১৮৫ জনে। মামলায় খালাস পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলী হাইকোর্টের রায়ের পর মারা গেছেন। অন্যদিকে আগেই কারাগারে মারা গেছেন বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন পিন্টু।

ভিশন বাংলা ২৪

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


'পিলখানায় গিয়ে দেখি অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদ ছড়িয়ে আছে'

প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

featured Image
বাংলাদেশের ইতিহাসের আলোচিত এক বিদ্রোহ ও সেনা হত্যাকাণ্ডের নবম বার্ষিকী রোববার। ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন বিডিআর সদরদপ্তর পিলখানায় ওই বিদ্রোহের ঘটনায় মহাপরিচালকসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হয়। ওই ঘটনার পর বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিডিআরের নাম বদলে বর্ডার গার্ড রাখা হয়। ঘটনার পর বিধ্বস্ত বাহিনীটির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান লে. জেনারেল (অব.) মো. মইনুল ইসলাম। তিনি দায়িত্ব নেবার সময় বাহিনীর অবস্থা ঠিক কেমন ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে মি.ইসলাম বিবিসিকে বলেন, "দায়িত্ব নেয়ার কথা আমি টেলিফোনের মাধ্যমে ২৬শে ফেব্রুয়ারি জানতে পারি। পরদিন ২৭শে ফেব্রুয়ারি সকালে সেখানে যাই। ভেতরে যে অবস্থা সেটা ছিলো অনিশ্চিত একটা বিষয়। অস্ত্রশস্ত্র অবিস্ফোরিত গোলা বারুদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে"। সেখানকার পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, "দেখলাম সব আছে। তৎকালীন বিডিআরের সৈনিক আছে। খাওয়া বেতন অস্ত্র সবই আছে। নেই শুধু আস্থা। অধীনস্থ ও নেতৃত্বের মধ্যে আস্থা ছিলোনা যা কোন বাহিনীর জন্য আত্মহত্যার সামিল"। তিনি বলেন সেনাবাহিনীতে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মীয় স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী সবার মধ্যে প্রচণ্ড আবেগ কাজ করছিলো আর এর মধ্যেই তাকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। তখন সৈনিক কর্মকর্তাদের মনোবল কেমন ছিলো ? জবাবে মইনুল ইসলাম বলেন তখন বাহিনীর যারা সদস্য ছিলো তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তার ভাব ছিলো যে কি হবে -না হবে। ঘটনা তো ঘটে গেছে। "কেউ হয়তো স্বতঃস্ফূর্ত জড়িত ছিলো যারা পরিকল্পনা করেছিলো। আর কিছু ছিলো তারা হয়তো সবাই করেছে তাই করেছি বা বের হওয়ার উপায় নেই-এমন যারা ছিলো তাদের সবার মধ্যেই অজানা আশঙ্কা ছিলো। বাইরে সবার মধ্যেও শঙ্কা কাজ করেছিলো যে কি হবে - না হবে"। তিনি বলেন এ অনিশ্চয়তা কাটানোর জন্যই যারা বিজিবি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলো তাদের ফিরে আসতে বলা হয় ও তারাও আসতে শুরু করে। "প্রথমে স্কুল চালু করি, মানুষের আনাগোনা শুরু করি। এক পর্যায়ে পরিবারসহ আমি যাই যেন আস্থা ফিরে আসে এবং আমরা কাজ শুরু করতে পারি"। কিন্তু কাজ শুরুর পর কি মনে হয়েছিলো যে আস্থা ফিরিয়ে আনা বা পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে ? জবাবে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, "এজন্য আমরা প্রশিক্ষিত। এজন্য জনগণের অর্থে আমাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।কঠিন ছিলো। কিন্তু আমি মনে করি জনগণ সাহস জুগিয়েছে। যারা ঘটনায় জড়িত ছিলোনা তারা সৎসাহস দেখিয়েছেন। গণমাধ্যম ও সর্বোপরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে বিডিআরকে বিজিবিতে পরিবর্তন ও সংস্কৃতি পরিবর্তনের কাজটা করতে পেরেছিলাম"। কিন্তু যেসব কারণে বিদ্রোহ হয়েছিলো বলে শোনা গিয়েছিলো অর্থাৎ অসন্তোষ সেটি কি দুর হয়েছে? জবাবে ইসলাম বলেন বিজিবি কিন্তু এখন কাজ করে যাচ্ছে। বাহিনীতে সবাই সমমনা হবে বা দাবী থাকবেনা সেটা ঠিক না। কিন্তু সেটি একটি প্রক্রিয়াতে হবে। বিজিবি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে এখন পর্যন্ত কোথাও ব্যর্থ হয়নি। বিচারের বিস্তারিত তথ্য পিলখানায় বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ২০১৩ সালে হত্যা মামলাটিতে ৮৫০জন আসামির মধ্যে ১৫২ জনের ফাঁসির রায় দেয়। পরে বিদ্রোহে হত্যার দায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। হাইকোর্ট যে ১৩জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেনি, তাদের মধ্যে চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আটজনকে। বাকি একজন আগেই মারা গেছে। বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের একই সাজা বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। অন্যদিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রাপ্ত ৩১ জনের সাজা বাড়িয়ে যাবজ্জীবন করা হয়েছে। এখন সব মিলিয়ে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামীর সংখ্যা ১৮৫ জনে। মামলায় খালাস পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলী হাইকোর্টের রায়ের পর মারা গেছেন। অন্যদিকে আগেই কারাগারে মারা গেছেন বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন পিন্টু।

ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত