বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
নওগাঁর মান্দায় নিয়ম-বহির্ভূত রেজুলেশন ছাড়াই উপজেলার একটি প্রাথমিক স্কুলের টিন বিক্রির অভিযোগ আর্তনাদ করা সেই পরিবারের পাসে IGNITE THE NATION ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত শরণখোলা ও সুন্দরবন নওগাঁর শৈলগাছী ইউনিয়ন পরিষদের ২০২০০৪-২০২৫ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা নরসিংদী মেহেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে হত্যা কালাইয়ে সহিদুল হত্যা মামলায় দশজনের যাবজ্জীবন আশুলিয়ায় ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় দানকারীকে আটক করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ আকাশে মেঘ জমলেই থাকছে না বিদ্যুৎ, অতিষ্ঠ গ্রাহকরা কোটচাঁদপরে বৃদ্ধের আয়ের উৎস মুদি দোকান পুড়ে ছাই সেপটিক ট্যাংক থেকে এমপি আনারের মরদেহের ‘খণ্ডিত অংশ’ উদ্ধার
জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে কার্বন পরিষ্কার করতে চান নোভাক

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে কার্বন পরিষ্কার করতে চান নোভাক

জীবাশ্ম জ্বালানি হলো এক প্রকার জ্বালানি যা অব্যাহত পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। মৃত গাছের, মৃতদেহ ইত্যাদি জীবনের উপাদান হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে তৈরি হয় এই জ্বালানি। এ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি তৈরি হতে কয়েকশ মিলিয়ন বছর লাগে। জীবাশ্ম জ্বালানিতে উচ্চ পরিমাণে কার্বন থাকে। কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানি। জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটে। নানা ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কারণে বাতাসে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায় কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ। আর জীবাশ্ম জ্বালানির অবারিত দহনের ফলে গ্রীনহাউজ প্রতিক্রিয়ায় প্রতি বছর বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা। বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে উষ্ণায়ন রোধ করতে দীর্ঘদিন কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এক্ষেত্রে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে স্বল্প ব্যয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড পরিশোধনে যুগান্তকারী এক কৌশল নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন তরুণ বিজ্ঞানী ইথান নোভেক।

উনিশ শতকের শেষ দিকে অক্সি-কম্পাস্টশন পদ্ধতিতে কার্বন ঘটিত জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে কার্বন পরিশোধনের প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়। এই পদ্ধতিতে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছড়িয়ে পড়তে পারে না। ১৯৩০ সালের দিকে রাসায়নি শোষণ প্রক্রিয়ায় কার্বনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়। ১৯৬০ এবং ৭০ এর দশকে পশ্চিম টেক্সাসে তেল কারখানাগুলো তেল পরিশোধনের সময় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল আবিষ্কার করে। এই প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে গ্যাসোলিন এবং ইথানল পরিণত করা হয়। তবে ঐ প্রক্রিয়ায় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে পরিশোধন ব্যয় সাপেক্ষ। তবে কয়লা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস প্লান্ট থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড পরিশোধনে আশার কথা শোনাচ্ছেন নোভেক। নোভেক জানান, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে কার্বন পরিষ্কার করতে নতুন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। কয়লা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস প্লান্ট থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড পরিশোধনে তার প্রযুক্তি ব্যবহার করলে প্রতি টন কার্বন পরিশোধনের খরচ হবে মাত্র ৫ থেকে ৮ ডলার। তার উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে পানি এবং জলীয় অ্যামোনিয়ার মধ্যে কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে প্রবেশ করানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় কার্বন-ডাই-অক্সাইড অ্যামোনিয়া লবণে পরিণত হয় একই সঙ্গে নিষ্ক্রিয় গ্যাস নি:সরিত হয়। এর মধ্য দিয়ে দ্রাবক হিসেবে অ্যামোনিয়া এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড পরিশোধিত হয়। নোভেক দাবি করেন, তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে শতকরা ৯০ ভাগ কার্বন পরিশোধন করা সম্ভব।

উদ্ভাবনী চিন্তার কারণে জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় পুরষ্কার জিতেছেন নোভেক। তার এই উদ্ভাবনী ধারণা থেকে ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে বিস্তৃত পরিসরে গবেষণা চলছে। ২০১৬ সালে নোভেক তার প্রকল্প জমা দেয় এবং এক বছর পরে ২০১৭ সালে সেটি গৃহীত হয়। নোভেক তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ‘ইনোভেটর এনার্জি’র মাধ্যমে কার্বন পরিশোধনে বাণিজ্যিকভাবে কাজ করতে চান।

জীবাশ্ম জ্বালানির বিশেষজ্ঞ ম্যাক ডোয়েল বলেন, এটা খুবই চমত্কার বিষয় যে, এসব ক্ষেত্রে তরুণরা তাদের উদ্ভাবনী জ্ঞান নিয়ে এগিয়ে আসছে। বিশেষ করে কার্বন পরিশোধনে ব্যয় কমিয়ে আনার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নোভেকের এই প্রকল্পটি অনেক বড় কোনো প্রকল্প ছিল না কিন্তু এর অবদান খুবই কার্বন-ডাই-অক্সাইড পরিশোধন শিল্পে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে।-সিএনএন

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2011 VisionBangla24.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com