ঢাকা    শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

রাজশাহীতে শিক্ষককে হত্যার চেষ্টা মামলায় ছাত্রীকে পাঠানো হলো কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে



রাজশাহীতে শিক্ষককে হত্যার চেষ্টা মামলায় ছাত্রীকে পাঠানো হলো কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে
রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহীতে ‘হেল্প হেল্প’ বলে ডেকে শিক্ষককে ছুরি মারার ঘটনায় ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টার মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে আদালতের নির্দেশে ওই ছাত্রীকে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অবস্থিত কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ। এর আগে বুধবার (২০ আগস্ট) রাতে মামলার পর রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
মামলার বাদী হয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক মারুফ কারখী (৩৪)। তিনি রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা পড়ান। বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে হলেও তিনি বর্তমানে রাজশাহী নগরীর কাজলা এলাকায় বসবাস করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন তিনি। গতকাল বুধবার ওই ছাত্রীর হামলায় তাঁর গলা ও হাতে জখম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি বলেন, বুধবার থানায় হাজির হয়ে আমি মামলার এজাহারে সই করেছি। সেখানে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছি। মেয়েটি প্রথমে হেল্প হেল্প বলে চিৎকার করছিল। ভেবেছিলাম বিপদে পড়েছে, হয়তো ছিনতাই হচ্ছে। তাই থেমেছিলাম। আমি থামতেই সে দৌড়ে এসে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এরপর বারবার আঘাত করে। এক পর্যায়ে আমি তার ছুরি ধরে ফেলি। মুখে মাস্ক থাকায় শুরুতে চিনতে পারিনি।
সেদিন রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের সড়কে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই ছাত্রীকে আটক করে পরিবারের কাছে দেয়। তার বয়স প্রায় ১৬ বছর। সে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। তবে ‘উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে’ ২০২৩ সালে তাকে টিসি দেওয়া হয়। বর্তমানে রাজশাহীর শহীদ কর্নেল কাজী এমদাদুল হক পাবলিক স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ছে।
রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের একজন কর্মকর্তা জানান, টিসি দেওয়ার কারণে ওই শিক্ষার্থীর ক্ষোভ ছিল। নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো স্কুলের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রতিই তার ক্ষোভ ছিল। সুযোগ পেলেই যে কারও ওপর হামলা করতে চেয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মারুফ কারখী তার শিকার হয়েছেন। ঘটনার পর আহত শিক্ষককে স্কুল কর্তৃপক্ষ রাজশাহীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করে। সেখানে তিনি চিকিৎসা নেন।
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মামলার পর বুধবার রাতেই ছাত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশু আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ তাকে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে।

ভিশন বাংলা ২৪

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


রাজশাহীতে শিক্ষককে হত্যার চেষ্টা মামলায় ছাত্রীকে পাঠানো হলো কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৫

featured Image
রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহীতে ‘হেল্প হেল্প’ বলে ডেকে শিক্ষককে ছুরি মারার ঘটনায় ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টার মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে আদালতের নির্দেশে ওই ছাত্রীকে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অবস্থিত কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ। এর আগে বুধবার (২০ আগস্ট) রাতে মামলার পর রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
মামলার বাদী হয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক মারুফ কারখী (৩৪)। তিনি রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা পড়ান। বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে হলেও তিনি বর্তমানে রাজশাহী নগরীর কাজলা এলাকায় বসবাস করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন তিনি। গতকাল বুধবার ওই ছাত্রীর হামলায় তাঁর গলা ও হাতে জখম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি বলেন, বুধবার থানায় হাজির হয়ে আমি মামলার এজাহারে সই করেছি। সেখানে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছি। মেয়েটি প্রথমে হেল্প হেল্প বলে চিৎকার করছিল। ভেবেছিলাম বিপদে পড়েছে, হয়তো ছিনতাই হচ্ছে। তাই থেমেছিলাম। আমি থামতেই সে দৌড়ে এসে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এরপর বারবার আঘাত করে। এক পর্যায়ে আমি তার ছুরি ধরে ফেলি। মুখে মাস্ক থাকায় শুরুতে চিনতে পারিনি।
সেদিন রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের সড়কে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই ছাত্রীকে আটক করে পরিবারের কাছে দেয়। তার বয়স প্রায় ১৬ বছর। সে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। তবে ‘উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে’ ২০২৩ সালে তাকে টিসি দেওয়া হয়। বর্তমানে রাজশাহীর শহীদ কর্নেল কাজী এমদাদুল হক পাবলিক স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ছে।
রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের একজন কর্মকর্তা জানান, টিসি দেওয়ার কারণে ওই শিক্ষার্থীর ক্ষোভ ছিল। নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো স্কুলের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রতিই তার ক্ষোভ ছিল। সুযোগ পেলেই যে কারও ওপর হামলা করতে চেয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মারুফ কারখী তার শিকার হয়েছেন। ঘটনার পর আহত শিক্ষককে স্কুল কর্তৃপক্ষ রাজশাহীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করে। সেখানে তিনি চিকিৎসা নেন।
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মামলার পর বুধবার রাতেই ছাত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশু আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ তাকে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে।

ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত