ঢাকা    রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

আদালতে মামলা ও থানায় জিডি

আবাসন প্রকল্পের ফ্ল্যাট কিনে প্রতারণা ও হুমকির শিকার ব্যবসায়ী


রেজওয়ানুল হক
রেজওয়ানুল হক নিজস্ব প্রতিবেদক

আবাসন প্রকল্পের ফ্ল্যাট কিনে প্রতারণা ও হুমকির শিকার ব্যবসায়ী

রাজধানীর মিরপুরে ডেভলপার কোম্পানি 'আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড'-এর কাছ থেকে ফ্ল্যাট কিনে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন এক স্যানিটারি মালামাল সরবরাহকারী ব্যবসায়ী। ভুক্তভোগী মো. মাজহারুল ইসলাম, যিনি 'এম এম ট্রেডিং'-এর স্বত্বাধিকারী, আবাসন প্রতিষ্ঠানটির কাছে প্রায় সমুদয় অর্থ পরিশোধ করেও নির্দিষ্ট সময়ে ফ্ল্যাটের হস্তান্তর ও দলিল পাননি। উপরন্তু পাওনা অর্থ পরিশোধ করে দলিল গ্রহণের অনুরোধ করায় তাকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানে স্যানিটারি মালামাল সরবরাহ করে আসার সুবাদে আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের সাথে ব্যবসায়িক সখ্যতা গড়ে ওঠে ব্যবসায়ী মাজহারুল ইসলামের। সেই পরিচয়ের সূত্রে ঢাকার মিরপুর শাহ আলী থানাধীন সেকশন-১, ব্লক-এফ, রোড নং-৪-এ অবস্থিত প্রেজেন্ট বাড়ি নং-২৯ (প্রজেক্ট হোল্ডিং নম্বর-১/জি/১-১)-এর ৭ম তলা অনুমোদিত নকশার ৬ষ্ঠ তলার ১,৩৭৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ক্রয়ের চুক্তি করেন তিনি। ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম জাকারিয়ার উপস্থিতিতে ৭২ লাখ টাকা চূড়ান্ত মূল্যের বিপরীতে ৭০ লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করা হয় এবং বায়না রেজিস্ট্রি দলিল (নম্বর-৭৫০৬) সম্পাদন করা হয়।

বায়না দলিল অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও আবাসন প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী তার আইনজীবীর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই, ৮ আগস্ট এবং ১৯ ডিসেম্বর তিনটি পৃথক লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে অবশিষ্ট ২ লাখ টাকা গ্রহণ করে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া ও রেজিস্ট্রি দলিল সম্পাদনের অনুরোধ জানানো হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি নোটিশের কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো নানাভাবে হুমকি প্রদান করতে থাকে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে আইনানুগ পথ বেছে নিয়ে অবশিষ্ট ২ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রেখে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা (নং-৫৯৩/২০২৫) দায়ের করেন ওই ব্যবসায়ী।

আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়েরের পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে বলে ভুক্তভোগী জানান। মামলা তুলে নিতে আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক দিয়ে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মনিপুরের ৬০ ফিট মেইন রাস্তায় অবস্থিত ভুক্তভোগীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের 'সাংবাদিক' পরিচয় দিয়ে অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার ভয় দেখাচ্ছে। পরবর্তীতে হাত-পা ভেঙে ফেলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় নিজের জানমাল ও ব্যবসার নিরাপত্তায় মিরপুর মডেল থানায় গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ (জিডি নম্বর-৩৮১৮) এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (জিডি নম্বর-৩২২৯) তারিখে দুটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. মাজহারুল ইসলাম।

ভিশন বাংলা ২৪

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬


আবাসন প্রকল্পের ফ্ল্যাট কিনে প্রতারণা ও হুমকির শিকার ব্যবসায়ী

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মিরপুরে ডেভলপার কোম্পানি 'আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড'-এর কাছ থেকে ফ্ল্যাট কিনে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন এক স্যানিটারি মালামাল সরবরাহকারী ব্যবসায়ী। ভুক্তভোগী মো. মাজহারুল ইসলাম, যিনি 'এম এম ট্রেডিং'-এর স্বত্বাধিকারী, আবাসন প্রতিষ্ঠানটির কাছে প্রায় সমুদয় অর্থ পরিশোধ করেও নির্দিষ্ট সময়ে ফ্ল্যাটের হস্তান্তর ও দলিল পাননি। উপরন্তু পাওনা অর্থ পরিশোধ করে দলিল গ্রহণের অনুরোধ করায় তাকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানে স্যানিটারি মালামাল সরবরাহ করে আসার সুবাদে আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের সাথে ব্যবসায়িক সখ্যতা গড়ে ওঠে ব্যবসায়ী মাজহারুল ইসলামের। সেই পরিচয়ের সূত্রে ঢাকার মিরপুর শাহ আলী থানাধীন সেকশন-১, ব্লক-এফ, রোড নং-৪-এ অবস্থিত প্রেজেন্ট বাড়ি নং-২৯ (প্রজেক্ট হোল্ডিং নম্বর-১/জি/১-১)-এর ৭ম তলা অনুমোদিত নকশার ৬ষ্ঠ তলার ১,৩৭৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ক্রয়ের চুক্তি করেন তিনি। ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম জাকারিয়ার উপস্থিতিতে ৭২ লাখ টাকা চূড়ান্ত মূল্যের বিপরীতে ৭০ লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করা হয় এবং বায়না রেজিস্ট্রি দলিল (নম্বর-৭৫০৬) সম্পাদন করা হয়।

বায়না দলিল অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও আবাসন প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী তার আইনজীবীর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই, ৮ আগস্ট এবং ১৯ ডিসেম্বর তিনটি পৃথক লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে অবশিষ্ট ২ লাখ টাকা গ্রহণ করে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া ও রেজিস্ট্রি দলিল সম্পাদনের অনুরোধ জানানো হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি নোটিশের কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো নানাভাবে হুমকি প্রদান করতে থাকে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে আইনানুগ পথ বেছে নিয়ে অবশিষ্ট ২ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রেখে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা (নং-৫৯৩/২০২৫) দায়ের করেন ওই ব্যবসায়ী।

আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়েরের পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে বলে ভুক্তভোগী জানান। মামলা তুলে নিতে আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক দিয়ে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মনিপুরের ৬০ ফিট মেইন রাস্তায় অবস্থিত ভুক্তভোগীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের 'সাংবাদিক' পরিচয় দিয়ে অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার ভয় দেখাচ্ছে। পরবর্তীতে হাত-পা ভেঙে ফেলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় নিজের জানমাল ও ব্যবসার নিরাপত্তায় মিরপুর মডেল থানায় গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ (জিডি নম্বর-৩৮১৮) এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (জিডি নম্বর-৩২২৯) তারিখে দুটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. মাজহারুল ইসলাম।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত