ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

নেপথ্যে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

গুলশান-বনানীতে স্পার আড়ালে ‘অনৈতিক কারবার’



গুলশান-বনানীতে স্পার আড়ালে ‘অনৈতিক কারবার’


রাজধানীর অভিজাত ও কূটনৈতিক এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান ও বনানীতে স্পা সেন্টারের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের কারবার চলছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের দাবি, সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট এসব স্পা সেন্টার পরিচালনা করছে। থানা পুলিশ, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ‘ম্যানেজ’ করেই তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এসব স্পা সেন্টারে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে শতাধিক নারী-পুরুষকে গ্রেফতারের পর নেপথ্যের এই সিন্ডিকেটের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র, পুলিশ ও নিজস্ব অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কথিত এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে বাহার, কুদ্দুস, নুরুল ইসলাম, হিরা, পায়েল, শাহ আলম, পান্নু, বাবুল, দিপু, জনি, ফয়সাল, রবিন, এরশাদ, হুমায়ুন, মিরাজ ও মেঘলাসহ বেশ কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমেও এসব নামের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কয়েকজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তারা এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।

গুলশান-বনানীতে অর্ধশতাধিক স্পা

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুলশান-১, গুলশান-২ ও বনানী এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক স্পা সেন্টার রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু অংশ স্পা সেবার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক বেচাকেনার নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গুলশান-১-এর মোড়সংলগ্ন খুশবু রেস্টুরেন্ট, রবি টাওয়ার, গুলশান-২-এর ২৪, ৫৫, ৯৫ ও ৯৯ নম্বর রোড এবং বনানীর স্টার কাবাবসংলগ্ন এলাকা ও আওয়াল টাওয়ারে বিভিন্ন স্পা সেন্টার রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর বাইরে কোনো সাইনবোর্ডও নেই। ফলে বাইরে থেকে দেখে সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম চলছে, তা বোঝার সুযোগ থাকে না।

গুলশান-বনানী সড়কের ব্রিজ পার হয়ে বনানীর দিকে হাতের বাঁ পাশে একটি ভবনে ঢাকা ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সকাল থেকে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকা ওই ভবনের সাত তলায় একটি স্পা সেন্টার পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্পা সেবার আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। শাওন নামের এক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির মালিক বলেও দাবি তাদের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে শাওন ওই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি; বরং হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে শাওনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ‘ব্যস্ত আছি’ বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

গুলশান-২-এ ‘কিংফিশার’ ও ‘এইচ হোটেল’

গুলশান-২ গোলচত্বরের পাশের একটি ভবনের নিচে রেস্টুরেন্ট রয়েছে। একই ভবনে ‘কিংফিশার’ নামের একটি বার ও ‘এইচ হোটেল’ নামে আবাসিক হোটেলও রয়েছে। জনসমাগমপূর্ণ ওই ভবনেই স্পার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রত্না নামের এক নারী এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কেউ এ বিষয়ে কথা বললে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাদের। তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে রত্নার কাছে জানতে চাইলে তিনি স্পা পরিচালনার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, অন্যরা যেভাবে পরিচালনা করছে, তিনিও সেভাবেই পরিচালনা করছেন। নৈতিক-অনৈতিক বিষয়টি জেনেই ব্যবসা করছেন বলেও এক প্রশ্নের জবাবে জানান তিনি।

কবরস্থানের বিপরীতেও স্পা

বনানী কবরস্থানের রাস্তার পূর্ব পাশে কবরস্থান এবং পশ্চিম পাশে আবাসিক বাড়িঘর। কবরস্থানের ঠিক বিপরীত পাশেই একটি স্পা সেন্টার রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানেও প্রকাশ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

শহীদ নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কবরস্থান ও আবাসিক এলাকা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। বরং অভিযোগ জানানোর পর শহীদ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ বিষয়ে শহীদের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরপরই তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

ওয়েবসাইটে নানা ‘ম্যাসাজ’ সেবা

‘ঢাকা ডায়মন্ড স্পা’ সেন্টারের নিজস্ব ওয়েবসাইটও রয়েছে। সেখানে থাই ম্যাসাজ, সুইডিশ ম্যাসাজ, পায়ের ম্যাসাজ, মাথার ম্যাসাজ, ড্রাই ম্যাসাজ, হট অয়েল ম্যাসাজ, ডিপ টিস্যু ম্যাসাজ, স্ক্রাব থেরাপি, ফুল বডি ম্যাসাজ, ফোর হ্যান্ড ম্যাসাজ, অ্যারোমা ম্যাসাজ ও হট স্টোন থেরাপিসহ বিভিন্ন সেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়েবসাইটে এসব সেবার প্রচারণায় নারীদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে হেড ম্যাসাজের মূল্য ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা, সুইডিশ ম্যাসাজ ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা, ডিপ টিস্যু ম্যাসাজ ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা, হট অয়েল ম্যাসাজ ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা, ড্রাই ম্যাসাজ ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা, ব্যাক ম্যাসাজ ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা, বডি স্ক্রাব ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা এবং হট স্টোন থেরাপির মূল্য ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়েবসাইটে ‘সাগর ভাই’ নামে একজনের মোবাইল নম্বরও দেওয়া রয়েছে। ওই নম্বরে যোগাযোগ করে সেবা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাগর নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি বিভিন্ন সেবার তথ্য দেন। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি এ ব্যবসা করেন না।

ওয়েবসাইট এখনও সচল কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিচিত কয়েকজন এখনো ব্যক্তিগতভাবে সেবা দেন। কাস্টমার পেলে তাদের কাছে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে তিনি গ্রামের বাড়ি বরিশালে অবস্থান করছেন বলেও জানান।

দালাল ও এজেন্টদের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ

অনুসন্ধানে জানা যায়, অনলাইনের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পথঘাটে মোবাইল নম্বরসহ বিভিন্ন রঙের ভিজিটিং কার্ড ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কার্ডগুলোতে ‘অমুক ভাই’ নামে যোগাযোগের তথ্য দেওয়া থাকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এগুলো স্পা সেন্টারগুলোর এক ধরনের মার্কেটিং কৌশল।

তাদের ভাষ্য, আগে আবাসিক হোটেলের আড়ালে যেসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো, বর্তমানে তার একটি অংশ স্পা সেন্টারের নামে পরিচালিত হচ্ছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গুলশান এলাকার কথিত এসব স্পা সেন্টারকে ঘিরে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন দালাল কাজ করেন। তারাই গ্রাহক সংগ্রহ ও যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করেন। সম্ভাব্য গ্রাহকদের মোবাইল ফোনে নারীদের ছবি পাঠানো হয়। এরপর পছন্দ ও দরদাম অনুযায়ী নির্দিষ্ট ঠিকানায় যেতে বলা হয়।

বনানী কবরস্থানের বিপরীত পাশে ‘অবন্তী’ নামের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে অফিস ও আবাসিক ফ্ল্যাটের মধ্যেও আলাদা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে স্পা সেন্টার পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রাহক সংগ্রহের জন্য বনানীর কাকলি ওভারব্রিজ এলাকায় ১৬ জন এজেন্ট কাজ করেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। হোটেলের গ্রাহকরা এসে খোঁজখবর নিলে তাদেরও এসব স্পা সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। আর নিয়মিত গ্রাহকরা সরাসরি ফোন করে সেখানে যান।

এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান দরজা, মেইন গেটের পাশে এবং সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো থাকে। ভেতর থেকে সেগুলো মনিটর করা হয় বলে জানা গেছে।

ঘণ্টাভিত্তিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

অনুসন্ধানে স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিছু স্পা সেন্টারে ১৫ থেকে ২০ জন কিংবা তারও বেশি নারী অবস্থান করেন। গ্রাহকদের প্রথমে বিভিন্ন নারীর ছবি দেখানো অথবা সরাসরি দেখার সুযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পছন্দ অনুযায়ী দরদাম শেষে নির্দিষ্ট কক্ষে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, কথিত এসব সেবার জন্য ঘণ্টাভিত্তিক অর্থ নির্ধারণ করা হয়। পছন্দ অনুযায়ী ঘণ্টাপ্রতি ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের সেবাকে সংশ্লিষ্টদের ভাষায় ‘ভিআইপি’ বলা হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ—পুলিশ ‘ম্যানেজ’

গুলশানের ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান বলেন, গুলশান-বনানী অভিজাত ও কূটনৈতিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। এমন এলাকায় প্রকাশ্যে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

তিনি বলেন, প্রকাশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড চললেও কেউ কথা বলতে পারেন না। এদের পেছনে সন্ত্রাসী ও পুলিশের সহযোগিতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের এলাকায় সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা ছাড়া দীর্ঘদিন এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো সম্ভব নয়।

গুলশান-২-এর ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতাই মূল শক্তি। যারা এগুলো পরিচালনা করেন, তারা পুলিশের কাছ থেকে সাহস পান বলেই এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। কবরস্থানের মতো স্পর্শকাতর স্থানের সামনেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড কীভাবে চলে—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বনানীর স্থানীয় বাসিন্দা সজিব আহমেদ বলেন, ‘আমরা বারবার এসব বিষয়ে কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। হয়তো দু-একবার লোক দেখানো অভিযান হয়, এরপর আবার আগের মতোই শুরু হয়ে যায়।’

ধারাবাহিক অভিযানে শতাধিক গ্রেফতার

সম্প্রতি গুলশান ও বনানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গুলশান-২-এর প্লাটিনাম মার্কেটে অবস্থিত ‘ডায়মন্ড স্পা সেন্টারে’ অভিযান চালায় ডিবি গুলশান বিভাগ। অভিযানে ১৯ নারী ও ৩ পুরুষসহ মোট ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ছাড়া গুলশান থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গুলশানের একাধিক স্পা সেন্টার থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ২৯ নারী ও ২৪ পুরুষসহ ৫৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং অসামাজিক কার্যকলাপ নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

‘জিরো টলারেন্স’ ডিএমপির

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, অভিজাত আবাসিক এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অবৈধ স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান পরিচালনার পর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে অনেক স্পা সেন্টার আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে অভিযানের পাশাপাশি কথিত নেপথ্যের সিন্ডিকেট, অর্থের লেনদেন এবং সংশ্লিষ্টদের পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়েও কার্যকর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভিশন বাংলা ২৪

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


গুলশান-বনানীতে স্পার আড়ালে ‘অনৈতিক কারবার’

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image


রাজধানীর অভিজাত ও কূটনৈতিক এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান ও বনানীতে স্পা সেন্টারের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের কারবার চলছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের দাবি, সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট এসব স্পা সেন্টার পরিচালনা করছে। থানা পুলিশ, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ‘ম্যানেজ’ করেই তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এসব স্পা সেন্টারে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে শতাধিক নারী-পুরুষকে গ্রেফতারের পর নেপথ্যের এই সিন্ডিকেটের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র, পুলিশ ও নিজস্ব অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কথিত এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে বাহার, কুদ্দুস, নুরুল ইসলাম, হিরা, পায়েল, শাহ আলম, পান্নু, বাবুল, দিপু, জনি, ফয়সাল, রবিন, এরশাদ, হুমায়ুন, মিরাজ ও মেঘলাসহ বেশ কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমেও এসব নামের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কয়েকজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তারা এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।

গুলশান-বনানীতে অর্ধশতাধিক স্পা

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুলশান-১, গুলশান-২ ও বনানী এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক স্পা সেন্টার রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু অংশ স্পা সেবার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক বেচাকেনার নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গুলশান-১-এর মোড়সংলগ্ন খুশবু রেস্টুরেন্ট, রবি টাওয়ার, গুলশান-২-এর ২৪, ৫৫, ৯৫ ও ৯৯ নম্বর রোড এবং বনানীর স্টার কাবাবসংলগ্ন এলাকা ও আওয়াল টাওয়ারে বিভিন্ন স্পা সেন্টার রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর বাইরে কোনো সাইনবোর্ডও নেই। ফলে বাইরে থেকে দেখে সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম চলছে, তা বোঝার সুযোগ থাকে না।

গুলশান-বনানী সড়কের ব্রিজ পার হয়ে বনানীর দিকে হাতের বাঁ পাশে একটি ভবনে ঢাকা ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সকাল থেকে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকা ওই ভবনের সাত তলায় একটি স্পা সেন্টার পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্পা সেবার আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। শাওন নামের এক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির মালিক বলেও দাবি তাদের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে শাওন ওই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি; বরং হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে শাওনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ‘ব্যস্ত আছি’ বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

গুলশান-২-এ ‘কিংফিশার’ ও ‘এইচ হোটেল’

গুলশান-২ গোলচত্বরের পাশের একটি ভবনের নিচে রেস্টুরেন্ট রয়েছে। একই ভবনে ‘কিংফিশার’ নামের একটি বার ও ‘এইচ হোটেল’ নামে আবাসিক হোটেলও রয়েছে। জনসমাগমপূর্ণ ওই ভবনেই স্পার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রত্না নামের এক নারী এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কেউ এ বিষয়ে কথা বললে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাদের। তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে রত্নার কাছে জানতে চাইলে তিনি স্পা পরিচালনার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, অন্যরা যেভাবে পরিচালনা করছে, তিনিও সেভাবেই পরিচালনা করছেন। নৈতিক-অনৈতিক বিষয়টি জেনেই ব্যবসা করছেন বলেও এক প্রশ্নের জবাবে জানান তিনি।

কবরস্থানের বিপরীতেও স্পা

বনানী কবরস্থানের রাস্তার পূর্ব পাশে কবরস্থান এবং পশ্চিম পাশে আবাসিক বাড়িঘর। কবরস্থানের ঠিক বিপরীত পাশেই একটি স্পা সেন্টার রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানেও প্রকাশ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

শহীদ নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কবরস্থান ও আবাসিক এলাকা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। বরং অভিযোগ জানানোর পর শহীদ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ বিষয়ে শহীদের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরপরই তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

ওয়েবসাইটে নানা ‘ম্যাসাজ’ সেবা

‘ঢাকা ডায়মন্ড স্পা’ সেন্টারের নিজস্ব ওয়েবসাইটও রয়েছে। সেখানে থাই ম্যাসাজ, সুইডিশ ম্যাসাজ, পায়ের ম্যাসাজ, মাথার ম্যাসাজ, ড্রাই ম্যাসাজ, হট অয়েল ম্যাসাজ, ডিপ টিস্যু ম্যাসাজ, স্ক্রাব থেরাপি, ফুল বডি ম্যাসাজ, ফোর হ্যান্ড ম্যাসাজ, অ্যারোমা ম্যাসাজ ও হট স্টোন থেরাপিসহ বিভিন্ন সেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়েবসাইটে এসব সেবার প্রচারণায় নারীদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে হেড ম্যাসাজের মূল্য ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা, সুইডিশ ম্যাসাজ ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা, ডিপ টিস্যু ম্যাসাজ ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা, হট অয়েল ম্যাসাজ ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা, ড্রাই ম্যাসাজ ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা, ব্যাক ম্যাসাজ ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা, বডি স্ক্রাব ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা এবং হট স্টোন থেরাপির মূল্য ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়েবসাইটে ‘সাগর ভাই’ নামে একজনের মোবাইল নম্বরও দেওয়া রয়েছে। ওই নম্বরে যোগাযোগ করে সেবা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাগর নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি বিভিন্ন সেবার তথ্য দেন। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি এ ব্যবসা করেন না।

ওয়েবসাইট এখনও সচল কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিচিত কয়েকজন এখনো ব্যক্তিগতভাবে সেবা দেন। কাস্টমার পেলে তাদের কাছে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে তিনি গ্রামের বাড়ি বরিশালে অবস্থান করছেন বলেও জানান।

দালাল ও এজেন্টদের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ

অনুসন্ধানে জানা যায়, অনলাইনের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পথঘাটে মোবাইল নম্বরসহ বিভিন্ন রঙের ভিজিটিং কার্ড ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কার্ডগুলোতে ‘অমুক ভাই’ নামে যোগাযোগের তথ্য দেওয়া থাকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এগুলো স্পা সেন্টারগুলোর এক ধরনের মার্কেটিং কৌশল।

তাদের ভাষ্য, আগে আবাসিক হোটেলের আড়ালে যেসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো, বর্তমানে তার একটি অংশ স্পা সেন্টারের নামে পরিচালিত হচ্ছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গুলশান এলাকার কথিত এসব স্পা সেন্টারকে ঘিরে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন দালাল কাজ করেন। তারাই গ্রাহক সংগ্রহ ও যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করেন। সম্ভাব্য গ্রাহকদের মোবাইল ফোনে নারীদের ছবি পাঠানো হয়। এরপর পছন্দ ও দরদাম অনুযায়ী নির্দিষ্ট ঠিকানায় যেতে বলা হয়।

বনানী কবরস্থানের বিপরীত পাশে ‘অবন্তী’ নামের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে অফিস ও আবাসিক ফ্ল্যাটের মধ্যেও আলাদা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে স্পা সেন্টার পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রাহক সংগ্রহের জন্য বনানীর কাকলি ওভারব্রিজ এলাকায় ১৬ জন এজেন্ট কাজ করেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। হোটেলের গ্রাহকরা এসে খোঁজখবর নিলে তাদেরও এসব স্পা সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। আর নিয়মিত গ্রাহকরা সরাসরি ফোন করে সেখানে যান।

এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান দরজা, মেইন গেটের পাশে এবং সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো থাকে। ভেতর থেকে সেগুলো মনিটর করা হয় বলে জানা গেছে।

ঘণ্টাভিত্তিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

অনুসন্ধানে স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিছু স্পা সেন্টারে ১৫ থেকে ২০ জন কিংবা তারও বেশি নারী অবস্থান করেন। গ্রাহকদের প্রথমে বিভিন্ন নারীর ছবি দেখানো অথবা সরাসরি দেখার সুযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পছন্দ অনুযায়ী দরদাম শেষে নির্দিষ্ট কক্ষে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, কথিত এসব সেবার জন্য ঘণ্টাভিত্তিক অর্থ নির্ধারণ করা হয়। পছন্দ অনুযায়ী ঘণ্টাপ্রতি ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের সেবাকে সংশ্লিষ্টদের ভাষায় ‘ভিআইপি’ বলা হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ—পুলিশ ‘ম্যানেজ’

গুলশানের ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান বলেন, গুলশান-বনানী অভিজাত ও কূটনৈতিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। এমন এলাকায় প্রকাশ্যে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

তিনি বলেন, প্রকাশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড চললেও কেউ কথা বলতে পারেন না। এদের পেছনে সন্ত্রাসী ও পুলিশের সহযোগিতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের এলাকায় সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা ছাড়া দীর্ঘদিন এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো সম্ভব নয়।

গুলশান-২-এর ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতাই মূল শক্তি। যারা এগুলো পরিচালনা করেন, তারা পুলিশের কাছ থেকে সাহস পান বলেই এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। কবরস্থানের মতো স্পর্শকাতর স্থানের সামনেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড কীভাবে চলে—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বনানীর স্থানীয় বাসিন্দা সজিব আহমেদ বলেন, ‘আমরা বারবার এসব বিষয়ে কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। হয়তো দু-একবার লোক দেখানো অভিযান হয়, এরপর আবার আগের মতোই শুরু হয়ে যায়।’

ধারাবাহিক অভিযানে শতাধিক গ্রেফতার

সম্প্রতি গুলশান ও বনানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গুলশান-২-এর প্লাটিনাম মার্কেটে অবস্থিত ‘ডায়মন্ড স্পা সেন্টারে’ অভিযান চালায় ডিবি গুলশান বিভাগ। অভিযানে ১৯ নারী ও ৩ পুরুষসহ মোট ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ছাড়া গুলশান থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গুলশানের একাধিক স্পা সেন্টার থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ২৯ নারী ও ২৪ পুরুষসহ ৫৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং অসামাজিক কার্যকলাপ নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

‘জিরো টলারেন্স’ ডিএমপির

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, অভিজাত আবাসিক এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অবৈধ স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান পরিচালনার পর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে অনেক স্পা সেন্টার আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে অভিযানের পাশাপাশি কথিত নেপথ্যের সিন্ডিকেট, অর্থের লেনদেন এবং সংশ্লিষ্টদের পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়েও কার্যকর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত