৭০০ ফুট সড়ক নির্মাণে এলাকাবাসীর দাবি
সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন
ঢাকার দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাতার শিকদার বাড়ির নিকট থেকে শিলাকোঠা মাদ্রাসা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এলাকার শতাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন পার করছে। হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। অনেককে প্রয়োজনীয় সামগ্রী মাথায় নিয়ে পানি ভেঙে চলাচল করতে হচ্ছে, যা এলাকাবাসীর দুর্ভোগকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
সংযুক্ত ছবিতে দেখা যায়, পুরো সড়কটি পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়িঘরের আঙিনা ও চলাচলের পথ একাকার হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মাথায় বহন করে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে বাসিন্দাদের আশঙ্কা। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটিতে দীর্ঘদিন ধরে খানা-খন্দের সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সংস্কার বা উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। এতে যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং কৃষিপণ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে এ বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদনও করা হয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুসুমহাটি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাতার শিকদার বাড়ির নিকট থেকে শিলাকোঠা মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়কটি এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও খানা-খন্দের কারণে এটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে জরুরি ভিত্তিতে মাটি ভরাট করে সড়কটি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদানের আবেদন জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ লাঘব এবং নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটির উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সামনের দিনগুলোতে দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।