ঢাকা    সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

এলপিজির পর বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতও বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

এলপিজির পর বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতও বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির যাতাকলে পিষ্ট নিম্ন ও মধ্যবিত্ত। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নতুন করে বাড়িয়েছে চাপ। এমন পরিস্থিতিতে বেড়েছে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম। এলপিজির দামও দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়েছিল সরকার। পরে দাম কমানো হলেও বেসরকারি সিন্ডিকেটের দাপটে নির্ধারিত দামে এলপিজি কিনতে পারেনি সাধারণ মানুষ।

এমন বাস্তবতায় সিস্টেম লস বা ঘাটতি পোষাতে সরকার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ও বাকি জ্বালানি খাতও বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা করছে। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে কমবে লোকসান এবং আমদানিতে অনিশ্চয়তার ঝক্কি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, তৃতীয় এফএসওর জন্য চীনা কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিনিয়োগকারীরা আসছেন এবং এ বিষয়ে চুক্তির অগ্রগতিও ভালো বলে জানান তিনি।

কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত আদতে কতটা জনবান্ধব ও কার্যকর—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বেসরকারি এক টেলিভিশনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানা বলেন, বাংলাদেশের জন্য এখনো এমন একটি বেসরকারি বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যাওয়ার সময় হয়নি। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের যেসব অঞ্চলে এটি করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, সেখানে বিল আদায় আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে কোনো বেসরকারি কোম্পানির হাতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা দিয়ে দেয়া হলে, এলপিজি খাতে যে উদাহরণ দেখা যাচ্ছে, সেরকম একটি ঘটনা ঘটতে পারে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জ্বালানি বা বিদ্যুৎ এমন একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, যেটি মুনাফা করার মতো পণ্য নয়। জনগণের ওপর যাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

তার মতে, এ ধরনের কার্যক্রম যত বেশি সরকারের অধীনে রাখা যায় এবং সীমিত মুনাফার মধ্যে পরিচালনা করা যায়, সেটিই ভালো। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সরকারের অধীনেই রাখা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি খাতের মুনাফার প্রবণতায় লাগাম টানা এবং ভোক্তার প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা না গেলে শুধু বেসরকারিকরণের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

ভিশন বাংলা ২৪

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


এলপিজির পর বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতও বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির যাতাকলে পিষ্ট নিম্ন ও মধ্যবিত্ত। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নতুন করে বাড়িয়েছে চাপ। এমন পরিস্থিতিতে বেড়েছে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম। এলপিজির দামও দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়েছিল সরকার। পরে দাম কমানো হলেও বেসরকারি সিন্ডিকেটের দাপটে নির্ধারিত দামে এলপিজি কিনতে পারেনি সাধারণ মানুষ।

এমন বাস্তবতায় সিস্টেম লস বা ঘাটতি পোষাতে সরকার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ও বাকি জ্বালানি খাতও বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা করছে। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে কমবে লোকসান এবং আমদানিতে অনিশ্চয়তার ঝক্কি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, তৃতীয় এফএসওর জন্য চীনা কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিনিয়োগকারীরা আসছেন এবং এ বিষয়ে চুক্তির অগ্রগতিও ভালো বলে জানান তিনি।

কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত আদতে কতটা জনবান্ধব ও কার্যকর—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বেসরকারি এক টেলিভিশনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানা বলেন, বাংলাদেশের জন্য এখনো এমন একটি বেসরকারি বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যাওয়ার সময় হয়নি। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের যেসব অঞ্চলে এটি করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, সেখানে বিল আদায় আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে কোনো বেসরকারি কোম্পানির হাতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা দিয়ে দেয়া হলে, এলপিজি খাতে যে উদাহরণ দেখা যাচ্ছে, সেরকম একটি ঘটনা ঘটতে পারে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জ্বালানি বা বিদ্যুৎ এমন একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, যেটি মুনাফা করার মতো পণ্য নয়। জনগণের ওপর যাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

তার মতে, এ ধরনের কার্যক্রম যত বেশি সরকারের অধীনে রাখা যায় এবং সীমিত মুনাফার মধ্যে পরিচালনা করা যায়, সেটিই ভালো। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সরকারের অধীনেই রাখা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি খাতের মুনাফার প্রবণতায় লাগাম টানা এবং ভোক্তার প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা না গেলে শুধু বেসরকারিকরণের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত