ঢাকা    বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

সায়েদাবাদে প্রকাশ্যে মাদকের কারবার, নীরব প্রশাসন


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

সায়েদাবাদে প্রকাশ্যে মাদকের কারবার, নীরব প্রশাসন

রাজধানীর সায়েদাবাদ গোবিনপুর এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে মাদক বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার বিভিন্ন স্পটে দিনের পর দিন মাদকদ্রব্য বিক্রি হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে গোবিনপুর, ওয়াসা গ্রেট, রেললাইন ও আশপাশের এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে মাদক কেনাবেচা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নজরের মধ্যেই এসব কর্মকাণ্ড চললেও অনেক ক্ষেত্রে তা বন্ধে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায় না।

অভিযোগ রয়েছে, সায়েদাবাদ গোবিনপুর এলাকায় রিতা নামে এক নারী মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে মাদক ব্যবসার অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাদের দাবি, সম্প্রতি সায়েদাবাদ ওয়াসা বস্তিতে মাদক বিক্রির অভিযোগে প্রশাসনের অভিযানের পর বস্তিটির একটি অংশ উচ্ছেদ করা হলেও মাদক কারবার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা আশপাশের নতুন নতুন স্পটে তাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে গোবিনপুর মাদ্রাসার আশপাশেও মাদক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

দেশজুড়ে মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। রাজধানীর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা ও গ্রামাঞ্চলেও মাদকের ব্যবহার ও সরবরাহ ছড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে বিশেষ করে তরুণ সমাজের ওপর। মাদকাসক্তির কারণে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে সংকট তৈরির পাশাপাশি অপরাধ, সহিংসতা ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার ঝুঁকিও বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হতাশা, পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং তরুণদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের একটি অংশও বিভিন্ন ধরনের মাদকের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষকরা।

রাজধানীতে মাদক সরবরাহের ক্ষেত্রে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি ও নিম্নআয়ের এলাকাগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও নতুন নয়। অতীতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে রাজধানীর বস্তি এলাকাকে মাদক ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এসব এলাকায় মাদক ব্যবসার পাশাপাশি চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তপথে বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে প্রবেশের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি নেশাজাতীয় অন্যান্য উপাদানেরও চাহিদা রয়েছে নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরবরাহকারী থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত কয়েকটি স্তরে এই কারবার পরিচালিত হয় বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

সায়েদাবাদের গোবিনপুরে মাদক বিক্রির অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন—প্রকাশ্য স্থানে দিনের পর দিন মাদক বিক্রির অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে তা আসছে না কেন? কারা এসব ব্যবসার পেছনে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গোবিনপুর ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত নজরদারি, মাদকবিরোধী অভিযান এবং অভিযানের পরবর্তী সময়ে কার্যকর ফলোআপ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের পেছনে থাকা অর্থদাতা ও সরবরাহকারী চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে রিতা নামে ওই নারী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কি না, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং অভিযোগের স্বতন্ত্র যাচাই প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত না করে কাউকে মাদক ব্যবসায়ী বা ‘মাদকসম্রাজ্ঞী’ হিসেবে চিহ্নিত করাও সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে সমীচীন নয়। ফলে গোবিনপুর এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য এবং তাদের সাম্প্রতিক অভিযানসংক্রান্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভিশন বাংলা ২৪

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সায়েদাবাদে প্রকাশ্যে মাদকের কারবার, নীরব প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর সায়েদাবাদ গোবিনপুর এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে মাদক বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার বিভিন্ন স্পটে দিনের পর দিন মাদকদ্রব্য বিক্রি হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে গোবিনপুর, ওয়াসা গ্রেট, রেললাইন ও আশপাশের এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে মাদক কেনাবেচা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নজরের মধ্যেই এসব কর্মকাণ্ড চললেও অনেক ক্ষেত্রে তা বন্ধে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায় না।


অভিযোগ রয়েছে, সায়েদাবাদ গোবিনপুর এলাকায় রিতা নামে এক নারী মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে মাদক ব্যবসার অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাদের দাবি, সম্প্রতি সায়েদাবাদ ওয়াসা বস্তিতে মাদক বিক্রির অভিযোগে প্রশাসনের অভিযানের পর বস্তিটির একটি অংশ উচ্ছেদ করা হলেও মাদক কারবার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা আশপাশের নতুন নতুন স্পটে তাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে গোবিনপুর মাদ্রাসার আশপাশেও মাদক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।


দেশজুড়ে মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। রাজধানীর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা ও গ্রামাঞ্চলেও মাদকের ব্যবহার ও সরবরাহ ছড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে বিশেষ করে তরুণ সমাজের ওপর। মাদকাসক্তির কারণে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে সংকট তৈরির পাশাপাশি অপরাধ, সহিংসতা ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার ঝুঁকিও বাড়ছে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, হতাশা, পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং তরুণদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের একটি অংশও বিভিন্ন ধরনের মাদকের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষকরা।


রাজধানীতে মাদক সরবরাহের ক্ষেত্রে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি ও নিম্নআয়ের এলাকাগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও নতুন নয়। অতীতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে রাজধানীর বস্তি এলাকাকে মাদক ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এসব এলাকায় মাদক ব্যবসার পাশাপাশি চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তপথে বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে প্রবেশের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি নেশাজাতীয় অন্যান্য উপাদানেরও চাহিদা রয়েছে নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরবরাহকারী থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত কয়েকটি স্তরে এই কারবার পরিচালিত হয় বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।


সায়েদাবাদের গোবিনপুরে মাদক বিক্রির অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন—প্রকাশ্য স্থানে দিনের পর দিন মাদক বিক্রির অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে তা আসছে না কেন? কারা এসব ব্যবসার পেছনে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গোবিনপুর ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত নজরদারি, মাদকবিরোধী অভিযান এবং অভিযানের পরবর্তী সময়ে কার্যকর ফলোআপ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের পেছনে থাকা অর্থদাতা ও সরবরাহকারী চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।


তবে রিতা নামে ওই নারী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কি না, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং অভিযোগের স্বতন্ত্র যাচাই প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত না করে কাউকে মাদক ব্যবসায়ী বা ‘মাদকসম্রাজ্ঞী’ হিসেবে চিহ্নিত করাও সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে সমীচীন নয়। ফলে গোবিনপুর এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য এবং তাদের সাম্প্রতিক অভিযানসংক্রান্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত