ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

কাবিননামায় স্বাক্ষর নিয়ে স্বাক্ষীদের অস্বীকার

মির্জাপুরে কাজীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ


মো: রুবেল মিয়া
মো: রুবেল মিয়া নিজস্ব প্রতিবেদক

মির্জাপুরে কাজীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিবাহবিচ্ছেদের ২৬ দিনের মাথায় একই নারীকে পুনরায় বিয়ে নিবন্ধন করেছেন এক ব্যক্তি। তবে দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ থাকা তিনজন দাবি করেছেন, তারা ওই কাবিননামায় স্বাক্ষর করেননি। এমনকি বিয়ের বিষয়েও তারা অবগত ছিলেন না। এ ঘটনায় দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া গ্রামের মৃত সাহেব আলী সিকদারের ছেলে আবুল ফজল একই ইউনিয়নের কোর্ট বহুরিয়া গ্রামের মৃত ছলুম উদ্দিনের মেয়ে মোসাম্মৎ সালেহা বেগমকে (ছাবিহা) এক লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। ২০১৬ সালের ৯ জুন ৯ নং বহুরিয়া ইউনিয়নের মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধক কাজী মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার সহকারী মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের মাধ্যমে তাদের বিয়ে নিবন্ধিত হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ১৬ জুন আবুল ফজল তার স্ত্রী ছাবিহাকে তালাক দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তালাকের মাত্র ২৬ দিন পর, একই বছরের ১২ জুলাই ওই সহকারী কাজী নুরুল ইসলামের মাধ্যমে তারা পুনরায় বিয়ে নিবন্ধন করেন।

দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের কাবিননামার মতোই দেনমোহরের পরিমাণ এক লাখ টাকা রাখা হয়েছে। তবে দুই কাবিননামায় সাক্ষীদের নাম ও পরিচয়ে পার্থক্য রয়েছে। দ্বিতীয় কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বহুরিয়া গ্রামের কয়েদ আলীর ছেলে করিম মিয়া, একই গ্রামের ফজু সিকদারের ছেলে খালেক সিকদার এবং ছাবিহা বেগমের ছোট ভাই মো. নূর ইসলামকে। এ ছাড়া নূর ইসলামকে কনের উকিল হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা তিনজনের মধ্যে দুজন ও কনের আপন ছোট ভাই দাবি করেছেন, তারা বিয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন না। কাবিননামায় থাকা স্বাক্ষরও তাদের নয়। বিষয়টি জানার পর তারা আদালতে গিয়ে হলফনামা (এফিডেভিট) করেছেন বলেও জানান। তাদের দাবি, তাদের অজ্ঞাতে নাম-ঠিকানা ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

আইন অনুযায়ী, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭ ধারায় তালাক উচ্চারণের পর সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত নোটিশ পৌঁছানোর তারিখ থেকে ৯০ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত সাধারণভাবে তালাক কার্যকর হয় না। এর আগে তালাক প্রত্যাহার করা হলে বিষয়টি ভিন্ন। একই ধারার ৬ উপধারায় তালাক কার্যকর হওয়ার পর একই স্বামী-স্ত্রীর পুনরায় বিয়ের সুযোগের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে তালাকের নোটিশ সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছানোর তারিখ হিসেবে ১৯ জুন ২০২২ উল্লেখ রয়েছে। ফলে তালাকের মাত্র ২৬ দিনের মাথায় পুনরায় বিয়ে নিবন্ধনের আইনগত ভিত্তি কী ছিল, দ্বিতীয় কাবিননামায় সাক্ষীদের স্বাক্ষরের সত্যতা এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাজীর সহকারী মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।

মির্জাপুর উপজেলা নিবন্ধিত কাজী সমিতির সভাপতি কাজী আবুল হাশেম বলেন, তালাক দেওয়ার ২৬ দিনের মাথায় পুনরায় বিয়ে নিবন্ধনের আইনি যৌক্তিকতা তার জানা নেই। কাবিননামায় উল্লেখিত তিন সাক্ষীর স্বাক্ষর অস্বীকার করার বিষয়ে তিনি বলেন, এমনটি হয়ে থাকলে ওই কাবিননামা বাতিল বলে গণ্য হবে।

ভিশন বাংলা ২৪

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


মির্জাপুরে কাজীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিবাহবিচ্ছেদের ২৬ দিনের মাথায় একই নারীকে পুনরায় বিয়ে নিবন্ধন করেছেন এক ব্যক্তি। তবে দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ থাকা তিনজন দাবি করেছেন, তারা ওই কাবিননামায় স্বাক্ষর করেননি। এমনকি বিয়ের বিষয়েও তারা অবগত ছিলেন না। এ ঘটনায় দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


জানা গেছে, উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া গ্রামের মৃত সাহেব আলী সিকদারের ছেলে আবুল ফজল একই ইউনিয়নের কোর্ট বহুরিয়া গ্রামের মৃত ছলুম উদ্দিনের মেয়ে মোসাম্মৎ সালেহা বেগমকে (ছাবিহা) এক লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। ২০১৬ সালের ৯ জুন ৯ নং বহুরিয়া ইউনিয়নের মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধক কাজী মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার সহকারী মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের মাধ্যমে তাদের বিয়ে নিবন্ধিত হয়।


পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ১৬ জুন আবুল ফজল তার স্ত্রী ছাবিহাকে তালাক দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তালাকের মাত্র ২৬ দিন পর, একই বছরের ১২ জুলাই ওই সহকারী কাজী নুরুল ইসলামের মাধ্যমে তারা পুনরায় বিয়ে নিবন্ধন করেন।


দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের কাবিননামার মতোই দেনমোহরের পরিমাণ এক লাখ টাকা রাখা হয়েছে। তবে দুই কাবিননামায় সাক্ষীদের নাম ও পরিচয়ে পার্থক্য রয়েছে। দ্বিতীয় কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বহুরিয়া গ্রামের কয়েদ আলীর ছেলে করিম মিয়া, একই গ্রামের ফজু সিকদারের ছেলে খালেক সিকদার এবং ছাবিহা বেগমের ছোট ভাই মো. নূর ইসলামকে। এ ছাড়া নূর ইসলামকে কনের উকিল হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।


তবে দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা তিনজনের মধ্যে দুজন ও কনের আপন ছোট ভাই দাবি করেছেন, তারা বিয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন না। কাবিননামায় থাকা স্বাক্ষরও তাদের নয়। বিষয়টি জানার পর তারা আদালতে গিয়ে হলফনামা (এফিডেভিট) করেছেন বলেও জানান। তাদের দাবি, তাদের অজ্ঞাতে নাম-ঠিকানা ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।


আইন অনুযায়ী, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭ ধারায় তালাক উচ্চারণের পর সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত নোটিশ পৌঁছানোর তারিখ থেকে ৯০ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত সাধারণভাবে তালাক কার্যকর হয় না। এর আগে তালাক প্রত্যাহার করা হলে বিষয়টি ভিন্ন। একই ধারার ৬ উপধারায় তালাক কার্যকর হওয়ার পর একই স্বামী-স্ত্রীর পুনরায় বিয়ের সুযোগের কথাও উল্লেখ রয়েছে।


এ ক্ষেত্রে তালাকের নোটিশ সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছানোর তারিখ হিসেবে ১৯ জুন ২০২২ উল্লেখ রয়েছে। ফলে তালাকের মাত্র ২৬ দিনের মাথায় পুনরায় বিয়ে নিবন্ধনের আইনগত ভিত্তি কী ছিল, দ্বিতীয় কাবিননামায় সাক্ষীদের স্বাক্ষরের সত্যতা এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাজীর সহকারী মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।


মির্জাপুর উপজেলা নিবন্ধিত কাজী সমিতির সভাপতি কাজী আবুল হাশেম বলেন, তালাক দেওয়ার ২৬ দিনের মাথায় পুনরায় বিয়ে নিবন্ধনের আইনি যৌক্তিকতা তার জানা নেই। কাবিননামায় উল্লেখিত তিন সাক্ষীর স্বাক্ষর অস্বীকার করার বিষয়ে তিনি বলেন, এমনটি হয়ে থাকলে ওই কাবিননামা বাতিল বলে গণ্য হবে।




ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত