ঢাকা    শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

এইচ টু বিল্ডার্সের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, চুক্তিভঙ্গ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে থানায় জিডি: রাজউকের দৃষ্টি আকর্ষণ



এইচ টু বিল্ডার্সের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, চুক্তিভঙ্গ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে থানায় জিডি: রাজউকের দৃষ্টি আকর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ এলাকার মোছাঃ জীবন নাহার বেগম (৬১) এক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার শিকার হয়ে আজ নিজের জমির মালিক হয়েও মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ভবন নির্মাণে প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ না করে শুধু সময়ক্ষেপণ এবং হুমকি-ধমকির অভিযোগ উঠেছে এইচ টু বিল্ডার্স এন্ড কনস্ট্রাকশন নামের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে রাজউকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ভূক্তভোগী জীবন নাহার।

জীবন নাহার জানান, ২০২১ সালে উক্ত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ২৭ মাসে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চুক্তির ৪৫ মাস পেরিয়ে গেলেও আজও তিনি ফ্ল্যাট বুঝে পাননি। এই বিষয়ে তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডির তথ্য অনুযায়ী, ডেভেলপারদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, চুক্তিভঙ্গ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৩ জুলাই ২০২৫ তারিখ দুপুর ১২টায় বিবাদীরা তার বাসার সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। তার ছেলে জিয়াউর রহমানকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন। এসব ঘটনায় পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও জানান তিনি।

চুক্তি লঙ্ঘন ও আর্থিক দুর্ভোগ

চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জীবন নাহারকে ভাড়া দেওয়ার কথা থাকলেও গত ১৩ মাস ধরে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি কোনো ভাড়া দিচ্ছে না। উল্টো, ৭ লাখ টাকার সাইনিং মানির মধ্যে ২ লাখ টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি বিলের দায়ভার নেওয়ার কথা থাকলেও তার সবকিছুই এখন জীবন নাহারের কাঁধে।

নকশা লঙ্ঘন ও বেআইনি স্থাপনা

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবনের নিচতলায় বেআইনিভাবে একটি কক্ষ নির্মাণ করেছে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি। এতে ভবিষ্যতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের অস্বীকার

এইচ টু বিল্ডার্স এন্ড কনস্ট্রাকশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা এখনো ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে পারেনি ঠিকই, তবে চেষ্টা চলছে। জীবন নাহার এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কিছু না পাওয়া প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।

রাজউকের প্রতি আবেদন

জীবন নাহার রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নকশা লঙ্ঘন ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হোক। একইসঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিও তার আকুতি, যেন হুমকি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

আইনজীবী ও নগর উন্নয়ন বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন প্রতারণার ঘটনা এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। কঠোর মনিটরিং ও কার্যকর আইন প্রয়োগ না হলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাদের মতে, ডেভেলপারদের যথাযথভাবে যাচাই না করে চুক্তিতে যাওয়া, চুক্তির শর্ত স্পষ্ট না থাকা এবং অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিস্ক্রিয়তা ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে।

এই ঘটনাটি রাজধানীর ডেভেলপার খাতে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি চিত্র মাত্র। প্রয়োজন এখন শক্তিশালী নজরদারি, দ্রুত প্রতিকার এবং প্রতারকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

রাজউক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ, জীবন নাহারের মতো ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা দিয়ে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করুন।

ভিশন বাংলা ২৪

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এইচ টু বিল্ডার্সের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, চুক্তিভঙ্গ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে থানায় জিডি: রাজউকের দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৫

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ এলাকার মোছাঃ জীবন নাহার বেগম (৬১) এক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার শিকার হয়ে আজ নিজের জমির মালিক হয়েও মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ভবন নির্মাণে প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ না করে শুধু সময়ক্ষেপণ এবং হুমকি-ধমকির অভিযোগ উঠেছে এইচ টু বিল্ডার্স এন্ড কনস্ট্রাকশন নামের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে রাজউকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ভূক্তভোগী জীবন নাহার।

জীবন নাহার জানান, ২০২১ সালে উক্ত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ২৭ মাসে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চুক্তির ৪৫ মাস পেরিয়ে গেলেও আজও তিনি ফ্ল্যাট বুঝে পাননি। এই বিষয়ে তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডির তথ্য অনুযায়ী, ডেভেলপারদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, চুক্তিভঙ্গ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৩ জুলাই ২০২৫ তারিখ দুপুর ১২টায় বিবাদীরা তার বাসার সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। তার ছেলে জিয়াউর রহমানকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন। এসব ঘটনায় পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও জানান তিনি।

চুক্তি লঙ্ঘন ও আর্থিক দুর্ভোগ

চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জীবন নাহারকে ভাড়া দেওয়ার কথা থাকলেও গত ১৩ মাস ধরে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি কোনো ভাড়া দিচ্ছে না। উল্টো, ৭ লাখ টাকার সাইনিং মানির মধ্যে ২ লাখ টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি বিলের দায়ভার নেওয়ার কথা থাকলেও তার সবকিছুই এখন জীবন নাহারের কাঁধে।

নকশা লঙ্ঘন ও বেআইনি স্থাপনা

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবনের নিচতলায় বেআইনিভাবে একটি কক্ষ নির্মাণ করেছে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি। এতে ভবিষ্যতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের অস্বীকার

এইচ টু বিল্ডার্স এন্ড কনস্ট্রাকশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা এখনো ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে পারেনি ঠিকই, তবে চেষ্টা চলছে। জীবন নাহার এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কিছু না পাওয়া প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।

রাজউকের প্রতি আবেদন

জীবন নাহার রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নকশা লঙ্ঘন ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হোক। একইসঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিও তার আকুতি, যেন হুমকি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

আইনজীবী ও নগর উন্নয়ন বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন প্রতারণার ঘটনা এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। কঠোর মনিটরিং ও কার্যকর আইন প্রয়োগ না হলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাদের মতে, ডেভেলপারদের যথাযথভাবে যাচাই না করে চুক্তিতে যাওয়া, চুক্তির শর্ত স্পষ্ট না থাকা এবং অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিস্ক্রিয়তা ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে।

এই ঘটনাটি রাজধানীর ডেভেলপার খাতে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি চিত্র মাত্র। প্রয়োজন এখন শক্তিশালী নজরদারি, দ্রুত প্রতিকার এবং প্রতারকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

রাজউক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ, জীবন নাহারের মতো ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা দিয়ে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করুন।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত