ঢাকা    বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালে বিল নিয়ে অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলার চেষ্টা, কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে তোলপাড়



প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালে বিল নিয়ে অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলার চেষ্টা, কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে তোলপাড়
ডেস্ক নিউজ: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর পরিকল্পিত হামলার চেষ্টা হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের অভ্যন্তরে কমিশন বাণিজ্য এবং দালালচক্রের সক্রিয়তা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিল নিয়ে প্রশ্ন, ফিক্সড নয় — ‘ডিল’ হয় শনিবার সকাল ১০টার দিকে নিউজ২০ বাংলা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার আবদুল আহাদ হোসেন তার এক পরিচিত এনআইসিইউ রোগীর বিল নিয়ে তথ্য জানতে হাসপাতালে যান। দেখা যায়, প্রতিদিনের বিল ৭,২০০ টাকা, যার মধ্যে ১,২০০ টাকা ডাক্তার ফি এবং ৬,০০০ টাকা হাসপাতাল ব্যয় হিসেবে ধরা হয়। তবে অনুসন্ধানে উঠে আসে, হাসপাতালের রিপোর্ট ডেস্কে কর্মরত এক নারী কর্মকর্তা (ছদ্মনামে শিলা) জানান, বিল কমানো যায়। পরবর্তীতে মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তা শামীম জানান, মূল ছাড় বা ‘ডিল’ স্যারদের মাধ্যমে হয়। আলোচনার একপর্যায়ে ৬,০০০ টাকা বিলেই বিষয়টি মীমাংসিত হয়। হঠাৎ উত্তেজনা, সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা ও গুমের হুমকি বিল মীমাংসার কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্পোরেট গেট দিয়ে প্রবেশ করে দুই যুবক। তাদের একজন হাসপাতালে ভেতরে চিৎকার করে বলেন, “এখানে সাংবাদিক কে?” এরপর সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে তিনি উচ্চস্বরে বলেন, “তোর আইডি কার্ড আন, তোর কোন বাবা আছে ডাক দে... তুই কিসের ডিসকাউন্ট করবি?” তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা বা দলীয় কর্মী পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেন এবং প্রকাশ্যে গুম করে ফেলার হুমকি দেন। আশপাশের লোকজন তাকে ধরে ফেলায় সাংবাদিক বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পান। পুরো ঘটনাটি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে, যা প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত আছে। সাংবাদিক জানান, তিনি কারো সঙ্গে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের সংক্ষিপ্ত কথোপকথন করেছেন এবং প্রমাণস্বরূপ কল রেকর্ড আছে। তিনি কোনো হুমকি দেননি বা সাংবাদিক পরিচয়ে প্রভাব খাটাননি। হাসপাতালের নীরবতা ও কমিশন বাণিজ্যের স্বীকারোক্তি সাংবাদিক কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক অবহিত করলেও হাসপাতাল কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অনুসন্ধানে উঠে আসে, হাসপাতালের মার্কেটিং বিভাগ কমিশন বাণিজ্যে জড়িত। একজন কর্মকর্তা স্বীকার করেন, প্রতিটি এনআইসিইউ রোগী থেকে নেওয়া ৬,০০০ টাকার ৩০% কমিশন (প্রায় ১,৪৪০ টাকা) সংশ্লিষ্ট দালাল বা রেফারারকে দেওয়া হয়। এ বিষয়েও ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও জনস্বার্থে উদ্বেগ এ ঘটনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: একজন সাংবাদিক হাসপাতাল চত্বরে হামলার শিকার হলে সাধারণ নাগরিক কতটা নিরাপদ? রোগী প্রতি বিলের বড় অংশ কমিশনে গেলে স্বাস্থ্যসেবা কিভাবে সাশ্রয়ী হবে? একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা Brigadier General (Dr.) AKM Nasir Uddin (Retd.)-এর অধীনে কীভাবে এমন দুর্নীতি ও সহিংসতা ঘটে? ঘটনাটি তাকে জানানো হলেও তিনি নিজে না গিয়ে পিএ পাঠানো কতটা দায়িত্বশীল আচরণ? নিউজ২০-এর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ ও আহ্বান নিউজ২০ বাংলা টেলিভিশনের পক্ষ থেকে একজন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই যোদ্ধা ও গণমাধ্যম কর্মী আবদুল আহাদ হোসেনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও নাগরিক সমাজের সহানুভূতির প্রত্যাশা করছি। সাংবাদিকেরা জনস্বার্থে কাজ করেন—তাদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। ? আমরা চাই—চিকিৎসা নয় যেন হয় বাণিজ্য, হাসপাতালে নয় যেন হয় ন্যায়।

ভিশন বাংলা ২৪

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালে বিল নিয়ে অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলার চেষ্টা, কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে তোলপাড়

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৫

featured Image
ডেস্ক নিউজ: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর পরিকল্পিত হামলার চেষ্টা হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের অভ্যন্তরে কমিশন বাণিজ্য এবং দালালচক্রের সক্রিয়তা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিল নিয়ে প্রশ্ন, ফিক্সড নয় — ‘ডিল’ হয় শনিবার সকাল ১০টার দিকে নিউজ২০ বাংলা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার আবদুল আহাদ হোসেন তার এক পরিচিত এনআইসিইউ রোগীর বিল নিয়ে তথ্য জানতে হাসপাতালে যান। দেখা যায়, প্রতিদিনের বিল ৭,২০০ টাকা, যার মধ্যে ১,২০০ টাকা ডাক্তার ফি এবং ৬,০০০ টাকা হাসপাতাল ব্যয় হিসেবে ধরা হয়। তবে অনুসন্ধানে উঠে আসে, হাসপাতালের রিপোর্ট ডেস্কে কর্মরত এক নারী কর্মকর্তা (ছদ্মনামে শিলা) জানান, বিল কমানো যায়। পরবর্তীতে মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তা শামীম জানান, মূল ছাড় বা ‘ডিল’ স্যারদের মাধ্যমে হয়। আলোচনার একপর্যায়ে ৬,০০০ টাকা বিলেই বিষয়টি মীমাংসিত হয়। হঠাৎ উত্তেজনা, সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা ও গুমের হুমকি বিল মীমাংসার কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্পোরেট গেট দিয়ে প্রবেশ করে দুই যুবক। তাদের একজন হাসপাতালে ভেতরে চিৎকার করে বলেন, “এখানে সাংবাদিক কে?” এরপর সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে তিনি উচ্চস্বরে বলেন, “তোর আইডি কার্ড আন, তোর কোন বাবা আছে ডাক দে... তুই কিসের ডিসকাউন্ট করবি?” তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা বা দলীয় কর্মী পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেন এবং প্রকাশ্যে গুম করে ফেলার হুমকি দেন। আশপাশের লোকজন তাকে ধরে ফেলায় সাংবাদিক বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পান। পুরো ঘটনাটি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে, যা প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত আছে। সাংবাদিক জানান, তিনি কারো সঙ্গে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের সংক্ষিপ্ত কথোপকথন করেছেন এবং প্রমাণস্বরূপ কল রেকর্ড আছে। তিনি কোনো হুমকি দেননি বা সাংবাদিক পরিচয়ে প্রভাব খাটাননি। হাসপাতালের নীরবতা ও কমিশন বাণিজ্যের স্বীকারোক্তি সাংবাদিক কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক অবহিত করলেও হাসপাতাল কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অনুসন্ধানে উঠে আসে, হাসপাতালের মার্কেটিং বিভাগ কমিশন বাণিজ্যে জড়িত। একজন কর্মকর্তা স্বীকার করেন, প্রতিটি এনআইসিইউ রোগী থেকে নেওয়া ৬,০০০ টাকার ৩০% কমিশন (প্রায় ১,৪৪০ টাকা) সংশ্লিষ্ট দালাল বা রেফারারকে দেওয়া হয়। এ বিষয়েও ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও জনস্বার্থে উদ্বেগ এ ঘটনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: একজন সাংবাদিক হাসপাতাল চত্বরে হামলার শিকার হলে সাধারণ নাগরিক কতটা নিরাপদ? রোগী প্রতি বিলের বড় অংশ কমিশনে গেলে স্বাস্থ্যসেবা কিভাবে সাশ্রয়ী হবে? একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা Brigadier General (Dr.) AKM Nasir Uddin (Retd.)-এর অধীনে কীভাবে এমন দুর্নীতি ও সহিংসতা ঘটে? ঘটনাটি তাকে জানানো হলেও তিনি নিজে না গিয়ে পিএ পাঠানো কতটা দায়িত্বশীল আচরণ? নিউজ২০-এর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ ও আহ্বান নিউজ২০ বাংলা টেলিভিশনের পক্ষ থেকে একজন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই যোদ্ধা ও গণমাধ্যম কর্মী আবদুল আহাদ হোসেনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও নাগরিক সমাজের সহানুভূতির প্রত্যাশা করছি। সাংবাদিকেরা জনস্বার্থে কাজ করেন—তাদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। ? আমরা চাই—চিকিৎসা নয় যেন হয় বাণিজ্য, হাসপাতালে নয় যেন হয় ন্যায়।

ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত