ঢাকা    শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষিপ্ত ওহাব: সাংবাদিককে ‘জারজ’ মন্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল সমালোচনা



সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষিপ্ত ওহাব: সাংবাদিককে ‘জারজ’ মন্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল সমালোচনা
জিকে রউফ, নীলফামারী থেকে: নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ. ওহাবের বিরুদ্ধে দলীয় অফিস নির্মাণের জন্য সংগৃহীত অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি রাস্তার গাছ কেটে বিক্রি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি-ধামকি দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিককে ‘জারজ’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে লক্ষীচাপ ইউনিয়নে বিএনপির নিজস্ব কোনো দলীয় কার্যালয় নেই। এ কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা সম্মিলিতভাবে অর্থ সংগ্রহ করে একটি দলীয় অফিস নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বিএনপি নেতা শহীদ গোলাম রাব্বানীর বাসস্থানের পাশেই দলীয় কার্যালয় নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, সংগৃহীত ওই অর্থের দায়িত্বে থাকা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ. ওহাব দীর্ঘদিন পার হলেও দলীয় অফিস নির্মাণে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেননি। বরং বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, তিনি ওই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দলীয় অফিসের টাকা সম্পর্কে জানতে চাইলে আ. ওহাব বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং অনেক সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রাস্তার পাশে থাকা সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করা, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নানা মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করেছেন। ইউনিয়নের কয়েকজন প্রবীণ নেতা-কর্মী আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির দায়িত্বে থাকলেও অতীতে আ. ওহাবের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল বলছে, এসব অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এদিকে লক্ষীচাপ ইউনিয়নের বিএনপি নেতা-কর্মীরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী ১ মাসের মধ্যে যদি দলীয় অফিস নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে তারা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, গত ৮ মার্চ এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে লক্ষীচাপ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাসুম ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে সেটি শেয়ার করেন। এরপর আ. ওহাব ওই পোস্টের মন্তব্যে এসে যুবদল নেতাকে ‘গরু চোর’ এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ‘জারজ’ বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন অশালীন মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য এবং এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ বিষয়ে আ. ওহাবের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আরও বিস্তারিত তথ্য ও নতুন দিক উঠে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে তৃতীয় পর্বের প্রতিবেদনে আরও চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করা হবে।

ভিশন বাংলা ২৪

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষিপ্ত ওহাব: সাংবাদিককে ‘জারজ’ মন্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল সমালোচনা

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

featured Image
জিকে রউফ, নীলফামারী থেকে: নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ. ওহাবের বিরুদ্ধে দলীয় অফিস নির্মাণের জন্য সংগৃহীত অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি রাস্তার গাছ কেটে বিক্রি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি-ধামকি দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিককে ‘জারজ’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে লক্ষীচাপ ইউনিয়নে বিএনপির নিজস্ব কোনো দলীয় কার্যালয় নেই। এ কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা সম্মিলিতভাবে অর্থ সংগ্রহ করে একটি দলীয় অফিস নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বিএনপি নেতা শহীদ গোলাম রাব্বানীর বাসস্থানের পাশেই দলীয় কার্যালয় নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, সংগৃহীত ওই অর্থের দায়িত্বে থাকা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ. ওহাব দীর্ঘদিন পার হলেও দলীয় অফিস নির্মাণে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেননি। বরং বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, তিনি ওই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দলীয় অফিসের টাকা সম্পর্কে জানতে চাইলে আ. ওহাব বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং অনেক সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রাস্তার পাশে থাকা সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করা, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নানা মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করেছেন। ইউনিয়নের কয়েকজন প্রবীণ নেতা-কর্মী আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির দায়িত্বে থাকলেও অতীতে আ. ওহাবের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল বলছে, এসব অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এদিকে লক্ষীচাপ ইউনিয়নের বিএনপি নেতা-কর্মীরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী ১ মাসের মধ্যে যদি দলীয় অফিস নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে তারা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, গত ৮ মার্চ এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে লক্ষীচাপ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাসুম ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে সেটি শেয়ার করেন। এরপর আ. ওহাব ওই পোস্টের মন্তব্যে এসে যুবদল নেতাকে ‘গরু চোর’ এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ‘জারজ’ বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন অশালীন মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য এবং এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ বিষয়ে আ. ওহাবের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আরও বিস্তারিত তথ্য ও নতুন দিক উঠে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে তৃতীয় পর্বের প্রতিবেদনে আরও চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করা হবে।

ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত