ঝুঁকিতে সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা
আইন ও ক্ষমতার বেড়াজালে সাংবাদিকতা সুরক্ষা সংকটে সংবাদকর্মীরা
দেশে সাংবাদিকতা ক্রমেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। আইন, ক্ষমতা ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নানা বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে গণমাধ্যমকর্মীরা। ফলে স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মীরা বলছেন, তারা এখন আর শুধু তথ্য সংগ্রহ করেন না—বরং প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতা, ভয়-ভীতি ও চাপের মধ্যেও কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান কিছু আইন ও তার প্রয়োগ পদ্ধতি অনেক সময় সাংবাদিকদের স্বাধীন কাজের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনগুলোকে কেন্দ্র করে সংবাদ প্রকাশে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই সাংবাদিকরা আইনি ঝুঁকির কথা ভেবে পিছিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে নানা ধরনের চাপ, হুমকি এমনকি মামলা-হামলার ঘটনাও ঘটছে। স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন বলে জানা গেছে। তাদের অনেকেরই নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা বা আইনি সহায়তা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এসব ঘটনার বেশিরভাগই বিচারহীন থেকে যাচ্ছে, যা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করছে।
সাংবাদিক নেতারা বলছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা জরুরি। একইসঙ্গে তারা সাংবাদিকদের জন্য একটি সুরক্ষিত কর্মপরিবেশ ও কার্যকর আইনি সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাষ্ট্র, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। না হলে সত্য প্রকাশের পথ সংকুচিত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সত্যের অনুসন্ধানে যারা নিরলস কাজ করেন, সেই সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এখনই প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ ও বাস্তব উদ্যোগ।