দুই দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ: আতঙ্কে এলাকাবাসী
নরসিংদীর পলাশে সশস্ত্র ডাকাতি করে ৪ লাখ টাকার মালামাল লুট
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চলনা এলাকায় একটি বাড়িতে পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দুঃসাহসিক সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল গৃহবধূকে মারধর করে স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে তারা। ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, যার ফলে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুন (সোমবার) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ৭-৮ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত দল চলনা এলাকার বাসিন্দা দুলন মিয়ার বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতরা ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। এ সময় বাধা দিতে গেলে দুলন মিয়ার স্ত্রী লাবলী বেগমকে (৩৫) নির্মমভাবে মারধর করে ডাকাতরা। পরে তারা ঘরের আলমারি ভেঙে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়।
লুটপাট শেষে চলে যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী পরিবারের ডাকচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ডাকাতরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী ডাকাত দলের একজনকে চিনে ফেলেন বলে জানান লবলী বেগম। শনাক্ত হওয়া ওই ডাকাতের নাম বায়জিদ (২৫)। সে স্থানীয় চলনা এলাকারই কাজল মিয়ার ছেলে।
"ডাকাতরা ঘরে ঢুকেই আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। বাধা দেওয়ায় আমাকে মারধর করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় আমার প্রতিবেশী চলনা এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে বায়জিদকে চিনতে পেরেছে।"
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল দিলে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পলাশ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তবে ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার কিংবা লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষোভ ও নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহেদ আল মামুন জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। চিহ্নিত আসামিসহ ডাকাত দলের সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।